19/07/2026
ঈশ্বরকে (সৃষ্টিকর্তা) যদি ঘুটিকয় প্রশ্ন করার সুযোগ পেতাম......
ঈশ্বরকে (সৃষ্টিকর্তা) সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পাওয়া যেকোনো মানুষের জন্যই এক পরম সৌভাগ্য ও রোমাঞ্চকর হতো। যদি এই রকম সুযোগ পেতাম, তবে সাধারণ চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে উঠে আছে মানবজীবন। মহাবিশ্ব এবং মানবজাতির অস্তিত্বের গভীরতম রহস্যগুলো নিয়ে প্রশ্ন করতাম।
আমি যদি সেই সুযোগ পেতাম, তবে এই ঘুটিকয় প্রশ্নের উত্তর চাইতাম--
১. মহাবিশ্বের সৃষ্টির উদ্দেশ্য কী?
আপনি যখন এই অসীম মহাবিশ্ব, গ্যালাক্সি, কোটি কোটি নক্ষত্রের মাঝে আমাদের এই ছোট্ট পৃথিবী সৃষ্টি করলেন, তখন আপনার উদ্দেশ্য কী ছিল?
ব্যাখ্যা: মানুষ যুগ যুগ ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছে আমরা কেন পৃথিবীতে এসেছি। বিজ্ঞান বা কালের বিবর্তনের কথা বলে। কিন্তু এর পেছনের মূল চেতনা বা উদ্দেশ্য আসলে কী? তা জানার কৌতূহল মানুষের।
২. মানবজীবনে দুঃখ-কষ্ট ও অন্যায়ের উপস্থিতি কেন?
আপনার সৃষ্টিতে এত সৌন্দর্য এবং ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধ, মহামারি, হানাহানি, কষ্ট এবং তীব্র অন্যায়ের অস্তিত্ব কেন রয়েছে?
ব্যাখ্যা:একে দর্শনের ভাষায় “The Problem of Evil” বলা হয়। পৃথিবীতে ভালো মানুষেরা কেন কষ্ট পায় আর অন্যায়কারীরা কেন পার পেয়ে যায়। এই প্রশ্নের উত্তর মানুষকে সবচেয়ে কষ্ট দেয়। যদি ঈশ্বর (সৃষ্টিকর্তা) নিজে এ প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিত তখন কষ্টের মাঝেও মানুষেরা সান্ত্বনা খুঁজে পেত।
৩. মানুষের মৃত্যুর ওপারের জগৎটা কেমন?
মৃত্যুর পর মানুষের চেতনা বা আত্মার ঠিক কী ঘটে? পুনর্জন্ম, স্বর্গ-নরক, নাকি মহাজাগতিক শক্তির সাথে মিশে যাওয়া,আসল সত্যটা কী?
ব্যাখ্যা:মৃত্যু মানুষের সবচেয়ে বড় ভয়। মৃত্যুর পর কী হয় তা নিশ্চিতভাবে জানতে পারলে মানুষের জীবনযাপনের ধরন এবং মৃত্যুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে যেত।
৪. মানুষের প্রতি আপনার বার্তা বা উপদেশ কী?
এত ধর্ম, মতবাদ, বিজ্ঞান আর দর্শনের ভিড়ে মানুষ আজ বিভক্ত। মানবজাতির উদ্দেশ্যে আপনার উপদেশ কী? যা মেনে চললে এই পৃথিবীটা সত্যিই সুন্দর হতো।
ব্যাখ্যা:মানুষ ঈশ্বরের (সৃষ্টিকর্তা) নামে পৃথিবীতে অনেক রক্তপাত ও বিভেদ তৈরি করেছে। ঈশ্বরের (সৃষ্টিকর্তা) সার্বজনীন উপদেশ মানবজাতিকে সমস্ত সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বেও একসঙ্গে শান্তিতে বাঁচতে শেখাত।
মন্তব্য: এই প্রশ্নগুলোর মূলত কোনো ব্যক্তিগত লাভ বা লোভ নয়, বরং মানুষের অস্তিত্বের উদ্দেশ্য এবং মহাজাগতিক সত্যকে জানা।
[পরবর্তী প্রশ্নের উত্তর হবে “যে- বইটি তোমার প্রিয়জনকে উপহার দিতে চাও।”]