05/05/2026
সমাজে প্রচলিত কিছু জাল হাদিস এর তালিকা
১) দেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ।
এই হাদীসটি যে কেবল জাল তাই নয় উপরন্তু জাল হাদীসের বই ছাড়া অন্য কোনো গ্রন্থে সেটির উল্লেখ নেই। ইমাম সুয়ুতীর ‘আল আহাদীস আল মুনতাছিরাতে’ বলেছেন- আমি এটা খুজে পায়নি। একই কথা ইমাম সাখাবী বলেছেন। ইমাম সগানী বলেছেন হাদীসটি জাল। শায়খ আলবানী জাল বলেছেন।
২) খাওয়ার আগে ও পরে লবণ খাও কারণ এটা ৭০ প্রকার রোগের প্রতিষেধক।
এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট কথা। বরং উচ্চরক্তচাপ রোগীদের জন্য লবণ খাওয়া বিপদজনক।
৩) লাল দস্তরখানে খাওয়া একটি সুন্নাত। যে ব্যক্তি লাল দস্তরখানে খাবে, প্রতি লোকমার বিনিময়ে প্রতিদানে একশ করে নেকি পাবে ও বেহেস্তের ১০০টি দরজা তার জন্য নির্ধারিত হবে… ইত্যাদি।
এটা একটা বানোয়াট কথা। প্রকৃতপক্ষে রাসুল (সঃ) দস্তরখান ব্যবহার করতেন কিন্তু তিনি কখনো লাল দস্তরখান ব্যবহার করেছেন কিংবা এইরুপ দস্তরখান ব্যবহার করতে উৎসাহ দিয়েছেন তার কোন সহিহ হাদিস নাই। দস্তরখান ছাড়া খাদ্যগ্রহণ বিষয়ে তিনি কখনো আপত্তিও করেননি। রাসুল (সঃ) এর দস্তরখান ব্যবহার বলতে আমরা বুঝি তিনি এর উপর প্লেট, থালা, বাটি রেখে খেতেন। কিন্তু ধারণাটি সঠিক নয়। তাঁর সময় চামড়ার দস্তরখানা বা “সুফরা” ব্যবহার করা হত ও তার উপরই থালা বাটি ছাড়াই সরাসরি খেজুর, পনির, ঘি ইত্যাদি খাবার রেখে খাওয়া হত।
৪) খাওয়ার সময় কথা বলা যাবেনা।
বরং সহিহ হাদিস অনুযায়ী রাসুল (সঃ) ও সাহাবিগণ খাবার গ্রহণের সময় বিভিন্ন কথাবার্তা বলতেন ও গল্প করতেন।
৫) শহীদের রক্তের চেয়ে কলমের কালি উত্তম।
কথাটি সুন্দর শুনালেও এটা রাসুল (সঃ) এর কথা না। ইসলামে জিহাদ ও শহীদের গুরুত্ব অনেক বেশি।
———————————————
১) আল্লাহর নুরের পর্দা ৭০ হাজার।
এই সংখ্যার কথা বানোয়াট। সহিহ হাদিসে শুধু বর্ণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহর নুরের পর্দা রয়েছে (সহিহ মুসলিম, ১/১৬১)। তবে এর সংখ্যা, প্রকৃতির বিস্তারিত বিবরণে পাওয়া যায়না।
২) সৃষ্টির সংখ্যা ১৮ হাজার মাখলুকাত। এটা একটা মিথ্যা কথা। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর সৃষ্টি অগণিত।
৩) আদম (আ) ও হাওয়া (আ) গন্দম গাছের ফল খেয়েছিলেন। এটা একদম ভিত্তিহীন কথা। প্রকৃত সত্য হল, আদম ও হাওয়া (আ) কে আল্লাহ একটি বিশেষ বৃক্ষের নিকট গমন করতে নিষেধ করেন। পরে তারা শয়তানের প্ররোচনায় এই বৃক্ষ থেকে ভক্ষণ করেন। কিন্তু সেই গাছ বা ফলের নাম কোথাও বলা হয়নি। ইহুদিদের মধ্যে প্রচলিত ছিল আদম (আ) গন্দম নামক গাছের ফল ভক্ষণ করেন।
৪) জান্নাতের অধিবাসীদের দাড়ি থাকবেনা। সবাই দাড়িহীন যুবক হবেন। এটা একটা বানোয়াট কথা।
৫) অনেক গ্রন্থে নখ কাটার নিয়ম, অমুক নখ থেকে শুরু করা, অমুক নখে শেষ করা, বৃহস্পতিবার বা অমুক দিনে নখ কাটা ইত্যাদির বর্ণনা আছে যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা কথা। রাসুল (সঃ) নখ কাটতে নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু কোন বিশেষ দিন বা নিয়ম শিক্ষা দেননি।
—————————————————–
১) আসরের পর পড়ালেখা নিষেধ।
এটা একদম ভিত্তিহীন প্রচলিত কথা।
২) এক ওয়াক্ত নামাজ কাযা করলে ৮০ হুকবা বা দুই কোটি ৮৮ লক্ষ বছর জাহান্নামের আগুনে শাস্তি ভোগ করতে হবে।
অনেক প্রচলিত বইয়ে এই মিথ্যা কথা উল্লেখ আছে যার কোন সহিহ হাদিস নাই। এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কথা।
৩) জুমু’আর দিনে নির্দিষ্ট সংখ্যক যেমন ৪০ বার, ৫০ বার, ৮০ বার দরুদ পরলে এত বছরের গুনাহ মাফ হবে বা এমন পুরুস্কার পাওয়া যাবে।
এগুলো কথার কোন ভিত্তি নাই। শুধু জুমু’আর দিনে বেশি বেশি করে দরুদ পাঠ করতে সহিহ হাদিসে উল্লেখ আছে। কিন্তু এর সংখ্যা বা ফজিলতের বর্ণনা নাই। এগুলো মানুষের বানানো।
৪) দুনিয়া হল আখিরাতের শস্যক্ষেত্র।
কথাটা সত্য হলেও এটা একটা জনশ্রুতি, কোন হাদিস না।
৫) স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেশত।
এই কথা একটি ভিত্তিহিন ও বানোয়াট কথা যার কোন সহিহ হাদিস গ্রন্থে বর্ননা নাই। কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা থেকে বুঝা যায় যে, স্বামী-স্ত্রী উভয়ের প্রতি উভয়ের দায়িত্ব পালন ও অধিকার আদায়ের মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ সম্ভব।
৬) জ্ঞান অন্বেষণের জন্য সুদূর চীন দেশ পর্যন্ত যাও।
অধিকাংশ মুহাদ্দিস এটাকে জাল হাদিস বলেছেন। কারণ দুইজন অত্যন্ত দুর্বল রাবী যারা মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করতেন শুধুমাত্র তারাই এটাকে রাসুল (সঃ) এর কথা হিসেবে প্রচার করেছেন।
—————————————————–
১. জ্ঞান অর্জনের জন্য সুদূর চীনে যেতে হলেও যাও (তবে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব প্রসঙ্গে প্রচুর হাদিস রয়েছে)।
২. জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়ে বেশি পবিত্র (এ জাতীয় ভিন্ন বর্ণনা রয়েছে, তবে এ বর্ণনা নেই)।
৩. সবুজ গাছপালা ও শস্যের দিকে তাকিয়ে থাকলে দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায়।
৪. আল্লাহ ওই বান্দাকে ভালবাসেন, যে তার ইবাদতে ক্লান্ত, নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
৫. আজানের মধ্যে আঙ্গুল চুম্বন করে চোখে মোছা ফজিলতের কাজ।. আজানের মধ্যে আঙ্গুল চুম্বন করে চোখে মোছা ফজিলতের কাজ।
৬. এক ঘণ্টা গভীরভাবে চিন্তা করা ৬০ বছর ইবাদতের সমান।
৭. যারা মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেয় এবং মানুষকে ইসলাম গ্রহণ করায় তাদের জন্য জান্নাত নিশ্চিত।
৮. পাগড়ী পরিধান করে নামাজ আদায় করেল ১৫/৭০টি পাগড়ী ছাড়া নামাজ আদায়ের সমান সওয়াব।
৯. আমার উম্মতের আলেমরা বনি ইসরাইলিদের নবীদের সমান।
১০. আমি তোমাদেরকে দু’টি উপশম বলে দিলাম- মধু এবং কোরআন।
[অধিকাংশ মুহাদ্দিস এটাকে জাল হাদিস বলেছেন কারণ দুইজন অত্যন্ত দুর্বল রাবী যারা মিথ্যা হাদিস বর্ণনা করতেন শুধুমাত্র তারাই এটাকে রাসুল (সঃ) এর কথা হিসেবে প্রচার করেছেন।]
---পরিমার্জনায়ঃ আইন উদ্দিন আইনী
:
#হাদিস
29/03/2026
✪ উসূলে ফিকহের কিছু নীতি:
● অভ্যাসগত বিষয়ে মূলনীতি হলো—এগুলো বৈধ; যতক্ষণ না হারামের দলিল আসে।
(যেমন হারাম হবে যখন সে অভ্যাসটি কাফিরদের অনুসরণে করা হয়, তাদের কোনো ধর্মীয় সিম্বল হবে আর যখন কুফরী মতাদর্শের অনুসরণে করা হবে)
● ইবাদতের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো—দলিলের ওপর নির্ভরশীল (তাওকীফী); যতক্ষণ না শরীয়ত থেকে ইবাদত হওয়ার প্রমাণ আসে।
(সুতরাং মীলাদ কিয়াম ইত্যাদি ইবাদত না)
● মানুষের ব্যাপারে মূলনীতি হলো—নির্দোষ ধরা; যতক্ষণ না দোষ প্রমাণিত হয়।
● গায়েবি বিষয়ে মূলনীতি হলো—দলিলনির্ভর থাকা; যতক্ষণ না জ্ঞানের প্রমাণ আসে।
● বস্তুর ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো—পবিত্রতা; যতক্ষণ না অপবিত্রতার দলিল আসে।
● ইবাদতের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো—অন্যের পক্ষ থেকে আদায় করা যায় না (নিয়াবত নেই), যতক্ষণ না শরীআতে এর পক্ষে দলীলপাওয়া যাবে।
● নির্ধারিত সময়ে ইবাদত আদায় করলে তাকে বলা হয় “আদা (أداء)”; আর নির্ধারিত সময়ের বাইরে করলে তাকে বলা হয় “কাযা (قضاء)”। দলিল ছাড়া কাযা সাব্যস্ত হয় না।
● ওয়াজিব ও মুস্তাহাবের মধ্যে সংঘর্ষ হলে—ওয়াজিবকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
● ফরযে কিফায়া ও ফরযে আইন সংঘর্ষ হলে—ফরযে আইনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
● দুটি ক্ষতির মধ্যে পড়লে—কম ক্ষতিটিই গ্রহণ করা হবে। আর যদি দুটো থেকেই বাঁচার সুযোগ থাকে তো দুটোর কোনোটাই নেওয়া যাবে না।
● যে মুস্তাহাবের সময় বিস্তৃত, আরেকটি মুস্তাহাবের সময় সীমিত হলে—সীমিত সময়েরটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই বিধান ওয়াজিবের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
● মাফসাদা (ক্ষতি) প্রতিরোধ করা—মাসলাহা (উপকার) অর্জনের চেয়ে অগ্রগণ্য; তবে যদি উপকারটি অধিক প্রাধান্যপূর্ণ হয়, তাহলে ব্যতিক্রম।
● মানুষ অক্ষম হলে ওয়াজিব রহিত হয়ে যায়।
● প্রয়োজন (যরুরত) দেখা দিলে হারামও হালাল হয়ে যায়; তবে যরুরত পরিমাণমতো নির্ধারিত—এতে বাড়াবাড়ি করা যাবে না।
● কুরআন ও সুন্নাহর আদেশের মূলনীতি হলো—ওয়াজিব ধরা; যদি না এমন কোনো দলিল থাকে যা তা মুস্তাহাবে পরিবর্তন করে।
● নিষেধাজ্ঞার মূলনীতি হলো—হারাম ধরা; যদি না এমন কোনো দলিল থাকে যা তা মাকরুহে পরিবর্তন করে।
❖ হক হলো সেটাই, যার পক্ষে কুরআন ও সুন্নাহর শরঈ দলিল প্রতিষ্ঠিত।
মানুষ যা বলে বা করে—তা হক হওয়ার মানদণ্ড নয়।
সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া মানেই হকের উপর থাকা নয়;
কারণ হক দলিলের সাথে সম্পর্কিত—মানুষের সংখ্যা বেশি না কম, তার সাথে নয়।
✍️ Abubakar Muhammad Zakaria (Hafizahullah)
22/02/2026
ছোট বাচ্চাদের তাওহীদ শিক্ষা: প্রশ্নোত্তর আকারে--
(১) প্রশ্ন: আল্লাহ কোথায়?
