Muslim Aath

Muslim Aath

Share

নিশ্চয়ই আমাদের সালাত, আমাদের জীবন ও আমাদের মরণ বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই📢

30/11/2024

📌গাজওয়াতুল হিন্দ : একটি তাত্ত্বিক ও তথ্যবহুল আলোচনা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতিশ্রুত গাজওয়াতুল হিন্দ কি অতি সন্নিকটে?

আজ আমরা গাজওয়াতুল হিন্দ বা হিন্দুস্তানের মহাযু*দ্ধ নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করব ইনশাআল্লাহ। এটা এমনই এক মর্যাদার্পূণ জি*হাদ, যে ব্যাপারে হাদিসে সুস্পষ্ট ফজিলত ও দিক-নির্দেশনা রয়েছে।

গাজওয়াতুল হিন্দ বলতে ইমাম মাহদি এবং ইসা আ.-এর আগমনের কিছু আগে অথবা সমসাময়িক সময়ে এই পাক-ভারত-বাংলাদেশে মুসলিম ও কাফিরদের মধ্যকার সংগঠিত যু*দ্ধকে বুঝায়। ‘গাজওয়া’ অর্থ যু*দ্ধ, আর ‘হিন্দ’ বলতে এই উপমহাদেশ তথা পাক-ভারত-বাংলাদেশসহ শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানকে বুঝায়।

আমরা প্রথমত এসংক্রান্ত কয়েকটি প্রামাণ্য হাদিস উল্লেখ করব। এরপর এর প্রেক্ষাপট, সময় ও অবস্থান র্নিণয় সম্পর্কে কিছু আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

১ নং হাদিস :
حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى الزَّمِنُ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ بُسْرِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ، عَنْ صُرَيْمٍ السَّكُونِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَتُقَاتِلُنَّ الْمُشْرِكِينَ، حَتَّى تُقَاتِلَ بَقِيَّتُكُمُ الدَّجَّالَ، عَلَى نَهْرٍ بِالأُرْدُنِّ، أَنْتُمْ شَرْقِيَّهُ وَهُمْ غَرْبِيَّهُ، وَمَا أَدْرِي، أَيْنَ الأُرْدُنُّ يَوْمَئِذٍ مِنَ الأَرْضِ.
অর্থ : সুরাইম রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিঃসন্দেহে তোমরা মুশরিকদের (মূর্তিপূজারীদের) বিরুদ্ধে যু*দ্ধ করবে; এমনকি এ যু*দ্ধে তোমাদের অবশিষ্ট মুজাহিদরা জর্ডান নদীর তীরে দাজ্জালের সঙ্গে যু*দ্ধে লিপ্ত হবে। এই যু*দ্ধে তোমরা পূর্ব দিকে অবস্থান করবে আর দাজ্জালের অবস্থান হবে পশ্চিম দিকে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জানি না, সেদিন জর্ডান কোথায় অবস্থিত হবে?

সূত্র :
১. কাশফুল আসতার আন জাওয়াইদিল বাজ্জার : ৪/১৩৮, হা. নং ৩৩৮৭, প্র. মুআসাসাসতুর রিসালা, বৈরুত-
২. মাজমাউজ জাওয়ায়িদ : ৭/৩৪৮-৩৪৯, হা. নং ১২৫৪২, প্র. মাকতাবাতুল কুদসি, কায়রো-
মান :
এর সনদ বিশুদ্ধ।

২ নং হাদিস :
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ، قَالَ: أَنْبَأَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَيَّارٌ أَبُو الْحَكَمِ، عَنْ جَبْرِ بْنِ عَبِيدَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: وَعَدَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَةَ الْهِنْدِ، فَإِنْ أَدْرَكْتُهَا أُنْفِقْ فِيهَا نَفْسِي وَمَالِي، وَإِنْ قُتِلْتُ كُنْتُ أَفْضَلَ الشُّهَدَاءِ، وَإِنْ رَجَعْتُ فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ.
অর্থ : হজরত আবু হুরাইরা রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে হিন্দুস্তানের জি*হাদ সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদি আমি সে জি*হাদ পেয়ে যাই তাহলে আমি আমার জান-মাল সব কিছু তাতে ব্যয় করব। এতে যদি আমি শাহাদত বরণ করি তাহলে আমি হব সর্বশ্রেষ্ঠ শহিদ। আর যদি গাজি হয়ে ফিরে আসি তাহলে আমি হব (জাহান্নামের আগুন থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত আবু হুরাইরা।

সূত্র :
১. সুনানুন নাসায়ি : ৬/৪২, হা. নং ৩১৭৪, প্র. মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব-
২. আস-সুনানুল কুবরা, বাইহাকি : ৯/২৯৭, হা. নং ১৮৫৯৯, প্র. দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত-
৩. মুসনাদু আহমাদ : ১২/২৮-২৯, হা. নং ৭১২৮, প্র. মুআসাসাসতুর রিসালা, বৈরূত-
৪. মুসতাদরাকুল হাকিম : ৩/৫৮৮, হা. নং ১৭৭৫/৬১৭৭, প্র. দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত-
৫. হিলইয়াতুল আওলিয়া : ৮/৩১৬, প্র. আস-সাআদা, মিসর-
৬. আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ : ১/৪০৯, হা. নং ১২৩৭, প্র. মাকতাবাতুত তাওহিদ, কায়রো-
মান :
এ বর্ণনাটির সনদ হাসান তথা উত্তম।

৩ নং হাদিস :
حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ سَالِمٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ الْوَلِيدِ الزُّبَيْدِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْوَلِيدِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنْ لُقْمَانَ بْنِ عَامِرٍ الْوُصَابِيِّ، عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى بْنِ عَدِيٍّ الْبَهْرَانِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: عِصَابَتَانِ مِنْ أُمَّتِي أَحْرَزَهُمُ اللهُ مِنَ النَّارِ: عِصَابَةٌ تَغْزُو الْهِنْدَ، وَعِصَابَةٌ تَكُونُ مَعَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ.
অর্থ : হজরত সাওবান রা. সূত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে হতে দুটি দলকে আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে নিরাপত্তা দিয়েছেন। একটি দল, যারা হিন্দুস্তানের যু*দ্ধে শরিক হবে। আর দ্বিতীয় আরেকটি দল, যারা ইসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর সঙ্গে মিলে যু*দ্ধ করবে।

