দাবি মোদের একটাই শমশের নগর থানা চাই

দাবি মোদের একটাই শমশের নগর থানা চাই Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from দাবি মোদের একটাই শমশের নগর থানা চাই, shamsher nagar, Shamsher Nagar Bazar.

সারাদেশকয়েকটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দর আবার চালুর উদ্যোগ।কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি।পর্যটন খাতের সম্ভাবনা ও যাত্রী বাড়ান...
28/04/2025

সারাদেশ
কয়েকটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দর আবার চালুর উদ্যোগ।
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি।
পর্যটন খাতের সম্ভাবনা ও যাত্রী বাড়ানোর পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথে চাপ কমানো এবং অর্থনীতি চাঙা করতে কয়েকটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দর আবার চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

এর মধ্যে বগুড়া বিমানবন্দরের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি লালমনিরহাট ও শমশেরনগর বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছে কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল। বিশাল পরিসর, প্রশস্ত রানওয়ে, উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর সুবিধা থাকা সত্ত্বেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দীর্ঘ ৫৪ বছরেও চালু হয়নি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম, পরিত্যক্ত, প্রবাসী অধ্যুষিত ও পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বিমান বন্দর।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন শমশেরনগর বিমানবন্দরটি চালুর লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টার কাছে একাধিকবার আবেদন করেন। সম্প্রতি ঢাকা থেকে বিমানবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে পরিদর্শন করে গেছেন।

জানা গেছে, দেশের অন্তবর্তীকালীন সরকার অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাতের বিকাশ ও যাত্রী পরিবহণ বাড়াতে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিত্যক্ত, অব্যবহৃত ও দখলে থাকা ৭টি বিমানবন্দর যথাক্রমে ঈশ্বরদী, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, বগুড়া, শমশেরনগর, কুমিল্লা ও তেজগাঁও বিমানবন্দর নতুন করে চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ও দেশের বৃহত্তম শমশেরনগর বিমানবন্দরটি সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়। সম্প্রতি লালমনিরহাট বিমানবন্দর ও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু করার জন্য বেবিচকের চার সদস্যের একটি টিম সরেজমিন পরিদর্শন করেছে।

তারা বিমানবন্দর দুটি চালু করার বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন। তারপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বেবিচক কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া অন্য বিমানবন্দরগুলো পরিদর্শন করে দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

জানা গেছে, ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশরা জাপান, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়াকে দখল করার উদ্দেশে একসঙ্গে বড় যে দুটি বিমানবন্দর নির্মাণ করেছিল, তার একটি হচ্ছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বিমানবন্দর। সেসময় বিমানবন্দরটির নামকরণ করা হয় ‘দিলজান্দ বন্দর’।

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘শমশেরনগর বিমানবন্দর’। অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা বিমানবন্দরে ১৯৭৫ সালে বিমান বাহিনীর একটি ইউনিট খোলা হয়। সেখানে বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে একটি প্রশিক্ষণ স্কুল চালু করা হয়। সেই থেকে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান ও হেলিকপ্টার ওঠানামা করছে এখানে। ৬০০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৭৫ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট এ বিমানবন্দরের বড় একটি অংশ পতিত থাকায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন মেয়াদে স্থানীয়দের কাছে ইজারা দিয়ে যাচ্ছেন।

পার্শ্ববর্তী সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এখন যাত্রীর চাপও বেড়ে গেছে। ফলে বিমানবন্দরটি চালু হলে এ চাপ কমে আসবে। মৌলভীবাজার জেলাসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষ উপকৃত হবেন। প্রবাসী ও পর্যটকদের যোগাযোগ সহজ হবে।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, পরিত্যক্ত বিমানবন্দরগুলো পর্যায়ক্রমে সচল করা হবে। তবে অবকাঠামো নির্মাণ, সংস্কার ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি যেখানে আগে শেষ হবে, সেগুলো আগে সচল হবে।

প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোক ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। যাত্রীসেবার পাশাপাশি ভৌগোলিক কারণে এই বিমানবন্দরের সামরিক গুরুত্বও রয়েছে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন জানান, বিমানবন্দরটি চালুর লক্ষ্যে আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে একাধিকবার আবেদন করেছি। সম্প্রতি ঢাকা থেকে বিমানবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে পরিদর্শন করে গেছেন। আমরা আশাবাদী, খুব দ্রুতই এখানে পুনরায় ফ্লাইট চালু হবে।

বিমানবন্দরটি চালু হলে এটিকে কেন্দ্র করে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠবে এবং অত্র এলাকার যাত্রীদের যাতায়াত সুবিধা বাড়বে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত।

13/04/2025

আলহামদুলিল্লাহ।
শীঘ্রই চালু হবে শমশেরনগর বিমানবন্দর।

এ,এ,টি,এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় শমশেরনগর।
10/12/2023

এ,এ,টি,এম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় শমশেরনগর।

25/09/2023

থানা আর বিমানবন্দর ইন শা আল্লাহ।

15/02/2023

রানওয়ে দৈর্ঘ্যরে টার্গেট ৬-৮ হাজার ফুট
চালু হবে পরিত্যক্ত ৭ বিমানবন্দর
২৮টি বিমানবন্দরের বেশিরভাগই ফ্লাইট পরিচালনায়
চালু হবে পরিত্যক্ত ৭ বিমানবন্দর
দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিত্যক্ত, অব্যবহৃত ও দখলে থাকা ৭টি বিমানবন্দর নতুন করে চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

এগুলো হচ্ছে ঈশ্বরদী, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, বগুড়া, শমসেরনগর, কুমিল্লা ও তেজগাঁও বিমানবন্দর। দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাতের বিকাশ ও যাত্রী পরিবহণ বাড়াতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়

ইতোমধ্যেই এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হয়েছে। বেবিচকের ২০৩০ সালের কর্মপরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। আরও জানা গেছে, বর্তমানে এই বিমানবন্দরগুলোর কোনোটিতেই বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ করছে না।

কয়েকটি রয়েছে বিভিন্ন সংস্থার দখলে। অনেকগুলো বিমানবন্দরের রানওয়েতে গরু-ছাগলসহ গবাদি পশু অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোনো কোনো বিমানবন্দরের চারদিকে বাউন্ডারি দেওয়ালসহ কোনো ধরনের নিরাপত্তা চৌকি নেই।