✅ উত্তর: আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿الرَّحْمٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوٰى﴾
অর্থ: “পরম করুণাময় আরশের উপর ইস্তাওয়া করেছেন।” (সূরা ত্বা-হা ২০:৫)
⚠ তবে মনে রাখতে হবে এটি সৃষ্টির মতো অবস্থান নয়; আল্লাহ স্থান, দিক ও সীমা থেকে পবিত্র।
(২) প্রশ্ন: "আল্লাহ আরশের উপর ইস্তিওয়া করেছেন" এর কুরআনের দলিল কী?
✅ উত্তর: কুরআনের আয়াত-
﴿الرَّحْمٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوٰى﴾
( সূরা ত্বা-হা ২০:৫)
(৩) প্রশ্ন: “ইস্তিওয়া” অর্থ কী?
✅ উত্তর: এটি মুতাশাবিহাত আয়াতের অন্তর্ভুক্ত তাই অর্থ না করে যেভাবে আছে সেভাবে রেখে দেওয়া।
যদি অর্থ করতেই হয় তাহলে বলবো- ইস্তিওয়ার অর্থ “কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা” অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা আরশের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। ( এটা সৃষ্টির মতো বসা বা অবস্থান করা নয়)।
(৪) প্রশ্ন: আমরা আমাদের আকীদা কোথা থেকে গ্রহণ করি?
✅ উত্তর: কুরআন, সহীহ সুন্নাহ ও সাহাবাদের এবং সালাফ-খালাফদের থেকে।
(৫) প্রশ্ন: আল্লাহ জিন ও মানুষকে কেন সৃষ্টি করেছেন?
✅ উত্তর: শুধু তাঁরই ইবাদতের জন্য।
(৬) প্রশ্ন: এ বিষয়ে কুরআনের দলিল কী?
✅ উত্তর: আল্লাহ তায়ালা বলেন,
﴿وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ﴾
(সূরা যারিয়াত ৫১:৫৬)
(৭) প্রশ্ন: “ইবাদত” অর্থ কী?
✅ উত্তর: তাওহীদ মানা, আল্লাহর আনুগত্য করা, তাঁর আদেশ মানা ও নিষেধ বর্জন করা।
(৮) প্রশ্ন: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” অর্থ কী?
✅ উত্তর: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।
(৯) প্রশ্ন: সবচেয়ে বড় ইবাদত কী?
✅ উত্তর: তাওহীদ।
(১০) প্রশ্ন: সবচেয়ে বড় গুনাহ কী?
✅ উত্তর: শিরক।
(১১) প্রশ্ন: তাওহীদ কী?
✅ উত্তর: ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক করা।
(১২) প্রশ্ন: শিরক কী?
✅ উত্তর: আল্লাহর সাথে অন্যকে শরীক করা।
(১৩) প্রশ্ন: তাওহীদের কয়টি অংশ?
✅ উত্তর: দুইটি।
(১৪) প্রশ্ন: তাওহীদের অংশগুলো কী?
✅ উত্তর: ১️- তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ
২️- তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ। (তাজুল আরূস- ৯/২৭৬)
(১৫) প্রশ্ন: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ কী?
✅ উত্তর: তাওহীদুর রুবিয়্যাহ হচ্ছে- আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে তার সকল কাজ, ক্ষমতা, সিফাত তথা গুণাবলি ও পূর্ণতায় একক বিশ্বাস করা।
(১৬) প্রশ্ন: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ কী?
✅ উত্তর: বান্দার সকল ইবাদাত একমাত্র আল্লাহর জন্য করা।
(১৭) প্রশ্ন: আল্লাহর কি নাম ও গুণাবলি আছে?
✅ উত্তর: হ্যাঁ, তিনি নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন এবং রাসূল ﷺ যা সাব্যস্ত করেছেন।
(১৮) প্রশ্ন: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি কোথা থেকে গ্রহণ করি?
✅ উত্তর: কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ থেকে।
(১৯) প্রশ্ন: আল্লাহর গুণাবলি কি সৃষ্টির মতো?
✅ উত্তর: না। আল্লাহ তায়ালার সকল গুণাবলিকে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য দেওয়া যাবে না।
(২০) প্রশ্ন: এর কুরআনের দলিল কী?
✅ উত্তর: আল্লাহ তায়ালা বলেন,
﴿لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ﴾
(সূরা শূরা ৪২:১১)
(২১) প্রশ্ন: কুরআন কী?
✅ উত্তর: কুরআন আল্লাহর কালাম।
(২২) প্রশ্ন: কুরআন অবতীর্ণ না সৃষ্টি?