সূত্র :
১. মুসনাদু আহমাদ : ৩৭/৮১, হা. নং ২২৩৯৬, প্র. মুআসাসাসতুর রিসালা, বৈরূত-
২. সুনানুন নাসায়ি : ৬/৪২, হা. নং ৩১৭৫, প্র. মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব-
৩. আস-সুনানুল কুবরা, বাইহাকি : ৯/২৯৭, হা. নং ১৮৬০০, প্র. দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত-
৪. আল-মুজামুল আওসাত : ৭/২৩, হা. নং ৬৭৪১ প্র. দারুল হারামাইন, কায়রো-
৫. আত তারিখুল কাবির : ৬/৭২-৭৩, জীবনী নং ১৭৪৭, প্র. দায়িরাতুল মাআরিফিল উসমানিয়্যা, হায়দারাবাদ-
৬. আল কামিল, ইবনে আদি : ২/৪০৮, জীবনী নং ৩৫১, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত-
মান :
এ হাদিসটি হাসান।

৪ নং হাদিস :
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا الْبَرَاءُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي خَلِيلِي الصَّادِقُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: يَكُونُ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ بَعْثٌ إِلَى السِّنْدِ وَالْهِنْدِ، فَإِنْ أَنَا أَدْرَكْتُهُ فَاسْتُشْهِدْتُ فَذَاكَ، وَإِنْ أَنَا فَذَكَرَ كَلِمَةً رَجَعْتُ وَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ قَدْ أَعْتَقَنِي مِنَ النَّارِ.
অর্থ : হজরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার সত্যবাদী বন্ধু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বর্ণনা করতে বলেছেন, এ উম্মতের মধ্যে সিন্ধু ও হিন্দুস্তানের দিকে একটি যু*দ্ধাভিযান পরিচালিত হবে। (আবু হুরাইরা রা. বলেন,) আমি যদি সে যু*দ্ধ পেয়ে যাই, অতঃপর যু*দ্ধ করতে করতে শহিদ হয়ে যাই তাহলে তো আমি মহাসৌভাগ্যবান। আর যদি আমি গাজি হয়ে ফিরে আসি তাহলে আমি হব মুক্তিপ্রাপ্ত আবু হুরাইরা। আল্লাহ আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তিদান করেছেন।

সূত্র :
মুসনাদু আহমাদ : ১৪/৪১৯, হা. নং ৭১২৮, প্র. মুআসাসাসতুর রিসালা, বৈরূত-
মান :
এ বর্ণনাটির সনদ জইফ।

৫ নং হাদিস :
حَدَّثَنَا أَبُو الْجَوْزَاءِ أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ – وَكَانَ مِنْ نُسَّاكِ أَهْلِ الْبَصْرَةِ – قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ قَالَ: حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ كِنَانَةَ بْنِ نُبَيْهٍ مَوْلَى صَفِيَّةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ غَزْوَةَ الْهِنْدِ، فَإِنْ أُدْرِكْهَا أُنْفِقْ فِيهَا نَفْسِي وَمَالِي، فَإِنْ قُتِلْتُ كُنْتُ كَأَفْضَلِ الشُّهَدَاءِ، وَإِنْ رَجَعْتُ فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ.
অর্থ : হজরত আবু হুরাইরা রা. বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে হিন্দুস্তানের জি*হাদ সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমি যদি সে জি*হাদ পেয়ে যাই তাহলে তাতে আমি আমার জান-মাল সব কিছু ব্যয় করব। এতে যদি আমি শাহাদত বরণ করি তাহলে আমি হব সর্বশ্রেষ্ঠ শহিদের ন্যায়। আর যদি গাজি হয়ে ফিরে আসি তাহলে আমি হব (জাহান্নামের আগুন থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত আবু হুরাইরা।

সূত্র :
আল-জিহাদ, ইবনু আবি আসিম : ২/৬৬৮, হা. নং ২৯১, প্র. মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকাম, মদিনা-
মান :
এ বর্ণনাটি জইফ।

৬ নং হাদিস :
حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ صَفْوَانَ، عَنْ بَعْضِ الْمَشْيَخَةِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَذَكَرَ الْهِنْدَ، فَقَالَ: لَيَغْزُوَنَّ الْهِنْدَ لَكُمْ جَيْشٌ، يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ حَتَّى يَأْتُوا بِمُلُوكِهِمْ مُغَلَّلِينَ بِالسَّلَاسِلِ، يَغْفِرُ اللَّهُ ذُنُوبَهُمْ، فَيَنْصَرِفُونَ حِينَ يَنْصَرِفُونَ فَيَجِدُونَ ابْنَ مَرْيَمَ بِالشَّامِ. قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: إِنْ أَنَا أَدْرَكْتُ تِلْكَ الْغَزْوَةَ بِعْتُ كُلَّ طَارِفٍ لِي وَتَالِدٍ وَغَزَوْتُهَا، فَإِذَا فَتْحَ اللَّهُ عَلَيْنَا وَانْصَرَفْنَا فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرِّرُ، يَقْدَمُ الشَّامَ فَيَجِدُ فِيهَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ، فَلَأَحْرِصَنَّ أَنْ أَدْنُوَ مِنْهُ فَأُخْبِرُهُ أَنِّي قَدْ صَحِبْتُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَضَحِكَ، ثُمَّ قَالَ: هَيْهَاتَ هَيْهَاتَ.
অর্থ : আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিন্দুস্তানের যু*দ্ধের আলোচনার প্রাক্কালে বলেছেন, অবশ্যই তোমাদের একটি দল হিন্দুস্থানের সাথে যু*দ্ধ করবে। আল্লাহ সেই দলের যো*দ্ধাদের সফলতা দান করবেন এবং তারা হিন্দুস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানদের শিকল/বেড়ি দিয়ে টেনে আনবে। আল্লাহ তাআলা সেই দলের যো*দ্ধাদের ক্ষমা করে দিবেন। অতঃপর মুসলিমরা যু*দ্ধ থেকে ফিরে এসে ইসা ইবনে মারইয়াম আ.-কে সিরিয়ায় পেয়ে যাবে। হজরত আবু হুরাইরা রাযি. বলেন, আমি যদি গাজওয়াতুল হিন্দে অংশগ্রহণের সু্যোগ পাই তাহলে আমি আমার নতুন পুরাতন সব সম্পদ বিক্রি করে দেবো এবং এতে অংশগ্রহণ করব। এরপর যখন আল্লাহ তাআলা আমাদের বিজয় দান করবেন এবং আমরা যুদ্ধ থেকে ফিরে আসব তখন আমি হব (জাহান্নামের আগুন হতে) মুক্তিপ্রাপ্ত আবু হুরাইরা, যে সিরিয়ায় গিয়ে ইসা ইবনে মারইয়াম আ.-এর সাথে মিলিত হবে। হে আল্লাহর রাসুল, আমার খুব আকাঙ্ক্ষা যে, আমি ইসা আ.-এর নিকটবর্তী হয়ে তাঁকে বলব যে, আমি আপনার সংশ্রবপ্রাপ্ত একজন সাহাবি। তিনি বলেন, এতে রাসুলুল্লাহ সা. মুচকি মুচকি হাসতে লাগলেন এবং বললেন, সে (যু*দ্ধ) তো অনেক দেরি! অনেক দেরি!!

