March For Truth

March For Truth

Share

​"ধর্মের নীতিমালায় সমাজ সংস্কার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার এক বিনীত পথচলাই, সত্যের পথে আমাদের যাত্রা।"

24/07/2026

খেলার মাঠে সিজদা হবে, ফতোয়াতেও সায়,
বাজির টাকায় জয় এলে তাতেও শুকরিয়া চায়!
হারামটা গেল কোথায় যেন, সিজদাটাই রইল হালাল,
বাহ্ গালিব, বাহ্!

03/07/2026

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রফেসর ড. মুখতার আহমেদের একটি বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেছেন, দেশের অন্যতম সুনামধন্য নটর ডেম কলেজে অধ্যয়ন করা মুসলিম যুবকদের জন্য হারাম। তার যুক্তি হলো, কলেজটি খ্রিষ্টান মিশনারিদের দ্বারা পরিচালিত। সেখানে পড়াশোনা করলে শিক্ষার্থীদের খ্রিষ্টীয় সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিন্তু এখানেই একটি প্রশ্ন থেকে যায়।

প্রফেসর ড. মুখতার আহমেদ নিজেই ফেসবুকে এসে এই বক্তব্য দিয়েছেন। অথচ ফেসবুক কারা তৈরি করেছে, সেটিও সবার জানা। খ্রিষ্টান মিশনারিরা যেমন বিভিন্ন উপায়ে মুসলিম সমাজে তাদের সংস্কৃতির প্রভাব বিস্তার করতে চায়, তেমনি সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমও ব্যাপকভাবে পশ্চিমা সংস্কৃতি ও জীবনধারা ছড়িয়ে দেয় এবং মানুষকে সেদিকে আকৃষ্ট করে। সে হিসেবে প্রফেসর ড. মুখতার আহমেদের যুক্তি অনুসারে ফেসবুক ব্যবহারও হারাম হওয়া উচিত।

কিন্তু এখানেই তিনিসহ প্রায় সমগ্র আলেম সমাজের বক্তব্য হলো, ফেসবুক ব্যবহার জায়েজ। কারণ, এর মাধ্যমে দাওয়াতি কাজ করা যায় এবং এটিকে তাদের বিরুদ্ধেই একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

তাই আলেম সমাজের কাছে আমার প্রশ্ন:

• যদি ফেসবুককে দাওয়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা বৈধ হয়, তাহলে নটর ডেম কলেজ থেকে সুশিক্ষা অর্জন করে তাদের চিন্তা ও আদর্শের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া কেন বৈধ হবে না?

• যদি সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম বাস্তবেই মুসলিম যুবসমাজকে ইসলামী সংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে পশ্চিমা সংস্কৃতির দিকে নিয়ে যায়, তাহলে এটিকে হারাম ঘোষণা করা হচ্ছে না কেন?

• আপনাদের কাছে হারাম-হালালের মানদণ্ড কি কুরআন-হাদিস, নাকি ব্যক্তিগত ভালো লাগা, অপছন্দ ও স্বার্থ?

আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রফেসর ড. মুখতার আহমেদকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি। কিন্তু তার এই নির্দিষ্ট বক্তব্যে আমি অসঙ্গতি দেখি, এবং আমার মতে এটি সমালোচনার যোগ্য।

29/06/2026

আসসালামু আলাইকুম।
কেমন আছেন আপনারা? আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে আমিও ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ।

আপনারা নিশ্চয়ই এমন একজন সাহাবীর কথা জানেন যার মৃত্যুতে আল্লাহ তায়ালার আরশ কেঁপে উঠেছিল।আজকে সেই সাহাবির বিষয়ে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি।

এই সাহাবীর নাম হলো সা'দ বিন মুয়াজ (রা:)। তিনি আউস গোত্রের ছিলেন। তিনি একজন আনসারী সাহাবী এবং তিনি আনসারদের প্রধান নেতা ছিলেন। তিনি মদিনাতে জন্মগ্রহণ করেন।

