Echoheaven

Echoheaven গল্প কথক

04/07/2026

তারপর?
তারপর আর কী
আপনাকে নিয়ে একদিন ঝুম বৃষ্টিতে কৃষ্ণচূড়া আর কদম কুড়াতে যাব। ভেজা পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে গল্প করব।

28/06/2026

#নিষিদ্ধআশ্রয়

@পর্ব-১

পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত পরিচয়গুলো হয়তো কোনো উৎসবে নয়, কোনো আনন্দে নয়, হয় মানুষের সবচেয়ে ভাঙা মুহূর্তে।

ঢাকা ছেড়ে কুমিল্লার দিকে ছুটছিল বাসটা। জানালার বাইরে রাত নেমেছে। দূরের আলোগুলোকে মনে হচ্ছিল আকাশ থেকে পড়ে থাকা ক্লান্ত কিছু তারা, যারা ভুল করে পৃথিবীতে আটকে গেছে।

তুহিন জানালার পাশে বসতে ভালোবাসে। মানুষের ভিড়ের চেয়ে রাস্তা তার কাছে বেশি সত্য মনে হয়। রাস্তা কখনো কাউকে আটকে রাখে না, আবার কাউকে ফেরতও ডাকে না।আজও সে জানালার পাশেই বসেছিল।

কিন্তু তার পাশে যে মেয়েটি এসে বসেছিল, তাকে প্রথমে খেয়ালই করেনি।বাস ছাড়ার কিছুক্ষণ পর খুব ক্ষীণ একটা শব্দ তার কানে এলো।
ফোঁপানোর শব্দ।
সে তাকাল না। মানুষের কান্না দেখতে নেই। কান্না দেখতে গেলে মানুষ অপ্রস্তুত হয়ে যায়।

তবু শব্দটা বারবার ফিরে এলো।
একসময় বাসের জানালায় প্রতিফলিত মুখে সে দেখল মেয়েটি চুপচাপ কাঁদছে। চোখের পানি মুছছে এমনভাবে, যেন পৃথিবীর কেউ জানতে না পারে।

তুহিন কিছু বলল না। কিছু কান্নার পাশে ভাষা খুব বেমানান লাগে।

এক ঘণ্টা পর বাস একটা হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে থামল।
সবাই নেমে গেল। তুহিনও নামল। ফিরে আসার সময় তার হাতে শুধু একটা পানির বোতল।সে বোতলটা মেয়েটার দিকে বাড়িয়ে দিল।
নিন।
মেয়েটি অবাক হয়ে তাকাল।
আমি তো চাইনি।
তুহিন মৃদু হেসে বলল, কান্নার পরে পানি খেলে একটু ভালো লাগে।মেয়েটা কয়েক সেকেন্ড তার দিকে তাকিয়ে রইল।তারপর বোতলটা নিল।

এই প্রথম সে হাসল।
খুব ছোট্ট একটা হাসি।
যে হাসির ভেতরেও কান্নার গন্ধ লেগে থাকে।

বাস আবার চলতে শুরু করল।
অনেকক্ষণ নীরবতা।
হঠাৎ মেয়েটিই বলল,
আপনি কী সবাইকে এভাবে পানি কিনে দেন?

তুহিন জানালার বাইরে তাকিয়েই বলল,না। সবাই এভাবে কাঁদে না।

মেয়েটা আরেকবার চুপ করে গেল।
কিছুক্ষণ পর নিজেই বলল,
আমার নাম নিশী।

আমি তুহিন।
কোথায় পড়েন?
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
এত দূরে?
দূরত্বে অভ্যাস হয়ে গেছে।
নিশী হালকা হেসে ফেলল।
সেই হাসির ভেতরেও একটা ক্লান্তি ছিল।

মানুষ মাঝে মাঝে অচেনা কাউকে এমন সব কথা বলে ফেলে, যা আপনজনদের কাছেও বলতে পারে না।
হয়তো কারণ অচেনা মানুষ বিচার করে না।
শুধু শোনে।
নিশীও বলতে শুরু করল।
আমি একজনকে ভালোবাসতাম।
তুহিন কোনো প্রশ্ন করল না।
নিশী নিজেই বলে চলল
আমার কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের স্যার।
মানুষটা খুব সুন্দর ছিল না। কিন্তু তার কথা বলার ভঙ্গি... ছাত্রদের প্রতি দায়িত্ব... ব্যক্তিত্ব... সবকিছু আমাকে টেনে নিয়েছিল।ছয় মাস পরে জানতে পারলাম, উনি বিবাহিত।

কথাটা বলেই নিশী হেসে ফেলল।
অদ্ভুত সেই হাসি।যে হাসির শব্দ শুনলে বোঝা যায়, মানুষটা অনেক আগেই ভেঙে গেছে।
জানেন, সবচেয়ে কষ্ট কী?
তুহিন এবার প্রথম তাকাল।
নিশীর চোখ লাল।
প্রতারিত হওয়া না।
সবচেয়ে কষ্ট হয় তখন, যখন জানেন মানুষটা ভুল, তবুও তাকে ভালোবাসা বন্ধ করতে পারেন না।

তুহিনের মনে হলো, কিছু প্রশ্নের কোনো উত্তর হয় না।
শুধু নীরবতা হয়।
সেদিন সে কোনো উপদেশ দেয়নি।
শুধু শুনেছিল।
কারণ সে জানত
যে মানুষ ডুবে যাচ্ছে, তাকে সাঁতার শেখানো যায় না।
প্রথমে তাকে ভেসে থাকার সাহস দিতে হয়।