সূত্র :
আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ : ১/৪০৯, হা. নং ১২৩৬, প্র. মাকতাবাতুত তাওহিদ, কায়রো-
মান :
এ সনদটি জইফ।

৭ নং হাদিস :
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، عَمَّنْ حَدَّثَهُ عَنْ كَعْبٍ، قَالَ: يَبْعَثُ مَلِكٌ فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ جَيْشًا إِلَى الْهِنْدِ فَيَفْتَحُهَا، فَيَطَئُوا أَرْضَ الْهِنْدِ، وَيَأْخُذُوا كُنُوزَهَا، فَيُصَيِّرُهُ ذَلِكَ الْمَلِكُ حِلْيَةً لَبَيْتِ الْمَقْدِسِ، وَيُقْدِمُ عَلَيْهِ ذَلِكَ الْجَيْشُ بِمُلُوكِ الْهِنْدِ مُغَلَّلِينَ، وَيُفْتَحُ لَهُ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، وَيَكُونُ مَقَامُهُمْ فِي الْهِنْدِ إِلَى خُرُوجِ الدَّجَّالِ.
অর্থ : হজরত কাব রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জেরুজালেমের একজন বাদশাহ হিন্দুস্তানের দিকে একটি সৈন্যদল পাঠাবেন। সৈন্যদল হিন্দুস্তানের ভূমি জয় করে তা পদানত করবে। এর অর্থ-ভাণ্ডার দখল করবে। তারপর বাদশাহ এসব ধনদৌলত বাইতুল মুকাদ্দাসে সাজিয়ে রাখবেন। সৈন্যদলটি হিন্দুস্তানের রাজাদের শিকল দিয়ে বেঁধে বন্দি করে তাঁর নিকট উপস্থিত করবে। প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সকল এলাকায় তাঁর বিজয়ার্জন হবে। দাজ্জালের আবির্ভাব পর্যন্ত তাঁরা হিন্দুস্তানেই অবস্থান করবেন।

সূত্র :
আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ : ১/৪০৯, হা. নং ১২৩৫, প্র. মাকতাবাতুত তাওহিদ, কায়রো-
মান :
এটার সনদ জইফ।

৮ নং হাদিস :
حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ جَرَّاحٍ، عَنْ أَرْطَاةَ، قَالَ: عَلَى يَدَيْ ذَلِكَ الْخَلِيفَةِ الْيَمَانِيِّ الَّذِي تُفْتَحُ الْقُسْطَنْطِينِيَّةُ وَرُومِيَّةُ عَلَى يَدَيْهِ، يَخْرُجُ الدَّجَّالُ وَفِي زَمَانِهِ يَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ، عَلَى يَدَيْهِ تَكُونُ غَزْوَةُ الْهِنْدِ، وَهُوَ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ، غَزْوَةُ الْهِنْدِ الَّتِي قَالَ فِيهَا أَبُو هُرَيْرَةَ.
অর্থ : হজরত আরতাত রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ইয়ামানি খলিফার নেতৃত্বে ইসতামবুল ও রোম (ইউরোপ) বিজয় হবে, তাঁর সময়েই দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে, তাঁর যুগেই ইসা ইবনে মারইয়াম আ. অবতরণ করবেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই হিন্দুস্তানের যু*দ্ধ সংঘটিত হবে। তিনি হবেন হাশিমি বংশের লোক। গাজওয়াতুল হিন্দ বলতে ঐ যু*দ্ধ উদ্দেশ্য, যে ব্যাপারে আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেছেন।

সূত্র :
আল-ফিতান, নুআইম বিন হাম্মাদ : ১/৪১০, হা. নং ১২৩৮, প্র. মাকতাবাতুত তাওহিদ, কায়রো-
মান :
এটার সনদ জইফ।

🟥 গাজওয়াতুল হিন্দের হাদিসগুলোর সম্মিলিত মান :

উপরিউক্ত হাদিসগুলোর কিছু সহিহ, কিছু হাসান এবং কিছু জইফ। তবে এ জইফগুলো একটিও মারাত্মক নয়; বরং সবগুলোই সহনীয় পর্যায়ের। সবগুলো সনদ একসাথে করলে সম্মিলিতভাবে গাজওয়াতুল হিন্দের হাদিস সহিহ (বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত) বা কমপক্ষে হাসান (উত্তম সূত্রে বর্ণিত) পর্যায়ের বলে সাব্যস্ত হয়।
এজন্যই শাইখ আলবানি রহ. সুনানে নাসায়িতে বর্ণিত গাজওয়াতুল হিন্দের হাদিসটিকে সহিহ বলে আখ্যায়িত করেছেন। (দেখুন, সুনানুন নাসায়ি : ৬/৪২, হা. নং ৩১৭৫, প্র. মাকতাবুল মাতবুআতিল ইসলামিয়্যা, হালব) আর সিলসিলাতুস সহিহা-তে এর সনদকে জাইয়িদ বা হাসান বলে অভিহিত করেছেন। (দেখুন : সিলসিলাতুল আহাহাদিসিস সহিহা : ৪/৫৭০, হা. নং ১৯৩৪, প্র. মাকতাবাতুল মাআরিফ, রিয়াদ) এছাড়াও শাইখ শুআইব আরনাওত রহ. মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত উক্ত হাদিসকে হাসান বলে অভিহিত করেছেন। (দেখুন, মুসনাদু আহমাদ : ৩৭/৮১, হা. নং ২২৩৯৬, প্র. মুআসাসাসতুর রিসালা, বৈরূত)

