22/11/2025
“মহাজনের নৌকা” (তিতাস একটি নদীর নাম থেকে)
বর্ষাকালের এক সন্ধ্যা। নদীর পানি তখন ভরপুর, চারপাশে শুধু জল আর জল। মল্লিকপুর গ্রামের দু-তিনজন জেলে নৌকায় করে মাছ ধরতে বের হয়েছিল। অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় তারা নদীর মাঝখানে আলোর ক্ষীণ রেখা দেখতে পায়।
ওটা ছিল এক মহাজনের নৌকা—বড়, মজবুত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন; সাধারণ জেলেদের নৌকার সঙ্গে যার তুলনা চলে না।
জেলেরা বুঝতে পারে নৌকাটা এই অঞ্চলের নয়। কৌতূহল নিয়ে তারা নৌকার কাছে গেলে দেখতে পায়—নৌকায় এক অপরিচিত পুরুষ আর এক কিশোরী মেয়ে।
মেয়েটির মুখে ক্লান্তি, চোখে ভয়—কিন্তু তবুও একধরনের লাজুক সৌন্দর্য।
জেলেরা জিজ্ঞেস করলে জানা যায়, তারা নদীর ওপারের মানুষ। মহাজনের নৌকাটি ভাড়া নিয়ে এসেছে। নদীফুঁড়ে দূর কোনো আত্মীয়ের বাড়ি যাবে।
কিছুক্ষণ কথাবার্তার পর জেলেরা বুঝতে পারে, লোকটা মেয়েটিকে আসলে কোথাও বিক্রি করতে নিয়ে যাচ্ছে।
তাদের মন খারাপ হয়ে যায়—কারণ তিতাসের জেলে সমাজে মেয়েদের প্রতি সম্মান আর দয়ার অনুভূতি খুব গভীর।
হঠাৎ রাতের ঝড় শুরু হয়। বিশাল ঢেউ এসে মহাজনের নৌকাকে আছড়ে ফেলে। সবাই পানিের তলায় তলিয়ে যায়। জেলেরা প্রাণপণ চেষ্টা করে মেয়েটিকে বাঁচায়, কিন্তু লোকটা নিখোঁজ হয়ে যায়।
মেয়েটিকে তারা নিজেরাই গ্রামে নিয়ে আসে। সেদিন থেকে সে জেলে সমাজেরই একজন হয়ে যায়—তাদের সুখ-দুঃখে মিশে যায়, নতুন পরিবারের মতো।
এইভাবেই গল্পটি নদী, মানুষ, দয়া ও মানবিকতার গভীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে।
---
আপনি চাইলে আরও কোনো গল্প, যেমন “দুই বন্ধু”, “অপরিচিতা”, “কঁচি তরুণ”, “লালসালু”—এসবের সারাংশও বলতে পারি। কোনটা শুনতে চান?