05/05/2026
৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি
তারিখ: ৪ মে ২০২৬
৫ মে আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়। ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে সমবেত নিরস্ত্র মাদ্রাসা ছাত্র, আলেম-ওলামা ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনী যে নৃশংস অভিযান চালিয়েছিল, তা ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে সংঘটিত এক পরিকল্পিত গণহত্যা।
আমাদের সুস্পষ্ট অবস্থান:
১. এটি গণহত্যা: মধ্যরাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে, মিডিয়া ব্ল্যাকআউট করে, নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষের ওপর গুলি চালানো, সাঁজোয়া যান দিয়ে পিষে মারা এবং লাশ গুম করা—এটি কোনোভাবেই ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা’ হতে পারে না। এটি ছিল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস।
২. বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ হোক: ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচারিক তদন্ত হয়নি। নিহতদের সঠিক সংখ্যা জাতির সামনে প্রকাশ করা হয়নি। লাশের হিসাব চাই, খুনিদের বিচার চাই।
৩. মতপ্রকাশের অধিকার হত্যা করা হয়েছে: ১৩ দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার সেদিন বুলেট দিয়ে স্তব্ধ করা হয়েছিল। ভিন্নমত দমনের এই নজির বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
৪. দায়মুক্তি চলবে না: যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে, যে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তা বাস্তবায়ন করেছে, এবং যে মিডিয়া সত্যকে ধামাচাপা দিয়েছে—তাদের প্রত্যেককে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
আমাদের দাবি:
১. জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠন করে ৫ মে গণহত্যার শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে।
২. নিহত, আহত ও নিখোঁজ প্রত্যেক ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ এবং তাদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৩. শাপলা চত্বরে ‘গণহত্যা স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে ৫ মে-কে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
৪. ভবিষ্যতে যাতে কোনো সরকার জনগণের ওপর রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রয়োগ করে গণহত্যা চালাতে না পারে, সে জন্য ‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে।
শাপলা চত্বরের শহীদরা কোনো দলের নয়, তারা মজলুম। তাদের রক্তের দাগ মুছে ফেলা যাবে না। ইতিহাসের দায়মুক্তি হয় না।
নতুন প্রজন্ম আর রাষ্ট্রীয় খুনের বৈধতা মেনে নেবে না। বাংলাদেশপন্থী আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতি এই গণহত্যার বিচারের মাধ্যমেই তার যাত্রা শুরু করবে।
বিচার চাই, গণহত্যার বিচার চাই।
ইনসাফ কায়েম হোক, আধিপত্যবাদ নিপাত যাক।
দারুল কুরআন একাডেমি
ভূবিরচর, যশোদল, কিশোরগঞ্জ।