গাজওয়াতুল হিন্দের হাদিসগুলোর সারমর্ম :
এ মর্মে বর্ণিত হাদিসগুলো থেকে আমরা যে বিষয়গুলো জানতে পারি, তা হলো-

🟥১. এটা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সা. কর্তৃক প্রতিশ্রুত একটি যু*দ্ধের ভবিষতবাণী, যা শেষ জমানায় ঘটবে।

🟥২. যু*দ্ধটি হবে হিন্দুস্তানে, যা পাক-ভারত-বাংলাদেশসহ শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানকে বুঝায়।

🟥৩. যু*দ্ধটি হবে হিন্দুস্তানের মুশরিক তথা মূর্তিপূজারী হিন্দুদের সাথে।

🟥৪. এ যু*দ্ধে সর্বাত্মকভাবে নিজের জান-মাল সব কিছু ব্যয় করে অংশগ্রহণ করা উচিত; যেমনটি আবু হুরাইরা রা. বলেছেন; এমনকি তিনি এ যু*দ্ধ শেষ জমানায় হবে জেনেও তাতে শরিক হয়ে ইসা আ.-এর সাথে সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছিলেন।

🟥৫. এ যু*দ্ধে মুসলমানদের বিজয় অর্জন হবে এবং মূর্তিপূজারী রাষ্ট্রপ্রধানদের হাতে পায়ে শিকল পরিয়ে বন্দি করে নিয়ে আসা হবে।

🟥৬. গাজওয়াতুল হিন্দে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদেরকে ইসা আ.-এর সাথে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং উভয় দলের একই মর্যদার কথা বর্ণনা করা হয়েছে।

🟥৭. এ যু*দ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদেরকে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।

🟥৮. এ যু*দ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদেরকে আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম থেকে মুক্ত ঘোষণা করেছেন।

🟥৯. এ যু*দ্ধের শহিদগণ হবেন শ্রেষ্ঠ শহিদদের অন্তর্গত।

🟥১০. এ যু*দ্ধ রাসুল সা.-এর যুগের অনেক পরে দাজ্জাল আবির্ভাবের পূর্বে শেষ জমানায় সংঘটিত হবে।

🟥১১. এ যু*দ্ধ জেরুজালেম থেকে ইমাম মাহদির নেতৃ্ত্বে পরিচালিত হবে।

🟥১২. এ যু*দ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদের মধ্য হতে যারা গাজি হয়ে ফিরবেন তারা ইসা আ.-এর সাথে দাজ্জালের বিরূদ্ধে সংঘটিত যু*দ্ধে শরিক হবেন।

⭕এ যু*দ্ধ কোথায় এবং কবে হবে?

‘আল-হিন্দ’ দ্বারা ভৌগলিকভাবে দুটি স্থানকে নির্দেশ করে। এক : ইরাকের বসরা নগরী; যেমন শাইখ মাশহুর হাসান স্বীয় ‘আল ইরাক ফি আহাদিসা ওয়া আসারিল ফিতান ওয়াল মালাহিম’ গ্রন্থে বলেন, ‘হিন্দ’ বলে কখনো কখনো ইরাকের বসরা নগরীকেও বুঝানো হয়ে থাকে। দুই : ভারত উপমহাদেশ, যা ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা নিয়ে গঠিত। হাদীসে বর্ণিত ‘আল হিন্দ’ বলতে সকল উলামায়ে কেরাম এ দ্বিতীয় অর্থ তথা ভারত উপমহাদেশই উদ্দেশ্য নিয়েছেন। তাই ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ আমাদের এ ভুখণ্ডেই সংঘটিত হবে। আর হাদিসের ভাষ্যানুসারে এর প্রতিপক্ষ দলটি হবে হিন্দুরা।

এ যু*দ্ধ পূর্বে হয়ে গেছে নাকি অদূর ভবিষ্যতে হবে এ নিয়ে উলামায়ে কিরামের মাঝে কিছুটা মতানৈক্য পাওয়া যায়। কতিপয় উলামায়ে কিরামের মতে এ যু*দ্ধ বনি উমাইয়ার শাসনামালে মুহাম্মাদ বিন কাসিম রহ.-এর ভারত বিজয়ের মাধ্যমে সংঘটিত হয়ে গেছে। কারও মতে সুলতান মাহমুদ গজনবি রহ.-এর ভারত অভিযানের দ্বারাই এ যু*দ্ধ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু গাজওয়াতুল হিন্দের সবগুলো হাদিস সামনে রাখলে প্রতিভাত হয় যে, এ যু*দ্ধ এখনও হয়নি; বরং ইসা আ.-এর আগমনের কিছু কাল পূর্বে ইমাম মাহদির নেতৃত্বে এটা সংঘটিত হবে এবং এ যু*দ্ধের গাজিরাই সিরিয়ায় গিয়ে ইসা আ.-এর সাথে দাজ্জালের বিরুদ্ধে যু*দ্ধ করবে।

শাইখ হামুদ তুওয়াইজিরি বলেন :
وما ذكر في حديث أبي هريرة رضي الله عنه الذي رواه نعيم بن حماد من غزو الهند؛ فهو لم يقع إلى الآن، وسيقع عند نزول عيسى ابن مريم عليهما الصلاة والسلام إن صح الحديث بذلك.
অর্থ : নুআইম বিন হাম্মাদ কর্তৃক বর্ণিত আবু হুরাইরা রা.-এর হাদিসে যে গাজওয়াতুল হিন্দের কথা এসেছে তা এখনও সংঘটিত হয়নি। এ হাদিসটি সহিহ হলে সত্বরই তা ইসা আ.-এর অবতরণের সময়কালে সংঘটিত হবে।

সূত্র :
ইতহাফুল জামাআহ : ১/৩৬৬, গাজওয়াতুল হিন্দসংক্রান্ত অধ্যায়, প্র. দারু সামিয়ি, রিয়াদ-

