17/05/2026
আপনি কি কখনও একটি ফটোকপি করা কাগজের ওপর থেকে আবার ফটোকপি করেছেন? যতবার আপনি এই কাজ করবেন, কাগজের ছবি বা লেখাগুলো ততই অস্পষ্ট হতে থাকবে। ঠিক এই ধারণাটিই প্রাণীজগতের ওপর পরীক্ষা করেছেন জাপানের ইয়ামানাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী তেরুহিকো ওয়াকায়ামা, যিনি টানা ২০ বছর ধরে একটি ইঁদুরের ক্লোন থেকে বারবার ক্লোন তৈরি করে এক গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। ২০০৫ সাল থেকে শুরু করে তারা মোট ৫৮টি প্রজন্মে প্রায় ১,২০০ বারের বেশি ইঁদুরের পুনরুৎপাদন করেছেন, যা বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রথমদিকে এই ক্লোনিং প্রক্রিয়ার সাফল্যের হার অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল, যা শুরুর ৭ শতাংশ থেকে ২৬তম প্রজন্মে গিয়ে ১৫.৫ শতাংশে পৌঁছায়। কিন্তু এরপরই ঘটে এক অভাবনীয় ঘটনা; ২৭তম প্রজন্মের পর থেকে সাফল্যের হার হঠাৎ করেই কমতে শুরু করে এবং শেষদিকে অর্থাৎ ৫৭ ও ৫৮তম প্রজন্মে তা মাত্র ০.৬ শতাংশে নেমে আসে। এই পতনের কারণ খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা জিনোম বিশ্লেষণ করে জানতে পারেন যে, প্রতিবার পুনরুৎপাদনের সময় ইঁদুরের শরীরে ক্ষতিকর জেনেটিক মিউটেশন বা জিনের নেতিবাচক পরিবর্তন জমা হচ্ছিল। সাধারণ ইঁদুরের তুলনায় ক্লোন করা ইঁদুরের শরীরে তিনগুণ বেশি মিউটেশন দেখা যায়, যা প্রমাণ করে যে ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট প্রাণী কখনোই আসল প্রাণীর একদম নিখুঁত কপি হতে পারে না।
জেনেটিক মিউটেশনের এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বর্তমানে উন্নত কৃষি, রোগ প্রতিরোধ এবং বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী সংরক্ষণে ক্লোনিং একটি অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। উদাহরণস্বরূপ, ব্ল্যাক-ফুটেড ফেরেটের মতো প্রায় বিলুপ্ত প্রাণীর জিনগত বৈচিত্র্য বাড়িয়ে তাদের পৃথিবীতে টিকিয়ে রাখতে বিজ্ঞানীরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন; এমনকি ভবিষ্যতে অন্য গ্রহে মানুষের বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রেও প্রাণীদের জিনোম ক্লোনিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ওয়াকায়ামার এই সুদীর্ঘ গবেষণা আমাদের পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয় যে, ক্লোনিং প্রযুক্তি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হলেও এটি অনন্তকাল ধরে কাজ করতে পারে না এবং শুধুমাত্র এর ওপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিক উপায়ে প্রাণী সংরক্ষণের ওপরও আমাদের জোর দিতে হবে।
Khairul Alom Fardush
Team Science Bee
17/05/2026
মানুষ কি কখনো বয়স বেড়ে যাওয়া একেবারে থামাতে পারবে? কল্পবিজ্ঞানের এই স্বপ্নকে এবার বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করছে রাশিয়া, কারণ তারা তৈরি করছে বিশ্বের প্রথম 'অ্যান্টি-এজিং ভ্যাকসিন' বা বার্ধক্য প্রতিরোধী ওষুধ। মূলত এটি একটি জিন থেরাপি, যা কোষের বয়স বেড়ে যাওয়া ধীর করতে সাহায্য করবে।
রাশিয়ার মন্ত্রী ডেনিস সেকিরিনস্কি জানিয়েছেন, এই পরীক্ষামূলক চিকিৎসাটি মানবদেহের 'RAGE' নামক একটি রিসেপ্টরকে লক্ষ্য করে কাজ করবে। শরীরে এই রিসেপ্টরটি সক্রিয় হলেই কোষের বয়স বাড়তে শুরু করে, তাই জিনগতভাবে একে আটকে দেওয়ার মাধ্যমে তারুণ্য দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব হবে। দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী তাতায়ানা গোলিকোভা আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এই যুগান্তকারী ওষুধের উৎপাদন শুরু করা যাবে, যা একসময়ের অবিশ্বাস্য একটি চিন্তাকে বাস্তবে পরিণত করবে।
অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এই প্রকল্পটি পরিচালনা করছে রাশিয়ার ইনস্টিটিউট অফ এজিং বায়োলজি অ্যান্ড মেডিসিন। মূলত দেশে জনসংখ্যার ক্রমাবনতি এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই এই বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরাসরি নির্দেশে ২০২৫ সালে শুরু হওয়া 'নিউ টেকনোলজিস ফর হেলথ প্রিজারভেশন' নামক একটি জাতীয় প্রকল্পের অধীনে এই গবেষণা চলছে। এই কর্মসূচির জন্য দুই ট্রিলিয়ন রুবেলেরও বেশি (প্রায় ২৬.৪ বিলিয়ন ডলার) এক বিশাল বাজেট বরাদ্দ করেছে রুশ সরকার।
তবে বিজ্ঞানের চমকের বাইরেও এই বিপুল বিনিয়োগের পেছনে রয়েছে কিছু রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণ। ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, পুতিনের দীর্ঘদিনের মিত্র এবং কুরচাতভ ইনস্টিটিউটের প্রধান মিখাইল কোভালচুকের 'অনন্ত জীবন' এবং 'রুশ জিনোম' আবিষ্কারের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই প্রকল্পের জন্ম। পুতিনের বড় মেয়ে এন্ডোক্রিনোলজিস্ট মারিয়া ভরোন্তসোভা জড়িত আছেন এমন একটি জেনেটিক্স উন্নয়ন কর্মসূচিও তদারকি করেন কোভালচুক। বিষয়টি আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে যখন দেখা যায়, ৭৩ বছর বয়সী পুতিনসহ রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রায় সবারই বয়স বেশ বেশি, অথচ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী সাধারণ রুশ পুরুষদের গড় আয়ু মাত্র ৬৭ বছরের কাছাকাছি। তাই নিজেদের আয়ু বৃদ্ধি এবং বার্ধক্য ঠেকানোর এই বিপুল প্রচেষ্টা রাশিয়ার উচ্চপদস্থ নেতাদের কাছে কেবল একটি বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনই নয়, বরং ব্যক্তিগত একটি তাগিদও বটে।
Khairul Alom Fadush
Team Science Bee
16/05/2026
ডাক্তাররা একসময় ডিম্বাশয়ে ছোট ছোট পানির থলি দেখে সেগুলোকে 'সিস্ট' ভেবেছিলেন এবং রোগটির নাম দিয়েছিলেন পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা PCOS। কিন্তু আধুনিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এগুলো আসলে কোনো সিস্ট নয়, বরং হরমোনের কারণে আটকে থাকা অপরিণত ডিম্বাণু। এই ভুল ধারণা ভাঙতে ১২ই মে চিকিৎসা সাময়িকী 'ল্যানসেট'-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে রোগটির নতুন নাম ঘোষণা করা হয়েছে— পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম বা PMOS।
16/05/2026
৪ বন্ধুর মধ্যে সবার বামে কে আছে?
15/05/2026
জন্মদিনের পার্টিতে কয়েকজন বন্ধুকে দাওয়াত দিলেন, আর সেখানে হাজার হাজার অচেনা মানুষ হাজির হয়ে পুরো এলাকায় দাঙ্গা বাঁধিয়ে দিল!
