19/12/2021
ইস্ত্রির রসায়ন
জামাকাপড়ে ইস্ত্রি করেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবেনা। প্রচণ্ড রকমের বিরক্তিকর কিন্তু নিত্য প্রয়োজনীয় এই ইস্ত্রির করার সাথেও জড়িয়ে রয়েছে বেশ আকর্ষণপূর্ণ এক বৈজ্ঞানিক ঘটনা। জামাকাপড় মূলত তৈরি হয় গাছের থেকে পাওয়া সেলুলোজ পলিমার থেকে, যেমন কটনের শার্ট। দেখতে, পড়তে বেশ ভালো হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কুঁচকে যায়; ট্রেনে-বাসে উঠলে শার্টে অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্টফর্মও তৈরি হতে পারে। একবার জলে ধুলে পরেরবার ইস্ত্রি না করে উপায় থাকেনা।
শার্টের সেলুলোজ পলিমারগুলো আসলে পরস্পরের মধ্যে অসংখ্য হাইড্রোজেন বন্ডিং দিয়ে শক্ত করে একে-অপরকে জড়িয়ে ধরে থাকে। এই হাইড্রোজেন বন্ডিংগুলি লম্বালম্বি ভাবে হয়ে থাকলে শার্টে কোঁচকানোর কোনও চিহ্ন থাকেনা (বাঁদিকের ছবি)। জল দিয়ে ধুলে বা ঘামে এই বন্ডিংগুলি ভেঙ্গে যায় এবং আবার শুকিয়ে গেলে হাইড্রোজেন বন্ধনগুলি লম্বালম্বি হবার বদলে আড়াআড়ি ভাবে হয়ে যায়। এইরকম আড়াআড়ি ভাবে হাইড্রোজেন বন্ডিংগুলিকেই আমরা কুঁচকে যাওয়া শার্ট হিসাবে দেখি। এবার কোঁচকানো শার্টকে যখন ইস্ত্রি করা হয় তখন ইস্ত্রির গরমে এবং চাপে (অনেক ইস্ত্রি আবার জলীয় বাষ্পও ব্যবহার করে) হাইড্রোজেন বন্ডগুলি আবার ভেঙ্গে লম্বালম্বি ভাবে জুড়ে যায়, শার্টও নতুনের মতো দেখতে হয়ে যায়।
আজকাল অনেক জামাকাপড় পাওয়া যায় যা কুঁচকে যায় না। এর কারণটাও সহজ, যদি হাইড্রোজেন বন্ডগুলোকে বদলে আর শক্তপোক্ত বন্ডদিয়ে জুড়ে দেওয়া যায় তাহলে আর কোঁচকাবে না। যেমন ভাবা তেমন কাজ, বিজ্ঞানীরা সেলুলোজ পলিমারের মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ডগুলোকে DMDHEU নামের এক রাসায়নিক দিয়ে বদলে দিল (ডানদিকের ছবি)। এই DMDHEU গুলি একবার লম্বালম্বি ভাবে জুড়ে গেলে আর ভাঙ্গেনা ফলে ইস্ত্রি করবারও দরকার পড়েনা।