আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
জিলহজ্জ মাস সমাগত।
জিলহজ্জের প্রথম ১০ দিনের বিশেষ আমলঃ
"আল্লাহর কাছে জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনের আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমলই অধিক প্রিয় নয়।" — (সহীহ বুখারী: ৯৬৯)
প্রধান ১০টি করণীয় আমল:
১. বেশি বেশি জিকির ও তাসবীহ পড়া:
সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার বেশি বেশি পড়া।
২. তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা:
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ। (৯ জিলহজ্জ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ্জ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয সালাতের পর)।
৩. প্রথম ৯ দিন নফল রোজা রাখা:
বিশেষ করে ৯ জিলহজ্জ (আরাফাহর দিন) রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ, যা বিগত ও আগামী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়।
৪. নখ, চুল ও পশম না কাটা:
যারা কোরবানি করার নিয়ত করেছেন, তারা জিলহজ্জের চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানি করা পর্যন্ত নখ, চুল, গোঁফ ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাকবেন।
৫. বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তিগফার করা:
অতীতের গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং পাপের পথ পরিহার করা।
৬. সামর্থ্য থাকলে কোরবানি করা:
১০ জিলহজ্জ ঈদের সালাত শেষে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা।
৭. ফরয ইবাদতে যত্নবান হওয়া এবং নফল বাড়ানো:
পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামায়াতের সাথে আদায় করা এবং তাহাজ্জুদ, ইশরাক ও চাশতের সালাত পড়ার চেষ্টা করা।
৮. দান-সদকাহ করা:
গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়ানো এবং বেশি বেশি সদকা করা, কারণ এই দিনগুলোর যেকোনো নেক আমল অন্য সময়ের চেয়ে উত্তম।
৯. বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা:
প্রতিদিন নিয়ম করে অর্থসহ কুরআন অধ্যয়ন করা।
১০. গুনাহের কাজ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা:
চোখ, কান, জিহ্বা ও অন্তরের পবিত্রতা রক্ষা করা এবং সব ধরনের অন্যায় ও অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকা।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপর্যুক্ত আমলসমুহ পরিপুর্ণরুপে করার তাওফীক দান করুন। আমিন।
Dept. of Islamic Studies, Khwaja Yunus Ali University.
This is a higher educational Institute for undergraduate, graduate and postgraduate degrees. WELCOME TO OUR ISLAMIC STUDY DEPARTMENT FAMILY
16/05/2026
খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন
খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ইসলামিক কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আজ ১৬ই মে ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ২১১ নম্বর কক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম বর্ষ ১ম সেমিস্টারের 'Introduction to Ethics' কোর্সের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রতিযোগিতায় মোট ১৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই কুইজ থেকে মেধার ভিত্তিতে সেরা ২০ জন প্রতিযোগীকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারী বাকি সব শিক্ষার্থীকে তাদের মেধা ও আগ্রহের স্বীকৃতিস্বরূপ সান্ত্বনা পুরস্কার প্রদান করা হয়। কুইজ প্রতিযোগিতার পাশাপাশি পুরো সেমিস্টারে ১০০% উপস্থিতি নিশ্চিতকারী নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশেষ সনদপত্র (সার্টিফিকেট) বিতরণ করা হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: আশরাফ আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডভাইজার ও এমিরেটাস অধ্যাপক প্রফেসর ড. হোসেন রেজা, বিজনেস ফ্যাকাল্টির ডিন ও আইকিউএসি ডিরেক্টর প্রফেসর ড. মোস্তফা মাহমুদ হাসান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আবু তোরাব মোহাম্মাদ হাসান এবং বিবিএ বিভাগের প্রধান ড. মোতাহার হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো: আব্দুল মমিন। এরপর স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো: আতিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক মো: মোজাম্মেল হক।
আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের এই মেধা অন্বেষণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।
24/04/2026
14/01/2026
Dept. of Islamic Studies, Khwaja Yunus Ali University.
রাস্তা-ঘাটে চলার পথে নিম্নের দু'টি হাদিস সবসময় মাথার ভিতর রাখা উচিত।
১। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“একটি বিড়ালের কারণে এক নারীকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে — সে জাহান্নামে গেছে। সে বিড়ালটিকে আটকে রেখেছিল। না তাকে খাবার দিয়েছিল, না পানি দিয়েছিল এবং না তাকে ছেড়ে দিয়েছিলো যাতে সে জমির পোকামাকড় খেতে পারে।”
— (সহীহ বুখারি, হাদিস ৩৩১৮; সহীহ মুসলিম, হাদিস ২৬১৯)
২। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“একবার এক ব্যভিচারিণী নারী পথ চলছিল। সে একটি কুকুরকে দেখতে পেল, যা প্রচণ্ড তৃষ্ণায় কুয়োর পাশে ঘুরছিল এবং তৃষ্ণায় প্রায় মারা যাচ্ছিল। তখন সে তার চামড়ার জুতা খুলে নিজের ওড়না দিয়ে সেটি বেঁধে কুয়া থেকে পানি তুলল এবং কুকুরটিকে পান করালো। এই কাজের কারণে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দিলেন।”
— সহীহ বুখারি ৩৩২১; মুসলিম ২২৪৫
কেমন ছিলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের শেষ ২৪ ঘণ্টা?