২০১২ সালে নেদারল্যান্ডসের ছোট্ট শহর হারেনে ঠিক এমন একটি ঘটনাই ঘটেছিল। ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী ফেসবুকে তার জন্মদিনের ইভেন্টটি 'প্রাইভেট' করতে ভুলে যায়। ফলে এই সাধারণ একটি দাওয়াত ইন্টারনেটে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভয়ে সেই কিশোরী নিজের বাড়ি ছেড়েই পালিয়ে যায়।
পার্টি বাতিল করে পুলিশ সবাইকে সেখানে যেতে নিষেধ করলেও, প্রায় ৩ হাজার উচ্ছৃঙ্খল যুবক হারেন শহরে জড়ো হয়। হলিউডের 'প্রজেক্ট এক্স' নামের একটি সিনেমার অনুকরণে অনেকেই বিশেষ টি-শার্ট পরে এই জমায়েতে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শত শত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিন্তু উন্মত্ত জনতা পুলিশের ওপর বোতল, ফুলের টব, পাথর এবং এমনকি সাইকেল ছুঁড়ে মারতে শুরু করে, যার ফলে পুরো শহরে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এই দাঙ্গায় দোকানপাট লুটপাট করা হয়, গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং রাস্তার সাইনপোস্ট ও ল্যাম্পপোস্ট ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন আহত হন এবং পুলিশ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে। তবে এই ধ্বংসযজ্ঞের পর শহরটি পুনরায় পরিষ্কার করার জন্য ফেসবুকেই "প্রজেক্ট ক্লিন-এক্স হারেন" নামে নতুন আরেকটি পেজ খোলা হয়। খুব দ্রুতই সেখানে ১৭ হাজারেরও বেশি মানুষ যুক্ত হয়ে শহরটি পরিষ্কারের এই স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগে সমর্থন জানায়।
Khairul Alom Fardush
Team Science Bee
15/05/2026
আপনি কোন সময়ে যেতেন এবং কেন? 🤔
14/05/2026
ষষ্ঠবারের মতো Science Bee - বিজ্ঞান ও গবেষণা গ্রুপের মডারেটর রিক্রুটমেন্ট শুরু হয়েছে।
আপনি যদি বিজ্ঞান চর্চাকে উৎসাহিত করতে এবং একটি সুশৃঙ্খল কমিউনিটি গঠনে ভূমিকা রাখতে চান, তবে আমরা আপনাকেই খুঁজছি। প্রায় সাড়ে চার লাখের বেশি শিক্ষার্থীর সামনে সায়েন্স বী এবং নিজেকে রিপ্রেজেন্ট করতে চাইলে এই সুযোগ আপনার জন্য।
কাদের খুঁজছি আমরা?
১. যাদের বিজ্ঞানের প্রতি রয়েছে গভীর অনুরাগ এবং স্বেচ্ছাসেবার মানসিকতা।
২. যারা নিয়মিত বিজ্ঞানভিত্তিক কন্টেন্ট তৈরির মাধ্যমে গ্রুপকে সমৃদ্ধ করতে চান।
৩. যারা গ্রুপের সদস্যদের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ও আলোচনায় অংশ নিয়ে একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করতে আগ্রহী।
৪. গ্রুপের নিয়ম শুধুমাত্র মেম্বারদের জন্য নয়, মডারেটরদেরও সেইসব নিয়ম মেনে চলতে হবে।
৫. ফেইক আইডি গ্রহণযোগ্য নয়।
মডারেটর হতে ইচ্ছুক হলে কমেন্টবক্সে দেওয়া গুগল ফর্মে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিন। আপনার দেয়া তথ্য ও উত্তর বিবেচনা করে আপনাদের সাথে যোগাযোগ করা হবে, পাশাপাশি প্রাথমিক ভাবে বাছাই শেষে আপনাদের বিভিন্ন টাস্কে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত ভাবে মডারেটর প্যানেল বাছাই করা হবে।
আপনার জন্য যা যা থাকছে:
১. কাজের মূল্যায়ন স্বরূপ কাজ শেষে সার্টিফিকেট পাবেন, ২. পাশাপাশি আপনার পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে সেরা মডারেটর হবার মাধ্যমে গ্রুপ এবং পেইজে ফিচারড হবেন। ৩. এছাড়া সায়েন্স বী'র অন্যান্য টিমের সাথে সরাসরি কাজের সুযোগ তো থাকছেই!
