বেশিরভাগ মাদ্রাসার ছাত্র, যারা কওমি মাদ্রাসা ধারার অন্তর্ভুক্ত, তারা বিশ্বাস করেন , তাদের জীবনে এতো বেশি শিক্ষার প্রয়োজন নেই এবং তারা যা কিছু শিখেন তা পরকালের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। ফলস্বরূপ, তাদের ক্যারিয়ারের পথটি একচেটিয়াভাবে ধর্মীয় শিক্ষা প্রচারের সাথে যুক্ত।
বর্তমানে বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসায় প্রায় ৫২,৪৭,৬৬০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।
এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ারের পথটি সামগ্রিকভাবে ধ
র্ম ভিত্তিক পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় মাদ্রাসা শিক্ষিত শিক্ষার্থীদের চাকরির ক্ষেত্রটি সাধারণ শিক্ষার শিক্ষার্থীদের তুলনায় সংকীর্ণ।
এই সংকীর্ণ ক্যারিয়ারের সুযোগের পেছনের প্রধান কারণ হল মূলধারার চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ তাদের শেখানো হয় না।
তদুপরি, কওমি মাদ্রাসাগুলি, যাদের ধর্ম শিক্ষা প্রবাহের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে তাদের নিজস্ব সিলেবাস, বই রয়েছে , যা সরকার স্বীকৃত নয়। তারা সরকারী স্বীকৃত ডিগ্রি সরবরাহ করে না। আলহামদুলিল্লাহ! দাওরায়ে হাদীসকে সম্প্রতি ¯স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমমানের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। যাহা মাননীয় প্রধানমন্ত্রির এক যোগান্তকারি পদক্ষেপ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল কাদির সাহেব বলেছেন যে, কওমি মাদ্রাসার সিলেবাসটি যথাযথভাবে রূপান্তরিত হতে পারে না। কারণ মাদ্রাসাগুলোর কর্তৃপক্ষ যেগুলি বেসরকারিভাবে পরিচালিত হয়েছে তারা চায়না যে, তাদের সিলেবাসটি সংস্কার হোক বা তাতে হস্তক্ষেপ হোক সরকার দ্বারা। তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসার দর্শন মৃত্যুর পরে জীবনকে কেন্দ্র করে অর্থাৎ পরকালের। তারা সেই অনুযায়ী জীবনযাপন করতে এবং স্বর্গে শান্তি পেতে কুরআন ও হাদিস সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান সংগ্রহ করে। তারা নূন্যতম প্রয়োজনীয়তাসহ পৃথিবীতে একটি সহজ জীবনযাপনে বিশ্বাসী এবং এইভাবে পৃথিবীতে দরকারী শিক্ষা এবং দক্ষতা সেখানে ব্যাপকভাবে অবহেলিত।
কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ আলাদা।
কওমি মাদ্রাসা পড়াশোনা শেষ করে তারা মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষকতা, ইসলাম প্রচার বা মসজিদগুলিতে ইমামতি শুরু করে। অধিকাংশ কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা মসজিদ- মাদ্রাসার খেদমত কে উপার্জন হিসেবে বেছে নেয়।
মসজিদে ইমাম, মুয়াজ্জিন বা খাদেম হিসেবে চাকরি করে যা উপার্জন করে তা খুবই সামান্য। যা দিয়ে সংসারের চাহিদা মিটানো সম্ভব হয়না।
একজন মাদ্রাসার ছাত্র, যারা কওমি মাদ্রাসায় দীর্ঘ একটি সময় পড়াশোনার পিছনে ব্যয় করে। পরবর্তীতে কর্মক্ষেত্রে এসে কোন কারিগরি প্রশিক্ষণ না থাকায় সমাজে যথাযথ মর্যাদার সাথে চলতে পারেনা। কেননা একজন জেনারেল শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন কারিগরি, কম্পিউটার বা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে পারে। কিন্তু কওমি মাদ্রাসায় কোন কারিগরি, কম্পিউটার বা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ছাত্ররা প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত থাকে। একজন জেনারেল শিক্ষার্থী যেখানে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ থাকায় যে পরিমাণ টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হন সেখানে মাদ্রাসার ছাত্র উপার্জনে পরিমাণ খুবই স্বল্প। উপরোক্ত সমস্যাগুলো সমাধান এবং মাদ্রাসার ছাত্রদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে “কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের আইটিতে সম্পৃক্ত করণ প্রকল্প” চালু করা হয়। উক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মাদ্রাসার ছাত্রদের গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, আউটসোর্সিং/ ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর মাদ্রাসার ছাত্ররা মসজিদ মাদ্রাসার উপর ভিত্তি না করে জীবন পরিচালনা শুরু করে। প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে অনেক ছাত্র ব্যবসা শুরু করেছেন।