রানওয়েতে ক্রিকেট খেলেন স্থানীয়রা। আবার কোনো কোনো রানওয়েতে জšে§ছে বড় গাছ। ঘাস বড় হওয়ায় অনেক রানওয়েও দেখাও যায় না। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত থাকায় রানওয়ের শক্তি পিসিএন (পেভমেন্ট ক্ল্যাসিফিকেশন নাম্বার) নষ্ট হয়ে গেছে। আর সংস্কার না করায় ও পানি জমে যাওয়ায় কোথাও কোথাও রানওয়ের পিস ঢালায় ও ব্লক ভেঙে গেছে।

বেবিচকের পিএন্ডডিকিউ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় বর্তমানে ২৮টি বিমানবন্দর রয়েছে। এগুলো ব্রিটিশ সরকারের আমলে তৈরি। সব বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার ফুটের মধ্যে।

রানওয়েগুলো বর্তমানে যাত্রীবাহী বিমান পরিচালনায় অনুপযুক্ত। পর্যায়ক্রমে এই রানওয়েগুলোর দৈর্ঘ্য ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার ফুটে উন্নীত করার টার্গেট আছে বেবিচকের।

এছাড়া রানওয়ের পিসিএন ৩০ থেকে ৬০ ফুট করার টার্গেট আছে। তাহলে এটিআর কিংবা ড্যাস-৮ কিউ ৪০০ মডেলের ছোট ছোট যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট অপারেশন শুরু করা সম্ভব হবে।

জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর মেরামত ও সংস্কারের পর পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ কাজের ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে কাজ চলছে। এছাড়া সারা দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, দেশের প্রতিটি জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। শিল্প কারখানার পাশাপাশি দেশব্যাপী পর্যটন খাতের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। একের পর এক মেগা প্রকল্প, অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। এসব কারণে নতুন নতুন বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বগুড়া বিমানবন্দরের বর্তমান এয়ারস্ট্রিপটি বড় বিমানের জন্য উপযুক্ত নয়। লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন এবং অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

বড় বিমানের ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের রানওয়ে ও অন্যান্য অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। এয়ারফিল্ডটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মাত্র আট কিলোমিটার দূরে, যার কারণে বিমানগুলোকে নো-ফ্লাই বিধিনিষেধের মুখোমুখি পড়তে হতে পারে।

শমশেরনগরেরও রানওয়ের দৈর্ঘ্যও বাড়াতে হবে। এজন্য প্রচুর জমি ও অর্থ দরকার। খানজাহান আলী বিমানবন্দর নিয়েও চিন্তাভাবনা আছে। সবকিছু বিবেচনা করে আমরা অভ্যন্তরীণ রুটের আরও কয়েকটি নতুন বিমানবন্দর চালুর চিন্তাভাবনা করছি।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাণিজ্যিকভাবে সফল বিমানবন্দরের জন্য দুটি শর্ত মানা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত যাত্রী এবং উড়োজাহাজ ওঠানামার জন্য দরকারি অবকাঠামো। যে ৬টি বিমানবন্দর চালুর টার্গেট রয়েছে সেগুলোতে পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদা রয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয়টির অভাবেই দেশের ১১টি আঞ্চলিক বিমানবন্দরের মধ্যে ৬টিতেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

ব্রিটিশ আমলে নির্মিত দেশের পশ্চিম-মধ্যাঞ্চলীয় জেলা পাবনার ঈশ্বরদী বিমানবন্দর এরমধ্যে অন্যতম। ১৯৬২ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত এখান থেকে ঢাকায় ফ্লাইটের আসা-যাওয়া ছিল।

এরপর ১৭ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালে কার্যক্রম শুরু করলেও, আবারও বন্ধ হয়ে যায় ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে। অথচ এই উপজেলায় নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র।

রয়েছে একটি সক্রিয় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড)। বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর অভিযোগ, এই বিমানবন্দরে রানওয়ের দৈর্ঘ্য কম। এছাড়া পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই।

এয়ার ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থাও খারাপ। বহু বছর ধরে বন্ধ থাকা ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, লালমনিরহাট, কুমিল্লা এবং শমশেরনগর বিমানবন্দরের অবকাঠামোও একই রকম। বেশিরভাগ অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এবং পাকিস্তান আমলে সেগুলোয় বাণিজ্যিকভাবে বিমান চলাচল কার্যক্রম শুরু হয়।

বর্তমানে কক্সবাজার, রাজশাহী, যশোর, সৈয়দপুর ও বরিশালের বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাণিজ্যিকভাবে চালু রয়েছে। বেসরকারি বিমান সংস্থা-নভোএয়ার, ইউএস বাংলা, এয়ার অ্যাস্ট্রা, ভিস্তেরা এবং জাতীয় পতাকাবাহী বাংলাদেশ বিমান ঢাকা থেকে এসব গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করে।

আরও কয়েকটি বেসরকারি বিমান সংস্থা বর্তমানে ফ্লাইট অপারেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর মতে, গত কয়েক বছরে ঢাকা থেকে পাঁচ জেলায় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যাত্রী সংকটের কারণে ২০১৩-১৪ সালে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা সৈয়দপুরে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করাও কঠিন ছিল। কিন্তু এ রুটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এখন প্রতিদিন ১৫ থেকে ২১টি (রাউন্ড ট্রিপ বা ফিরতি যাত্রা ধরলে ৩০টি) ফ্লাইট চালাচ্ছে। তারপরও টিকিট পাওয়া যায় না। বরিশাল ছাড়া অন্যান্য সব গন্তব্যেও একই অবস্থা।

নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মফিজুর রহমান বলেন, আমরা বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালুর প্রস্তাব দিয়েছি।

শুধু রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্যই নয়, কৃষিভিত্তিক কিছু শিল্পও আছে এখানে। আমরা মনে করি, এটা একটা ভায়েবল অপারেশন (বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক) হবে। একইভাবে পর্যটন বাড়ায় শমশেরনগরেও প্রচুর সম্ভাবনা আছে।