শাইখ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ বলেন :
الذي يبدو من ظاهر حديث ثوبان وحديث أبي هريرة ـ إن صح ـ أن غزوة الهند المقصودة ستكون في آخر الزمان ، في زمن قرب نزول عيسى بن مريم عليهما السلام ، وليس في الزمن القريب الذي وقع في عهد معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه
অর্থ : সাওবান রা. ও আবু হুরাইরা রা. এর হাদিস সহিহ হয়ে থাকলে এর স্পষ্ট ভাষ্য থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, কাঙ্খিত গাজওয়াতুল হিন্দ শেষ জমানায় ইসা আ.-এর অবতরণের নিকটবর্তী সময়ে সংঘটিত হবে। মুআবিয়া রা.-এর যুগের কাছাকাছি সময়ে যে সকল যু*দ্ধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলো নয়।

সূত্র :
ইসলাম সুওয়াল ও জাওয়াব : প্রশ্নোত্তর নং ১৪৫৬৩৬-

⭕বর্তমান পরিস্থিতি :

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভবিষ্যতবাণী অনুযায়ী খোরাসান (বর্তমান আফগানিস্থান) থেকে কালিমাখচিত কালো পতাকাধারীদের উত্থান এবং তাদের কাশ্মীর পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া, পূর্বপ্রস্তুতি হিসাবে ভারতের কাশ্মীর সীমান্তে সাত লক্ষ সেনা মোতায়েন, পাক-ভারত-বাংলাদেশের হকপন্থী দলগুলোর সুদৃঢ় অবস্থান, পানি নিয়ে ভারতের সাথে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের সাথে ভারতের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, বাবরি মসজিদ ধ্বং*স এবং মুসলিমদের নির্যাতন নিয়ে ভারতের ভেতরে মুসলিমদের ক্ষোভের বিস্ফোরণ, সেভেন সিস্টারস বা ভারতের সাতটি অঙ্গরাজ্যের স্বাধীনতার দাবি নিঃসন্দেহে ভারত বিভক্তি এবং আশু সে মহাযু*দ্ধেরই ইঙ্গিত বহন করে।

বর্তমানে এই উপমহাদেশের মূর্তিপূজারী ভূখণ্ডের মুসলিমপ্রধান ভূখণ্ডের ওপর সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আগ্রাসনের অব্যাহত প্রচেষ্টা দেখলে বুঝা যায় যে, এটি খুব সত্বরই চূড়ান্ত সংঘাতময়রূপ ধারণ করবে এবং এখানকার ইসলামকে টিকিয়ে রাখতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভবিষ্যতবাণী অনুসারে উম্মতের একটি দলকে এদিকে অগ্রসর হতে হবে। এটি ঘটবে সেই সমসাময়িক সময়ে, যখন সমগ্র দুনিয়াতে ইসলামের ক্রান্তিলগ্নে বৈশ্বিক শাসনব্যশাসনব্যবস্থা খিলাফতের আদলে সাজাতে আল্লাহ তাআলা ইমাম মাহদিকে প্রেরণ করবেন, যার খিলাফতের সপ্তম বছরে দাজ্জালের আবির্ভাব হবে এবং দাজ্জালের সাথে মহাযু*দ্ধের নেতৃত্ব দিতে ইসা আ.-এর আগমন ঘটবে। গাজওয়াতুল হিন্দের সময় অবশ্যই পাক-ভারত-বাংলাদেশের মুসলিম নামধারী মুনাফিকরা আলাদা হয়ে যাবে। তারা হয়তো কাফিরদের পক্ষে যোগ দিবে অথবা পালিয়ে বেড়াবে। এই ভয়ংকর রক্তক্ষয়ী যু*দ্ধে মুসলিমরা জয়ী হবে এবং তারা ফিলিস্তিনের বাইতুল মুকাদ্দাসে গিয়ে ইসা আ.-এর সাথে মিলিত হবে।

⭕সারকথা :

গাজওয়াতুল হিন্দের প্রকৃত সময় এবং অবস্থা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন। আমরা কেবল হাদিসের আলোকে এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ঘটনা সম্পর্কে নিজেদেরকে সচেতন এবং প্রস্তুত করতে পারি। সার্বিক বিচারে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, এ যু*দ্ধ খুবই সন্নিকটে। কেননা, এ যু*দ্ধের সাথে ইমাম মাহদি ও ইসা আ.-এর সম্পর্ক রয়েছে। আর আমার পূর্বের দুটি পোস্টে এ বিষয়ে তথ্যবহুল আলোচনা করে দেখিয়েছি যে, তাঁদের আগমন খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘটতে যাচ্ছে বলে আমাদের ধারণা। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিফহাল যারা, তারা ভালো করেই জানেন যে, বর্তমানে তাগুতি শক্তিগুলো আসন্ন মহাযু*দ্ধের জন্য কী পরিমান প্রস্তুতি গ্রহন করছে! অথচ আমরা মুসলিমরাই একমাত্র জাতি, যারা কিনা আজও এ সম্পর্কে গাফিল ও চরম উদাসীন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে এত করে সতর্ক করে দিয়ে গেছেন, যার কারণে তাগুতরা পর্যন্ত সতর্ক হয়ে গেছে, আর আমরা হতভাগার দল আজও আমাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িত।

“CIA terrified of Ghazwa e Hind” (ইংরেজি) শিরোনামে এই ভিডিওটি দেখলে বুঝতে পারবেন, তারা কতটা সচেতন আর আমরা কতটা গাফিল হয়ে আছি!