১১ রবিউল আউয়াল আনুমানিক দুপুর ১২টায় কয়েকদিনের অসুস্থতার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছুটা সুস্থ অনুভব করেন।
যুহরের নামাজের পর, অর্থাৎ আনুমানিক দুপুর ১.৩০ এ তিনি তাঁর দুই চাচাতো ভাই আলী ও ফদল ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার কাঁধে ভর করে মসজিদে যান।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মসজিদে আসতে দেখে সাহাবীরা খুশি হন। মসজিদে গিয়ে তিনি ঘোষণা করেন— যার ওপর আমার হক আছে, সে যেন এসে নিয়ে যায়।
তখন সাহাবী উকাশা ইবনে মিহসান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন বদর যুদ্ধের কিসাসের কথা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদরের দিন তাঁকে মিসওয়াক দিয়ে সামান্য আঘাত করেছিলেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুমতি দিলে উকাশা অদ্ভুত একটি কাজ করেন!
তিনি ক্ষতিপূরণ হিশেবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পেটে চুমু দিলেন!
বিকেল ৩.৩০ অর্থাৎ আসরের পর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবার অসুস্থতা শুরু হয়।
আস্তে আস্তে জ্বর বাড়তে থাকে। তিনি মাগরিবের নামাজে যেতে পারেননি। তাঁর অনুপস্থিতিতে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু মাগরিবের নামাজের ইমামতি করেন।
রাত ৮টা। এশার নামাজের সময় তিনি ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু তীব্র জ্বরে ওঠার সামর্থ্য ছিলো না। অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলেন!
রাত ১০ টার পর তিনি আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকেন। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা পানির পাত্রে হাত ডুবিয়ে তাঁর মুখ মুছে দেন।
আনুমানিক রাত ২ টার পর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিনমিন করে দুআ করতে থাকেন— "আল্লাহুম্মা রফীকুল আ'লা।"
১২ রবিউল আউয়াল, ভোর ৫.১৫।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের নামাজের সময় ঘর থেকে পর্দা সরান। সাহাবীদেরকে নামাজে দেখতে পেয়ে তিনি সন্তুষ্টমনে হাসেন। সাহাবীদের মনে হচ্ছিলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বুঝি সুস্থ হয়ে ওঠেছেন, তিনি নামাজ পড়াতে আসবেন।
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইমামতি ছেড়ে পেছনে আসতে চাইলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বুঝালেন— ইমামতি চালিয়ে যেতে।
তিনি শুধু আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নামাজ চালিয়ে যেতে বলেন, এইদিন জামআতে অংশগ্রহণ করেননি।
তাঁর এই অবস্থা দেখে সাহাবীরা ভেবেছিলেন— এই তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুস্থ হয়ে ওঠেছেন।
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু নামাজ শেষে চলে যান তাঁর একজন স্ত্রী হাবিবা বিনতে খারিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার বাড়ি। মসজিদে নববী থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে।
ফজরের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শারীরিক অবস্থা দুর্বল হতে থাকে। তিনি চেতন হচ্ছিলেন, আবার অচেতন হচ্ছিলেন।
একবার চেতনা ফিরে পাবার পর দেখতে পেলেন আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা মিসওয়াক করছেন। তখন তাঁকে বলেন তাঁর জন্য মিসওয়াক নরম করে দিতে।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা মিসওয়াক নরম করে দিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিসওয়াক করেন।
বলা হয়ে থাকে, এটা ছিলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের বাহ্যিক সর্বশেষ আমল— মিসওয়াক করা।
তখন ঘড়ির কাটায় আনুমানিক সকাল ৮ টা।
এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃদুস্বরে উপদেশ দিলেন— নামাজ...নামাজ...নামাজ। তোমরা দাস-দাসীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো।
১২ রবিউল আউয়াল সকাল আনুমানিক ১০ টা থেকে ১১.৩০।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরীর দুর্বল হয়ে আসে।
তিনি ছিলেন তখন আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কোলে। আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা উদ্বিগ্ন।
তিনি বুঝতে পারছেন রাসূলুল্লাহর নিঃশ্বাস ভারি হচ্ছে, তাঁর শরীরে ঢলে পড়ছেন।
বারবার তিনি উপরের দিকে তাকাচ্ছিলেন, যেন কিছু দেখতে পাচ্ছেন। আর বলছেন- ...রফীকুল আ'লা...।
হঠাৎ আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা খেয়াল করলেন তাঁর কোল ভারী হয়ে আসছে। যেন পুরো শরীর তার কোলে ঢলে পড়লো!
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে পবিত্র দেহ মোবারক নিথর হয়ে আছে। কোনো সাড়াশব্দ নেই, শরীরের কোনো স্পন্দন নেই!
১৮ বছর বয়সী আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বুঝতে বাকি রইলো না— পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ পৃথিবীর সফর শেষ করে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেছেন!
ইন্নালিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজীউন!
সাহাবীরা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তাঁদের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। এইতো ৪-৫ ঘণ্টা আগেও তিনি ফজরের নামাজের সময় পর্দা তুলে তাকিয়ে হেসেছিলেন।
তাঁর হাসি দেখে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুই তো ভেবেছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুস্থ হয়েছেন, তিনি চলে গিয়েছিলেন দূরে।
কিন্তু, কে জানতো ফজরের নামাজে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের দিকে তাকিয়েছিলেন, এটাই ছিলো সাহাবীদের দিকে তাঁর শেষ তাকানো!
সাহাবীরা পাগলের মতো চারিদিকে ছুটছেন। বুঝতেই পারছেন না কী হলো।
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তো মসজিদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিলেন— যে বলবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন, তাকে এই তরবারি দিয়ে হত্যা করবো!
অনেকেই ভাবছে, এটা বুঝি উহুদ যুদ্ধের সেই গুজবের মতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবার উঠে দাঁড়াবেন। তিনি কীভাবে ইন্তেকাল করতে পারেন!?
আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- “যে দিন নবী ﷺ আমাদের মাঝে এসেছিলেন, সেই দিনের মতো উজ্জ্বল দিন আর কখনো দেখিনি।
আর যে দিন তিনি ইন্তেকাল করলেন, সেই দিনের মতো অন্ধকার দিনও আর কখনো দেখিনি!”
১২ রবিউল আউয়াল আনুমানিক সকাল ১০-১১.৩০ এর মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেন।
অর্থাৎ যুহরের নামাজের আগেই।
চিন্তা করুন, তাঁর ইন্তেকালের পর যুহরের আযান দিতে গিয়ে কী অবস্থা হয়েছিলো বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর?
'আসহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ' বলার পর তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান!
কেনোই বা পড়বেন না?
গত ১০ বছর ধরে প্রায় ১৮,২৫০ ওয়াক্ত নামাজের আযান দেবার সময় যখন বলতেন 'আসহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ', তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর আশেপাশেই থাকতেন।
আর এবার যখন আযান দিতে গেলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়ার বুকে নেই!
চিন্তা করুন, কেমন ছিলো সাহাবীদের সেদিনের মানসিক অবস্থা!
আল্লাহ যদি আত্মহত্যা 'হালাল' করতেন, সেদিন কয়েকশো সাহাবী কি সেই পথ বেছে নিতেন?
সাহাবীদের জীবনে সেই দিনটি ছিলো তাদের সবচেয়ে সবচেয়ে কষ্টের দিন!
কেউ যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না!
যিনি ছিলেন তাঁদের সবচেয়ে প্রিয়, তিনি নেই!
কীভাবে তারা সহ্য করলেন!
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
পুনশ্চ:
সীরাতের বইগুলোতে এভাবে 'টাইম' আকারে দেয়া নেই।
বরং বইগুলোতে আছে যুহরের পর, শেষ রাতে, ফজরে... এরকম।
বুঝার সুবিধার্থে নামাজের ওয়াক্তের সাথে আনুমানিক টাইম যুক্ত করা হলো।
আর সিকুয়েন্সের ক্ষেত্রেও একেক সীরাতে একেক রকম এদিক/সেদিক আছে। সামান্য পার্থক্য।
এই লেখাটি যেসব বইয়ের সাহায্যে লিখেছি:
১. সীরাত ইবনে হিশাম
লেখক: ইবনে হিশাম
২. আর–রাহীকুল মাখতূম (The Sealed Nectar)
লেখক: ছফিউর রহমান মোবারকপূরী
৩. Muhammad: His Life Based on the Earliest Sources
লেখক: মার্টিন লিংস
৪. The Sirah of the Prophet ﷺ – A Contemporary and Original Analysis
লেখক: ইয়াসির ক্বাদী
৫. The Noble Life of The Prophet ﷺ
লেখক: আলী মুহাম্মদ আস–সাল্লাবী
৬. নবীয়ে রহমত
লেখক: আবুল হাসান আলী নদভী
এক নজরে রাসূলুল্লাহ সা. এর সৌন্দর্য::
নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেহ মোবারক::
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এত সৌন্দর্যময় ছিলেন, মনে হত তার দেহ রুপা দ্বারা গঠিত। (আল জামিউস সগীর-৬৪৫২)
1. মাথা মোবারক,
মাথা মোবারক তুলনামূলক বড় ছিল। দেখতে খুব সুন্দর লাগত। ( তিরমিজি-৩৬৩৭).
2. চুল মোবারক,
চুল ঘন ছিলো। (মুসনাদ-৯৪৪).
3. চুল কেমন দেখতে?
অধিক কোকড়ানো না, আবার একবারে লম্বা ছিলোনা। (মুসলিম-২৩৪৭)
তাহলে কেমন ছিল?
