13/06/2026
প্রিয়
মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম শহীদ
ভাই অনেক সুন্দর লিখেছে আমার মনের অনেক কথা তুলে ধরেছেন।
দুই-একটি কথা না বললেই নয়।
বর্তমানে এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি,
যেখানে মাদরাসা পরিচালনা, শিক্ষকতার খেদমত এবং প্রতিষ্ঠানের বাস্তবতা নিয়ে অনেক কথা বলা হচ্ছে,
কিন্তু বাস্তব অবস্থা অনেকেই বুঝতে চান না।
বিশেষ করে ভাড়া করা ভবনে পরিচালিত মাদরাসাগুলো নিয়ে কিছু মানুষের ধারণা একেবারেই বাস্তবসম্মত নয়।
অনেকেই মনে করেন, ভাড়া নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা মানেই সেটা "প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান", আর সেখানে নাকি কোনো সুযোগ-সুবিধা থাকে না। আমার কাছে এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল মনে হয়। প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান মানে সুযোগ-সুবিধাহীন প্রতিষ্ঠান নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো কিছু বিষয় ব্যতিক্রমধর্মী ও দ্রুত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
কমিটি-নির্ভর প্রতিষ্ঠানের যেমন কিছু সুবিধা আছে, তেমনি কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে।
অনেক সময় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠান প্রধান কোনো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে চান, কিন্তু কমিটির বিভিন্ন জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয় না। অন্যদিকে একক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়,
যা অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের জন্য উপকারী হয়। তবে এটাও সত্য যে কমিটি না থাকলে কিছু অসুবিধাও তৈরি হয়। অর্থাৎ উভয় পদ্ধতিরই ভালো-মন্দ দিক রয়েছে।
এখন আসি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে।
যারা কোনো প্রতিষ্ঠানে খেদমত করবেন, তাদেরও নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে আদায় করা জরুরি।
শুধুমাত্র বেতন বৃদ্ধির দাবি করলেই হবে না; নিজের যোগ্যতা, দায়িত্ববোধ এবং কর্মক্ষমতার দিকেও নজর দিতে হবে। দুনিয়ার সাধারণ নিয়মই হলো—আপনি যদি কোনো মালিকের কাজ করেন, তাহলে কাজ ঠিকমতো বুঝিয়ে না দিলে তিনি আপনাকে পারিশ্রমিক দিতে আগ্রহী হবেন না।
ঠিক তেমনি একজন শিক্ষক যদি তার দায়িত্বে অবহেলা করেন, ছাত্রদের পড়ালেখা, তরবিয়ত ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে না পারেন, তাহলে শুধু বেতন বাড়ানোর আলোচনা করাটা কতটুকু যৌক্তিক, সেটাও ভেবে দেখা দরকার।
আমি বলছি না যে শিক্ষকদের অধিক বেতন বা ভালো সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন নেই। অবশ্যই প্রয়োজন আছে। একজন ওস্তাদের সম্মানজনক জীবনযাপনের ব্যবস্থা হওয়া উচিত। কিন্তু দাবি ও দায়িত্ব—দুটো বিষয়ই পাশাপাশি চলা উচিত।
আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক লেখালেখি হচ্ছে। কেউ বেতনের কথা বলছেন, কেউ প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা করছেন, কেউ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরছেন। কিন্তু শুধু লেখালেখি করলেই কি সমস্যার সমাধান হবে?
যদি সত্যিই আপনার মনে হয় আদর্শ প্রতিষ্ঠান কেমন হওয়া উচিত, তাহলে সামনে এসে একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলুন। এমন একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করুন, যেখানে ওস্তাদদের বেতন ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু হবে, তাদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকবে, ছাত্রদের জন্য থাকবে উন্নত শিক্ষা ও সুন্দর পরিবেশ।
আপনারা যে স্বপ্নের কথা বলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিন।
যারা এখনো এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেননি, তাদের জন্য একটি মডেল দাঁড় করিয়ে দিন। তখন মানুষ আপনাকে শুধু বক্তা বা লেখক হিসেবে নয়, একজন পথপ্রদর্শক ও মুরুব্বি হিসেবে সম্মান করবে।
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার জন্য লেখালেখি করা সহজ। কিন্তু একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা অনেক কঠিন। জাতি আজ কথা কম, কাজ বেশি দেখতে চায়।
পরিশেষে একটি কথাই বলব—আল্লাহ তাআলা যাকে কবুল করবেন, তাঁর দ্বারাই কাজ নেবেন।
তাই আমাদের উচিত অভিযোগ ও সমালোচনার পাশাপাশি বাস্তবসম্মত সমাধানের পথও দেখানো।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ইখলাসের সাথে দ্বীনের খেদমত করার তাওফিক দান করুন। আমিন🤲
© মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম শহীদ