শমশেরনগর বিমানবন্দরটি ১৯৯৫ সালে বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়। কিন্তু অবকাঠামোগত সংকটের কারণে ঢাকা-শমশেরনগর রুট স্থগিত করা হয়। বর্তমানে বিমানবাহিনী প্রশিক্ষণের জন্য সিলেট শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিমানবন্দরটি ব্যবহার করছে।

গত এক দশকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পর্যটকদের জন্য দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্ট, গ্র্যান্ড সুলতান এবং দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পাসহ অনেক হোটেল-মোটেল এবং রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়া শ্রীমঙ্গলে চা বাগানে সবুজের সমারোহ দেখতে আসা পর্যটকদের কারণে এটি বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন গন্তব্যে রূপ নিয়েছে। শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু হলে এটি পুরো পর্যটন অঞ্চলে সেবা দিতে পারবে। বর্তমানে, ঢাকা থেকে শমশেরনগরে সড়ক ভ্রমণে ন্যূনতম পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। সৈয়দপুরে ফ্লাইটের ব্যস্ত লগের কথা উল্লেখ করে নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরও পুনরায় চালুর পক্ষে মত দেন।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদ উল আলম মনে করেন, সড়কে যানবাহনের চাপ প্রতিদিন বেড়ে চলেছে। এ কারণে বন্ধ থাকা অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলো আবার চালু করা গেলে বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো অবশ্যই ফ্লাইট পরিচালনা করবে। তিনি বলেন, যাত্রী আছে এবং তারা বিমান ভ্রমণের জন্য খরচ করতেও প্রস্তুত। আমাদের প্রথম কাজই হবে এয়ারফিল্ডগুলোকে ব্যবসায় ফিরিয়ে আনা।

কুমিল্লা বিমানবন্দর ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে চালু ছিল। ১৯৯৪ সালে এটি পুনরায় চালু করা হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকায় দুই সপ্তাহের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ অঞ্চলে দ্রুত শিল্পায়নের ফলে বিমান চলাচলের চাহিদা বদলেছে। তাছাড়া এ জেলায় একটি ইপিজেড থাকলেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা রাজধানী থেকে সহজে সেখানে যেতে পারেন না।

ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম বলেন, ৯০-এর দশকে যখন কুমিল্লা বিমানবন্দর ফ্লাইট স্থগিত করেছিল, তখন যানজট বলতে কিছুই ছিল না।

কিন্তু এখন তিন ঘণ্টা সময়েও ঢাকা থেকে সড়কপথে কুমিল্লা পৌঁছানো যায় না। অথচ ফ্লাইটে মাত্র ২৫ মিনিটে কুমিল্লা যাতায়াতের সুবিধা মিলবে। বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু হলে চাঁদপুর ও ফেনী অঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার আরও ভালো সংযোগ তৈরি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার মতে ১৭-১৮ আসন বিশিষ্ট বিমানগুলো ঢাকা-বগুড়া এবং ঢাকা-ঠাকুরগাঁও রুটে বাণিজ্যিকভাবে চালু করা যেতে পারে। এতে করে ১০-১১ জন যাত্রী নিয়েও একটি ফ্লাইট কোনোরকম লোকসান ছাড়াই চলাচল পারবে।

আমাদের কুমিল্লা প্রতিনিধি আবুল খায়ের জানান, কুমিল্লা বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক আবদুল গণি বলেছেন, প্রতিদিন আমাদের সিগন্যাল ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক রুটের ৩৫ থেকে ৪০টি বিমান।

এতে মাসে ৩০ লাখ টাকার মতো আয় করছি। এ বিমানবন্দরে সবকিছুই আছে। শুধু উদ্যোগের অভাবে এখানে বিমান উঠানামা করে না। বর্তমানে আমাদের এখানে ২০ জন কর্মরত রয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে একটু উদ্যোগ নিলেই বিমানবন্দরটি সচল করা সম্ভব। এজন্য রানওয়ে মেরামতসহ কিছু কাজ করতে হবে। পাশাপাশি আরও ২০-২২ জন লোকবল নিয়োগ দিতে হবে। আমরা চাই দ্রুত বিমানবন্দরটি চালু হোক।

পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের কর্মকর্তা জলুর রহমান বলেন, বিদেশি ক্রেতারা ঘন ঘন ইপিজেডে আসছেন। এছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদীতে অন্যান্য শিল্প ও পর্যটন বিকাশ লাভ করছে। বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় মানুষ (যাতায়াত) সমস্যায় পড়েছে।

পায়রা হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর : সমুদ্রকন্যা কুয়াকাটার কোল ঘেঁষে পায়রা বন্দরে এবার পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য গ্রহণ করা হয়েছে ‘পায়রা বিমানবন্দর নির্মাণ’ প্রকল্প।

এই বিমানবন্দর থেকে শুরুতে অভ্যন্তরীণ রুটে উড়োজাহাজ চলাচল করবে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রুটে উড়োজাহাজ চলাচলের সার্বিক দিক-বিবেচনা করে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, পায়রায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করতে হলে, উত্তরে-দক্ষিণে ৮ কিলোমিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ৫ কিলোমিটার, অর্থাৎ কম-বেশি ৯ হাজার ৮৮৫ একর জায়গার প্রয়োজন হবে। তাদের বক্তব্য, এই বিমানবন্দর বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে উন্নয়নের নতুন মাইলফলক রচিত হবে। ব্যাপক গতি আসবে পর্যটনশিল্পসহ অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যে।

গড়ে উঠবে কল-কারখানাসহ ছোটবড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। হবে অর্থনৈতিক জোন। পায়রা বন্দর ছাড়াও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ও পর্যটক আকর্ষণে এখানে রয়েছে সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট সোনারচরসহ রয়েছে শতাধিক দ্বীপ ও চর। কর্মসংস্থান হবে এ অঞ্চলের হাজার হাজার বেকার যুবকের। পালটে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান। ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রসার ঘটে নতুন মেরুকরণ হবে দেশের অর্থনীতি।

X

সুখবর সুখবর সুখবরঅত্যন্ত আনন্দ সঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে শমশেরনগর  বিমানবন্দর অতিশীঘ্রই চালু হচ্ছে।
14/02/2023

সুখবর সুখবর সুখবর
অত্যন্ত আনন্দ সঙ্গে জানানো যাচ্ছে যে শমশেরনগর বিমানবন্দর অতিশীঘ্রই চালু হচ্ছে।

02/05/2022

ইদ মোবারক।

14/05/2019

শমশেরনগর; মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার পূর্বে শ্রীমঙ্গল থেকে ২১ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে কুলাউড়া থেকে ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণে ও ভারতের উত্তর ত্রিপুরার জেলা কৈলাসহর থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার পশ্চিমে এর অবস্থান। কথিত আছে প্রায় ৩০০ বছর আগে এই অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পাঠান বীর শমশের গাজীর নামে শমশেরনগরের নামকরন করা হয়। বঙ্গবীর শমসের গাজী ছিলেন একজন ব্রিটিশ বিরোধী এবং ত্রিপুরার রৌশনাবাদ পরগনার কৃষক বিদ্রোহের নায়ক। ১৭৫৭ সালে ব্রিটিশ ঐপনিবেশিক শক্তির আগ্রাসন প্রতিহত করতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করেন।নবাব সিরাজুদ্দোলার পর তিনিই ঔপনিবেশিক শক্তির হাতে প্রথম নিহত হন। ব্রিটিশ শাসনামলে এটি ছিল, এশিয়ার বৃহত্তর গ্রাম্য বাজার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে ব্রিটিশরা কলকাতা দমদম বিমানবন্দরের সঙ্গে শমশেরনগরে একটি বিমানবন্দর স্থাপন করেছিল। দমদমের সঙ্গে মিল রেখে তার নাম রেখেছিল দিলজান্দ বিমানবন্দর। তা ছাড়া ডানকান ব্রাদার্সের প্রধান চা-বাগান শমশেরনগরসহ আরও দুটি চা-বাগান চাতলাপুর ও আলীনগর পাশাপাশি অবস্থানে। ফলে ব্রিটিশরা সে সময় শমশেরনগরে ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশনের (আইটিএ) সদর দপ্তর স্থাপন করেছিল। পাকিস্তান আমলে নাম পরিবর্তন করে হয়েছিল পিটিএ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনের পর পিটিএ চা বোর্ডে রূপান্তরিত হয়ে তার সদর দপ্তর করা হয় চট্টগ্রামে। আজও আইটিএ বা পিটিএ ভবন লংলা হাউস শমশেরনগরে সেদিনের সাক্ষ্য বহন করছে। এ ছাড়াও ১৯৫২ সালে ইরানের শাহেনশাহ রেজা পাহলবি ঢাকা থেকে রেলভ্রমণের মাধ্যমে শমশেরনগর স্টেশনে অবতরণ করে কুলাউড়া উপজেলার নওয়াব বাড়ি মহাজোট সরকারের সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট নওয়াব আলী আব্বাছ খানের বাড়ি গিয়েছিলেন। তাঁর সম্মানে শমশেরনগর প্লাটফরমসংলগ্ন রেলগেটে বড় দুটি পাকা তোরণ নির্মাণ করা হয়েছিল। আজও সে তোরণগুলো নীরব সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। পাকিস্তান আমলে শমশেরনগর বিমানবন্দরে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ার লাইনসের (পিআইএ) অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট সার্ভিস চালু ছিল। ১৯৭০ সালে সিলেট বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর পিআইয়ের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ইঞ্জিনে আগুন ধরে গেলে শমশেরনগর বিমানবন্দরের রানওয়েতে জরুরি অবতরণকালে বিমানটি দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে অধিকাংশ যাত্রী মারা যান। সেই থেকে শমশেরনগর বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেলে বিমানবন্দরটি অচল হয়ে পড়ে। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী (বিএএফ) শমশেরনগর বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রথমে বিশাল এলাকার পতিত ভূমিকে কৃষি অন্তর্ভুক্ত মিষ্টিবরই, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, পেয়ারা, ধান ও লেবুর চাষাবাদ শুরু করে পর্যায়ক্রমে এখানে বড় একটি কৃষিখামার গড়ে তোলে। পাশাপাশি বিএএফ এমটি ইউনিট ও সার্ভইভ্যাল স্কুল স্থাপন করে বিমানসেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে বিএএফ রিক্রুটস অ্যান্ড ট্রেনিং স্কুল ও বিএএফ শাহীন কলেজ স্থাপন করা হয়শমশেরনগরে। এসব কারণ ছাড়াও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ত্রিপুরা পাহাড়বেষ্টিত, টিলা ও রনেমাটির কারনে শমশেরনগরে মৌসুমি ফল আম, কাঁঠাল, জাম, আনারস, লেবু, পেয়ারার বাম্পার ফলন হয়। ফলে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে শমশেরনগরে বসে বিশাল আম-কাঁঠালির হাট। শমশেরনগর স্টেশন সড়ক ও রেলওয়ে স্টেশনের পতিত জমিতে বসে আম-কাঁঠালির বড় হাট। রেল ও সড়কপথে যোগাযোগ ও তুলনামূলক কম দামে পাইকারি বিক্রয় হয় বলে শমশেরনগরে মৌসুমি ফলের হাট জমজমাট থাকে। শমশেরনগরের অবকাঠামোগত অবস্থাও বেশ ভালো। মৌলভীবাজার জেলায় শমশেরনগর খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।
শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া সর্বক্ষেত্রেই শমশেরনগর এখন অগ্রসরমান জনপদ। গত কয়েকবছরে শমশেরনগর বেশ বড় কিছু ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছে। জাতীয় তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী শমশেরনগরে শিক্ষার হার ৯৫%। সরকারী ও বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৩টি। উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে ৩টি , মাদ্রাসা রয়েছে ৪টি এবং কলেজ ২টি। প্রতি বছর পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় শমশেরনগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সিলেট বোর্ডে উল্লেখযোগ্য ফল করছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কিংবা বিসিএস এর মত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতেও এই ইউনিয়নের ছেলে-মেয়েরা মেধার সাক্ষর রাখছে। শমশেরনগরে খেলাধুলার জন্য ৩টি মানসম্মত খেলার মাঠ রয়েছে। দুই যুগ পুরনো শমশেরনগর স্থায়ী গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আজ জাতীয় পর্যায়েও সমাদৃত। জাতীয় দল ও বিদেশী বহু তারকা খেলোয়াড় খেলে গেছেন ঐতিহ্যবাহী শমশেরনগর চা বাগান মাঠে। এছাড়াও ক্রিকেট, ব্যাটমিন্টন, ভলিবল টুর্নামেন্টও এখানে উৎসবের সাথে আয়োজিত হয়। সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে শমশেরনগর আপন আলোয় মহিমান্বিত। দীর্ঘ নয় বছর ধরে সিলেট অঞ্চলের সবচেয়ে বড় পিঠামেলা শমশেরনগর সাফল্যের সাথে আয়োজন করে আসছে। এছাড়াও বৈশাখী মেলাও হয়ে থাকে। এসব মেলায় হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে। বেশ কিছু বছর যাবত ঢাকার বই মেলার আদলে শমশেরনগরের মত একটি মফস্বলেও বই মেলা হয়ে থাকে। শমশেরনগরে মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ ১৫টি ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। ইউনিয়নের ৬৫% লোক মুসলিম হওয়া সত্বেও ধর্মীয় সম্প্রীতি কি জিনিস সেটা বুঝতে হলে অবশ্যই শমশেরনগরে যেতে হবে। এখানে যেমনি মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদ ও ওয়াজ উৎসবের আমেজে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে পালিত হয় তেমনি হিন্দুদের বিভিন্ন পুজাও বর্ণাঢ্যভাবে পালিত হয়। বিভিন্ন পুজাকে কেন্দ্র করে শমশেরনগর চা বাগানে ঐতিহ্যবাহী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে এখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে থাকে। শমশেরনগর স্টেশন ব্যবহার করে কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াত সেবা গ্রহন করে। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকেই সীমান্তবর্তী শমশেরনগর একটি গুরুত্বপূর্ণ বানিজ্য কেন্দ্র। এ গুরুত্ব বিবেচনা করে ১৯৫৭ সালে শমশেরনগরে সিও ডেভলফমেন্ট অফিস করার সকল আয়োজন করা হয়েছিল। এজন্য শমশেরনগর চা বাগানের রাবার বাগান, শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র ও শিংরাউরী ইলেভেন স্টার মাঠ অবমুক্ত করা হয়েছিল। কথিত আছে সে সময় ফজলুল কাদের রাষ্ট্রপতির অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ায় তৎকালীন এমএলএ কেরামত আলীর প্রভাবে ও উদ্যোগে আলীনগর ইউনিয়নের নছরতপুর গ্রামে সিও ডেভলপমেন্ট করা হয়েছিল। শমশেরনগরে রয়েছে বিশাল কৃষি ও মৎস্য খামার। শমশেরনগরে রয়েছে চাতলাপুর স্থল শুলক্ স্টেশনের সদর দপ্তর। সিলেট বিভাগের যে কোন সীমান্ত পথে ভারত থেকে ক্রয় করলে রাজস্ব দিতে হয় শমশেরনগর শুল্ক অফিসে। এ শুল্ক অফিসের মাধ্যমে ভারতের উত্তর ত্রিপুরা ও আসামে আমদানী রপ্তানি বাণিজ্য চলছে। শমশেরনগর ও এর আশপাশের এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় শমশেরনগরে একটি পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে।
সামরিক সরকার কর্তৃক থানা পরিষদকে উপজেলা পরিষদে রূপান্তরিত করার পর থেকেই প্রথম শমশেরনগরকে উপজেলা করার তাগিদ অনুভূত হয়। কিন্তু একটি মহল শুরু থেকেই শমশেরনগরের বিরোধিতা করে। পরে ১৯৮৬-৮৭ সাল থেকে আবার শমশেরনগরে থানা ও উপজেলা করার উদ্যোগ নিলে উপজেলা সদরের একটি মহল গোপনে বাঁধার সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার আমলে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম সাইফুর রহমান মৌলভীবাজার জেলাকে এ গ্রেডে উন্নীত করার লক্ষে শমশেরনগর ও জুড়িতে নতুন দুটি উপজেলা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সে হিসাবে কাজকর্ম এগিয়ে গেলেও জুড়িকে উপজেলা করা হয়। সে সময় সরকারের প্রাভাবশালী এক আমলার হস্থক্ষেপে শমশেরনগরকে উপজেলা করা হয়নি। পরে শমশেরনগরের মানুষের দাবীতে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে আওয়ামী সরকার আমলে আবার শমশেরনগরে উপজেলা বাস্তবায়নে সরকার তৎপর হয়। কিন্তু তখনই পতনউষার, হাজীপুর ইউনিয়নের মানুষ আন্দোলন শুরু করেছিলেন ওসমানগড় উপজেলা চাই। সেবারও কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে শমশেরনগরের মানুষ আবারও বঞ্চিত হয়। বর্তমানে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও আওয়ামিলীগ সরকার ক্ষমতায় এলে সৈয়দ মহসীন আলী এমপি সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হলে তিনি উদ্যোগ নিলেন শমশেরনগর থানা ও পৌরসভা হবে। কিন্তু প্রসাশনিক অদক্ষতার কারনে সেটিও বাধার সন্মুখিন হয়। পরে শমশেরনগরের সর্বস্থরের মানুষ আবারও শমশেরনগর উপজেলা স্থাপনের দাবী জোড়াল করে। এই দাবীর মুখে সম্প্রতি আবার সরকারী উদ্যোগে শমশেরনগর উপজেলা স্থাপনের কাজ শুরু হলে উপজেলা ও থানা পর্যায়ের প্রতিবেদন নেওয়ার সময় সেই বিরোধী চক্রটির মদদে এবার রাজনগরের কামারচাক ইউনিয়নবাসী আন্দোলনে নামে। তাদের দাবী আমরা রাজনগরে থাকবো নতুন থানা শমশেরনগরে যাবো না। যদিও প্রাথমিকভাবে নতুন উপজেলার অধীনে থেকে পরবর্তীতে এ উপজেলা থেকে বের হওয়ার সুযোগ আছে। যেমন জুড়ি উপজেলা স্থাপনে দক্ষিণভাগ প্রথমে ছিল; পরে দক্ষিণভাগ জুড়ি উপজেলা থেকে বের হয়ে গেছে।
একটি উপজেলা স্থাপনের সকল যোগ্যতা ও উপাদান থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী একটি পক্ষের ষড়যন্ত্রে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। শুরু থেকেই একটি মহল শমশেরনগরের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে। শমশেরনগরের যেকোনো উন্নয়ন তারা কটু চোখে দেখে। বিভিন্ন সময় কতিপয় এই সুবিধাভোগীরা শমশেরনগরের সার্বিক উন্নয়নের বিরোধিতা করছে। সম্প্রতি শমশেরনগরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত দাবি শমশেরনগরকে উপজেলা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সর্বস্থরের মানুষ দল-মত-নির্বিশেষে এক কাতারে এসেছে। ফেসবুক কিংবা অনলাইনেও তারা এই দাবীর পক্ষে জনমত গঠন করছে। সকলের ফেসবুকের প্রোফাইল ফটোতে শোভা পাচ্ছে ‘দাবি মোদের একটাই, শমশেরনগর উপজেলা চাই’ শীর্ষক পোষ্টার। বিভক্ত এই সমাজে শমশেরনগরবাসীর “ঐক্যই” দাবীর পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিতে সক্ষম করেছে । একটি ইউনিয়ন হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত শুধু শমশেরনগরের উপর নির্ভর করেই এর আশেপাশের এলাকার উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু একটি ইউনিয়ন হিসেবে শমশেরনগরের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কাজেই শমশেরনগরে “কামারচাক, পতনউষার, টিলাগাও, হাজীপুর, শরীফপুর ও শমশেরনগর ইউনিয়ন” সমন্বয়ে ‘শমশেরনগর উপজেলা' নাম ধারণ করে নতুন উপজেলা বাস্তবায়ন হলে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে যা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রকৃত পক্ষে শমশেরনগর উপজেলা বাস্তাবায়ন ও কার্যক্রম শুরু এখন সময়ের দাবি। তাই শমশেরনগরবাসীর এখন সেই প্রতীক্ষায় প্রহর কাটছে।