তার চুল মোবারক ঈষৎ ঢেউ খেলানো ছিল। (আল জামিউস সগীর-২৪৫৭)
যদি অনায়েসে সিথি এসে যেত তাহলে সিথি কাটতেন, অন্যথায় ইচ্ছে করে সিথি কাটতেন না,
(আল জামিউস সগীর ৬৪৫৭)
চুল এবং দাড়ির সামনের অংশ সাদা হয়ে গিয়েছিল। তিনি যখন তেল দিতেন (সাদা) চুল তখন দেখা যেত না, আর যখন চুল অগোছালো হত তখন (সাদা) দেখা যেত। সহিহ মুসলিম-৫৯৭৮)
4. চুলের পরিমাপ,
কানের অর্ধেক পর্যন্ত ঝুলানো ছিল।
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চুল তাঁর দু’ কানের অর্ধেক পর্যন্ত ঝুলানো ছিল।
(সহিহ মুসলিম-৫৯৬৩)
দু’কান ও দু’কাঁধের মাঝ পর্যন্ত।
ক্বাতাদাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) -কে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর চুল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর চুল মধ্যম ধরনের ছিল- না একেবারে সোজা, না বেশী কোঁকড়ানো। আর তা ছিল দু’কান ও দু’কাঁধের মাঝ পর্যন্ত।
(সহিহ বুখারী- ৫৯০৫)
কাঁধ পর্যন্ত লম্বা হতো।
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর চুল (কখনও) কাঁধ পর্যন্ত লম্বা হতো।
(সহিহ বুখারী-৫৯০৪)
5. চেহারা মোবারক,
উদাহরণ-১
বারাআ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর চেহারা ছিল মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সুন্দর এবং তিনি ছিলেন সর্বোত্তম আখলাকের অধিকারী। তিনি বেশি লম্বাও ছিলেন না এবং বেঁটেও ছিলেন না।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৫৪৯
উদাহরণ-২
তাঁর মুখাবয়ব সম্পূর্ণ গোলাকার ছিল না, বরং কিছুটা গোলাকার ছিল।
তিরমিজি-৩৬৩৮
উদাহরণ-৩
জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ..তাঁর দাড়ি প্রচুর ঘন ছিল। জনৈক লোক বলল, তাঁর চেহারা ছিল তরবারির ন্যায়। জাবির (রাঃ) বললেন, না, তাঁর চেহারা ছিল সূর্য ও চন্দ্রের ন্যায় (উজ্জ্বল) গোলাকার। এটির রং ছিল তাঁর গায়ের রংয়ের মতো।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৫৯৭৮
উদাহরণ-৪
জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেনঃ এক জোছনা রাতে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাকিয়ে দেখলাম। তাঁর পরনে ছিল একজোড়া লাল রং-এর পোশাক। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে এবং চাঁদের দিকে তাকাতে লাগলাম। তিনিই আমার কাছে চাঁদের চাইতে অধিক সুন্দর মনে হল।
জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৮১১
উদাহরণ-৫
তাঁর চেহারা মোবারক পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল ছিল। (আল জামিউস সগীর-৬৪৭৫)
6. কপাল মোবারক,
ললাট ছিল প্রশস্ত। (জামিউস সগীর-৬৪৭৫)
7. ভ্রু মোবারক,
ভ্রুদ্বয় বক্র, সরু ও ঘন ছিল। উভয় ভ্রু পৃথক পৃথক ছিল, একটি অপরটির সাথে সংযোজিত ছিল না। ভ্রুদ্বয়ের মাঝে একটি রগ ছিল রাগ যাকে স্ফিত করে তুলত। (জামিউস সগীর)
8. চোখ মোবারক
ডাগর চোখ বিশিষ্ট (আদাবুল মুফরাদ-৯৮৮)
চোখের মনি কালো ছিল। (তিরমিজি-৩৬৩৮)।
চোখ দু’টি ছিল লাল (চোখের কিনারা ছিল দীর্ঘ)।
জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৩৬৪৬
জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ
আমি তাঁর দিকে তাকালে মনে হত তিনি উভয় চোখে সুরমা লাগিয়েছেন। অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চোখে সুরমা লাগানো থাকত না।
জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৩৬৪৫
9. নাক মোবারক,
তাঁর নাক মোবারক কিছুটা উচুঁ ছিল, তাতে একটা নুর চমকাতো। (জামিউস সগীর)
10. গাল মোবারক,
গাল মোবারক সমান ছিল। (জামিউস সগীর)
11. দাঁত মোবারক,
সামনের দন্তরাজিতে কিছুটা ফাকা ছিল। (জামিউস সগীর)।
12. থুথু মোবারক
উদাহরণ-১
সাহ্ল ইব্নু সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
খাইবারের যুদ্ধে একদা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আগামীকাল সকালে আমি এমন এক লোকের হাতে ঝাণ্ডা তুলে দেব যার হাতে আল্লাহ খাইবারে বিজয় দান করবেন যে আল্লাহ এবং তাঁর রসূলকে ভালবাসে এবং যাকে আল্লাহ এবং তাঁর রসূল ভালবাসেন।
সাহ্ল (রাঃ) বলেন, মুসলিমগণ এ জল্পনায় রাত কাটালো যে, তাদের মধ্যে কাকে দেয়া হবে এ ঝাণ্ডা। সকালে সবাই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসলেন, আর প্রত্যেকেই তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করছিলেন।
তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, 'আলী ইবনু আবূ ত্বলিব (রাঃ) কোথায়? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! তিনি তো চক্ষুরোগে আক্রান্ত। তিনি বললেন, তার কাছে লোক পাঠাও। সে মতে তাঁকে আনা হল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার উভয় চোখে থুথু লাগিয়ে তার জন্য দু'আ করলেন। ফলে চোখ এমন ভাল হয়ে গেল যেন কখনো চোখে কোন রোগই ছিল না। এরপর তিনি তার হাতে ঝাণ্ডা প্রদান করলেন। তখন 'আলী (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! তারা আমাদের মতো (মুসলিম) না হওয়া পর্যন্ত আমি তাদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাব। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি বর্তমান অবস্থায়ই তাদের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে হাজির হও, এরপর তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের প্রতি আহবান করো, আল্লাহ্র অধিকার প্রদানে তাদের প্রতি যে দায়িত্ব বর্তায় সে সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত কর। কারণ আল্লাহ্র কসম! তোমার দাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ যদি মাত্র একজন মানুষকেও হিদায়াত দেন তাহলে তা তোমার জন্য লাল রঙের (মূল্যবান) উটের মালিক হওয়ার চেয়ে উত্তম।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪২১০
উদাহরণ-২
নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পানিভর্তি বালতি আনা হলো, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখান থেকে পানি পান করলেন, অতঃপর কুলি করে মুখ থেকে পানি ফেললেন সেখান থেকে মেশক আম্বরের ঘ্রাণ আসতে লাগল। (মুসনাদে আহমাদ-১৮৮৩৮) তেরো,
13. দাড়ি মোবারক,
ঘন দাড়ি. (আল জামিউস সগীর).
14. গর্দান মোবারক,
তাঁর গর্দান মোবারক মুতির মত সুন্দর এবং খোলা রুপার মত উজ্জ্বল। (আল জামিউস সগীর)
15. পিঠ মোবারক:
আমি তাঁর পিঠের উপরিভাগে কবুতরের ডিম সদৃশ নুবূওয়াতের মোহর দেখেছি। (সহিহ মুসলিম)
16. বুক মোবারক,
বুক প্রশস্ত ছিল। (জামিউস সগীর)
17.
বক্ষদেশ থেকে নাভি পর্যন্ত লোমের সরু রেখা ছিল। (জামিউস সগীর)
18. পেট,
পেট বুক সমান ছিল। (জামিউস সগীর)
আলী রাঃ এর বক্তব্য।
আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) না অতি লম্বা ছিলেন আর না (অতি) বেঁটে ছিলেন। তাঁর দু’হাত ও দু’পা ছিল মাংসল, মাথা ছিল আকারে বৃহৎ এবং হাড়ের গ্রন্থিসমূহ ছিল স্থূল ও শক্তিশালী। তাঁর বুক হতে নাভি অবধি প্রলম্বিত ফুরফুরে পশমের একটি রেখা ছিল। চলার সময় তিনি সম্মুখের দিকে ঝুঁকে হাঁটতেন, যেন তিনি ঢালবিশিষ্ট জায়গা দিয়ে হেঁটে চলছেন। আমি তাঁর পূর্বে কিংবা তাঁর পরে আর কাউকে তাঁর মতো দেখিনি।
জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৩৬৩৭
তিনি দুনিয়াতে থাকতে বলেছেন
'উম্মাতী উম্মাতী'।
কিয়ামতেও বলবেন
'উম্মাতী উম্মাতী'
সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
আমরা ছিলাম পথহারা, দিশেহারা। হেদায়াত ও সফলতার পথ সম্পর্কে ছিলাম অজ্ঞ। অতপর মহান রাব্বুল আলামীন হেদায়েতের বার্তা দিয়ে প্রেরণ করলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। তিনি এসে আমাদেরকে সত্য-মিথ্যা চিনিয়েছেন। আমাদের নিকট সত্য দ্বীন নিয়ে এসেছেন। নাজাতের পথ দেখিয়েছেন। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পন্থা শিখিয়েছেন। এ ছিল আমাদের প্রতি আল্লাহর মহা অনুগ্রহ।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন দয়া-মমতার সাগর। উম্মতের প্রতি ছিল তাঁর গভীর মায়া, সীমাহীন মমতা এবং তাদের কল্যাণ সাধনে ছিলেন সদা ব্যাকুল, ব্যতিব্যস্ত। তাদেরকে তিনি নিঃস্বার্থ ভালোবাসতেন। তিনি তাদের থেকে না এর কোনো প্রতিদান চাইতেন, আর না কৃতজ্ঞতা কামনা করতেন। চাইতেন শুধু তাদের নাজাত ও সফলতা। চাইতেন যেন উম্মত হেদায়েতের পথ হারিয়ে না ফেলে, আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো আযাব তাদেরকে আক্রান্ত না করে।
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, প্রত্যেক নবীকে এমন একটি বিশেষ দুআর অধিকার দেয়া হয়েছে, যা কবুল করা হবে। তারা (দুনিয়াতে) সে দুআ করেছেন এবং তা কবুলও করা হয়েছে। আর আমি আমার দুআ কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের শাফাআতের উদ্দেশ্যে মূলতবী রেখেছি। (মুসলিম, হাদীস ১৯৯)
মুমিনের জীবনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মুহাব্বাতের গুরুত্ব অপরিসীম। মুহাব্বাতে রাসূল তো ঈমানের রূহ, মুমিনের জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। এই ইশক ও মুহাব্বাত ছাড়া না ঈমানের পূর্ণতা আসে, আর না তার স্বাদ অনুভূত হয়। আর নিছক ভালবাসাই যথেষ্ট নয়, বরং পার্থিব সমস্ত কিছুর উপর এই ভালবাসাকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে ভালবাসার প্রকাশ ঘটতে হবে। হযরত আনাস রা. বলেছেন--
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও সমস্ত মানুষ থেকে প্রিয় হব। (সহীহ বুখারী).
