04/10/2011
রক্তদানে ক্ষতি নেই
স্বেচ্ছায় নিজ রক্ত অন্য কারও স্বার্থে দান করাকেই রক্তদান বলা হয়। এজন্য অবশ্যই রক্তদাতার সম্মতির প্রয়োজন আছে এবং রক্তদাতাকে অবশ্যই পূর্ণবয়স্ক অর্থাত্ ১৮ বছর হতে হবে। অবশ্য বর্তমানে ১৭ বছর হলেই রক্ত দেয়ার উপযুক্ত বলে ধরা নেয়া হয়। রক্ত দেয়ার আগে দাতার রক্তের স্ক্রিনিং টেস্ট বা রক্ত নিরাপদ কি-না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। একজন সুস্থ মানুষের শরীরে সাধারণত পাঁচ-ছয় লিটার রক্ত থাকে। সাধারণত ৪০০ থেকে ৪৫০ মিলিলিটার রক্ত দান করা হয়। অর্থাত্ শরীরে থাকা মোট রক্তের মাত্র ১০ ভাগের ১ ভাগ। এ কারণেই অধিকাংশ রক্তদাতা রক্তদানের পর তেমন কোনো সমস্যায় পড়েন না এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই শূন্যস্থান পূরণ হয়ে যায়। রক্তদানের পদ্ধতি ও পরবর্তী প্রভাব সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অযথা ভীতির কারণে অনেকেই রক্ত দিতে দ্বিধান্বিত হন। এজন্য জেনে রাখা প্রয়োজন, প্রতি তিন মাস অন্তর প্রত্যেক সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারী নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে রক্তদান করতে পারবেন। এতে স্বাস্থ্যে কোনো ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না।
রক্তদাতার যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে—
— বয়স অন্তত ১৭ বছর। বয়সের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। তবে রক্তদাতাকে সুস্থ থাকতে হবে।
— ওজন কমপক্ষে ১১০ পাউন্ড হতে হবে।
— রক্তদানের চার ঘণ্টা আগে ভালোভাবে খাদ্যগ্রহণ করতে হবে।
— সম্পূর্ণ সুস্থ শরীরে রক্ত দিতে হবে।
— কোনোরূপ এনার্জি ড্রিঙ্ক রক্তদানের ২৪ ঘণ্টা আগে সেবন করা যাবে না।
— শরীরে কোনো উল্কি বা ট্যাটু করানো হলে বা কান ফুটো বা নাক ফুটো করানো হলে দুই থেকে চার সপ্তাহ পর রক্ত দিতে পারবে।
— ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে রক্তদান উচিত নয়।
অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা অবস্থায় রক্ত দেয়া ঠিক নয়।
— ডায়াবেটিসের রোগীরা রক্তদান করতে পারবেন।
উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা রক্তদান করতে পারবেন, তবে রক্তদানের সময়, এর আগে ও পরে রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
যেসব ওষুধ খাওয়া অবস্থায়ও রক্ত দেওয়া যায়—
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ওষুধ : অ্যালার্জির ওষুধ, ডায়াবেটিসের ওষুধ, জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ, কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ, থাইরয়েড হরমোন বা অন্য কোনো হরমোন রিপ্লেসমেন্ট ওষুধ।
কারা কারা রক্ত দিতে পারবেন না
— ক্যান্সারের রোগী।
— হিমেফিলিয়াতে যারা ভুগছেন।
— যারা জীবনে অন্তত একবার হলেও ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক নিয়েছেন।
— যারা জীবনে একবারের জন্য হলেও সমকামী হয়েছেন।
— যার কখনও হেপাটাইটিস বি-এর এন্টিজেন পজিটিভ হয়েছে, পরবর্তী সময়ে তা নেগেটিভ হলেও রক্ত দেয়া যাবে না।
— যাদের এইচআইভি বা এইডস আছে।
— গর্ভবতী মহিলা।
— যাদের অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হয়।
— যারা বারবার ডায়রিয়াতে আক্রান্ত হন।
— যাদের ওজন গত দুই মাসের মধ্যে চার কেজি কমে গেছে।
— যাদের শরীরের কোনো স্থানের গ্ল্যান্ড (লিমম্ফনোড) ফুলে গেছে। বিশেষ করে ঘাড়ে, গলায়, হাতের নিচের গ্ল্যান্ড।
বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ৩২ মিলিয়ন লোক রক্তদান করে থাকে। কিন্তু রক্তের প্রয়োজন হয় আরও অনেক বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে ২০০৪ সাল থেকে ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। রক্তদানের পর মাত্র ৩০ মিনিটের বিশ্রাম ও দুই গ্লাস পানীয় মুহূর্তের মধ্যেই স্বাভাবিক করে তুলবে আপনার জীবন, অথচ বেঁচে যাবে অন্য মানুষের জীবন।