✅ উত্তর: এটি আল্লাহর কালাম; অবতীর্ণ, সৃষ্টি নয়।
(২৩) প্রশ্ন: পুনরুত্থান (বাআছ) কী?
✅ উত্তর: মৃত্যুর পর মানুষকে পুনরুজ্জীবিত করা।
(২৪) প্রশ্ন: পুনরুত্থান অস্বীকারকারীর কুফরের দলিল কী?
✅ উত্তর: আল্লাহ তায়ালা বলেন,
﴿زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَنْ يُبْعَثُوا﴾
(সূরা তাগাবুন ৬৪:৭)
(২৫) প্রশ্ন: আল্লাহ আমাদের পুনরুত্থিত করবেন- এর দলিল কী?
✅ উত্তর: আল্লাহ কুরআনে বলেন,
﴿قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنَّ﴾
(সূরা তাগাবুন ৬৪: ৭)
(২৬) প্রশ্ন: “ইসলাম” শব্দের অর্থ কী?
✅ উত্তর: ইসলাম শব্দের অর্থ- আত্মসমর্পণ করা, আনুগত্য করা, শান্তিতে প্রবেশ করা
পারিভাষিক অর্থ হলো: ইসলাম হলো- এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা, তাঁর একত্ব স্বীকার করা, তাঁর আদেশ মানা এবং শিরক ও অবাধ্যতা থেকে মুক্ত থাকা।
এভাবে শিশুদের ছোটবেলা থেকে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে শেখানো হলে তারা ইনশাআল্লাহ পরিষ্কার তাওহীদী ধারণা নিয়ে বড় হবে।
তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- আকীদার শিক্ষা যেন অহংকার সৃষ্টি না করে, ভিন্নমতের মুসলিমদের কাফির সাব্যস্ত করার প্রবণতা না জন্মায়, উম্মাহর ঐক্য, আদব ও বিনয় বজায় থাকে, কারণ বিশুদ্ধ তাওহীদ যেমন জরুরি, তেমনি চরিত্র, সহনশীলতা ও উম্মাহর ঐক্য রক্ষা করাও ঈমানের অংশ।
18/02/2026
এক নজরে সিয়াম বা রোজার জরুরি মাসআলা-মাসায়েল
❑ ১. সিয়ামের সংজ্ঞা:
সিয়াম (الصيام) আরবি শব্দ। বহুবচন। একবচন সওম (الصوم)। বাংলায় রোজা যা মূলত ফারসি ভাষায় থেকে আগত। সওম-এর শাব্দিক অর্থ, বিরত থাকা।
শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিক (ফজর) থেকে সূর্যাস্ত (মাগরিব) পর্যন্ত রোজা ভঙ্গকারী সকল কাজ থেকে বিরত থাকাই হল সিয়াম বা রোজা।
❑ ২. রোজা রাখার বিধান:
নিম্নে বর্ণিত কতিপয় শর্ত সাপেক্ষ প্রত্যেক মুসলিম নারী ও পুরুষের ওপর রমজানের রোজা রাখা ফরজ।
❖ আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
"হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।" [সূরা আল-বাকারা: ১৮৩]
❖ রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ
"ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসুল, নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, হজ সম্পাদন করা এবং রমজানের রোজা রাখা।" [সহিহ বুখারী: ৮ ও সহিহ মুসলিম: ১৬]
❑ ৩. রোজা ফরজ হওয়ার শর্তাবলি:
রোজা ফরজ হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই━
১. মুসলিম হতে হবে। অমুসলিমের জন্য এ বিধান প্রযোজ্য নয়।
২. প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চাদের রোজা রাখা আবশ্যক নয়। তবে তাদেরকে অভ্যস্ত করার জন্য রোজা রাখার জন্য উৎসাহিত করা উচিত।
৩. সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন হতে হবে। পাগলের উপর রোজা ফরজ নয়।
৪. রোজা রাখার শারীরিক সক্ষমতা থাকতে হবে। রোজা রাখতে অক্ষম বা যার জন্য কষ্টসাধ্য তার জন্য রোজা রাখা আবশ্যক নয়। যেমন: বয়োবৃদ্ধ, দীর্ঘ মেয়াদী রোগী কিংবা শয্যাশায়ী ব্যক্তির জন্য রোজা রাখা আবশ্যক নয়।
প্রচণ্ড ঠাণ্ডা বা গরমে ভারী কাজ করার কারণে রোজা রাখতে কষ্ট হলে রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ নয়। এ ক্ষেত্রে হয় কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিবে অথবা রাত্রিকালীন কাজ করবে।