নবীজীর প্রতি ভালবাসা মুমিনের সম্বল
মুমিনের সবচে বড় দৌলত ঈমান। এই মহা দৌলতের স্বাদ যার নসীব হয়, সমস্ত দুঃখ কষ্ট তার কাছে তুচ্ছ মনে হয়।
আর এই স্বাদ সে-ই পায়, যার নিকট আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালোবাসা সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে থাকে। হযরত আনাস রা. হতে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন--
তিনটি গুণের অধিকারী ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করবে। তন্মধ্যে প্রথম হল, যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সবচেয়ে প্রিয় হবে। (সহীহ মুসলিম)।
নবীজীর প্রতি ভালবাসা যেমনিভাবে ঈমান ও আমলে উৎকর্ষ লাভের উপায়, তেমনি তা আখিরাতে মহাসাফল্য অর্জনের সম্বল। আর প্রত্যেক মুমিনের কাঙ্ক্ষিত সে সাফল্য হল আখিরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গলাভ। স্বয়ং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন--
ব্যক্তি যাকে ভালবাসে তার সাথেই তার হাশর হবে। (সহীহ মুসলিম)।
এক ব্যক্তি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করল : ইয়া রাসূলাল্লাহ! কিয়ামত কবে? তিনি পাল্টা প্রশ্ন করলেন, কী প্রস্তুতি নিয়েছ কিয়ামতের? সে জবাব দিল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ভালবাসা। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘নিশ্চয়ই যাকে তুমি ভালবাসো, (কিয়ামতের দিন) তার সাথেই থাকবে।
হযরত আনাস রা. বলেন, ইসলাম গ্রহণের পর আমাদের কাছে সবচেয়ে খুশির বিষয় ছিল নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই কথা "নিশ্চয়ই যাকে তুমি ভালবাস, (কিয়ামতের দিন) তার সাথেই থাকবে।"
আনাস রা. বলেন, আর আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি। আবু বকর ও উমরকেও। তাই আশা রাখি, আখেরাতে আমি তাঁদের সাথেই থাকব, যদিও তাঁদের মতো আমল আমি করতে পারিনি। (সহীহ মুসলিম)।
আর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম হলো- রাসূলুল্লাহ (সা.) এর আনুগত্য করা, তাঁর আদর্শ বাস্তবায়ন করা, রাসূল সা. এর প্রদর্শিত পন্থায় নিজের জীবন পরিচালনা করা। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক তথা সামগ্রিক জীবনে মহানবীর (সা.) আদর্শ বাস্তবায়ন করে নবীপ্রেমের দৃষ্টান্ত প্রদান করাই হোক আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।
14/09/2025
খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ডা. মীর মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শিক্ষকদের রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক মো: মোজাম্মেল হক।
অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ভিসি প্রফেসর আহসানুল্লাহ হাবীব বিজয়ীকে সনদপত্র প্রদান করেন।
মঞ্চে উপস্থিত আছেন সাবেক ভিসি, ইমেরিটাস অধ্যাপক ও উপদেষ্টা প্রফেসর ড. হোসেন রেজা স্যার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাজমুল আহসান মল্লিক।
06/09/2025
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা. উপলক্ষে খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা, রাসূলুল্লাহ সা. এর জীবনির উপর কুইজ প্রতিযোগিতা, নাত ই রাসূল সা. প্রতিযোগিতা, কুর'আন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা এবং "তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সা. এর জীবনে রয়েছে উত্তম আদর্শ" শীর্ষক বক্তব্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতায় ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকারীদের ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নাম:
১। কুইজ প্রতিযোগিতা :
*প্রথম: আব্দুল মোমিন - ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ- ১৭ তম ব্যাচ।
*দ্বিতীয়: আয়েশা সিদ্দিকা মিম- ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ- ১৭ তম ব্যাচ।
*তৃতীয়: মাকসুদা খাতুন- ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ- ১৬ তম ব্যাচ।
২। কুর'আন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা:
*প্রথম: মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ- ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ- ১৭ তম ব্যাচ।
*দ্বিতীয়: লাবিব - কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