সা'দ বিন মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহুর একটি বিশেষত্ব হচ্ছে তিনি বদর, উহুদ এবং খন্দক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।তাকে বনু কুরাইযার বিচার করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এবং তার বিচারে মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুশি হয়েছিলেন।
এই সাহাবী সা'দ বিন মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহুর মৃত্যুতে বিখ্যাত হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

১) সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৩৮০৩
সহিহ মুসলিম,হাদিস নং: ২৪৬৬

اهْتَزَّ عَرْشُ الرَّحْمَنِ لِمَوْتِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ

অর্থ :“সা‘দ ইবনে মুয়াজ (রা.)-এর মৃত্যুর কারণে দয়াময় আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিল।”
হাদিসটি বুখারী এবং মুসলিম উভয় কিতাবে বর্ণিত হওয়ার কারণে এই হাদিসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।

সর্বশেষে একটি কথা বলতে চাই একজন মানুষ আল্লাহর কাছে কতটা দামি হলে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠতে পারে। মূলত এখানে সা'দ বিন মুয়াজ (রা:) এর মর্যাদা বোঝানো হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এবং সাহাবাদের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

28/06/2026

"যেদিন আমি আল্লাহর ঘর ছাড়লাম, সেদিনই সংসারে শান্তি ফিরল!"

আসিফের ঘরের দরজাটা আধখোলা। ফজরের আজান শেষ হয়েছে বেশ কিছুক্ষণ আগে। যে ছেলেটা এক সময় আজানের প্রথম ধ্বনিতেই বিছানা ছেড়ে উঠে যেত, সেই ছেলেটা আজও ঘুমিয়ে আছে। মা দরজার সামনে এসে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন। ডাকলেন না। কারণ...

অনেকদিন হলো আর ডাকতে হয় না। ডাকলেও ওঠে না।
এক সময় এই বাড়ির সবাই বিরক্ত ছিল আসিফকে নিয়ে। "সারাদিন মসজিদ... সারাদিন বই... সারাদিন ইবাদত!" বাবা রাগ করে বলতেন,

"নামাজ তোকে ফতুর করে দিল। এভাবে চললে সংসার চলবে?"

আসিফ চুপ করে থাকত। তার বিশ্বাস ছিল, রিজিকের মালিক আল্লাহ।কিন্তু প্রতিদিনের তিরস্কার... আত্মীয়দের কথা... বন্ধুদের চাকরি পাওয়ার খবর...
ধীরে ধীরে তার ভেতরের মানুষটা ক্লান্ত হয়ে গেল। একদিন...

সে বদলে গেল। মসজিদে যাওয়া বন্ধ।তাহাজ্জুদ বন্ধ।কুরআন বন্ধ।ইসলামী আলোচনাও বন্ধ।

শুরু হলো নতুন জীবন। সকাল থেকে রাত। মিটিং, ব্যবসা, ক্লায়েন্ট, টাকা, আরও টাকা!!!

ছয় মাস পরে...বাড়ির পুরোনো টিনের চাল বদলে গেছে।ড্রয়িংরুমে নতুন সোফা। বাবার হাতে দামি ঘড়ি। মায়ের গলায় সোনার হার।আত্মীয়রা এখন বলে,
"আসিফ ছেলেটা মানুষ হয়েছে।"

আগে যারা বলত, "ছেলেটা কারও মুরিদ হয়েছে ..."
আজ তারাই বলে, "এমন ছেলে সবার কপালে জোটে না।" মানুষ...

কত দ্রুত হিসাব বদলায়।সেদিন রাতের খাবারের টেবিলে সবাই বসে।হাসি, গল্প, পরিবারে সবাই খুশি।
হঠাৎ বাবা চুপচাপ আসিফের দিকে তাকালেন, কিছুক্ষণ...তারপর খুব সাধারণ একটা প্রশ্ন করলেন।

"কিরে... অনেকদিন তোকে নামাজ পড়তে দেখি না। ব্যাপার কী?"

ঘরটা হঠাৎ অদ্ভুত নীরব হয়ে গেল। আসিফ ধীরে ধীরে গ্লাসটা টেবিলে রাখল। বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে মৃদু একটা হাসি দিয়ে বলল,
"দেখলে না? তোমাদের কথাই শুনেছি।"

বাবা অবাক ! "মানে?"

