10/10/2025
প্রিয় চামেলী,
বিশেষ বিসিএস দিতে এসে যে কী ঝামেলা, তা বলার মতো নয়। গাড়ি ভাড়া নষ্ট—মনেও কষ্ট, বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে পথঘাটেও হলাম অতিষ্ঠ।
আমি অর্থনীতির ছাত্র হলেও বাংলা প্রিয় মানুষ তবুও যেন বাংলায় আমাকে আটকায়।
পরীক্ষার হলে ডুকে হাত পাততেই তুমিই আমার হাতে আসলে চামেলী,
'কম দামে কেনা বেশি দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা' হতেই পারে না, আমি হলে সস্তা দামে কিনে সস্তা দামেই বেচে দিতাম।
আবুল মনসুর আহমেদ এই গ্রন্থ কবে লিখেছে যদি জানতাম।
প্রিয় চামেলী আমি সর্বদাই তোমার রূপে মুগ্ধ হয়ে থেকেছি কিন্তু
ভাষার অর্থযুক্ত ক্ষুদ্রতম এককেও যে রূপের বাহার জানতাম ই না। ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্যে যে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যে তা আগেই বুঝে নিয়েছি। অথচ বানান ও বচনের বেলায় যে কেমন নাটক হয়,মানে কি আর বলব
সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিরাই চায় না।
‘মৃগয়া’ শব্দের মৃগ যে পশু, এটা মনে করতেই মাথা ঘুরে গেল। মনে হলো— পরিবার থেকেই যদি শিক্ষার শুরু হয়,
এখানে জোর দিয়েই (বলক) বলা যায়।
চামেলী,
এ পরীক্ষায় এত প্যাঁচকুচের আর দরকার কী!
মধুসূদনেরও নাকি পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি ঈশ্বরচন্দ্রগুপ্ত।
দাঁগাতে গিয়ে কাজী নজরুলের কুহেলিকা-য় জাহাঙ্গীর চরিত্রটায় আজ নিজেকেই বসিয়ে ফেলছিলাম মনে হচ্ছিল আমিও বিসিএস দেওয়া এক হতভাগ্য স্বদেশী কর্মী।
জানো চামেলী,
সবই মাথায় গুঁজে নিচ্ছি, কারণ—প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আমি তোমাকে ভালোবাসার জন্যই পরীক্ষা দেওয়ার এ কাজে আমি বদ্ধপরিকর। বাংলা সাহিত্য প্রিয় আমি
গোল্লা ভরাট করতে করতেই পানি খেয়ে নিলাম।
ভাষা পরিবার অনুযায়ী সাঁওতাল গোষ্ঠী যে অস্ট্রিক-অস্ট্রো-এশিয়াটিক (মুন্ডা) এর দলে তা ভেবে চিন্তেই ঢিল মেরেছি লেগেছেও। তারপর,
কিছুক্ষণ
বিসর্গ সন্ধির মতো ‘নীরব হয়ে থাকলাম।
মনে করতে লাগলাম ছোট বেলায় ফররুখ আহমেদের হরফের ছড়া মুখেই ঝরছে।কিন্তু সংগীতের মধ্যে গীতিকা পড়িনি কখনোই এসব ধ্বনি পরিবর্তন আবার যথাযথ নয়— একেকটা এমন ফাঁদ,বানিয়ে দিয়েছে পিএসসি বুঝলে চামেলী! ভাগ্যিস ফাঁদে পড়িনি।
উৎক্ষেপণের ‘উৎ’ উপসর্গ মানে উর্ধ্বই দিয়েছি। কিন্তু প্রত্যয়ে এসে ডাক্তারখানা মাথায় না ডুকে মাথায় এসেছে শুধু বান থাকলে বতুপ, মান থাকলে মতুপ অবশেষে 'গুনমানে' আটকে গেলাম ৷ এদিকে রবীন্দ্রনাথ ব্যাটায় যে শব্দের শুরুতে মাত্রাযুক্ত এ লিখতে গিয়ে ‘অ্যা’ তে আটকে যেতেন তা ঠিকই ধরে ফেলেছি।
পারিভাষিক শব্দের মানে যে বিষয়গত সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দ।