31/07/2025
জুমার দিন ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দিনে কিছু বিশেষ আমল অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। জুমার দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যে সকল আমল করার কথা সহি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
মিসওয়াক করা: ঘুম থেকে উঠেই,নামাজ ও অজুর সময়,কোরআন তিলাওয়াত করার আগে, মসজিদের ঢোকার আগে, কারও সঙ্গে দেখা করার আগে।
হাদিস:
জুমার দিনে: আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বরাতে একটি হাদিসে আছে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য জুমার দিন গোসল ও মিসওয়াক করা কর্তব্য এবং সে সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধিও ব্যবহার করবে।’ (মুসলিম, হাদিস: ১,৮৪৫)
ফজরের নামাজ এবং সুন্নত:
• ফজরের নামাজ জামায়াতে পড়া:
হাদিস
“ফজরের ফরজ নামাজের আগে দুটি রাকআত সুন্নত নামাজ পড়া। এর মধ্যে সাধারণত সূরা কাফিরুন ও সূরা ইখলাস পড়া উত্তম। (সহীহ আবূ দাউদ, সুনান ১২৫৬)
সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করা (ফজরের পর)
• ফজরের নামাজ পরবর্তী সময়ে সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করা খুবই ফজিলতপূর্ণ,"যে ব্যক্তি সকালে সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করে, আল্লাহ তার জন্য সমস্ত কাজ সহজ করে দেন এবং তার পাপ মাফ করে দেন।
• সূর্যোদয় পরবর্তী আমল:
ফজরের নামাজের পর, দুই রাকআত নফল নামাজ পড়া সুন্নত
দুরুদ শরিফ পাঠ:
• জুমার দিনে নবী (ﷺ)-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা উচিৎ, কারণ এতে আল্লাহর রহমত বৃদ্ধি পায়
সূরা কাহফ পড়া (জুমার দিন)
হাদিস:
"যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহফ তিলাওয়াত করে, আল্লাহ তার জন্য দুই জুমার মধ্যে আলো (নূর) প্রদান করেন। (মিশকাত ২১৭৫) আর যে ব্যক্তি এই সূরার শেষ ১০ আয়াত পাঠ করবে দাজ্জাল তার কোন ক্ষতি করতে পারবেনা।
পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন - নখ কাটা, অবাঞ্চিত পশম পরিষ্কার করা
গোসল ও সুগন্ধি ব্যবহার: জুমার নামাজের আগে গোসল করা সুন্নত। গোসল করার পর সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং ভালো পোশাক পরিধান করা।
"
যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, সুগন্ধি ব্যবহার করে এবং সঠিক সময়ে মসজিদে গিয়ে খুতবা শোনে, তার পাপসমূহ মাফ করে দেয়া হয়।"(সহি বুখারী -৮৮৩)
• মসজিদে আগেভাগে আসা: জুমার নামাজের জন্য আগেভাগে মসজিদে আসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এর ফলে বিশেষ সওয়াব লাভ হয়।
হাদিস:
"যে ব্যক্তি জুমার দিন আগেভাগে মসজিদে আসে, তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বছরের সাওয়াব দেওয়া হয়।" (তিরমিজি, হাদিস: ৪৯৬, ইবনু মাজাহ, হাদিস: ১০৮৭)।
• মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা: খুতবা শোনার সময় চুপ থাকা এবং মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা সুন্নত।
• নামাজে অংশগ্রহণ: জুমার নামাজে অংশগ্রহণ করা।
দোয়া কবুলের বিশেষ সময় খুঁজে নেওয়া
জুমার দিনে এক সময় আছে, যখন আল্লাহ তায়ালা বান্দার দোয়া কবুল করেন।
হাদিস:
"জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কোনো ভালো জিনিস প্রার্থনা করলে আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন।"(৫২৯৪, ৬৪০০; মুসলিম ৭/৪, হাঃ ৮৫২, আহমাদ ১০৩০৬) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৮৮৮)
➡️ বিশেষ সময়:–
হাদিসের আলোকে, এটি জুমার নামাজের পর থেকে মাগরিবের সময় পর্যন্ত হতে পারে। তবে বিশেষত আসরের পরের সময়কে অধিক ফজিলতপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
আছরের নামজ জামায়াতে পড়া
ফজরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত ইস্তিগফার করা এবং তাওবা করা-
• আল্লাহ তাআলা জুমার দিন বিশেষভাবে মাফ এবং তাওবা গ্রহণ করেন, তাই এই সময়টিতে বেশি বেশি ইস্তিগফার এবং তাওবা করা উচিত।
মাগরিব ও ঈশার নামাজ জামায়াতে পড়া,
দিনের শেষে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা
*ইন শা আল্লাহ এভাবে জুমার দিনটি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আমল দ্বারা পূর্ণ করা করব, যাতে আল্লাহ তাআলা আমাদের জীবনে তার রহমত ও মাগফিরাত দান করেন।