*তৃতীয়: আব্দুল মোমিন- ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ- ১৭ তম ব্যাচ।
৩। নাত ই রাসূল সা. প্রতিযোগিতা:
*প্রথম: শাকিল আহমেদ - ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ- ১৫ তম ব্যাচ।
*দ্বিতীয়: নুসরাত জাহান তুলি- ইংরেজি বিভাগ - ২৩ তম ব্যাচ।
*তৃতীয়: লাবিব - কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
৪। বক্তব্য প্রতিযোগিতা:
*প্রথম: নুশরাত জাহান বুশরা - বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ - ১৫ তম ব্যাচ।
*দ্বিতীয়: কামরুল ইসলাম - বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ - ১৫ তম ব্যাচ।
*তৃতীয়: আব্দুল্লাহ আল সাঈদ- মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ - ১ম ব্যাচ। (ফার্স্ট সেমিস্টার)।
আলোচনা সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন-
*প্রফেসর ড. হোসেন রেজা, সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর, ইমেরিটাস অধ্যাপক ও এডভাইজার।
*প্রফেসর আবু তোরাব মো: হাসান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক
*প্রফেসর ড. শাহেদ আকন্দ, ডিন, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ।
*ড. মো: মাহফুজুর রহমান, প্রভাষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ।
সমাপনি বক্তব্য প্রদান করেন: ড. মো: মোতাহার হোসেন, পরিচালক, ডিভিশন অব স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার।
দু'আ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন- মো: আতিকুল ইসলাম, সহকারি অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ।
আয়োজনে: ইথিক্স এন্ড কালচারাল ক্লাব।
সার্বিক ব্যবস্থাপনায়: ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ।
অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে উক্ত অনুষ্ঠান আয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ড. মো: মাহফুজুর রহমান।
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সাহাবীদের আনুগত্য কেমন ছিলো??
সাহাবায়ে কিরাম আনুগত্যের এমন নজীর স্থাপন করে গেছেন যার নজির মানবেতিহাসে নেই। তারা সর্বদায় এই ভাবনায় বিভোর থাকতেন, কিভাবে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য করব। সাহাবায়ে কিরামের এই জামাত এমনিতেই ‘সাহাবায়ে কিরাম’ হয়ে যাননি, এ জন্য তাদের পোড়াতে হয়েছে বহু কাঠ-খড়। এ ব্যাপারে একটি ঘটনা শুনুন।
“একদা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে বক্তৃতা করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লক্ষ্য করলেন, কিছু লোক মসজিদের আশেপাশে দাঁড়িয়ে আছে, যেমনটি বর্তমানেও আমরা দেখতে পাই, মাহফিল চলাকালে কিছু লোক মাহফিলের আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকে। তো মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন, লোকগুলো বসছে না; আবার সরেও যাচ্ছে না। এটি মজলিসের আদবের পরিপন্থী। হয়তো মাহফিলের ভিতর বসে যাবে নতুবা চলে যাবে। কারণ এতে আলোচকের মেধা অন্যদিকে চলে যায় আর শ্রোতারাও মনযোগ হারিয়ে ফেলে। তাই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ানো লোকদের উদ্দেশ্য করে বললেন- ‘তোমরা বসে পড়।’ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এই আদেশ দিলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. তখনো রাস্তায় ছিলেন। মসজিদে নববীর দিকে আসছিলেন, এখনো মসজিদের ভিতর প্রবেশ করেননি। এমন সময় হঠাৎ শুনতে পেলেন ‘তোমরা বসে পড়।’ তিনি সেখানেই বসে পড়লেন। বয়ান শেষে নবীজীর সঙ্গে তার সাক্ষাত হলো। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি রাস্তায় বসে পড়লে কেন? বসার আদেশ তো আমি তাদের দিয়েছিলাম যারা মসজিদের আশেপাশে দাঁড়ানো ছিল। আমি রাস্তার লোকদের বসতে বলিনি। জবাবে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বললেন, আল্লাহর রাসূলের আদেশ ‘তোমরা বসে পড়’ কানে প্রবেশের পর মাসউদের বেটা আব্দুল্লাহর সাহস ছিল না এক পা সামনে বাড়ার।”
এই ছিল সাহাবায়ে কিরামের আনুগত্যের অবস্থা। তারা এমনিতেই ‘সাহাবায়ে কিরাম’ হয়ে যাননি। মহব্বতের দাবীদার তো অনেক আছে, আশেকে রাসূলের দাবীদারেরও অভাব নেই। কিন্তু সাহাবায়ে কিরামের মত প্রকৃত রাসূল প্রেমিক কয়জন পাওয়া যাবে?