24/06/2017
24/06/2017

মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে
২০ কিলোমিটার পূর্বে শ্রীমঙ্গল
থেকে ২১ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে
কুলাউড়া থেকে ২৭ কিলোমিটার
দক্ষিণে ও ভারতের উত্তর ত্রিপুরার
জেলা কৈলাসহর থেকে মাত্র ১৩
কিলোমিটার পশ্চিমে এর অবস্থান।
কথিত আছে প্রায় ৩০০ বছর আগে এই
অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পাঠান বীর
শমশের গাজীর নামে শমশেরনগরের
নামকরন করা হয়। বঙ্গবীর শমসের
গাজী ছিলেন একজন ব্রিটিশ
বিরোধী এবং ত্রিপুরার রৌশনাবাদ
পরগনার কৃষক বিদ্রোহের নায়ক। ১৭৫৭
সালে ব্রিটিশ ঐপনিবেশিক শক্তির
আগ্রাসন প্রতিহত করতে গিয়ে মৃত্যু বরণ
করেন। নবাব সিরাজুদ্দোলার পর
তিনিই ঔপনিবেশিক শক্তির হাতে
প্রথম নিহত হন। ব্রিটিশ শাসনামলে
এটি ছিল, এশিয়ার বৃহত্তর গ্রাম্য
বাজার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে
ব্রিটিশরা কলকাতা দমদম
বিমানবন্দরের সঙ্গে শমশেরনগরে
একটি বিমানবন্দর স্থাপন করেছিল।
দমদমের সঙ্গে মিল রেখে তার নাম
রেখেছিল দিলজান্দ বিমানবন্দর।
তাছাড়া ডানকান ব্রাদার্সের
প্রধান চা-বাগান শমশেরনগরসহ আরও
দুটি চা-বাগান চাতলাপুর ও আলীনগর
পাশাপাশি অবস্থানে। ফলে
ব্রিটিশরা সে সময় শমশেরনগরে
ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশনের
(আইটিএ) সদর দপ্তর স্থাপন করেছিল।
পাকিস্তান আমলে নাম পরিবর্তন
করে হয়েছিল পিটিএ। ১৯৭১ সালে
বাংলাদেশ স্বাধীনের পর পিটিএ
চা বোর্ডে রূপান্তরিত হয়ে তার সদর
দপ্তর করা হয় চট্টগ্রামে। আজও আইটিএ
বা পিটিএ ভবন লংলা হাউস
শমশেরনগরে সেদিনের সাক্ষ্য বহন
করছে। এ ছাড়াও ১৯৫২ সালে
ইরানের শাহেনশাহ রেজা পাহলবি
ঢাকা থেকে রেলভ্রমণের মাধ্যমে
শমশেরনগর স্টেশনে অবতরণ করে
কুলাউড়া উপজেলার নওয়াব বাড়ি
মহাজোট সরকারের সাবেক সাংসদ
অ্যাডভোকেট নওয়াব আলী আব্বাছ
খানের বাড়ি গিয়েছিলেন। তাঁর
সম্মানে শমশেরনগর প্লাটফরমসংলগ্ন
রেলগেটে বড় দুটি পাকা তোরণ
নির্মাণ করা হয়েছিল। আজও সে
তোরণগুলো নীরব সাক্ষী হিসেবে
দাঁড়িয়ে আছে।
পাকিস্তান আমলে শমশেরনগর
বিমানবন্দরে পাকিস্তান
ইন্টারন্যাশনাল এয়ার লাইনসের
(পিআইএ) অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট সার্ভিস
চালু ছিল। ১৯৭০ সালে সিলেট
বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর
পিআইয়ের একটি অভ্যন্তরীণ
ফ্লাইটের ইঞ্জিনে আগুন ধরে গেলে
শমশেরনগর বিমানবন্দরের রানওয়েতে
জরুরি অবতরণকালে বিমানটি
দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে অধিকাংশ
যাত্রী মারা যান। সেই থেকে
শমশেরনগর বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ
ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেলে বিমানবন্দরটি
অচল হয়ে পড়ে। ১৯৭৫ সালে
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী
(বিএএফ) শমশেরনগর বিমানবন্দরের
নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রথমে বিশাল
এলাকার পতিত ভূমিকে কৃষি
অন্তর্ভুক্ত মিষ্টিবরই, কাঁঠাল, লিচু,
আনারস, পেয়ারা, ধান ও লেবুর
চাষাবাদ শুরু করে পর্যায়ক্রমে
এখানে বড় একটি কৃষিখামার গড়ে
তোলে। পাশাপাশি বিএএফ এমটি
ইউনিট ও সার্ভইভ্যাল স্কুল স্থাপন করে
বিমানসেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার
ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে বিএএফ
রিক্রুটস অ্যান্ড ট্রেনিং স্কুল ও
বিএএফ শাহীন কলেজ স্থাপন করা
হয়শমশেরনগরে।
এসব কারণ ছাড়াও ভৌগোলিক
অবস্থানের কারণে ত্রিপুরা
পাহাড়বেষ্টিত, টিলা ও রনেমাটির
কারনে শমশেরনগরে মৌসুমি ফল আম,
কাঁঠাল, জাম, আনারস, লেবু,
পেয়ারার বাম্পার ফলন হয়। ফলে
বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে শমশেরনগরে
বসে বিশাল আম-কাঁঠালির হাট।
শমশেরনগর স্টেশন সড়ক ও রেলওয়ে
স্টেশনের পতিত জমিতে বসে আম-
কাঁঠালির বড় হাট। রেল ও সড়কপথে
যোগাযোগ ও তুলনামূলক কম দামে
পাইকারি বিক্রয় হয় বলে শমশেরনগরে
মৌসুমি ফলের হাট জমজমাট থাকে।
শমশেরনগরের অবকাঠামোগত অবস্থাও
বেশ ভালো। মৌলভীবাজার
জেলায় শমশেরনগর খুব গুরুত্বপূর্ণ
জায়গা। শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি,
ক্রীড়া সর্বক্ষেত্রেই শমশেরনগর এখন
অগ্রসরমান জনপদ। গত কয়েকবছরে
শমশেরনগর বেশ বড় কিছু ইতিহাসের
সাক্ষী হয়েছে। জাতীয় তথ্য
বাতায়ন অনুযায়ী শমশেরনগরে
শিক্ষার হার ৯৫%। সরকারী ও
বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়
রয়েছে ১৩টি। উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে
৩টি , মাদ্রাসা রয়েছে ৪টি এবং
কলেজ ২টি। প্রতি বছর পিএসসি,
জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসি
পরীক্ষায় শমশেরনগরের
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সিলেট
বোর্ডে উল্লেখযোগ্য ফল করছে।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল
কিংবা বিসিএস এর মত
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতেও এই
ইউনিয়নের ছেলে-মেয়েরা মেধার
সাক্ষর রাখছে। শমশেরনগরে
খেলাধুলার জন্য ৩টি মানসম্মত
খেলার মাঠ রয়েছে। দুই যুগ পুরনো
শমশেরনগর স্থায়ী গোল্ড কাপ ফুটবল
টুর্নামেন্ট আজ জাতীয় পর্যায়েও
সমাদৃত। জাতীয় দল ও বিদেশী বহু
তারকা খেলোয়াড় খেলে গেছেন
ঐতিহ্যবাহী শমশেরনগর চা বাগান
মাঠে। এছাড়াও ক্রিকেট,
ব্যাটমিন্টন, ভলিবল টুর্নামেন্টও
এখানে উৎসবের সাথে আয়োজিত
হয়। সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে
শমশেরনগর আপন আলোয় মহিমান্বিত।
দীর্ঘ নয় বছর ধরে সিলেট অঞ্চলের
সবচেয়ে বড় পিঠামেলা শমশেরনগর
সাফল্যের সাথে আয়োজন করে
আসছে। এছাড়াও বৈশাখী মেলাও
হয়ে থাকে। এসব মেলায় হাজার
হাজার লোকের সমাগম ঘটে। বেশ
কিছু বছর যাবত ঢাকার বই মেলার
আদলে শমশেরনগরের মত একটি
মফস্বলেও বই মেলা হয়ে থাকে।
শমশেরনগরে মসজিদ, মন্দির ও
গির্জাসহ ১৫টি ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান
রয়েছে। ইউনিয়নের ৬৫% লোক মুসলিম
হওয়া সত্বেও ধর্মীয় সম্প্রীতি কি
জিনিস সেটা বুঝতে হলে অবশ্যই
শমশেরনগরে যেতে হবে। এখানে
যেমনি মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদ ও ওয়াজ
উৎসবের আমেজে ধর্মীয়
ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে পালিত
হয় তেমনি হিন্দুদের বিভিন্ন পুজাও
বর্ণাঢ্যভাবে পালিত হয়। বিভিন্ন
পুজাকে কেন্দ্র করে শমশেরনগর চা
বাগানে ঐতিহ্যবাহী মেলা
অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র
করে এখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের
আয়োজন হয়ে থাকে। শমশেরনগর
স্টেশন ব্যবহার করে কমলগঞ্জ,
কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার ২৫টি
ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াত সেবা
গ্রহন করে।
উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়
থেকেই সীমান্তবর্তী শমশেরনগর
একটি গুরুত্বপূর্ণ বানিজ্য কেন্দ্র। এ গুরুত্ব
বিবেচনা করে ১৯৫৭ সালে
শমশেরনগরে সিও ডেভলফমেন্ট অফিস
করার সকল আয়োজন করা হয়েছিল।
এজন্য শমশেরনগর চা বাগানের রাবার
বাগান, শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র ও
শিংরাউরী ইলেভেন স্টার মাঠ
অবমুক্ত করা হয়েছিল। কথিত আছে সে
সময় ফজলুল কাদের রাষ্ট্রপতির
অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ায়
তৎকালীন এমএলএ কেরামত আলীর
প্রভাবে ও উদ্যোগে আলীনগর
ইউনিয়নের নছরতপুর গ্রামে সিও
ডেভলপমেন্ট করা হয়েছিল।
শমশেরনগরে রয়েছে বিশাল কৃষি ও
মৎস্য খামার। শমশেরনগরে রয়েছে
চাতলাপুর স্থল শুলক্ স্টেশনের সদর
দপ্তর। সিলেট বিভাগের যে কোন
সীমান্ত পথে ভারত থেকে ক্রয়
করলে রাজস্ব দিতে হয় শমশেরনগর শুল্ক
অফিসে। এ শুল্ক অফিসের মাধ্যমে
ভারতের উত্তর ত্রিপুরা ও আসামে
আমদানী রপ্তানি বাণিজ্য চলছে।
শমশেরনগর ও এর আশপাশের এলাকার
আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায়
শমশেরনগরে একটি পুলিশ ফাঁড়ি