৫. শরিয়তের বাধামুক্ত থাকতে হবে। (যেমন: ঋতুস্রাব, সন্তান প্রসবোত্তর স্রাব নির্গত হওয়া ইত্যাদি)
❑ ৪. রোজার নিয়ত:
ক. মনে মনে রোজা রাখার নিয়ত থাকা আবশ্যক। মুখে উচ্চারণ করে আরবিতে ‘নাওয়াইতু আন আসুমা..” অথবা বাংলায় নিয়ত উচ্চারণ করা বিদআত।
খ. ফজরের পূর্বেই নিয়ত করা আবশ্যক।
গ. পুরো মাসের জন্য মাসের শুরুতে একবার নিয়ত করাই যথেষ্ট। তবে প্রতি রাতে আলাদা আলাদা নিয়ত করা উত্তম।
উল্লেখ্য যে, কোনও কারণে রোজা ভাঙলে পুনরায় শুরু করার সময় আবার নিয়ত করতে হবে।
❑ ৪. রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ:
◈ ক. যেকারণে রোজা ভেঙে যায় এবং কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হয় তা হল, রোজা অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা:
যদি কোনও ব্যক্তি রমজান মাসে ইচ্ছাকৃত ভাবে স্ত্রী সহবাস করে তবে তার রোজা ভেঙে যাবে এবং এর বদলে একটি রোজা কাজা করার পাশাপাশি কাফফারা (টানা ৬০টি রোজা রাখা) আদায় করতে হবে। তাও সম্ভব না হলে একটি রোজার বিনিময়ে ৬০ জন গরিব-অসহায় মানুষকে খাবার খাওয়াতে হবে বা খাদ্যদ্রব্য প্রদান করতে হবে। (জনপ্রতি সোয়া কেজি চাল)। টাকা দেওয়া শরিয়ত সম্মত নয়।
◈ খ. যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায় কিন্তু শুধু কাজা আবশ্যক হয় (কাফফারা নয়):
নিচের কারণগুলোর কোনও একটি ঘটলে রোজা ভেঙে যাবে এবং রমজানের পর সেই রোজার পরিবর্তে একটি রোজা রেখে দিলেই হবে (কাফফারা আবশ্যক নয়):
➧ (১). ইচ্ছাকৃত ভাবে পানাহার করা: সুবহে সাদিক বা ফরজ উদিত হওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইচ্ছাকৃত ভাবে কোনও খাবার, পানীয়, ওষুধ ইত্যাদি গ্রহণ করা।
উল্লেখ্য যে, এমন কিছু যা সাধারণত খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয় না তা ইচ্ছাকৃত ভাবে গিলে ফেললেও রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। যেমন: পাথর, মাটি বা অখাদ্য অন্য কিছু।
➧ (২) ইচ্ছাকৃত ভাবে বমি করা: যদি কেউ আঙুল দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে মুখ ভরে ইচ্ছাকৃত ভাবে বমি করে। রোগ বা অন্য কোনও কারণে অনিচ্ছা বশতঃ বমি হলে রোজা ভঙ্গ হবে না।
➧ (৩) নাক বা কানে ওষুধ প্রবেশ করানো: যদি এমন কোনও তরল ওষুধ ব্যবহার করা হয় যা সরাসরি পাকস্থলীতে পৌঁছে যায়।
- রোজা অবস্থায় রক্ত দান করলে বা হিজামা (সিঙ্গা) লাগালে রোজা ভঙ্গ হওয়ার বিষয়টি দ্বিমতপূর্ণ। অধিক বিশুদ্ধ মতে, রোজা ভঙ্গ হবে না। কিন্তু যেহেতু অনেক আলেমের মতে রোজা ভেঙ্গে যাবে তাই সতর্কতা এবং মতবিরোধ থেকে বাঁচার স্বার্থে সম্ভব হলে তা দিনে না করে রাতে করাই ভালো।
➧ (৪) ভুলবশত ইফতার বা সেহরি করা: সময় শেষ হওয়ার পর সেহরি খাওয়া অথবা সময় হওয়ার আগে ইফতার করে ফেলা (যদিও ব্যক্তি মনে করেছিল সময় আছে)।
উল্লেখ্য যে, উক্ত রোজা কাজা করার বিষয়ে আলেমদের মাঝে দ্বিমত আছে। তবে অধিক বিশুদ্ধ মতে তা কাজা করে নিবে। এটাই অধিক সতর্কতামূলক অবস্থান।
➧ (৫) রোজা অবস্থায় অসতর্কতা বশত কোনও কিছু খেলে বা পান করলে রাজা ভঙ্গ হয় না। তবে স্মরণ আসার সাথে সাথে পানাহার বন্ধ করতে হবে। এমনকি মুখে থাকলেও তা ফেলে দিতে হবে।
➧ (৬) নারীদের পিরিয়ড বা সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব: রোজা থাকা অবস্থায় দিনের যেকোনো সময় ঋতুস্রাব শুরু হলে বা বাচ্চা প্রসব হলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
❑ ৫. যাদের জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে (৫টি শ্রেণি):