আনুগত্যের আরেক দৃষ্টান্ত
হযরত হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রা. ইরান জয়ের সিপাহসালার। পারস্য সম্রাট কিসরার উপর আক্রমণের জন্য পারস্যে উপস্থিত হলেন। সংবাদ পেয়ে আলোচনার জন্য সম্রাট তাকে নিজ রাজ দরবারে নিমন্ত্রণ জানালেন। তিনি দরবারে উপস্থিত হলেন। আপ্যায়নের ব্যবস্থা হল, খাওয়া-দাওয়া আরম্ভ করলেন। খাওয়ার সময় একটি লোকমা তার হাত থেকে নিচে পড়ে গেল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষা হল, কোন খাবার হাত থেকে পড়ে গেলে, তা উঠিয়ে খেয়ে ফেল, কোন ময়লা লাগলে ধুয়ে-মুছে পরিস্কার করে খেয়ে ফেল, ফেলে দিও না। তো হুযাইফা ইবনুল ইয়ামানের রা. মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষার কথা মনে পড়ে গেল। তাই তিনি পড়ে যাওয়া খাবারের লোকমাটি উঠানোর জন্য হাত বাড়ালেন। তার সোজা সামনে তার একজন সঙ্গী বসা ছিলেন, তিনি চোখের ইশারায় বললেন, আপনি এ কি করছেন? এটি সুপার পাওয়ার কিসরার দরবার, এখানে পড়ে যাওয়া খাবার উঠিয়ে খেলে এদের কাছে আপনার মর্যাদা ভুলুণ্ঠিত হবে। এরা ভাববে, আপনি একজন ‘কাঙাল’ মানুষ। এমন মজাদার খাবার কখনো চোখে দেখেননি। তাই আজকের মত এই সুন্নতটি পালন করা থেকে বিরত থাকুন। এটি পড়ে যাওয়া খাবার তুলে খাওয়ার সুন্নত আদায়ের পরিবেশ নয়। এর জবাবে হযাইফা রা. যে জবাব দিয়েছিলেন, বিশ্ববাসী অবাক বিস্ময়ে তা যুগ যুগান্তরে স্মরণ রাখবে এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্যে অনুপ্রাণিত হবে কাল কালান্তরে। দৃপ্ত কণ্ঠে তিনি বললেন-
‘আমি কি এই নির্বোধদের জন্য আল্লাহর রাসূলের সুন্নত ছেড়ে দেব?’ এরা যে যা-ই ভাবুক, যে যা-ই বলুক, আমি আমার হাবীবের সুন্নত ছাড়তে পারব না।
মুসলমানের উন্নতি হবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত পরিপালনে
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, আপনি বলছেন, নবীর সুন্নত পরিত্যাগ করলে অপদস্ত হতে হয়, নেমে আসে লঞ্ছনা। অথচ আমরা দেখছি, অমুসলিম সম্প্রদায় ও ইউরোপীয় দেশগুলো সুন্নত বর্জন করছে। তা সত্ত্বেও তাদের উন্নতি ও মর্যাদার পাগলা ঘোড়া এগিয়ে চলছে অদম্য গতিতে। এমন হলো কেন? এর উত্তর হলো, তোমরা হলে মুসলমান, পড়েছ কালেমা। তাই যাবৎ তোমরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পায়ে লুটিয়ে না পড়বে, তার সুন্নতকে মজবুতভাবে আকড়ে না ধরবে, ততক্ষণ তোমরা মার খেতেই থাকবে, অপদস্ত হতেই থাকবে। আর কাফেরদের জন্য রয়েছে শুধু দুনিয়া। পরকালে তাদের নেই কোন অংশ। এই জগতে পাবে তারা মর্যাদা। হবে তাদের উন্নতি। আর এসব হবে সুন্নত বর্জন করেই, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুধিতা করেই। চৌদ্দশত বছরের ইতিহাস উল্টিয়ে দেখ, মুসলিম জাতি যতদিন নবীর সুন্নতকে আঁকড়ে ধরেছে, আমল করেছে তার উপর; ততদিন পেয়েছে তারা মর্যাদা, সাধন করেছে উন্নতি, লাভ করেছে রষ্ট্রীয় ক্ষমতা। কিন্তু যখন সুন্নত বর্জন করেছে, সুন্নতের উপর আমল করা ছেড়ে দিয়েছে, তখন বিশ্ব দেখেছে, মুসলিম জাতির পরিনতি কি হয়েছে।
পরিশেষে বলব, অবগত হোন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক একটি সুন্নত সম্পর্কে, প্রয়োগ করুন বাস্তব জীবনে। দেখবেন ইনশাআল্লাহ, সুন্নতের কি পরিমাণ নূর হাসিল হচ্ছে। ফলে আপনার প্রতিটি দিবস হয়ে যাবে সীরাতুন্নবীর দিবস, প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে যাবে সীরাতুন্নবীর মুহূর্ত। মহান আল্লাহ আমাকে এবং আপনাদেরকে সীরাতুন্নবী ও সুন্নতে নববীর উপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Sirajganj
6751