21/02/2026
আমি যখন ক্লাস নাইনে উঠি, তখন থেকেই পড়ানো শুরু করি। বাসাতেই পড়াতাম। সম্ভবত ৩/৪ জন নিয়ে পড়ানো শুরু করেছিলাম। একটা সময় এত স্টুডেন্ট হয় যে, আমাকে না করে দিতে হয়েছে অনেককে। ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে পড়াতাম। নরমালি প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চারা কিন্তু পড়তে চায় না। অনেক দুষ্টু হয় ওরা।
তো যখন শুরু করলাম, আস্তে আস্তে অনেক স্টুডেন্ট হওয়া শুরু করল; এবং অনেকে তারা আগে যে প্রাইভেট পড়তো সেটা বাদ দিয়ে আমার কাছে আসা শুরু করে। প্রথম কয়দিন একটা বেত ইউজ করতাম; সেটাও তারাই বানিয়ে এনে দিছিলো। কয়েকদিন পর এসে সেই বেত আর ইউজ করতে হয়নি। কারণ, তারা যখন পড়াতে ভালবাসতে শুরু করল, ইনজন করতে শুরু করল, তখন আর দুষ্টামি করেনি।
পরীক্ষার রেজাল্টে দেখা গেল, দুই একজন বাদে সবাই পুরস্কার নিয়ে আসছে। ব্যাকবেঞ্জার থেকে টপ করা শুরু করল। আমি আসলে এটা ফিল করা শুরু করি, স্টুডেন্ট ভালো করতে পারে টিচারের জন্য; একইভাবে ভালোও করে শিক্ষকের জন্যই।
সবচেয়ে মজার বিষয় কী জানো? আমি দেখতাম, যাদের ফেমিলি একটু অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী, গ্রামে যারা টিউশন করাতো, তারা শুধু তাদেরকেই পড়াতো। বাকি যারা পিছনে থাকতো, তারা সারাজীবন পিছনেই পড়ে থাকতো। আমি পিছনের মানুষকে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করি। এবং যখন দেখলাম যে, তারা পিছন থেকে লাফ দিয়ে টপ করে ফেলছে, তখন আমার যে ভালো লাগা শুরু করে, তা বলে বোঝানোর মতো না।
একটা জিনিস খেয়াল করেছেন কি না জানি না, যখন একটা স্টুডেন্ট ভালো করে তখন সবচেয়ে খুশী হয়, তার বাবা-মা এবং তার শিক্ষক।
আমার এই বাঁধ ভাঙ্গা উল্লাস তখন কে দেখে!
ঠিক ঐ সময় থেকে আমি আমার লাইফের জোনটা খুঁজে পাই। আমি পড়ানোটাকে ইনজন করি। মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে পছন্দ করি। মানুষকে হাত ধরে ধরে স্বপ্নের কাছে নিয়ে যাওয়ার মতো আনন্দ বোধ হয় আর দ্বিতীয়টাতে নাই!!!
আমার এডমিশন টাইমে যখন পড়ানোটাকে ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করি, তখন আসলে আমার যে কষ্টটা লাগছিল, সেটা এখনো ভাবলে অনুভব হয়। কিন্ত, কী করার, মানুষের জীবনটাই তো বিচ্ছেদের গল্প, মৃত্যুর গল্প, হারানোর গল্প; সেটা মানুষ হোক বা স্বপ্ন।
যখন পড়ানো বাদ দেওয়ার সিদান্ত নেই, তখন স্টুডেন্টরাও ব্যথিত হয়েছিল, সাথে আমিও। কারণ, ততদিনে পড়ানো আমার নেশা হয়ে গেছে।
বহুদিন পর সেটা আবার শুরু করি, তোমাদের এডমিশনে। তোমরা আমার ফাস্ট ব্যাচ। তোমাদের প্রতি আমার ভালোবাসা আমৃত্যু!
যখন আমার ব্যাচ থেকে ফাহিম, সায়েম, প্রমুখ চান্স পেল, আমার উল্লাস কে দেখে! বোধ হয় , আমার রেজাল্টের দিনও আমি এতটা খুশী হইনি।
আমি জানি না তোমাদের এমন হয় কি না, আমার গ্রামের ঐ বাচ্চারা, শুক্রবারেও আমাকে ছাড়েনি। শুক্রবারেও আমার কাছে পড়েছে। তারা এটা এতটা ইনজয় করতো…
তোমাদের মধ্যেও এটা আমি এখন দেখতে পাচ্ছি, আমার খুবই ভালো লাগছে। ঐদিন একজন বলতেছিল, “ভাইয়া, কবে ক্লাস নিবেন? ক্লাস না করলে ভালো লাগে না।”
বিষয়টা আমাকে খুবই অনুপ্রানিত করে।
সর্বোপরি, তোমরা যদি সফল হও, আমি সফল হব…
সাফল্যের পুস্পে আমরা সবাই সুভাষিত হব, ইনশা আল্লাহ্।
Send a message to learn more