⭕ হে আমার প্রিয় ভাই, ঘুম থেকে এবার জাগো। একবার চেয়ে দেখো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভবিষ্যতবাণী ও বর্তমানের ভয়ংকর পরিস্থিতি। এখনই যদি সতর্ক না হও তাহলে ঘুম থেকে জেগে দেখবে তোমরা শিয়রে অস্ত্র হাতে তাগুতের বাহিনী দণ্ডায়মান। হে আমার দ্বীনের বন্ধু, এখনই সময় সজাগ হওয়ার, প্রস্তুতি নেওয়ার। অসময়ে তোমার দৌঁড়ঝাপ তোমার কোনো কাজে আসবে না। সত্যের বাহিনী তোমার অপেক্ষায় আছে। সাড়া দাও তাদের ডাকে; নইলে আর সময় পাবে না। হে আল্লাহ, তুমি মুসলিমবিশ্বের এ বিনাশী নিদ্রা টুটে দাও। তাদের অন্তর্চক্ষু খুলে দাও। আশু বিপদ অনুধাবনের শক্তি দাও। আল্লাহ, আমাদের রক্ষা করো, হিম্মত দাও, তাওফিক দাও। (আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন)

~সংগৃহীত( )

03/11/2024

কেউ একজন থাকুক,আমায় আমার
মতো করে বুঝুক।

কেউ একজন থাকুক,সে আমার
বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়ে উঠুক।

কেউ একজন থাকুক,আমি হারালে
হন্ন্য হয়ে আমায় খুঁজুক।

কেউ একজন থাকুক,আমায় আজীবন
রেখে দেওয়ার ওয়াদা করুক!!🌷💞🌷

02/11/2024

মেয়ে: আম্মু আমি তোমাদের পছন্দ করা ছেলেকে বিয়ে করতে পারবোনা।

মা: কেনো পারবে না? ছেলের কোন দিক দিয়ে কমতি আছে বলো? টাকা আছে বাড়ি আছে ছেলে আবার (অমুক) দেশের সিটিজেন ও আর ছেলে প্রচুর শিক্ষিত ও।

মেয়ে: এইগুলো নাহয় দুনিয়ার জন্য তাহলে আখিরাতের জন্য কি আছে? নামাজ পড়েন? দাঁড়ি রেখেছেন? আল্লাহ তা'য়ালার আদেশ নিষেধ পালন করেন? নবীর সুন্নত পালন করেন? দ্বীনি জ্ঞান আছে?

মা: এইগুলো না থাকলেও কি হবে পরবর্তীতে তুমি তোমার মতো বানিয়ে নিও সমস্যা কি?

মেয়ে: আম্মু আল্লাহ তা'য়ালা সূরা কাসাস এর ৫৬ নং আয়াতে বলেছেন: নিশ্চয়ই তুমি যাকে ভালোবাসো তাকে তুমি হিদায়েত দিতে পারবে না: বরং আল্লাহই যাকে ইচ্ছে হিদায়েত দেন। আর হিদায়েতপ্রাপ্তিদের ব্যাপারে তিনি ভালো জানেন।

প্রতিবেশী: এই মেয়ে, তুমি কি তোমার মায়ের থেকে বড় হয়ে গেছো?
আপা,আপনার মেয়েতো দেখি অনেক বেয়াদব আপনার কথা শোনে না!

এমন পরিস্থিতির শিকার কত শত বোন 💔
আল্লাহ তায়ালা সবার সহায় হন এবং সকল বাবা-মাকে বুঝার তৌফিক দেন...

01/11/2024

মনে রাখবেন, মুসলিম নারী কোনো পণ্য না ।

15/10/2024

ঘটনা-দুটি যতবারই পড়ি, শিহরিত হই.......!

❙ ঘটনা - ১ ❙

“বাগদাদে বাস করত এক মুয়াজ্জিন...।

যার নাম ছিল সালেহ। সালেহ মুয়াজ্জিন নামে প্রসিদ্ধ ছিল সে। প্রায় চল্লিশ বছর আজান দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেছিল। তার সততা ও সদাচার কারো অজানা ছিল না। সকলেই তাকে খুব ভালো জানত। সত্যিই সে ছিলও তেমনই। একদিনের কথা। মুয়াজ্জিন সালেহ আজান দিতে মসজিদের মিনারায় উঠেছে।

এমতাবস্থায় তার চোখ পড়েছে মসজিদ-সংলগ্ন বাড়িতে থাকা এক খ্রিষ্টান রমণীর দিকে। দেখামাত্রই সে তার প্রেমে পড়ে যায়। এরপর সে সব ফেলে সেই রমণীর কাছে পৌঁছায়।

দরোজায় কড়া নাড়তেই ভেতর থেকে আওয়াজ আসে, কে...? জবাবে সে বলে, আমি সালেহ মুয়াজ্জিন। দরোজা খুলে দিলেই সালেহ মেয়েটিকে স্প*র্শ করতে চায়।

নিরুপায় হয়ে মেয়েটি বলে,
আপনারা তো আমানতদার! তবে এ কেমন খেয়ানতের আচরণ করছেন? সালেহ বলে, যদি আমার কথা না শোনো, তাহলে প্রা*ণে মে*রে ফেলব। ‘আপনার কথা শুনতে পারি, তবে আপনাকে ইসলাম ত্যাগ করতে হবে।'—বলে মেয়েটি।

সালেহ তৎক্ষণাৎ বলে ফেলে, 'আমি ইসলাম ত্যাগ করলাম, মুহাম্মদ আনীত কোনো কিছুর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।' মেয়েটি বলে, 'এভাবে বললে তো হবে না; হতে পারে আপনার কামনা চরিতার্থ করে আপনি আবার ইসলাম গ্রহণ করবেন; তা হবে না। স্থায়িত্বের প্রমাণস্বরূপ আপনাকে শূক*রের মাংস খেতে হবে।

সালেহ তা-ই করে। তারপর তাকে ম'দ'পান করতে বলা হয়; সে তাও করে। সব কথা শোনার পর যখন আবার সে মেয়েটিকে স্পর্শ করতে যায়, তখন মেয়েটি অন্দরমহলে গিয়ে দরোজা আটকে দেয় এবং সালেহকে বলে ছাদে ওঠে অপেক্ষা করতে—যেন মেয়েটির বাবা এসে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারে।

এবার সে তা-ই করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ছাদ থেকে পড়ে সে মা*রা যায়। তারপর বেরিয়ে এসে মেয়েটি তাকে একটি কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে রাখে। তার পিতা ঘরে ফিরলে সে তাকে সব খুলে বলে। অতঃপর রাতের অন্ধ'কারে শহরের গলিতে ফেলে দেওয়া হয় সালেহ মুয়াজ্জিনের লা*শ। পরদিন সকালে ঘটনা জানাজানি হলে,সালেহের জায়গা হয় ময়লার স্তূপে!”