আবেদন এর শেষ সময় ২২ মে।
14/05/2026
২০১১ সালে ইন্দোনেশিয়ার জঙ্গলে একটি ম্যাকাক বানর ফটোগ্রাফার ডেভিড স্লেটারের ক্যামেরার বোতাম চেপে নিজের একটি হাস্যোজ্জ্বল সেলফি তুলেছিল। এই একটি ছবি জন্ম দেয় এক আইনি লড়াইয়ের, যেখানে প্রশ্ন ওঠে—মানুষ ছাড়া অন্য কোনো প্রাণী বা সত্তা কি কোনো শিল্পের মালিকানা বা কপিরাইট পেতে পারে? দীর্ঘ যুক্তিতর্কের পর মার্কিন কপিরাইট অফিস এবং আদালত রায় দেয় যে, মানুষ ছাড়া অন্য কেউ বা কোনো প্রাণী কপিরাইট ধারণ করতে পারে না, যার ফলে ছবিটি পাবলিক ডোমেইনে চলে যায়।
বানরের সেই অদ্ভুত ঘটনাটি বর্তমানে এআই-এর দুনিয়ায় এক বিশাল প্রভাব ফেলেছে। স্টিফেন থ্যালার নামের এক কম্পিউটার বিজ্ঞানী তার তৈরি করা 'ডাবাস' (Dabus) নামক এআই সিস্টেমের তৈরি একটি ছবির কপিরাইট দাবি করলে মার্কিন আদালত তা নাকচ করে দেয়। বানরের সেলফির সেই একই যুক্তিতে আদালত জানায়, যদি কোনো শিল্প সম্পূর্ণ এআই বা যন্ত্রের দ্বারা তৈরি হয়, তবে কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানি তার মালিকানা পাবে না। এই সিদ্ধান্তটি বড় বড় বিনোদন কোম্পানিগুলোকে মানুষের বদলে সস্তা 'এআই স্লাপ' বা স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট দিয়ে বাজার ভরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে অনেকটাই পিছিয়ে দিয়েছে, কারণ তারা এই কনটেন্টগুলোর আইনি স্বত্ব দাবি করে ব্যবসা করতে পারবে না।
তবে এআই এবং মানুষের যৌথ কাজের ক্ষেত্রে আইনের অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। যেমন জেসন অ্যালেন নামের এক ব্যক্তি ৬২৪ বার নির্দেশ বা প্রম্পট দিয়ে এবং ফটোশপ ব্যবহার করে মিডজার্নি এআই-এর সাহায্যে একটি ছবি তৈরি করে শিল্পকলা প্রতিযোগিতায় জয়ী হন এবং পরবর্তীতে এর আইনি অধিকার দাবি করেন। এআই-এর সহায়তায় তৈরি কোনো কাজে ঠিক কতটা মানুষের মেধা বা অবদান থাকলে সেটির কপিরাইট পাওয়া যাবে, তা নিয়ে আদালত এখনো চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আপাতত মানুষের নিজস্ব সৃজনশীলতা যে যন্ত্রের তৈরি কাজের চেয়ে আইনিভাবে সুরক্ষিত, তার জন্য সেই হাস্যোজ্জ্বল বানরটিকে আমরা ধন্যবাদ দিতেই পারি।
Khairul Alom Fardush
Team Science Bee
13/05/2026
একটি বিজ্ঞাপন হয়তো অনেকেই দেখেছেন, যেখানে একটি ছেলে খুব খুশি হয়ে এসে মাকে বলে যে সে পরীক্ষায় ১০০ তে ১০০ পেয়েছে। কিন্তু মা বলেন, "পরের বার আরও ভালো করতে হবে!" ঠিক এমন একটি ঘটনাই যেন বাস্তবে ঘটলো ভারতের শিলিগুড়ির ছেলে দিব্যেন্দু প্রামাণিকের সাথে। সে এবার দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় (ICSE) ৫০০ এর মধ্যে ৪৯৯ পেয়েছে এবং সারা দেশে দ্বিতীয় হয়েছে। এত ভালো রেজাল্ট করার পরও তার মা পুরোপুরি খুশি হতে পারেননি। ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায় যে, ছেলে আর একটু মন দিয়ে পড়লে হয়তো ওই একটা নম্বরও কাটা যেত না।
মায়ের এই কথা শুনে ইন্টারনেটে অনেক মানুষ অবাক হয়েছেন এবং রাগও করেছেন। তারা বলছেন যে, এত ভালো নম্বর পাওয়ার পরও যদি বাবা-মা শুধু না-পাওয়া এক নম্বরের দিকেই তাকিয়ে থাকেন, তবে বাচ্চাদের ওপর খুব বেশি মানসিক চাপ পড়ে। তবে দিব্যেন্দু নিজেই জানিয়েছে যে, এক নম্বর হারানোর জন্য তার একটু মন খারাপ লাগলেও সে তার রেজাল্ট নিয়ে খুশি। সে ভবিষ্যতে একজন ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় এবং আইআইটি-তে পড়ার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।
Khairul Alom Fardush
Team Science Bee
13/05/2026
১৯৭০ সালের "ভোলা ঘূর্ণিঝড়" বা "দ্যা গ্রেট ভোলা সাইক্লোন"। পৃথিবীর বুকে সৃষ্টি হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড়!