"তোমরা তো ভালো মানুষ চাও না, বাবা। তোমাদের দরকার ছিল টাকা।আমি শুধু সেটা দিয়েছি।" ঘরে কেউ কথা বলছে না।আসিফ আবার বলল,
"যেদিন মসজিদে বেশি সময় দিতাম।তোমরা বলতে, ভবিষ্যৎ নষ্ট করছি।আজ আল্লাহর ঘর ছেড়ে দুনিয়ায় সময় দিচ্ছি...তোমরা খুশি।"

বাবার মুখ শক্ত হয়ে গেল।তিনি কিছু বলতে চাইলেন। কিন্তু শব্দ বের হলো না। আসিফ এবার কণ্ঠটা একটু নিচু করল।

"শোনো বাবা...একটা প্রশ্ন করি?" "যদি এমন একটা চাকরি পাই।যেখানে এমন লেনদেন থাকবে, যা আমার বিবেক আর শরীয়াহর বুঝ অনুযায়ী গ্রহণ করা কঠিন, তখন কী করব?

চাকরি বাঁচাব!
নাকি আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর জবাব?" সে থামল। ঘরের ঘড়ির টিকটিক শব্দ পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে।

"তোমরা কি আমাকে একজন পরিশ্রমী মুসলিম হিসেবে দেখতে চাও, যে কম আয় করলেও নিজের ঈমান বাঁচানোর চেষ্টা করে?
নাকি এমন একজন বড় চাকরিজীবী, যে অনেক টাকা আনে...কিন্তু প্রতিদিন নিজের বিবেককে একটু একটু করে মেরে ফেলে?"
বাবার হাত কাঁপছে।তিনি ছেলের দিকে তাকিয়ে আছেন।
হঠাৎ তাঁর মনে পড়ল...

গল্প : ভুলে গেছি নিজেকেই
লেখক : মোঃ আসিফ

#ইসলামিকগল্প

26/06/2026

"৬১ হিজরির কারবালা আজও শেষ হয়নি। শুধু চরিত্রগুলো বদলেছে।"

১৪০০ বছরেরও বেশি আগে কারবালার প্রান্তরে একদল মানুষ দাঁড়িয়েছিল সত্যের পক্ষে। সংখ্যায় তারা ছিল অল্প, শক্তিতে দুর্বল, কিন্তু নীতিতে অটল।
অন্যদিকে ছিল বিশাল বাহিনী, ক্ষমতা, রাষ্ট্র, প্রচারমাধ্যম এবং জনসমর্থন।
আজ আমরা যখন কারবালার কথা শুনি, প্রায় সবাই নিজেদের হুসাইন (রা.)-এর দলে কল্পনা করি। কিন্তু একটি কঠিন প্রশ্ন আছে:

যদি আমরা তখন বেঁচে থাকতাম, সত্যিই কি হুসাইন (রা.)-এর পাশে দাঁড়াতাম?
কারণ ইতিহাস বলে, কারবালার বিপক্ষে যারা অস্ত্র ধরেছিল, তাদের অধিকাংশই নিজেদের মুসলিম মনে করত। তারা নামাজ পড়ত, রোজা রাখত, কুরআন তিলাওয়াত করত।
তবুও তারা ভুল পক্ষ বেছে নিয়েছিল।
কেন?
কারণ মানুষ সত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় না বরং সে দাঁড়ায় নিজের স্বার্থ, ভয় এবং দুনিয়ার মোহের পক্ষে।
আজও একই ঘটনা ঘটছে।

যখন আল্লাহর আদেশের চেয়ে ট্রেন্ড গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়, যখন কুরআনের চেয়ে সেলিব্রিটির মতামত বেশি প্রভাব ফেলে, যখন মুসলিম নিজের পরিচয়ের চেয়ে "ফিট ইন" করাকে বেশি গুরুত্ব দেয়,
তখন কারবালার শিক্ষা হারিয়ে যায়।

ইমাম হুসাইন ইবনে আলী (রা.) শুধু শাহাদাতের শিক্ষা দেননি।
তিনি শিখিয়েছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ সবসময় সত্যের মাপকাঠি নয়।
কারবালায় সত্যের পক্ষে ছিল কয়েক ডজন মানুষ। বাতিলের পক্ষে ছিল হাজারো সৈন্য।

তবুও ইতিহাস মনে রেখেছে কার নাম।
আজকের তরুণ মুসলিমের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো:
আমি কি আমার ঈমানকে বাঁচিয়ে রাখছি, নাকি ধীরে ধীরে চারপাশের সংস্কৃতি আমাকে বদলে দিচ্ছে?

কারণ একটি জাতি একদিনে হারিয়ে যায় না।
প্রথমে সে তার আদর্শ ভুলে যায়। তারপর পরিচয় ভুলে যায়। অবশেষে সে নিজেই ভুলে যায় কেন সে বেঁচে আছে।
আশুরা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়:

সত্যের পথে হাঁটতে ভিড়ের প্রয়োজন হয় না।
প্রয়োজন হয় দৃঢ় ঈমান, স্পষ্ট চেতনা এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য।
কারবালার শহীদরা পৃথিবী জয় করতে পারেননি।
কিন্তু তারা এমন একটি আদর্শ রেখে গেছেন, যা ১৪ শতাব্দী পরও কোটি কোটি মানুষকে নাড়া দেয়।
প্রশ্ন হলো, আমরা কি শুধু আশুরার গল্প শুনব, নাকি তার শিক্ষা নিজের জীবনে প্রয়োগ করব?

"কারবালার ময়দানে ইয়াজিদের বাহিনী ছিল হাজারো। হুসাইন (রা.)-এর সাথী ছিল অল্প। ইতিহাস প্রমাণ করেছে, সত্যকে নির্ধারণ করে না সংখ্যা। নির্ধারণ করে অবস্থান। আজ আমাদের অবস্থান কোথায়?"

"মানুষের সবচেয়ে বড় বিপদ সত্যকে জানা নয়, বরং সত্য জেনেও সুবিধার জন্য তার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যাওয়া"

কারবালার পথে কুফার হাজার হাজার মানুষ ইমাম হুসাইন (রা.)-কে চিঠি লিখে সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু যখন পরীক্ষার সময় এলো, অধিকাংশ মানুষ ভয়, ক্ষমতা ও স্বার্থের কারণে সরে গেল।অর্থাৎ,

❝ সত্যের সমর্থক হওয়া সহজ। সত্যের জন্য মূল্য দেওয়া কঠিন।❞

"কারবালার ট্র্যাজেডি শুধু ইয়াজিদের কারণে ঘটেনি। ঘটেছিল তাদের কারণেও, যারা সত্যকে চিনত কিন্তু নীরব ছিল। ইতিহাসে অনেক সময় অত্যাচারীরা জেতে না, জেতে নীরব দর্শকরা। বাতিলের সবচেয়ে বড় শক্তি তার বাহিনী নয়; সত্য জানার পরও চুপ থাকা মানুষের সংখ্যা।

#আশুরা

23/06/2026

আসসালামু আলায়কুম।
আজ আমি ৩টা ভুল ধারনাকে ভেঙে দিতেএসেছি।
মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি।

👉প্রশ্ন ১) ইসলাম কি শুধু একটা ধর্ম ??
উত্তরঃ না। ইসলাম একটি পুরনাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা।
দলিলঃ পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
إِنَّ الدِّيْنَ عِنْدَ اللهِ الْإِسْلاَمُ

‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকটে একমাত্র মনোনীত দ্বীন হ’ল ইসলাম’ (আলে ইমরান ৩/১৯)।

👉 প্রশ্ন২)কুরআন কি একটা সাধারণ বই??
উত্তরঃ না। বরং কুরআন হচ্ছে মহান আল্লাহ তায়ালার বানী,যা সমগ্র মানবজাতির জন্য হেদায়েত।
দলিলঃআল্লাহ তাআলা আরো বলেন,
"আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা, পথনির্দেশ, রহমত এবং মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ।" (সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৮৯)

👉 প্রশ্ন৩) মুহাম্মাদ (সাঃ) কি সাধারন একজন মানুষ??
উত্তরঃ তিনি আল্লাহ তায়ালার পেরিত নবি ও রসুল। যিনি গোটা মানবজাতির জন্য রহমত।
দলিলঃআল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের বলেন:
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ
"আর আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।" (সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৭)

লেখকঃ আলিফ

23/06/2026

"আল্লাহ আমাদের পাঠিয়েছেন মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে বের করে এক আল্লাহর দাসত্বে আনার জন্য।" -- সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস ( রা.)।

#ইসলামিকউক্তি

22/06/2026

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ
আশা করি মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভাল আছেন।আসলে আমার লেখালেখির তেমন অভ্যাস নেই, তবে পড়তে ভালো লাগে। বিশেষ করে কুরআন, হাদিস, সিরাত সহ ইতিহাসের বই।
আজ আমি আপনাদের ইসলামের কিছু সাধারন ধারনা শেয়ার করতে চাই ।মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি....

👉 প্রথম প্রশ্ন হলো ইসলাম কি❓
উত্তর :ইসলাম শব্দের অর্থ হলো আত্মসমর্পণ করা—অর্থাৎ আল্লাহর ইচ্ছার কাছে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সোপর্দ করা।
যে ব্যক্তি ইসলাম অনুসরণ করে তাকে বলা হয় মুসলিম।

এ কথা থেকে বোঝা গেল যে আল্লাহর কাছে পুরোপুরি নিজেকে সোপর্দ করার মাধ্যমে ইসলামে প্রবেশ করা যায়।

👉এখন কথা হলো যে এখানে বিশ্বাস করার কিছু আছে নাকি❓
উত্তর :জি আছে, মূলত ইসলামে ৬টি বিষয় এর উপর বিশ্বাস করতে হবে।
১। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রতি।
২।ফেরেশতাগণ এর প্রতি।
৩।কিতাব সমুহ এর প্রতি।
৪।রাসুলগণ এর প্রতি।
৫।আখিরাতে।
৬।তাকদির এর প্রতি।

এই ৬টি বিষয় প্রতিটি মুসলিম এর বিশ্বাস করতেই হবে।কোনো একটা বাদ পরলেই তাকে ইমানদার বলা যায় না।
আল্লাহ আমাদেরকে ইসলামকে পূর্ণভাবে বোঝার তৌফিক দান করুন।

ইনশাল্লাহ আগামিতে আরও ডিটেইল সহকারে কুরআন ও হাদিসের দলিল পেশ করার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।
লেখক: আলিফ।

22/06/2026

আসিফ খারাপ ছেলে ছিল না।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ না হলেও সে নামাজ পড়ত। রমজানে রোজা রাখত। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো জানত। ছোটবেলায় মক্তবে কুরআনও পড়েছে।সে জানত একজন মুসলিমের জীবনের উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিত।কিন্তু একদিন হঠাৎ তার মনে হলো...

অনেকদিন ধরে সে শুধু জানছে।কিন্তু?
রাত প্রায় বারোটা।ঘরের সব আলো নিভে গেছে।শুধু তার মুখের উপর ফোনের আলো পড়ছে।একটার পর একটা ভিডিও।একটার পর একটা পোস্ট।একটার পর একটা মুখ।
কেউ তাকে বলছে সফলতা কী।
কেউ বলছে স্বাধীনতা কী।
কেউ বলছে সৌন্দর্য কী।
কেউ বলছে জীবনের লক্ষ্য কী হওয়া উচিত।

হঠাৎ সে খেয়াল করল, গত এক ঘণ্টায় সে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শত শত মানুষের কথা শুনেছে।কিন্তু নিজের হৃদয়ের কথা একবারও শোনেনি।ফোনটা হাতে নিয়েই সে কিছুক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল।
অদ্ভুত এক শূন্যতা বুকের ভেতর জমতে লাগল।পৃথিবীতে আজ প্রায় ২০০ কোটিরও বেশি মুসলিম আছে।প্রতি চারজন মানুষের একজন মুসলিম।আসিফ এই তথ্য জানত।কিন্তু সে এটাও বুঝতে শুরু করল যে, তার প্রতিদিনের চিন্তা, স্বপ্ন, আদর্শ আর আলোচনার অধিকাংশই এমন মানুষদের ঘিরে, যাদের সঙ্গে তার ঈমানের কোনো সম্পর্ক নেই।
সে পৃথিবীর বড় বড় তারকাদের নাম জানে।তাদের জীবনের গল্প জানে।তাদের নতুন খবর জানে।কিন্তু নিজের উম্মাহর কান্নার খবর কতটা জানে?

এই প্রশ্নটা তাকে অস্বস্তিতে ফেলে দিল।একসময় মুসলিমরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বাস করত।ভাষা আলাদা ছিল।সংস্কৃতি আলাদা ছিল।রঙ আলাদা ছিল।কিন্তু তাদের পরিচয় এক ছিল। উম্মাহ !

স্পেনের একজন মুসলিম আর ভারতের একজন মুসলিম একে অপরকে কখনো না দেখেও ভাই বলে মনে করত।আজ প্রযুক্তি পৃথিবীকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ছোট করে ফেলেছে।তবু মানুষের হৃদয়গুলো যেন আরও দূরে সরে গেছে।

সেদিন বিকেলে আসিফ বাজারে যাচ্ছিল।রাস্তার পাশে কয়েকজন কিশোরকে দেখল।তারা ফুটবল নিয়ে তর্ক করছে।কারও গায়ে ইউরোপের ক্লাবের জার্সি।কারও মুখে বিদেশি তারকার নাম।হঠাৎ তার মনে হলো...
কয়েক বছর আগেও তো সে এমনই ছিল।এখনও আছে।তফাৎ শুধু বয়সের।সে নিজের অতীতকে অন্য কারও মধ্যে দেখতে পেল।আর তখনই একটা ভয়ংকর প্রশ্ন তার মাথায় আঘাত করল।
"আমি কে?"
সেদিন রাতে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল আসিফ।অনেকক্ষণ।নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে।সে ভাবছিল...

যদি আমার ফোনটা না থাকে? যদি আমার প্রিয় ব্র্যান্ডগুলো না থাকে? যদি আমার সামাজিক পরিচয় না থাকে? যদি মানুষ আমার নামও ভুলে যায়? তাহলে কী থাকবে?
আমি কে?

প্রথমবারের মতো সে বুঝল, তার সবচেয়ে বড় সংকট অর্থের নয়।ক্যারিয়ারের নয়।ভবিষ্যতের নয়।তার সবচেয়ে বড় সংকট পরিচয়ের।সে মুসলিম।সে জানে সে মুসলিম!

কিন্তু বহুদিন ধরে সে মুসলিম হিসেবে বাঁচার চেয়ে পৃথিবীর তৈরি করা হাজারো পরিচয়ের ভিড়ে নিজেকে খুঁজে বেড়াচ্ছে।সে সংযুক্ত ছিল সবার সঙ্গে।শুধু নিজের শিকড়ের সঙ্গে নয়।সে ব্যস্ত ছিল সবকিছু নিয়ে।শুধু নিজের আত্মাকে নিয়ে নয়।ফোনটা আবার জ্বলে উঠল।
নতুন নোটিফিকেশন।
নতুন ভিডিও।
নতুন বিভ্রান্তি।

আসিফ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।কিছুক্ষণ।
তারপর ধীরে ধীরে ফোনটা বন্ধ করে দিল।অনেকদিন পর তার চোখে অদ্ভুত এক দৃঢ়তা দেখা গেল।যে দৃঢ়তা মানুষ পায় যখন সে বুঝতে পারে সে পথ হারিয়েছে।আর যে মানুষ বুঝতে পারে সে হারিয়ে গেছে...সেই মানুষই একদিন পথ খুঁজে পায়।
আসিফ উঠে দাঁড়াল।
তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।

গল্প : আত্মপরিচয়
লেখক : মোঃ আসিফ


#ইসলামিকগল্প #উম্মাহ

21/06/2026

মুসলিম হলিউড : এক ব্যতিক্রমী ইতিহাস!!

আজ যখন গল্প, সিনেমা ও বিনোদনের রাজধানী হিসেবে হলিউডের নাম উচ্চারিত হয়, তখন খুব কম মানুষই জানে যে আধুনিক গল্প বলার শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি গড়ে উঠেছিল মুসলিম সভ্যতার বুকে।

আলাদিন, আলী বাবা ও চল্লিশ চোর, সিনবাদ নাবিক। পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত কাল্পনিক চরিত্রগুলোর মধ্যে এদের স্থান রয়েছে। এসব গল্পের শিকড় খুঁজতে গেলে পৌঁছে যেতে হয় ইসলামি স্বর্ণযুগের কেন্দ্রস্থল বাগদাদে।

৭৫০ খ্রিস্টাব্দে আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর মুসলিম বিশ্ব এক নতুন যুগে প্রবেশ করে। সামরিক বিজয়ের পাশাপাশি জ্ঞান, সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ৭৬২ সালে খলিফা আবু জাফর আল-মানসুর বাগদাদ শহর প্রতিষ্ঠা করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি বিশ্বের বৃহত্তম জ্ঞান ও সংস্কৃতির কেন্দ্রে পরিণত হয়।

বিশেষ করে খলিফা হারুন আল-রশিদ (৭৮৬-৮০৯) এবং তাঁর পুত্র আল-মামুন (৮১৩-৮৩৩)-এর শাসনামলে বাগদাদে বিজ্ঞান, দর্শন ও সাহিত্যের অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পণ্ডিত, কবি ও লেখকরা সেখানে সমবেত হতেন।

এই সময়েই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে "হাকাওয়াতি" বা পেশাদার গল্পকারদের সংস্কৃতি। তারা বাজার, কফিখানা ও জনসমাগমস্থলে বসে মানুষের সামনে গল্প পরিবেশন করতেন। শ্রোতাদের আকর্ষণ ধরে রাখতে গল্পকারদের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিযোগিতা। ফলে গল্পের কাহিনি, রহস্য, চরিত্র ও নাটকীয়তার ক্রমাগত উন্নতি ঘটতে থাকে।

এই ধারার সবচেয়ে বিখ্যাত সৃষ্টি হলো "আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা" বা "এক হাজার এক রজনী"। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র শাহরজাদ, যিনি প্রতিরাতে একটি করে গল্প শুনিয়ে নিজের জীবন রক্ষা করতেন এবং গল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশে এসে থেমে যেতেন। আজকের ভাষায় যাকে বলা হয় "ক্লিফহ্যাঙ্গার"।

আধুনিক টিভি সিরিজ, চলচ্চিত্র ও ওয়েব সিরিজে যে কৌশল দর্শকদের পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করায়, তার অন্যতম প্রাচীন ও সফল উদাহরণ দেখা যায় এই গ্রন্থে।

এক অর্থে, আব্বাসীয় বাগদাদ ছিল তার যুগের "হলিউড"। সেখানে ক্যামেরা ছিল না, স্টুডিও ছিল না, কিন্তু ছিল এমন গল্পকার যারা মানুষের কল্পনাকে বন্দী করতে পারতেন। তাদের সৃষ্টি শতাব্দীর পর শতাব্দী টিকে আছে, আর আজও পৃথিবীর বিনোদন জগৎ সেই উত্তরাধিকারের ছাপ বহন করছে।

দুঃখজনকভাবে, আমরা আজ অন্যের সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পর্কে যতটা জানি, নিজের সভ্যতার এই বিস্ময়কর অধ্যায় সম্পর্কে ততটা জানি না। অথচ একসময় পৃথিবী শুধু মুসলিমদের তরবারির শক্তি নয়, তাদের গল্পের জাদুতেও মুগ্ধ ছিল।

লেখক : মোঃ আসিফ

Want your school to be the top-listed School/college in Rajshahi?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address

Rajshahi