রয়েছে।
সামরিক সরকার কর্তৃক থানা
পরিষদকে উপজেলা পরিষদে
রূপান্তরিত করার পর থেকেই প্রথম
শমশেরনগরকে উপজেলা করার তাগিদ
অনুভূত হয়। কিন্তু একটি মহল শুরু থেকেই
শমশেরনগরের বিরোধিতা করে। পরে
১৯৮৬-৮৭ সাল থেকে আবার
শমশেরনগরে থানা ও উপজেলা করার
উদ্যোগ নিলে উপজেলা সদরের একটি
মহল গোপনে বাঁধার সৃষ্টি করেন।
পরবর্তীতে বিএনপি সরকার আমলে
সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম
সাইফুর রহমান মৌলভীবাজার
জেলাকে এ গ্রেডে উন্নীত করার
লক্ষে শমশেরনগর ও জুড়িতে নতুন দুটি
উপজেলা স্থাপনের উদ্যোগ
নিয়েছিলেন। সে হিসাবে কাজকর্ম
এগিয়ে গেলেও জুড়িকে উপজেলা
করা হয়। সে সময় সরকারের
প্রাভাবশালী এক আমলার
হস্থক্ষেপে শমশেরনগরকে উপজেলা
করা হয়নি। পরে শমশেরনগরের
মানুষের দাবীতে নবম জাতীয় সংসদ
নির্বাচন শেষে আওয়ামী সরকার
আমলে আবার শমশেরনগরে উপজেলা
বাস্তবায়নে সরকার তৎপর হয়। কিন্তু
তখনই পতনউষার, হাজীপুর ইউনিয়নের
মানুষ আন্দোলন শুরু করেছিলেন
ওসমানগড় উপজেলা চাই। সেবারও
কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে শমশেরনগরের
মানুষ আবারও বঞ্চিত হয়। বর্তমানে দশম
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও
আওয়ামিলীগ সরকার ক্ষমতায় এলে
সৈয়দ মহসীন আলী এমপি সমাজকল্যাণ
মন্ত্রী হলে তিনি উদ্যোগ নিলেন
শমশেরনগর থানা ও পৌরসভা হবে।
কিন্তু প্রসাশনিক অদক্ষতার কারনে
সেটিও বাধার সন্মুখিন হয়। পরে
শমশেরনগরের সর্বস্থরের মানুষ আবারও
শমশেরনগর উপজেলা স্থাপনের দাবী
জোরালো করে।
এই দাবীর মুখে সম্প্রতি আবার
সরকারী উদ্যোগে শমশেরনগর
উপজেলা স্থাপনের কাজ শুরু হলে
উপজেলা ও থানা পর্যায়ের
প্রতিবেদন নেওয়ার সময় সেই
বিরোধী চক্রটির মদদে এবার
রাজনগরের কামারচাক ইউনিয়নবাসী
আন্দোলনে নামে। তাদের দাবী
আমরা রাজনগরে থাকবো নতুন থানা
শমশেরনগরে যাবো না। যদিও
প্রাথমিকভাবে নতুন উপজেলার
অধীনে থেকে পরবর্তীতে এ
উপজেলা থেকে বের হওয়ার সুযোগ
আছে। যেমন জুড়ি উপজেলা স্থাপনে
দক্ষিণভাগ প্রথমে ছিল; পরে
দক্ষিণভাগ জুড়ি উপজেলা থেকে
বের হয়ে গেছে।
একটি উপজেলা স্থাপনের সকল
যোগ্যতা ও উপাদান থাকা সত্ত্বেও
প্রভাবশালী একটি পক্ষের ষড়যন্ত্রে
এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। শুরু
থেকেই একটি মহল শমশেরনগরের
উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে।
শমশেরনগরের যেকোনো উন্নয়ন তারা
কটু চোখে দেখে। বিভিন্ন সময়
কতিপয় এই সুবিধাভোগীরা
শমশেরনগরের সার্বিক উন্নয়নের
বিরোধিতা করছে। সম্প্রতি
শমশেরনগরবাসীর দীর্ঘদিনের
লালিত দাবি শমশেরনগরকে
উপজেলা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে
সর্বস্থরের মানুষ দল-মত-নির্বিশেষে
এক কাতারে এসেছে। ফেসবুক
কিংবা অনলাইনেও তারা এই
দাবীর পক্ষে জনমত গঠন করছে। সকলের
ফেসবুকের প্রোফাইল ফটোতে
শোভা পাচ্ছে ‘দাবি মোদের
একটাই, শমশেরনগর উপজেলা চাই’
শীর্ষক পোষ্টার। বিভক্ত এই সমাজে
শমশেরনগরবাসীর “ঐক্যই” দাবীর পক্ষে
দৃঢ় অবস্থান নিতে সক্ষম করেছে ।
একটি ইউনিয়ন হিসেবে দীর্ঘদিন
যাবত শুধু শমশেরনগরের উপর নির্ভর
করেই এর আশেপাশের এলাকার উন্নয়ন
হচ্ছে। কিন্তু একটি ইউনিয়ন হিসেবে
শমশেরনগরের অনেক সীমাবদ্ধতা
রয়েছে।
কাজেই শমশেরনগরে “কামারচাক,
পতনউষার, টিলাগাও, হাজীপুর,
শরীফপুর ও শমশেরনগর ইউনিয়ন” সমন্বয়ে
‘শমশেরনগর উপজেলা' নাম ধারণ করে
নতুন উপজেলা বাস্তবায়ন হলে স্বার্থ
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন এলাকার উন্নয়ন
ত্বরান্বিত হবে যা বলার অপেক্ষা
রাখে না। প্রকৃত পক্ষে শমশেরনগর
উপজেলা বাস্তাবায়ন ও কার্যক্রম শুরু
এখন সময়ের দাবি। তাই
শমশেরনগরবাসীর এখন সেই প্রতীক্ষায়
প্রহর কাটছে।

Address

Shamsher Nagar
Shamsher Nagar Bazar
৩২২৩

Telephone

01717141294

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when দাবি মোদের একটাই শমশের নগর থানা চাই posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share