✪ ১. অসুস্থ ব্যক্তি: যদি রোজা রাখার কারণে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে তাহলে রোজা ভাঙতে পারবেন এবং পরবর্তীতে সুস্থ হলে তা কাজা করবেন।
✪ ২. মুসাফির: সফরের কারণে কষ্ট হলে রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ। তবে কষ্ট না হলে রোজা রাখাই উত্তম। ভাঙ্গলে পরবর্তীতে তা কাজা করা আবশ্যক।
আল্লাহ তাআালা বলেন,
وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ
"আর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ অথবা সফরে আছে (সে অন্য সময়ে কাজা করবে)।" [সূরা আল বাকারা: ১৮৫
✪ ৩. ঋতুমতী ও প্রসূতি নারী:
মহিলাদের মাসিক ঋতুস্রাব বা সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর স্রাব চলাকালীন সময় (সর্বোচ্চ মেয়াদ ৪০ দিন) রোজা রাখা আবশ্যক নয়। রোজা অবস্থায় স্রাব শুরু হলে বা বাচ্চা প্রসব হলে স্বয়ংক্রিয় রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। তবে রমজানের পরে আগামী রমজানের পূর্বে তা কাজা করে নিতে হবে।
✪ ৪. গর্ভবতী ও দুগ্ধ দানকারী মা: যদি নিজের বা বাচ্চার ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তাহলে তার তিনি রোজা ভাঙতে পারবেন এবং পরে কাজা করবেন। তবে যদি কোনও ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে তবে রোজা রাখা মুস্তাহাব।
✪ ৫. অতিবৃদ্ধ বা দীর্ঘমেয়াদী রোগী: যারা একেবারেই রোজা রাখতে সক্ষম নন তাদের জন্য রোজা রাখা আবশ্যক নয়। তবে প্রতিটি রোজার পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাদ্যদ্রব্য (ফিদিয়া যার পরিমাণ সোয়া কেজি চাল) দিতে হবে।
❑ ৬. রোজার মূল শিক্ষা ও উদ্দেশ্য:
❍ ১. তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতি অর্জন:
রোজার প্রধান এবং মূল উদ্দেশ্য হল মানুষের মনে আল্লাহর ভয় বা সচেতনতা সৃষ্টি করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
"হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।" [সূরা বাকারা: ১৮৩]
❍ ২. নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণ (আত্মশুদ্ধি):
সারাদিন নিজের বৈধ চাহিদা (খাবার ও পানীয়) পরিহার করার মাধ্যমে একজন মুমিন তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। এটি মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে শক্তিশালী করে এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।
❍ ৩. ধৈর্য ও সহনশীলতার চর্চা:
ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কষ্ট সহ্য করার মাধ্যমে রোজাদার ধৈর্যের গুণ অর্জন করে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসকে "ধৈর্যের মাস" হিসেবে অভিহিত করেছেন।
❍ ৪. সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ব বোধ:
অনাহারে থাকার যন্ত্রণা অনুভবের মাধ্যমে সমাজের অভাবী ও দরিদ্র মানুষের কষ্টের প্রতি সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়। এটি দান-সদকা ও মানুষের সেবায় উৎসাহিত করে।
❍ ৫. আখলাক বা চরিত্রের সংশোধন:
রোজা অবস্থায় মিথ্যা বলা, গিবত করা বা ঝগড়া-বিবাদ থেকে দূরে থাকা বাধ্যতামূলক।
রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ
"যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী কাজ বর্জন করেনি, তার পানাহার বর্জন করাতে আল্লাহর কোনও প্রয়োজন নেই।" [সহিহ বুখারী: ১৯০৩]
❍ ৬. শারীরিক সুস্থতা:
