12/10/2022
আগাল বাগাল বিউটি পার্লার 😀
চার তলা বিশিষ্ট বিশাল সৈয়দপুর প্লাজা সুপার মার্কেট। প্রতিটা ফ্লোরে ২০০ এর মত দোকান রয়েছে। প্রতিটা ব্লকের মাঝখানে ১০ ফুট করে রাস্তা রয়েছে। আমি যখন প্রথম কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার দিলাম ২০১০ সাল। তখন প্লাজার চারিদিক অন্ধকার ছিল। আমার মখোমুখি ছিল সৈয়দপুরের সুনামধন্য একটি লেডিস বিউটি পার্লার। আশে পাশে বেশ কয়েকটা পার্লার। আবার ছয় মাস পর স্থান পরিবর্তন করলাম পরের ব্লকেই। সেখানেও পিছনে গা ঘেষে লেডিস পার্লার। আমার দোকানটা চার সাটারের। দুটা পশ্চিম পাশে দুটা দক্ষিণ পাশে। কিছুদিন পর আমার পশ্চিম পাশে মুখোমুখি আরেকটি পার্লার হল। তার কিছুদিন পর দক্ষিন পাশে মুখোমুখি আরেকটি পার্লার হল। কিছুদিন পর পূর্ব পাশে গা ঘেষে সেটাও পার্লার। এক কথায় মাইনকা চিপায় আমি। আমার আশে পাশে পার্লার ছাড়া কিছুই দেখা যায় না।
যদি এখানেই শেষ হত? আবাসিক এলাকায় একটা একাডেমিক কোচিং সেন্টার দিলাম। ও মা একি বাড়ির মালিকের মেয়ের পার্লার সাথেই। শুধু কি এটা! গেট থেকে বার হয়েই সৈয়দপুরের সব থেকে জনপ্রিয় পার্লারের চেহারা দেখতে হত।
শেষটা কিন্তু এখানেও না। আমি ব্রাকের সফট স্কিল ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টের ট্রেনিং গেলাম। সেখানে ট্রেইলারিং এন্ড ড্রেস মেকিং থেকে শুরু করে, মোবাইল সার্ভিসং, ফ্রিজ রেফ্রিজারেটর, কাঠ মিস্ত্রি সহ বেশ কয়েক ট্রেডের মাস্টারেরা ছিল। ট্রেনিং রুমে বসার পর সবার পরিচয় পর্বে দেখি আমার পাশের আপুটিও বিউটিশিয়ান, লও ঠেলা।
যাই হোক এতো কথা বলার কারণ হচ্ছে এখানে বেশ কিছু অবিজ্ঞতা হয়েছে আমার। প্রথমটা খুব হাসিও পায় আবার রাগও উঠে আবার খারাপ ও লাগে। প্রায় লক্ষ করি ছোট ছোট বাচ্চাকে নিয়ে পার্লারে সাজতে আসে মায়েরা। দের দুই তিন ঘন্টা ধরে সাজা তো ঠিকেই হয় কিন্তু সাজু গুজুর পর বাচ্চা কান্না শুরু করে বাচ্চাকে কোন ভাবেই থামানো যায় না। মেকাপ এমন মারা হয় যে অর্জিনাল চেহারা আর খুজেই পাওয়া যায় না। বাচ্চা তার মাকেই চিনতে পারে না৷ এইটা কোন কথা?
আরেকটা বিষয় সেটা হচ্ছে বউ পার্লারের ভিতরে। বাইরে হাসবেন্ড কখনো বাচ্চাকে কোলে নিয়ে দাঁড়ায় আছে অথবা বউয়ের ফুটানি ব্যাগ নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে আছে। কেউ আবার মাঝে মধ্যে এদিক ওদিক চালাম চুলুম করে তাকিয়ে চোরের মত পার্লারের বাহির থেকে পর্দা সরিয়ে উঁকি মারে। ভিতর থেকে ঝাড়ি খায়ে টপ করে মাথা বার করে নেয়। অনেকেই পাইচারী করে এদিক ওদিক আবার কেউ কেউ অনুমতি নিয়ে বাধ্য হয়ে আমার সেন্টারে বসতে চায়৷ আবার কেউ কেউ সময় কাটানোর জন্য হুদায় গেজাইতে থাকে। কেউ কেউ সাজুগুজু করে বার হলে হাসবেন্ড ইচ্ছামত গালাগালি করে।
এতো কথা বলার কারণ হল ডিজিটাল বাংলাদেশ কম্পিউটার এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টারে কারিগরি বোর্ডের অধীনে ৩ মাস ও ছয় মাস মেয়াদি কোর্সে রেজিষ্ট্রেশন চলছে। এইখানে কম্পিউটার শিখলে ভবিষ্যতে বউকে নিয়ে পার্লারে আসলে আমার সেন্টারে ঘন্টার পর ঘন্টা বসার মত একটি জায়গা পাবেন। আর এদিক ওদিক দাঁড়িয়েও থাকতে হবে না। আবার মাঝে মধ্যে পার্লারে উঁকি ঝুঁকিও মারতে হবে না৷ মনে রাখবেন ভিতরে শুধু আপনার বউ থাকবে না অন্যের বউও থাকবে। কাজেই সাবধান।