কুদৃষ্টির ফলাফল কতটা ভয়ংকর হতে পারে তার উপমা এই ঘটনাটি। বর্ণনা করেছেন আল্লামা ইবনুল জাওযি রাহিমাহুল্লাহ।

(জাম্মুল হাওয়া, পৃষ্ঠা ৪০৯)
বইঃ নজরের হেফাজত, পৃষ্ঠা ৫৫-৫৬।

আসলে মৃ*ত্যু'র আগে কেউই ফিতনামুক্ত নয়! সারাজীবন হকের পথে থেকে, মৃ*ত্যু'র আগে ঈমান হারিয়ে মৃ'ত্যু'বরণ করার মতো ভয়ানক আর কি হতে পারে! আল্লাহুম্মাগফিরলি!

হিদায়াত এমন এক জিনিস, হতেও পারে আপনি সারাজীবন আপনি সারাজীবন নেককার ছিলেন, কিন্তু মৃ'ত্যু'র আগে এমন একটা কাজ করে ঈমানহারা হয়ে মৃ'ত্যু'বরণ করলেন! আল্লাহ মাফ করুন।।।


❙ ঘটনা - ২ ❙

বারসিসার ঘটনাটাও ঠিক এমনই......।।

বারসিসা ছিল খুব ইবাদাত গুজার লোক।

যু*দ্ধে যাবার আগে তিন ভাই তাদের একমাত্র বোনকে বারসিসার জিন্ময় রেখে যেতে চাইলো। প্রথমে না করলেও ভাইদের পীড়াপীড়িতে অবশেষে বারসিসা রাজি হল‌‌। ঠিক হলো বারসিসা থাকবে তার নিজের বাসায়। আর মেয়েটি থাকবে অন্য এক বাসায়। রোজ খাবার তৈরি করে মেয়েটির ঘরের দরজায় রেখে আসতো বারসিসা। কথা বলতো না। কিছুদিন কেটে গেল এভাবে। কিন্তু আস্তে আস্তে বারসিসা শয়'তানের ফাঁদে পা দিল।

শয়তান তাকে বোঝালো এভাবে খাবার দিয়ে চলে আসা তো অভদ্রতা, তাকে ডেকে খাবার দিয়ে আসো। বারসিসা তাই করতে শুরু করল। তারপর শয়তান বলল তার সাথে দুই একটা কথা বল কথা বললে আর কি হবে? সে তাই করলো।

তারপর শয়তান বলল ঘরের মধ্যে বসে একটু কথা বললে আর কি হবে? মেয়েটা সারাদিন একা একা থাকে। বারসিসা শয়তানের কুমন্ত্রণায় সারা দিলো। এভাবে একটু করলে কি হয় থেকে শুরু করে একপর্যায়ে বারসিসা সেই মেয়ের সাথে যি*না করলো‌। মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে সন্তান জন্ম দিল।

ততদিনে ভাইদের ফেরার সময় হয়ে গিয়েছে। বারসিসা প্রচন্ড ভয় পেলো। শায়তান এবার বুদ্ধি দিল ভাইয়েরা যদি এসে এই অবস্থা দেখে তাহলে তোমাকে কঠিন শা*স্তি দেবে। তুমি বরং ঝামেলা মিটিয়ে ফেলো।

শয়তানের পরামর্শে বার্সিসা সেই মেয়ে ও তার সন্তানকে খু*ন করে ক'বর দিল। ভাইয়েরা ফিরলে কান্নাকাটি করে বলল তোমাদের বোন অসুখে মা*রা গেছে। ওইখানে ক'বর দিয়েছে। ভাইয়েরা কান্নাকাটি করে চলে গেল।

কিন্তু রাতে শয়তান গিয়ে স্বপ্নের মাধ্যমে তিন ভাইকে সত্যটা জানিয়ে দিল। পরদিন তিন ভাই মিলে বারসিসার কাছে আসলো। মেয়েটির কবরে তার সন্তানের লা*শ'ও দেখতে পেল। নিশ্চিত হল বারসিসাই তাদের বোনকে হ*ত্যা করেছে। তারা বারসিসাকে মে*রে ফেলা সিদ্ধান্ত নিলো। তারা যখন প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন শয়তান এসে বারসিসাকে বললো তুমি যদি আমাকে সিজদা করো তাহলে আমি তোমাকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করব। বারসিসা তাই করল। তারপর? তারপর শয়তান বারসিসাকে ত্যাগ করলো।

এভাবে একটু কথা বললে কি হয়__একটু তাকালে কি হয়__এই একটু একটুর ফাঁদে পরে বারসিসা জি*না করলো,খু*ন করলো, শি'রক করলো,তারপর তাকে সেই অবস্থায় ম*রতে হলো।

(বই-আকাশের ওপারে আকাশ)

এই ঘটনা দুটিতে দুজনই বড়ো বুজুর্গ ছিলেন!
কিন্তু মৃ'ত্যুর আগে আর ঈমান নিয়ে যেতে পারলেন না, সারাজীবনের এতো আমলের আর দাম থাকলো না!

একদিন মাত্র নজরের হেফাজত না করায় তার এমন নি*র্ম'ম মৃ'ত্যু হলো, আর বারসিসার ঘটনার মতো আমরাও ছোট ছোট গুনাহের ব্যাপারে ছাড় দিয়ে ফেলি ,যা আস্তে আস্তে আমাদের বড় গুনাহের দিকে নিয়ে যায়।

মানুষ আগেই সোজাসুজি হা'রা'ম রিলেশনে পা বাড়ায় না। আগে নজরের খেয়ানত করে, ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকায়, তারপর ভাবে একটু কথা বললে কি হয় , এভাবে একটু একটু করে করে বড় মারাত্মক গুনাহ করে ফেলে।

এভাবে ছোট ছোট গুনাহগুলোই বড় গুনাহের দিকে ঠেলে দেয় , যেভাবে বারসিসাকে ঠেলে দিয়েছে শি'রক এর দিকে , আর সেই অবস্থায় মৃ'ত্যু।

ঈমান ছাড়া তো আমলের কোনোই মূল্য নেই, ঠিকই যেমন প্রাণ ছাড়া দেহের কোনো মূল্য নেই!

ঠিক এইভাবেই হিদায়াত হারিয়ে যায়!

আল্লাহর কাছে এইজন্য আমাদের বেশি বেশি কান্নাকাটি করে দুআ করা উচিত যেন আল্লাহ আর সবকিছু নিয়ে গেলেও হিদায়াতটা না নিয়ে নেন!