বাংলাদেশে এটি 'সত্তরের ঝড়' নামে পরিচিত৷ ১৯৭০ সালে দক্ষিণ চীন সাগরে একটা নিম্নচাপ তৈরি হয় যা ঘনীভূত হয়ে ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হলে জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার এর নাম দেয় ক্রান্তীয় ঝড় নোরা৷ এরপর নোরা থাইল্যান্ড উপসাগরে গিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে৷ নোরার অবশিষ্টাংশ আন্দামান সাগর পেরিয়ে বঙ্গোপসাগরে চলে এলে ১৯৭০ সালের নভেম্বরের ৩ তারিখ পুনর্ঘনীভূত হতে শুরু করে ৷ ঘনীভূত হয়ে ক্যাটাগরি ৪ এ উন্নীত হয় (আম্পান ও সিডরের চেয়ে দুর্বল) এবং বাতাসের সর্বোচ্চ বেগ হয় ঘণ্টায় ২২৪ কিলোমিটার৷ এই প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের সময় উপকূলীয় এলাকায় ১০-৩৩ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড়টা ১২ তারিখ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বর্তমান বাংলাদেশের পটুয়াখালি, বরিশাল ও ভোলা অতিক্রম করে৷ ২০০৪ সালের আগে উত্তর ভারত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়গুলোর জন্য নামকরণের প্রথা ছিল না তাই একে 'ভোলা ঘূর্ণিঝড়' বলে।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দক্ষিণ উপকূল দিয়ে এই সাইক্লোন বয়ে গেলেও সবচেয়ে তীব্র আঘাত হেনেছিল ভোলায়। ঘূর্ণিঝড়ের পর ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ানের এক সাংবাদিক ভোলার মনপুরা ঘুরে দেখেন৷ তিনি বলেন চারিদিকে শুধু লা*শ আর লা*শ৷ সেই এলাকায় ২২ হাজার মানুষের মধ্যে ১৬ হাজার মানুষই মা*রা গিয়েছিল। এলাকায় ২০ হাজার গবাদিপশুর মধ্যে মাত্র কয়েকশো' টিকে ছিল।
ঘূর্ণিঝড়টি রীতিমতো উড়ে এসে জুড়ে বসে। কারণ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে অবগত করেনি। এর প্রেক্ষিতে ঘূর্ণিঝড়ের আকস্মিক আক্রমণে আনুমানিক প্রায় ৩ থেকে ৫ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটে৷ জাতিসংঘের আওতাধীন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থা ঘূর্ণিঝড়টিকে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতি ঘূর্ণিঝড় বলে চিহ্নিত করে। ঘূর্ণিঝড়ের পর অনুষ্ঠিত সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে৷ পাকিস্তান সরকারের গাফিলতি ফুটে উঠেছিল এই ফলাফলে৷ হেরে গিয়েও পাকিস্তান সরকার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা দেয়নি। পরিণামে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়৷
রাশিক আজমাইন
Team Science Bee
#বাংলাদেশ #ঝড় #মোখা