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার ফলে শরীরের পরিপাকতন্ত্র বিশ্রাম পায় এবং শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায়, যা সুস্থতার জন্য সহায়ক। এ ছাড়াও অনেক উপকার আছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَأَن تَصُومُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
"আর তোমাদের রোজা রাখাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পারো।" [সূরা বাকারা: ১৮৪]
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পদ্ধতির আলোকে সিয়াম পালনের তওফিক দান করুন এবং তা কবুল করুন। আমিন।
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব
10/02/2026
সাপ ও বন্যপ্রাণী নিয়ে মানুষের মনে থাকে অসংখ্য প্রশ্ন, ভয় ও ভুল ধারণা।
এসব দূর করে ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী দয়া, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতেই আমাদের এই আয়োজন।
সব প্রশ্নের উত্তর জানতে রাত ৯টায় লাইভে থাকুন। আপনিও যুক্ত হোন এবং সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিন।
22/01/2026
একদা এক ব্যক্তি তার ছেলেকে আমীরুল মুমিনীন উমর ফারুক (রা.)-এর নিকট নিয়ে এল। লোকটি রেগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল, "হে আমীরুল মুমিনীন! আমার এই ছেলে আমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে, সে আমার কথা শোনে না এবং আমাকে অমান্য করে।"
উমর (রা.) ছেলেকে বললেন, "তুমি কি তোমার বাবাকে অমান্য করার ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করো না? তুমি কি জানো না—পিতার কত অধিকার তোমার ওপর আছে?" তিনি বাবার সম্মানের গুরুত্ব নিয়ে অনেক কথা শোনালেন।
সেই ছেলেটি মাথা নিচু করে শান্তভাবে সব শুনল। এরপর সে জিজ্ঞেস করল:
"হে আমীরুল মুমিনীন! আমার ওপর যেমন আমার বাবার অধিকার আছে—বাবার ওপর কি সন্তানের কোনো অধিকার নেই?"
উমর (রা.) সাথে সাথে উত্তর দিলেন, "অবশ্যই আছে।" ছেলেটি জানতে চাইল, "কী সেই অধিকার?"
উমর (রা.) তিনটি মৌলিক অধিকারের কথা বললেন,
১. নীচ স্বভাবের কোনো নারীকে বিয়ে না করা যাতে সন্তানের জন্য তাকে নিয়ে তিরস্কার করার সুযোগ না থাকে।
২. সন্তানের একটি সুন্দর ও সম্মানজনক নাম রাখা।
৩. সন্তানকে মহান আল্লাহর কিতাব (কুরআন) শিক্ষা দেওয়া।
ছেলেটি তখন বলল, "হে আমীরুল মুমিনীন! আল্লাহর কসম! আমার মা কোনো সম্ভ্রান্ত বংশের নন; তিনি তো কেবল একজন সিন্দী দাসী, যাকে চারশো দিরহামে ক্রয় করা হয়েছিল। আমার বাবা আমার এমন এক নাম রেখেছেন (জুআল—গোবরে পোকা বা ছোট বাদুড়), যে নামে ডাকলে আমি লজ্জিত হই। আর তিনি সারাজীবনে আমাকে আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াতও শেখাননি!"
এই কথা শুনে উমর ফারুক (রা.) ছেলেটির বাবার দিকে ফিরে বললেন,
তুমি এসেছ সন্তানের নামে নালিশ করতে? অথচ তুমি নিজেই সন্তানের হক আদায় করোনি এবং ওর প্রতি তোমার ওপর অর্পিত সব দায়িত্ব পদদলিত করেছ! সে তোমার অবাধ্য হওয়ার আগেই তুমি তার প্রতি অবিচার করেছো। উমর (রা.) সেই বাবাকেই তিরস্কার করে তাড়িয়ে দিলেন।
সন্তানের থেকে সম্মান পাওয়ার আশা করার আগে বাবাকে তাঁর ধর্মীয় ও মানবিক দায়িত্বগুলো পূর্ণ করতে হবে। ইসলামে সম্পর্ক কেবল একতরফা নয়। বড়রা ছোটদের ওপর অবিচার করলে ছোটরা বখে যাওয়ার জন্য সেই বড়রাই দায়ী। একটি বাচ্চার ব্যক্তিত্ব গড়তে আদর্শ মা, সুন্দর নাম এবং কুরআন শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম।
আবুল লাইস সমরকন্দী রহি.
[তাম্বিহুল গাফেলীন, ৩৩৯]
#হাদিস