24/05/2025
Confession No: 65
সামান্তা,
তোমার নামটা যখন উচ্চারণ করি, কেমন যেন এক নরম বাতাস বুকের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়—কৃষ্ণচুড়ার নিচে বসে চা খাওয়ার মতো শান্ত, গভীর এক অনুভব।
তুমি এক্সট্রোভার্ট, প্রাণবন্ত, যেন একটা ঝলমলে সকাল। সবাই তোমাকে চেনে তোমার হাসিমুখের জন্য, তোমার প্রাণখোলা আড্ডার জন্য। কিন্তু আমি দেখেছি তোমার সেই চুপচাপ সময়গুলো—যখন তুমি নিজের মনে ছবি আঁকো, আর চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে হারিয়ে যাও।
তুমি একটু রোগা, হয়তো ঠিক মতো খাও না, কিংবা নিজের যত্ন নিতে ভুলে যাও। জানো, তোমার এই অগোছালো যত্নহীনতাও অদ্ভুতভাবে সুন্দর লাগে। তুমি অলস, কিন্তু সেই অলসতা তোমার ভাবনার গভীরতা বাড়িয়ে দেয়—এটা আমি বুঝি।
তুমি ধার্মিক, পর্দাশীল, নিজের বিশ্বাসে অটল। এই শক্তিটা তোমাকে বাকিদের চেয়ে আলাদা করে, তুমি নিজের সীমারেখা নিজের হাতে আঁকা এক ছবি—যেটা আমি গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি।
তুমি লেখাপড়ায় ভালো, মন দিয়ে পড়ো, কিন্তু রেজাল্ট যেন তোমার প্রতি একটু অভিমানী। আমি জানি, তুমি যথেষ্ট—তুমি শুধুই নম্বরে ধরা যায় না।
তুমি চা ভালোবাসো, খুব বেশি ভালোবাসো—তোমার হাতে চায়ের কাপ মানেই একটা গল্প শুরু হতে পারে। আর কৃষ্ণচুড়া… যেদিন দেখলাম তোমার চোখে কৃষ্ণচুড়ার দিকে তাকিয়ে একরকম আবেশ, সেদিনই বুঝে গিয়েছিলাম, তুমি সাধারণ না—তুমি এক রঙিন কবিতা।
সামান্তা,
তোমাকে ভালো লেগে গেছে অনেক আগেই। কিন্তু সেটা বলা হয়ে ওঠেনি, কারণ তোমাকে হারানোর ভয় আমার সাহস কেড়ে নিয়েছে বারবার।
তবু আজ বললাম… যদি কখনো মনে হয়, তোমার আঁকা ছবির ফাঁকে, এক কাপ চায়ের পাশে, কৃষ্ণচুড়ার নিচে—কেউ একজন নিঃশব্দে পাশে বসে থাকতে পারে, তবে আমি আছি। শুধু তোমার জন্য।
(তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী)