Walid Education Academy

Walid Education Academy

Share

Thanks for Viewing this Islamic Page. Any Kind of Islamic Post are Published Here Regularly. So Dear Friends Like This Page and Share This Page.

12/04/2023

Ai|coustics Features,

Ai|coustics is an audio enhancement tool that uses deep learning techniques to remove recording or transmission artifacts such as background noise, room resonances, low-quality microphones, codec compression and more. Key features and advantages include:

Automatic audio enhancement: ai|coustics automatically removes artifacts and enhances audio quality and intelligibility.
Versatility: ai|coustics can be used with a variety of audio recordings from different use cases.
Time-saving: ai|coustics saves time by eliminating the need for manual audio editing.
Improved user experience: Enhanced audio quality leads to a better user experience for listeners.
Cost-effective: ai|coustics is a cost-effective solution for audio enhancement.

Use cases for ai|coustics involve a variety of audio-related activities such as:

Improving audio quality for podcasts, webinars, and online courses
Enhancing audio for video recordings and live streams
Improving audio quality for phone and conference calls

Our AI Speech Enhancement Technology uses advanced algorithms to improve the clarity and quality of spoken words. With ai|coustics, we don't just suppress ...

12/04/2023

CourseAI Features

CourseAI is an AI-powered authoring tool designed to make creating online courses effortlessly. Key features and advantages include:

Magical-feeling features that delight learners and make course creation a breeze for the author
Seamless scaling across all devices
Best-in-class quality of service learning analytics to optimize teaching for those who already have their own platform
Seamless integration with other systems to allow for easy adoption of CourseAI into existing e-learning frameworks
Developed by ScormHero, experts in e-learning, to create a next-generation platform
Offers unparalleled flexibility in design and a wide range of features that enhance the learning experience for students

Use cases for CourseAI involve improving the course creation process for educators, regardless of their levels of technical expertise, and enhancing the learning experience for students. The tool is currently in beta and available for use in English language.

11/04/2023

Transform your sketch into a photorealistic image,Convert Your Sketch into a Photorealistic Image with Ease,sketch image,draw3d online,draw3d.online,
Convert Your Sketch into a Photorealistic Image,Sketch,Photorealistic Image,Convert image,draw3d tutorial,draw3d draw3d.online,draw3d tutorials bangla,draw3d online tutorial,draw3d.online tutorial,draw3d.online tutorials

Upload a drawing and our tool will automatically convert the drawing to a photorealistic image.
Convert Your Sketch into a Photorealistic Image with Ease
Draw3D Features
Draw3D is a powerful software program designed to help artists and designers transform their sketches into photorealistic artwork. Key features and advantages include:

Easy transformation: Quickly and easily transform sketches into photorealistic artwork
User-friendly interface: Simple and intuitive interface for easy navigation and use
Versatile application: Suitable for artists, designers, and anyone who loves to create
Enhanced creativity: Helps users take their sketches to the next level and bring their ideas to life
Use cases for Draw3D involve various creative pursuits:

Enhance artwork and designs with photorealistic elements
Create stunning visualizations of architectural designs and concepts
Bring characters and creatures to life in 3D animation
Visualize product designs and prototypes in a realistic manner

11/04/2023

MemeCam Features
MemeCam is an innovative app that uses GPT 3.5 to generate memes from your camera. With just a photo, the AI does all the work, making it easy for users to create hilarious memes on the go. Key features and advantages of MemeCam include:

Effortless meme creation: Simply take a photo and let the AI generate a meme for you
GPT 3.5 technology: The app uses advanced AI technology to create high-quality memes
Customization options: Users can customize their memes with text, emojis, and more
Shareability: MemeCam makes it easy to share your creations on social media and messaging apps
Use cases for MemeCam include:

Creating memes for personal entertainment and social media sharing
Generating memes for marketing campaigns and social media promotion
Creating memes for educational purposes, such as in classrooms or online courses

11/04/2023

Title
Free Online Plagiarism Checker-Plagiarism Checker by ContentDetector

Tags
ContentDetector,ContentDetector Plagiarism checker,free ai tools,ai tools,Plagiarism checker,plagiarism checker free,Online Plagiarism Checker,Instant Plagiarism Analysis,Free Plagiarism Checker,Free Grammar Checker,Plagiarism Checker Free,100% Free Plagiarism Detector Online,100% Free to Check Plagiarism Online,Check Plagiarism: Free Online Plagiarism Checker,Most Authentic Plagiarism Detector,Plagiarism Checker by ContentDetector,Free Plagiarism Checker Online for Students,CHATGPT-র লেখা আর্টিকেলের Plagiarism বের করুন মুহূর্তের মধ্যে

Des
ContentDetector.AI is a free online tool for identifying AI-generated content. Key features and advantages include:

Advanced algorithms: Analyze text and provide an estimated percentage score based on the likelihood that it was generated by AI tools or software
Word Counting: Count words in the text, making it a versatile tool for bloggers, academics, and writers alike
Plagiarism detection: Detect any article containing AI-generated content, ensuring the originality and authenticity of written content
Completely free: Accessible to everyone, making it a go-to tool for bloggers, students, or professional writers
Easy to use: Simply copy and paste your text into the text field, and let the AI-powered platform do the rest
Use cases for ContentDetector.AI involve identifying AI-generated content for various purposes, including:

Ensuring the originality and authenticity of written content for bloggers, students, or professional writers
Detecting AI-generated content for academic research purposes
Identifying AI-generated content for journalistic investigations

Photos from Walid Education Academy's post 22/10/2021

১৪০০ বছর পূর্বে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভবিষ্যৎ বাণী সত্য প্রমাণিত হলো।
(বুখারী শরীফ 7562)
দয়া করে কেউ খারাপ মন্তব্য করবেন না
বিশ্বাস না হলে বুখারী শরীফ খুলে দেখতে পারেন

15/10/2021

তাফসির ইবনে কাসিরঃ
তোমাদের পথ ও পন্থা তোমাদের জন্য (সে পথে চলার পরিণতি তোমাদেরকেই ভোগ করতে হবে) আর আমার জন্য আমার পথ (যে সত্য পথে চলার জন্য আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, এ পথ ছেড়ে আমি অন্য কোন পথ গ্রহণ করতে মোটেই প্রস্তুত নই)। সহীহ মুসলিমে হযরত জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)। তাওয়াফের পর দুই রাকআত নামাযে এই সূরা এবং (আরবি) সূরা পাঠ করতেন। সহীহ মুসলিমেই হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) ফজরের দুই রাকআত সুন্নত নামাযেও এ সূরা দুটি পাঠ করতেন। মুসনাদে আহমদে হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) ফজরের পূর্বের দুই রাকআতে এবং মাগিরিবের পরের দুই রাকআ’তে (আরবি) এই সূরা দুইটি বিশেরও অধিকবার অথবা দশেরও অধিকবার পাঠ করতেন। মুসনাদে আহমদে হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “আমি ফজরের দুই রাকআত সুন্নাত নামাযে এবং মাগরিবের দুই রাকআত সুন্নাত নামাযে রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে (আরবি) এবং এই সূরা দুটি চব্বিশ বার অথবা পঁচিশবার পড়তে দেখেছি। মুসনাদে আহমদেরই অন্য এক রিওয়াইয়াতে হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে এক মাস ধরে ফজরের পূর্বের দুই রাকআত নামাযে এবং মাগরিবের পরের দুই রাকআতে নামাযে (আরবি) এ সূরা দু'টি পাঠ করতে দেখেছেন। (এ হাদীসটি জামে তিরমিযী, সুনানে ইবনে মাজাহ এবং সুনানে নাসায়ীতেও রয়েছে। ইমাম তিরমিযী (রঃ) এটাকে হাসান বলেছেন) এই সূরাটি যে কুরআনের এক চতুর্থাংশের সমতুল্য এ বর্ণনাটি ইতিপূর্বে গত হয়েছে। (আরবি) সূরাটিও একই বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। মুসনাদে আহমদে হযরত নওফিল ইবনে মুআবিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে (তাঁর পিতাকে) রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “যয়নব (রাঃ) কে তুমি তোমার কাছে নিয়ে প্রতিপালন কর।” নওফিলের (রাঃ) পিতা এক সময়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট আগমন করলে তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “মেয়েটি সম্পর্কে তুমি কি করেছো?” উত্তরে তিনি বললেনঃ “আমি তাকে তার মায়ের কাছে রেখে এসেছি।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “কেন রেখে এসেছো?” তিনি (নওফিল (রাঃ)-এর পিতা মুআবিয়া উত্তরে বললেনঃ “শয়নের পূর্বে পড়ার জন্যে আপনার কাছে কিছু ওয়াযীফা শিখতে এসেছি।” রাসূলুল্লাহ তখন বললেনঃ (আরবি) পাঠ করো, এতে শিরক থেকে মুক্তি লাভ করা যাবে।" হযরত জিবিল্লাহ ইবনে হা'রিসাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম (সঃ) বলেছেনঃ “যখন তুমি বিছানায় শয়ন করতে যাবে তখন। সূরাটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করবে। কেননা, এটা হলো শিরক হতে মুক্তি লাভের উপায়।” (এ হাদীসটি ইমাম আবুল কাসিম তিবরানী (রঃ) বর্ণনা করেছেন) আবদুর রহমান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন বিছানায় শয়ন করতে যেতেন তখন (আরবি) সূরাটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করতেন। (এ হাদীসটিও ইমাম তিবরানী (রঃ) বর্ণনা করেছেন) হযরত হারিস ইবনে জিবিল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেনঃ “আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যা আমি ঘুমোবার সময় পাঠ করবো।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “যখন তুমি বিছানায় ঘুমোতে যাবে তখন (আরবি) পাঠ করবে। কেননা, এটা শিরক হতে মুক্তি লাভের উপায়।" (এ হাদীসটি ইমাম আহমদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন) ১-৬ নং আয়াতের তাফসীর এই মুবারক সূরায় আল্লাহ তা'আলা মুশরিকদের আমলের প্রতি তাঁর অসন্তুষ্টির কথা ঘোষণা করেছেন এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁরই ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এখানে মক্কার কুরায়েশদেরকে সম্বোধন করা হলেও পৃথিবীর সমস্ত কাফিরকে এই সম্বোধনের আওতায় আনা হয়েছে। এই সূরার শানে নুযূল এই যে, কাফিররা রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে বললোঃ “এক বছর আপনি আমাদের মাবুদ প্রতিমাগুলোর ইবাদত করুন, পরবর্তী বছর আমরাও এক আল্লাহর ইবাদত করবো।” তাদের এই প্রস্তাবের জবাবে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা এ সূরা নাযিল করেন। আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবী (সঃ) কে আদেশ করছেনঃ তুমি বলে দাওঃ হে কাফিরগণ! না আমি তোমাদের উপাস্যদের উপাসনা করি, না তোমরা আমার মাবুদের উপাসনা কর। আর না আমি তোমাদের উপাস্যদেরকে উপাসনা করবো, তোমরা আমার মাবুদের উপাসনা করবে। অর্থাৎ আমি শুধু আমার মায়ূদের পছন্দনীয় পদ্ধতি অনুযায়ী তাঁরই উপাসনা করবো, তোমাদের পদ্ধতি তো তোমরা নির্ধারণ করে নিয়েছে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ তারা শুধু মনগড়া বিশ্বাস এবং খাহেশাতে নাফসানী বা কুপ্রবৃত্তির পিছনে পড়ে রয়েছে, অথচ তাদের কাছে তাদের প্রতিপালকের হিদায়াত বা পথ। নির্দেশ পৌছে গেছে।” (৫৩:২৩) অতএব, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদের সংস্পর্শ হতে নিজেকে সর্বপ্রকারে মুক্ত করে নিয়েছেন এবং তাদের উপাসনা পদ্ধতি ও উপাস্যদের প্রতি সর্বাত্মক অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। লক্ষ্যণীয় যে, প্রত্যেক ইবাদতকারীরই মাবুদ বা উপাস্য থাকবে এবং উপাসনার পদ্ধতি থাকবে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) এবং তাঁর উম্মত শুধু আল্লাহ তা'আলারই ইবাদত বা উপাসনা করেন। নবী করীমের (সঃ) অনুসারীরা তাঁরই শিক্ষা অনুযায়ী ইবাদত করে থাকে। এ কারণেই ঈমানের মূলমন্ত্র হলোঃ , (আরবি) অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই। এবং মুহাম্মদ (সঃ) তাঁর রাসূল।” পক্ষান্তরে কাফির মুশরিকদের উপাস্য বা মাবুদ আল্লাহ ছাড়া ভিন্ন, তাদের উপাসনার পদ্ধতিও ভিন্ন ধরনের। আল্লাহর নির্দেশিত পদ্ধতির সাথে তাদের কোনই সম্পর্ক নেই। এজন্যেই আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ) কে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তিনি যেন কাফিরদেরকে জানিয়ে দেনঃ তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীন এবং আমার জন্যে আমার দ্বীন। যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “হে নবী (সঃ) যদি তারা তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তবে তাদেরকে বলে দাওঃ আমার আমল আমার জন্যে এবং তোমাদের আমল তোমাদের জন্যে, আমি যে আমল করি তা হতে তোমরা মুক্ত এবং তোমরা যে আমল কর তা হতে ক্ত।” (১০:৪১) আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা আরো বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “আমাদের কর্ম আমাদের জন্যে এবং তোমাদের কর্ম তোমাদের জন্যে।” (৪২:১৫) অর্থাৎ আমাদের কর্মের জন্যে তোমাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে না এবং তোমাদের কর্মের জন্যে আমাদেরকেও জবাবদিহি করতে হবে না। সহীহ বুখারীতে এ আয়াতের তাফসীরে লিখা হয়েছেঃ তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীন অর্থাৎ কুফর, আর আমার জন্যে আমার দ্বীন অর্থাৎ ইসলাম। আয়াতের শব্দ হলো (আরবি) কিন্তু অন্যান্য আয়াতে যেহেতু এর উপর ওয়াকফ হয়েছে সেই হেতু এখানেও (আরবি) কে উহ্য রাখা হয়েছে। যেমন (আরবি) এবং (আরবি) এর মধ্যে (আরবি) কে উহ্য রাখা হয়েছে। কোন কোন তাফসীরকারের মতে এ আয়াতের অর্থ হলোঃ আমি তোমাদের বর্তমান উপাস্যদের উপাসনা করি না, ভবিষ্যতের জন্যেও তোমাদেরকে হতাশ করছি যে, সমগ্র জীবনে ঐ কুফরী আমার (নবী (সঃ)-এর) দ্বারা কখনো সম্ভব হবে না। একইভাবে তোমরা আমার প্রতিপালকের ইবাদত বর্তমানেও কর না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। এখানে ঐ সব কাফিরকে বুঝানো হয়েছে যাদের ঈমান আনয়ন না করার ব্যাপার আল্লাহ তা'আলার জানা রয়েছে। যেমন অন্যত্র রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “তোমার প্রতি যা কিছু অবতীর্ণ করা হয় ঐ ব্যাপারে তাদের অধিকাংশ হঠকারিতা ও কুফরীতে লিপ্ত হয়।" (৫:৬৮) কোন কোন আরবী সাহিত্য বিশারদ হতে ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) উদ্ধৃত করেছেন যে, একটি বাক্যকে দু’বার গুরুত্ব আরোপের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন অন্য জায়গায় আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “কষ্টের সাথেই তো স্বস্তি আছে, অবশ্য কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।” আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তোমরা তো জাহান্নাম দেখবেই, আবার বলি তোমরা তো ওটা দেখবেই চাক্ষুষ প্রত্যক্ষে। আলোচ্য সূরায় একই রকম বাক্য দু'বার ব্যবহারের তিনটি কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথমতঃ প্রথম বাক্যে উপাস্য এবং দ্বিতীয় বাক্যে ইবাদত বা উপাসনার পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয়তঃ প্রথম বাক্যে বর্তমান এবং দ্বিতীয় বাক্যে ভবিষ্যৎ বুঝানো হয়েছে। তৃতীয়তঃ প্রথম বাক্যের তাগীদের জন্যেই দ্বিতীয় বাক্যের অবতারণা করা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে যে, এখানে চতুর্থ একটি কারণ আবু অব্বিাস ইবনে তাইমিয়া (রঃ) তার কোন এক কিতাবে উল্লেখ। করেছেন। তিনি বলেনঃ আরবী ব্যাকরণের পরিভাষায় প্রথম বাক্য জুমলায়ে ফেলিয়া এবং দ্বিতীয় বাক্য জুমলায়ে ইসমিয়া অর্থাৎ আমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করি না, আমার নিকট হতে অনুরূপ কোন আশাও কেউ করতে পারে না। এ উক্তিটিও ভালো বলেই মনে হয়। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে ভাল জানেন। ইমাম শাফিয়ী (রঃ) এ আয়াত থেকেই দলীল গ্রহণ করেছেন যে, কাফিররা। সবাই এক জাতি। এ কারণে ইয়াহূদীরা খৃস্টানদের এবং খৃস্টানরা ইয়াহূদীদের উত্তরাধিকারী হতে পারে। উভয়ের মধ্যে বংশগত ও কার্যকরণ গত সামঞ্জস্য ও অংশীদারিত্ব রয়েছে। এ কারণে ইসলাম ছাড়া কুফরীর যতগুলো পথ রয়েছে, বাতিল হিসেবে সবই এক ও অভিন্ন। ইমাম আহমদ (রঃ) এবং তাঁর অনুসারীদের মাযহাব এর বিপরীত। তাঁরা বলেন যে, ইয়াহূদীরা খৃষ্টানদের বা খৃষ্টানরা ইয়াহূদীদের উত্তরাধিকারী হতে পারবে না, কেননা, হাদীসে রয়েছে যে, দুটি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী একে অন্যের অংশীদার ও উত্তরাধিকারী হতে পারে না।
তাফসীর আহসানুল বায়ানঃ
তোমাদের দ্বীন (শিরক) তোমাদের জন্য এবং আমার দ্বীন (ইসলাম) আমার জন্য। [১] [১] অর্থাৎ, যদি তোমরা তোমাদের দ্বীন নিয়ে সন্তুষ্ট থাক এবং তা ত্যাগ করতে রাজী না হও, তাহলে আমিও নিজের দ্বীন নিয়ে সন্তুষ্ট, তা কেন ত্যাগ করব? (لَناَ أَعْمَالُناَ وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ) অর্থাৎ, আমাদের কর্ম আমাদের এবং তোমাদের কর্ম তোমাদের জন্য। (আল ক্বাস্বাস ৫৫ আয়াত) (তাছাড়া তোমাদের কর্ম ভ্রষ্ট এবং আমার কর্ম শ্রেষ্ঠ। আর অন্যায়ের সাথে কোন আপোস নেই।)
তাফসীর আবু বকর জাকারিয়াঃ
‘তোমাদের দ্বীন তোমাদের, আর আমার দ্বীন আমার [১]।’ [১] এর তাফসীর প্রসঙ্গে ইবনে-কাসীর বলেন, এ বাক্যটি তেমনি যেমন অন্য আয়াতে আছে, (আরবি) “আর তারা যদি আপনার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তবে আপনি বলবেন, ‘আমার কাজের দায়িত্ব আমার এবং তোমাদের কাজের দায়িত্ব তোমাদের।” [সূরা ইউনুস: ৪১] অন্য আয়াতে এসেছে, (আরবি) “আমাদের কাজের ফল আমাদের জন্য এবং তোমাদের কাজের ফল তোমাদের জন্য”। [সূরা আল-কাসাস:৫৫, আশ-শুরা:১৫]। এর সারমর্ম এই যে, ইবনে-কাসীর (আরবি) শব্দকে দ্বীনী ক্রিয়াকর্মের অর্থে নিয়েছেন। যার অর্থ, প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্মের প্রতিদান ও শাস্তি ভোগ করতে হবে। অর্থাৎ আমার দ্বীন আলাদা এবং তোমাদের দ্বীন আলাদা। আমি তোমাদের মাবুদদের পূজা-উপাসনা-বন্দেগী করিনা এবং তোমরাও আমার মাবুদের পূজা-উপাসনা করো না। আমি তোমাদের মাবুদের বন্দেগী করতে পারি না এবং তোমরা আমার মাবুদের বন্দেগী করতে প্রস্তুত নও। তাই আমার ও তোমাদের পথ কখনো এক হতে পারে না। বর্তমান কালের কোন কোন জ্ঞান পাপী মনে করে থাকে যে, এখানে কাফেরদেরকে তাদের দ্বীনের উপর থাকার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। তারা এটাকে ইসলামের উদারনীতির প্রমাণ হিসেবে পেশ করে থাকেন। নিঃসন্দেহে ইসলাম উদার। ইসলাম কাউকে অযথা হত্যা বা ক্ষতিগ্রস্ত করতে অনুমতি দেয় না। কিন্তু তাই বলে তাদেরকে কুফরী থেকে মুক্তি দিতে তাদের মধ্যে দাওয়াত ও দ্বীনের প্রচার-প্রসার ঘটানো থেকে বিরত থাকতে বলেনি। ইসলাম চায় প্রত্যেকটি কাফের ও মুশরিক ইসলামের ছায়াতলে এসে শান্তির বার্তা গ্ৰহণ করুক। আর এ জন্য ইসলাম প্রজ্ঞা, উত্তম উপদেশ বাণী, উত্তম পদ্ধতিতে তর্ক-বিতর্ক ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহ্‌র পথে আহ্বান করাকে প্রত্যেক মুসলিমের অবশ্য করণীয় বিষয় হিসেবে ঘোষণা করেছে। [দেখুন, সূরা আন-নাহল:১২৫] মূলত: এ সমস্ত জ্ঞানপাপীরা এ বিষয়টিকেই সহ্য করতে চায় না। তারা এখানে আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য করে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নামক কুফৱী মতবাদকে জায়েয প্রমাণ করা। এটা নিঃসন্দেহে ঈমান আনার পরে কুফরী করার শামিল, যা মূলত কাফেরদের প্রতি উদারনীতি নয় বরং তারা কাফের থাকা অবস্থায় চিরকালের জন্য তাদের ব্যাপারে দায়মুক্তি, সম্পর্কহীনতা ও অসন্তোষের ঘোষণাবাণী। আর এ সূরায় কাফেরদের দ্বীনের কোন প্রকার স্বীকৃতিও দেয়া হয়নি। মূলত আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের প্রতি যারা ঈমান এনেছে তারা দ্বীনের ব্যাপারে কখনো তাদের সাথে সমঝোতা করবে না- এ ব্যাপারে তাদেরকে সর্বশেষ ও চূড়ান্তভাবে নিরাশ করে দেয়া; আর তাদের সাথে সম্পর্কহীনতার ঘোষণাই এ সূরার উদ্দেশ্য। এ সূরার পরে নাযিল হওয়া কয়েকটি মক্কী সূরাতে কাফেরদের সাথে এ দায়মুক্তি, সম্পর্কহীনতা ও অসন্তোষ প্রকাশের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, “হে নবী! বলে দিন হে লোকেরা, যদি তোমরা আমার দ্বীনের ব্যাপারে (এখানে) কোন রকম সন্দেহের মধ্যে থাকো তাহলে (শুনে রাখো), আল্লাহ্‌ ছাড়া তোমরা যাদের বন্দেগী করছো আমি তাদের বন্দেগী করি না বরং আমি শুধুমাত্র সেই আল্লাহ্‌র বন্দেগী করি যার কর্তৃত্বাধীনে রয়েছে তোমাদের মৃত্যু।” [সূরা ইউনুস: ১০৪] অন্য সূরায় আল্লাহ্‌ আরও বলেন, “হে নবী! যদি এরা এখন আপনার কথা না মানে তা হলে বলে দিন, তোমরা যা কিছু করেছো তা থেকে আমি দায়মুক্ত”। [সূরা আশ-শু‘আরা: ২১৬] অন্যত্র বলা হয়েছে, “এদেরকে বলুন, আমাদের ত্রুটির জন্য তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না এবং তোমরা যা কিছু করে যাচ্ছো সে জন্য আমাদের জবাবদিহি করতে হবে না। বলুন, আমাদের রব একই সময় আমাদের ও তোমাদের একত্র করবেন এবং আমাদের মধ্যে ঠিকমতো ফায়সালা করবেন।” [সূরা সাবা:২৫-২৬] অন্য সূরায় এসেছে, “এদেরকে বলুন হে আমার জাতির লোকেরা তোমরা নিজেদের জায়গায় কাজ করে যাও। আমি আমার কাজ করে যেতে থাকবো। শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে কার ওপর আসছে লাঞ্ছনাকর আযাব এবং কে এমন শাস্তি লাভ করছে যা অটল।” [সূরা আয-যুমার:৩৯৪০]। আবার মদীনা তাইয়েবার সমস্ত মুসলিমকেও এই একই শিক্ষা দেয়া হয়। তাদেরকে বলা হয়েছে, “তোমাদের জন্য ইবরাহীম ও তার সাথীদের মধ্যে রয়েছে একটি উত্তম আদর্শ। (সেটি হচ্ছে) তারা নিজেদের জাতিকে পরিষ্কার বলে দিয়েছে, আমরা তোমাদের থেকে ও তোমরা আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে যেসব মাবুদদের পূজা করো তাদের থেকে পুরোপুরি সম্পর্কহীন। আমরা তোমাদের কুফৱী করি ও অস্বীকৃতি জানাই এবং যতক্ষণ তোমরা এক আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান না আনো ততক্ষণ আমাদের ও তোমাদের মধ্যে চিরকালীন শক্ৰতা সৃষ্টি হয়ে গেছে।” [সূরা আল-মুমতাহিনাহঃ ৪] কুরআন মজীদের একের পর এক এসব সুস্পষ্ট বক্তব্যের পর তোমরা তোমাদের ধর্ম মেনে চলো এবং আমাকে আমার ধর্ম মেনে চলতে দাও-“লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়াদীন” এর এ ধরনের কোন অর্থের অবকাশই থাকে না। বরং সূরা আয-যুমার এ যে কথা বলা হয়েছে, একে ঠিক সেই পর্যায়ে রাখা যায় যেখানে বলা হয়েছেঃ “হে নবী! এদেরকে বলে দিন, আমি তো আমার দ্বীনকে একমাত্ৰ আল্লাহ্‌র জন্য নির্ধারিত করে তাঁরই ইবাদাত করবো। তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে যার যার বন্দেগী করতে চাও করতে থাক না কেন।”[১৪] । সুতরাং এটাই এ আয়াতের মূল ভাষ্য যে, এখানে কাফেরদের সাথে সম্পর্কচ্যুতি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এটাও লক্ষণীয় যে, পবিত্র কুরআনে একথাও আছে, “কাফেররা সন্ধি করতে চাইলে তোমরাও সন্ধিকর।” [সূরা আল-আনফাল:৬১] তাছাড়া মদীনায় হিজরত করার পর রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- তার ও ইয়াহূদীদের সাথে শান্তিচুক্তি সম্পাদন করেছিলেন। তাই সম্পর্কচ্যুতির অর্থ এ নয় যে, তাদের সাথে প্রয়োজনে সন্ধিচুক্তি করা যাবে না। মূলত সন্ধির বৈধতা ও অবৈধতার আসল কারণ হচ্ছে স্থান-কাল-পাত্র এবং সন্ধির শর্তাবলি। এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ফয়সালা দিতে গিয়ে বলেছেন- “সে সন্ধি অবৈধ, যা কোন হারামকে হালাল কিংবা হালালকে হারাম করে।” [আবু দাউদ: ৩৫৯৪, তিরমিয়ী: ১৩৫২, ইবনে মাজাহ:২৫৫৩] ইয়াহূদীদের সাথে সম্পাদিত চুক্তিতে ইসলামের মূলনীতিবিরুদ্ধ কোন বিষয় ছিল না। উদারতা, সদ্ব্যবহার ও শান্তি অন্বেষায় ইসলামের সাথে কোন ধর্মের তুলনা হয় না। কিন্তু এরূপ শান্তি চুক্তি মানবিক অধিকারের ব্যাপারে হয়ে থাকে- আল্লাহ্‌ তা‘আলার আইন ও দ্বীনের মূলনীতিতে কোন প্রকার দরকষাকষির অবকাশ নেই। [দেখুন, ইবন্‌ তাইমিয়্যাহ্‌, আল-জাওয়াবুস সহীহ, ৩/৫৯-৬২; ইবনুল কাইয়্যিম, বাদায়ি‘উল ফাওয়ায়িদ, ১/২৪৬-২৪৭]
তাফসির ফাথহুল মাজীদঃ
নামকরণ ও গুরুত্ব: الكافرون শব্দটি كافر এর বহুবচন। অর্থ : কাফিররা, কাফির-দল। প্রথম আয়াতে উল্লিখিত শব্দ থেকেই উক্ত নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছে। জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাওয়াফ শেষে দু’রাকাত সালাতে সূরা কাফিরূন ও সূরা ইখলাস পড়তেন। (সহীহ মুসলিম, কিতাবুল হজ্জ হা. ১৪৮) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ফজরের দুরাকাত সুন্নাতে এ সূরাদ্বয় পড়তেন। (সহীহ মুসলিম, আবূ দাঊদ হা. ১২৫৬) মাগরীবের পর দুরাকাত সুন্নাত সালাতে এ দুটি সূরা পড়ার কথাও বর্ণিত হয়েছে। (আহমাদ হা. ৪৭৬৩, সনদ সহীহ)। এছাড়া তিন রাকাতবিশিষ্ট বিতর সালাতের শেষের দু রাকাতে এ সূরাদ্বয় পাঠ করতেন। ফারওয়া বিন নাওফেল আল-আশআরী (রাঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করে বলেন : হে আল্লাহ তা‘আলার রাসূল (সাঃ)! যখন আমি বিছানায় ঘুমাতে যাব তখন কী বলব তা আমাকে শিক্ষা দিন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন : তুমি সূরা কাফিরূন পড় এবং এর সমাপ্তির উপরেই ঘুমাও, কেননা তা শিরক থেকে সম্পর্ক ছিন্নকারী। (সহীহ, তিরমিযী হা. ৩৪০৩, আবূ দাঊদ হা. ৫০৫৫) ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন : এ সূরাটি হল মুশরিকরা যে-সব কাজ করে তা থেকে বিচ্ছিন্নতা ঘোষণাকারী এবং আল্লাহ তা‘আলার প্রতি একনিষ্ঠতার আদেশ দানকারী সূরা। (ইবনু কাসীর) তাফসীর: এ সূরা কাফির-মুশরিকরা যে-সব আমল করে তা থেকে মুক্ত ঘোষণা করার সূরা এবং এতে ইখলাসের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। الكافرون দ্বারা সব কাফির সমাজ এতে শামিল, সে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, নাস্তিক যাই হোক। যদিও এখানে বিশেষভাবে কুরাইশ কাফিরদের সম্বোধন করে বলা হয়েছে। তারা নাবী (সাঃ)-কে প্রস্তাব দিয়েছিল যে, আপনি এক বছর আমাদের প্রতিমার পূজা করেন আরেক বছর আমরা আপনার মা‘বূদের পূজা করব। তখন এ সূরা নাযিল হয়। (ফাতহুল কাদীর, ইবনু কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর।) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে আল্লাহ তা‘আলা শিখিয়ে দিলেন বলে দাও : তোমরা যে-সব মূর্তি ও বাতিল মা‘বূদের ইবাদত কর আমি তাদের ইবাদত করি না। আর আমি যে মা‘বূদের ইবাদত করি তোমরা সে মা‘বূদের ইবাদত কর না। তোমরা যার বা যাদের ইবাদত কর আমি তাদের থেকে বাহ্যিক ও আভ্যন্তরিণভাবে সম্পূর্ণ মুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন : (‏قُلْ أَفَغَيْرَ اللّٰهِ تَأْمُرُوْنِّيْٓ أَعْبُدُ أَيُّهَا الْجٰهِلُوْنَ بَلِ اللّٰهَ فَاعْبُدْ وَكُنْ مِّنَ الشّٰكِرِيْنَ)‏ “বল : ওহে মূর্খরা! তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করতে বলছ? অতএব তুমি আল্লাহরই ইবাদত কর ও কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হও।” (সূরা যুমার ৩৯ : ৬৪, ৬৬) সুতরাং কখনও মাসজিদে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত আবার কখনও মন্দিরে পূজো ইত্যাদি আচরণ ইসলাম বরদাশত করে না বরং সর্বদা এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন : (اَلَا لِلہِ الدِّیْنُ الْخَالِصُﺚ وَالَّذِیْنَ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِھ۪ٓ اَوْلِیَا۬ئَﺭ مَا نَعْبُدُھُمْ اِلَّا لِیُقَرِّبُوْنَآ اِلَی اللہِ زُلْفٰیﺚ اِنَّ اللہَ یَحْکُمُ بَیْنَھُمْ فِیْمَا ھُمْ فِیْھِ یَخْتَلِفُوْنَﹽ اِنَّ اللہَ لَا یَھْدِیْ مَنْ ھُوَ کٰذِبٌ کَفَّارٌ‏)‏ “জেনে রেখ, দৃঢ় আস্থার সাথে বিশুদ্ধ ‘ইবাদত একমাত্র আল্লাহরই জন্য। আর যারা আল্লাহকে ছেড়ে অপরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করেছে এবং বলে যে, আমরা তো এদের উপাসনা এজন্য করি, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন সে বিষয়ে, যে বিষয়ে তারা নিজেদের মধ্যে দ্বিমত করেছে। আল্লাহ তো তাকে সৎপথে পরিচালিত করেন না, যে মিথ্যাবাদী কাফির।” (সূরা যুমার ৩৯: ৩) (لَآ أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُوْنَ) এ আয়াতটি দ্বিতীয়বার নিয়ে আসার চারটি কারণ বর্ণনা করা হয়েছে: ১. প্রথম বাক্যে মা‘বূদ আর দ্বিতীয় বাক্যে ইবাদতের পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ২. প্রথম বাক্যে বর্তমান আর দ্বিতীয় বাক্যে ভবিষ্যত বুঝানো হয়েছে। এ কথা ইমাম বুখারীও বলেছেন। ৩. প্রথম বাক্যের তাকীদস্বরূপ দ্বিতীয় বাক্যের অবতারণা করা হয়েছে। ৪. আরবি ব্যাকরণ অনুপাতে প্রথম বাক্য ক্রিয়াবাচক আর দ্বিতীয় বাক্য নামবাচক। অর্থাৎ আমি আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করি না এবং আমার নিকট থেকে কেউ এরূপ আশাও করতে পারে না। এ কথাটি ইমাম ইবনু তাইমিয়াহও সমর্থন করেন। (ইবনু কাসীর) আল্লামা শাওকানী (রহঃ) বলেন : এরূপ কষ্টকল্পনার কোন প্রয়োজন নেই। যেহেতু তাকীদের জন্য একই বাক্য পুনরাবৃত্তি আরবি ভাষায় সাধারণ রীতি। এরূপ সূরা মুরসালাতে ও সূরা আর রহমানেও ব্যবহার করা হয়েছে। (তাফসীর ফাতহুল কাদীর, অত্র আয়াতের তাফসীর।) এ আয়াত তাদের জন্য বড় শিক্ষা যারা ইসলামের সাথে অন্য তন্ত্র বা মতবাদকে সমন্বয় করে ইসলামকে মানতে চায়। অপারগতার দোহাই দিয়ে কিছু ক্ষেত্রে ইসলাম মানা আর কিছু ক্ষেত্রে তাগুতকে মানা এটা তৎকালীন মুশরিকদের আচরণ। অতএব তাগুতের সাথে আপোষ করে কোন দিন তাওহীদের ওপর বহাল থাকা যায় না। (لَكُمْ دِيْنُكُمْ وَلِيَ دِيْنِ) এর তাফসীর প্রসঙ্গে ইবনু কাসীর (রহঃ) বলেন: এ বাক্যটি তেমন যেমন অন্য আয়াতে বলা হয়েছে: (وَإِنْ كَذَّبُوْكَ فَقُلْ لِّيْ عَمَلِيْ وَلَكُمْ عَمَلُكُمْ ج أَنْتُمْ بَرِيْ۬ئُوْنَ مِمَّآ أَعْمَلُ وَأَنَا بَرِيْءٌ مِّمَّا تَعْمَلُوْنَ)‏ “এবং তারা যদি তোমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তবে তুমি বল: ‎ ‘আমার কর্ম আমার এবং তোমাদের কর্ম তোমাদের জন্য। আমি যা করি সে বিষয়ে তোমরা দায়মুক্ত এবং তোমরা যা কর‎ সে বিষয়ে আমিও দায়মুক্ত।’ (সূরা ইউনুস ১০: ৪১) সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর আগমনের পর কোন ব্যক্তি ইসলাম মেনে না নিলে সে জাহান্নামে যাক আর যাই হোক সেজন্য রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দায়ী থাকবেন না। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন : এখানে তাদের দীন বলতে মুশরিকদের কুফরীকে বুঝানো হয়েছে আর আমাদের দীন বলতে ইসলামকে বুঝানো হয়েছে। এখানে دِيْنِ বলা হয়েছে ديني বলা হয়নি, কারণ এ সূরার সব কয়টি আয়াত نون বিশিষ্ট, তাই শেষ অক্ষরের ى অক্ষরটি বিলুপ্ত করে দেয়া হয়েছে। যেমন فهو يهدين এ আয়াত থেকে نون বিলুপ্ত করে দেয়া হয়েছে। (সহীহ বুখারী) অত্র আয়াত দ্বারা অনেকে ধর্মনিরপেক্ষতার সুযোগ খুঁজে থাকেন। মূলত এখানে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হয়নি, বরং বলা হয়েছে কাফির-মুশরিকরা যদি ইসলাম মেনে না নেয় তাহলে তাদের ধর্ম তারা পালন করুক, আর তোমরা ইসলামের বিধিবিধান যথাযথভাবে পালন করতে থাক। কাফিররা যেমন তাদের ধর্ম বর্জন করেনি তেমনি তোমরাও ইসলামের কোন বিধি-বিধান লংঘন করবেনা। সুতরাং এ আয়াত এ নির্দেশ দেয় না, কখনও ইসলাম মানব আর প্রয়োজন হলে মন্দিরে যাব আবার অসাম্প্রদায়িকতার দোহাই দিয়ে গীর্জায় যাব। বরং সকল ধর্ম বর্জন করে ইসলাম মেনে চলতে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। এ সূরাগুলো যেমন সূরা ফাতিহা, কদর, কাফিরূন, নাসর, ইখলাস, ফালাক ও নাস এ সাতটি সূরা বিশেষভাবে পাঠ করে চারটি ‘কুল’ সূরার প্রতিটি ১ লক্ষবার পড়ে মৃতের নামে বখশে দেওয়া বিদআত। যাকে এদেশে কুলখানী বলা হয়। এগুলো একশ্রেণির নামধারী ধর্মব্যবসায়ী আলেম তৈরি করেছে যা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সুন্নাহ পরিপন্থী। আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়: ১. কাফির-মুশরিকদের সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত এ সূরা সে শিক্ষাই প্রদান করে। ২. বাতিলের সাথে কখনও আপোষ করা যাবে না। ৩. ‘ধর্ম যার যার, অনুষ্ঠান সবার’ একটি শিরকি ও কুফরী মতবাদ।

13/10/2021
Want your school to be the top-listed School/college in Rangpur?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address

Country: Bangladesh Dis: Kurigram PS: Rowmari
Rangpur
5640