হিদায়াতের চাইতে মূল্যবান আর কি হতে পারে?
এজন্য সবসময় এই দুআ করতে যেন না ভুলি,

يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ

অর্থঃ হে অন্তর পরিবর্তনকারি! আমার অন্তর তুমি তোমার দীনে সুদৃঢ় রাখ।

[জামে আত তিরমিজী : ৩৫২২]

এবং,

رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ

অর্থঃ হে আমাদের প্রতিপালক! সরল পথ প্রদর্শনের পর আপনি আমাদের অন্তরকে বক্র করে দিয়েন না এবং আপনার নিকট থেকে আমাদেরকে করুণা দান করুন । নিশ্চয় আপনি মহাদাতা।

(সূরাহ আলে ইমরানঃ আয়াত ৮)।

ইয়া রব্ব, আপনি আমাদের মৃ'ত্যু পর্যন্ত বা'তি'লের বি'রু!দ্ধে আপোসহীন থাকার এবং দৃঢ়চিত্তে হ'কের পথে ঈমানের সাথে থাকার তাওফিক দিন, ঈমানের সাথে শা*হা*দা!তের মৃ'ত্যু দিন।

আমীন।

লেখা : Samiha Bint AH

15/10/2024

বিশ্বের মানবতার ফেরিওয়ালা রা কোথায়?

15/10/2024

*আমলে সালেহ*

ফজরের সুন্নাতে প্রথম রাকাতে _সুরাতুল কাফিরূন_ , দ্বিতীয় রাকাতে _সুরাতুল ইখলাস_ পড়া সুন্নত।
সন্তানকে, শাগরিদকে নিয়মিত মনে করিয়ে দিবো।
নিজেও আমল করব।

ইন শা আল্লাহ।
ওয়াফফাকানাল্লাহ।
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

~শায়েখ আতিক উল্লাহ হাফি.

15/10/2024

ফিলিস্তিনে জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, দুনিয়া আছে তাদের আনন্দ-উল্লাস নিয়ে।
অহ আমার তো কিছু হয়নি! আমি চুপ থাকি?

এটলিস্ট দু'আ তো করতে পারি রবের নিকটে?

12/10/2024

বিয়ে একটি ইবাদত 💚

10/10/2024

আদ্দাইয়ান ইবন কুত্বন আল-হারেসী তার মেয়েকে উপদেশ দেন,

“মেয়ে আমার!
তোমার গলার আওয়াজ যেন তোমার স্বামীর আওয়াজের চাইতে উঁচু না হয়।
তোমার আদেশ যেন তার আদেশের উপরে না থাকে।
জেনে রাখো— সম্মানিতা নারী তারাই, যারা (স্বামীর কাছে) পরাজিত, বিজয়ীরা নয়।
সে যদি তোমকে অল্প কিছু দেয়, সেটাকে তুমি বেশি মনে করো, তুচ্ছজ্ঞান করো না।
সে যদি তোমার জন্য বেশি বেশি করে, তাহলে কৃতজ্ঞতা পোষণ করো, বড়াই করো না।
তার কোনো স্বভাব তোমার কাছে খারাপ মনে হলে তার প্রতি সদয় হবে।
জেনে রাখো— অভাবগ্রস্ত হলেও যে মানুষটা দানশীল, সে দশজন কৃপণ ধনী থেকে উত্তম।

[ইবনুদ্দাজ্জাজীর ”সাফাত্বুল মুলাহ ওয়া-যাওহুত তারাহ”: ১/৫৭]

08/10/2024

সদ্য বিবাহিত মেয়েকে মায়ের দেওয়া নসিহা।

কিছু নসীহা বলছি, খুব হৃদয় দিয়ে শুনবে। খুব মনে রাখবে। সবসময়ই পালন করবে।

"যেমন পানি দিয়ে সকল অপবিত্রতা পরিচ্ছন্ন করা যায়; ঠিক তেমনি চোখজলে স্বামী হৃদয়ের সব অভিমান ধুয়ে মুছে যায়। "

"স্ত্রীর মুখের খুন করা হাসিটাকেই স্বামীরা বড্ড বেশি ভালোবাসে। এটাকে খুব করে অনুভব করে।"

"স্ত্রী যখন স্বামীকে তার জীবনের অস্তিত্ব রূপে গ্রহণ করবে ; স্বামীও তাকে হৃদয় রাজ্যে রাণী করে রাখবে।"

মা!

মনে রাখবে তোমার শাশুড়ী এতটা বছর এই সংসারটা আগলে রাখছেন। তার সহযোগী হয়ে যেয়ো। সংসারটা নিজের করতলে আনা বাহাদুরি না। যখন সংসারে তোমার কদর বাড়বে, তোমার যোগ্যতা প্রমাণিত হবে, আপনা আপনি এই সংসারের কর্তৃত্ব তোমার হাতে চলে আসবে। কখনও তাদের সন্তানকে তাদের থেকে পৃথক করো না। করতে যেয়ো না। আজ যেই মানুষটাকে তুমি তাদের থেকে পৃথক করবে ভাবছো, তাকে তারাই আদর-সোহাগ দিয়ে এতো বড় করেছে। প্রতিটি বিপদে তারাই পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদেরকে তাদের থেকে পৃথক না করে তুমিও তাদের সন্তান হয়ে যেয়ো। দুজন মিলে তাদের খেদমত করো। তবেই দুআ পাবে, তোমাদেরও নেক সন্তান মিলবে। মনে রাখবে আজ তুমি তাদের সাথে যেমন আচরণ করবে, তোমার সন্তানরাও তোমার সাথে এমন আচরণ করবে।

আমার দুআ সবসময়ই তোমার সাথে আছে। তোমার আচরণের মাধ্যমে তোমার শ্বশুর বাড়িতে তোমার বাবার সম্মান বাড়বে। তোমার বংশের গৌরব বৃদ্ধি পাবে।

আমার বিশ্বাস শ্বশুরের মাঝে তোমার বাবাকে খুঁজবে। শাশুড়ীর আঁচল তলে মায়ের ভালোবাসা আগলে নিবে।

বই- প্রিয়তম
লেখা- আদিব সালেহ।

Photos from Muslim Aath's post 07/10/2024

পুরুষ এবং নারীদের মাহরাম- নন মাহরাম চার্ট!

Want your school to be the top-listed School/college in Rangpur?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Rangpur
5400