12/01/2026
আখের গুড়ে নেই আখের ছিটে ফোঁটা,আছে শুধু বিষের অস্তিত্ব, অভিযান যেন কেবলই আইওয়াশ,জরিমানার টাকা কি তবে অপরাধের লাইসেন্স?.........................................✍
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার শুকুরের হাট ও তৎসংলগ্ন গ্রামগুলোতে এখন আখের কোনো অস্তিত্ব নেই, অথচ ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে টন টন গুড়। উপজেলার গেনার পাড়া ও ফুলচৌকি খামার পাড়া গ্রাম এখন বিষাক্ত গুড় তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। চিনি, চুন আর কাপড়ের রং মিশিয়ে তৈরি করা এই মরণঘাতী গুড় ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশে এই অবৈধ কারবার এখন অপ্রতিরোধ্য। আসন্ন মাহে রমজান মাসকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে টন টন গুড়।
চিনির সিরা আর টেক্সটাইল ডাইয়ে তৈরি হচ্ছে গুড়
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,এসব কারখানায় আখের রসের পরিবর্তে মূল উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে নিম্নমানের চিনি। গুড়ের উজ্জ্বল রং আনতে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকর টেক্সটাইল ডাই (কাপড়ের রং) এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহৃত মাথার সিঁদুর। এখানেই শেষ নয়, গুড় শক্ত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও চুন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রাসায়নিক মিশ্রিত গুড় দীর্ঘমেয়াদে সেবনে কিডনি বিকল, লিভারের ক্ষতিসহ ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি হওয়ার ঝুঁকি শতভাগ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বিশাল ভেজাল সাম্রাজ্যের মূল নিয়ন্ত্রক মিল্লাত ট্রেডার্স-এর মালিক মুকুল মিয়া। স্থানীয়দের অভিযোগ, মুকুল মিয়া এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন। তিনি ক্ষুদ্র উৎপাদকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা সংগ্রহ করেন এবং সেই অর্থের একটি বড় অংশ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে মাসোহারা হিসেবে পৌঁছে দেন। এই অদৃশ্য শক্তির প্রভাবেই প্রশাসনের অভিযানের পরও কারখানাগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় চালু হয়ে যায়।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত এই এলাকায় বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে কয়েক লক্ষ টাকা জরিমানা এবং প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মালামাল ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই চক্রটি আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে।বিএসটিআই-এর কোনো অনুমোদন না থাকলেও এই গুড় পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন ভুয়া চালান। ট্রাকযোগে এই বিষাক্ত গুড় মিঠাপুকুর ছাড়িয়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বড় বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে।