10/05/2026
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
Electrical and Electronic Engineering (EEE)
ডিপার্টমেন্ট রিভিউ
EEE বিভাগ সম্পর্কে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত ও প্রামাণ্য উত্তর তুলে ধরা হলো—
🔹 EEE বিভাগ কি নতুন?
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের EEE বিভাগের শিকড় অত্যন্ত পুরোনো ও সমৃদ্ধ। ১৯৬৬ সালে “Applied Physics (AP)” নামে যাত্রা শুরু করে বিভাগটি। পরবর্তীতে এটি “Applied Physics and Electronics (APE)”, এরপর “Applied Physics and Electronic Engineering (APEE)” নামে পরিচিত হয়।
২০১৫ সালে Electrical and Electronic Engineering (EEE) নামে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৮ সালে APEE ও EEE একীভূত হয়ে বর্তমান কাঠামোতে কার্যক্রম শুরু করে।
বর্তমান নামে বিভাগের বয়স প্রায় ১১ বছর হলেও এর মূল ইতিহাস প্রায় ৬০ বছরের। ২০২৬ সালে বিভাগটি Diamond Jubilee (৬০ বছর পূর্তি) উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও অনুরূপভাবে AP → APE → APECE → EEE রূপান্তর ঘটেছে।
🔹 ল্যাব ফ্যাসিলিটি
EEE বিভাগে বর্তমানে ২০টি আধুনিক ও সুসজ্জিত ল্যাবরেটরি রয়েছে, যা হাতে-কলমে শেখার জন্য অত্যন্ত কার্যকর ও আপডেটেড।
প্রধান ল্যাবসমূহ—
Electrical Circuit Lab
Electronic Circuit Lab
Electrical Machine Lab
Power Electronics Lab
Computer Lab
Microcontroller and Embedded System Lab
Power System Simulation Lab
Power System Protection and Switchgear Lab
Physics Lab
Measurement and Instrumentation Lab
Communication Systems Lab
Digital Signal Processing Lab
Mechanical Engineering Lab
Thin Film Lab
Solar Energy Lab
Plasma Science and Technology Lab
Functional Oxide and Magnetic Materials Lab
Geophysics Lab
Plasma Processed Functional Materials Lab
Photonics and Advanced Materials Lab
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—
• দেশের একমাত্র Plasma Science and Technology Lab এই বিভাগেই অবস্থিত
• Photonics and Advanced Materials Lab বাংলাদেশে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানে রয়েছে, যার একটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের EEE বিভাগে (BUET-এও নেই)
এছাড়া পরিবর্তিত APEE বিভাগের সব ল্যাব, ইন্সট্রুমেন্ট, ক্লাসরুম, শিক্ষকবৃন্দ ও একাডেমিক অর্জন EEE বিভাগ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে।
🔹 RUET-এ ল্যাব করতে হয় কি?
বর্তমানে EEE বিভাগের সব ল্যাব কার্যক্রম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসেই সম্পন্ন হয়। পূর্বে Mechanical Engineering কোর্সের কিছু ল্যাব RUET-এ করতে হলেও এখন আর সে প্রয়োজন নেই।
🔹 শিক্ষকবৃন্দ
EEE বিভাগে বর্তমানে প্রায় ২৮ জন অভিজ্ঞ ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক কর্মরত আছেন। তাঁরা দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং সক্রিয়ভাবে গবেষণায় যুক্ত।
একটি জেনারেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শিক্ষকসংখ্যা ও গুণগত মান—উভয় দিক থেকেই বিভাগটি অত্যন্ত শক্তিশালী।
(তুলনামূলকভাবে: ঢাবি EEE—৩৪ জন, সাস্ট—১৭ জন শিক্ষক)
🔹 সিলেবাস ও একাডেমিক মান
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের EEE বিভাগের সিলেবাস BUET-এর EEE সিলেবাসের সঙ্গে প্রায় ৯৫% মিল রয়েছে। ফলে পড়াশোনার মান অত্যন্ত উচ্চস্তরের ও প্রতিযোগিতামূলক।
🔹 গবেষণার সুযোগ
EEE বিভাগে গবেষণার সুযোগ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ইলেকট্রনিকস, কমিউনিকেশন, সোলার সেল, থিন ফিল্ম, ফটোনিক্স, প্লাজমা টেকনোলজি ইত্যাদি বিষয়ে নিয়মিত গবেষণা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হচ্ছে।
অধ্যাপক ড. জাকের হোসেন স্যার ও অধ্যাপক ড. আতোয়ার রহমান স্যার বিশ্বের শীর্ষ ২% গবেষকের তালিকাভুক্ত।
এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা দেশ ও বিদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত রয়েছে। শুধু ২০২৫ সালেই ১২ জন শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ অর্জন করেছে।
🔹 ক্যাম্পাস লাইফ ও পড়াশোনা
পড়াশোনার চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি, বিশেষ করে তৃতীয় বর্ষে। তবে এর পাশাপাশি রয়েছে উপভোগ্য ক্যাম্পাস লাইফ। প্রতিবছর EEE বিভাগে পিকনিক, EEE নাইট, বিভিন্ন বিশেষ দিবস উদযাপন এবং ইনডোর ও আউটডোর গেমস টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়।
🔹 উপসংহার
EEE বিভাগে ভর্তি হলে ভবিষ্যতে আফসোস করার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে কারও যদি অন্য কোনো বিষয়ে প্রকৃত আগ্রহ ও প্যাশন থাকে, সেটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
আর যাঁরা EEE বিষয়ে পড়তে আগ্রহী, তাঁরা নিশ্চিন্তে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় EEE বিভাগকে বেছে নিতে পারেন।
Caption:-Sulaiman EEE-07
Video :- EEE-10