বাস যখন কুমিল্লার কাছাকাছি পৌঁছাল, তখন রাত অনেক।
নামার আগে নিশী হঠাৎ বলল,আমরা কি... বন্ধু থাকতে পারি?
তুহিন কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল।
তারপর নিজের ফোনটা বাড়িয়ে দিল।
বন্ধুত্বের একটা নিয়ম আছে।
কী?
মিথ্যে বলা যাবে না।
নিশী মাথা নাড়ল।
ঠিক আছে।
বাস থামল।
নিশী নেমে গেল।
জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে একবার হাত নাড়ল।
বাস আবার চলতে শুরু করল।
তুহিন জানালার কাঁচে মাথা ঠেকিয়ে বসে রইল।
সে জানত না আজ রাতে এক বোতল পানির জন্য তার নিজের জীবনে কি কি ঘটতে চলেছে

28/03/2026

#বিপদজনক

এই যে, আবার কেন তাকাচ্ছো?
তোমাকে দেখছি… একটু সমস্যা আছে।
“আমার মধ্যে কি সমস্যা?”
“সমস্যা না, ঠিক… বিপদ।”
টিপে লুকানো লাজ, খোলা চুল, চোখের চাহনী—সব মিলিয়ে একেবারে মায়ার ফাঁদ। হাসি, হাতের ভঙ্গি আর সেই তাকানো দেখলেই মনে হয়, ইছামতী ছলছল।
“এগুলো দেখে মানুষ ঠিক থাকে নাকি?”
“বাহ, এত খেয়াল করো নাকি?”
“না… করে উপায় আছে?”
“হয়… প্রেমের আসরে কোনো ফতোয়া চলে না।”
“মানে?”
“মানে আমি নেশা না করেও, তোমার এক চাহনিতেই পুরো মাতাল হয়ে যাই।”
ভ্রু কুঁচকে তাকায়, ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি নিয়ে মৌ বলল, “মাতাল হয়ে যাও?”
“হ্যাঁ, একদম।”
“তাহলে সাবধান হও, আমি কিন্তু বিপজ্জনক।”
সে চুলটা কাঁধের উপর ফেলে একটু এগিয়ে আসে।
শাওন নিঃশ্বাস ফেলে বলে, “তাই তো বারবার তোমার দিকেই তাকাই… মানুষ বিপদের দিকেই বেশি টানে।”
“ওহ, তাই?”
“তাহলে একদিন সত্যি ডুবে গেলে আমাকে দোষ দিও না। ডুবলে যদি তোমাতেই ডুবি, তাহলে বাঁচতে চাইবো কেন?”

27/03/2026

#নীরবতা

বারান্দায় বসে চা খেতে খেতে ভাবছিলাম-আমি আসলে কখনো কাউকে আমার দুঃখগুলো ঠিকমতো দেখাইনি।

ওরা ভেবেছে আমি শক্ত, একটু উদাস, একটু দূরে থাকা মানুষ। কেউ কষ্ট দিলে আমি হাসি দিয়ে পাশ কাটিয়ে যাই। কেউ কথা না রাখলে আমি আর কিছু বলি না, শুধু চুপচাপ দূরে সরে যাই। যেন কিছুই হয়নি। যেন কিছুতেই কিছু যায় আসে না।

কিন্তু সত্যিটা হলো—সবই লাগে। খুব গভীরভাবে লাগে।

শুধু আমি কাউকে বুঝতে দেই না।

একবার সে বলেছিল, “তুমি কেমন মানুষ, কিছুতেই রিঅ্যাক্ট করো না।” আমি হেসে বলেছিলাম, “সবকিছুতে রিঅ্যাক্ট করা লাগে না।”
সে বুঝতে পারেনি—আমি রিঅ্যাক্ট করি, শুধু ভেতরে ভেতরে।

আমি জানি, যদি কোনোদিন আমার সময় বদলায়… যদি কোনোদিন আমি একটু নিজের মতো করে বাঁচতে পারি—তখন হয়তো আমি একদিন বসে বলবো, ঠিক কোন কথাটা আমাকে ভেঙে দিয়েছিল, কোন অবহেলাটা আমাকে চুপ করে দিয়েছিল।

কিন্তু আজ না।

আজও আমি আগের মতোই—
দুঃখগুলো গুছিয়ে রেখে, মানুষগুলোকে এড়িয়ে গিয়ে,
নিজেকেই বোঝাই—“সব ঠিক আছে।”

23/03/2026

#ভাঙ্গন

বিকেলের শেষ আলোটা উঠোনে এসে পড়েছিল। ভেজা মাটির গন্ধে চারপাশ ভরে আছে, আর আমি দাঁড়িয়ে আছি অকারণ রাগ, অকারণ অভিমান নিয়ে।
শাহীন বসে ছিলো দূরে মাটির সাথে লড়াই করছিলো, আঙুলে আঙুলে কিছু একটা গড়ে তুলছিলো। আমি ইচ্ছে করেই একটু তীক্ষ্ণ গলায় বললাম,
“ভাবছো আমি ভেঙে পড়বো?”
সে থামালো না। শুধু খুব স্বাভাবিকভাবে বললো,
“ভাঙা আর বদলে যাওয়া এক জিনিস না।”
ওর এই শান্ত স্বরটাই আমাকে আরও বিরক্ত করছিল। আমি চেয়েছিলাম সে অস্থির হবে, কষ্ট পাবে, আমার মতোই দগ্ধ ও হবে। বললাম
সবাই কিন্তু আগুনে টিকে থাকতে পারে না।
এবার সে মাথা তুললো, চোখে অদ্ভুত এক স্থিরতা—যেন অনেক কিছু দেখেছে, বুঝেছে। হঠাৎ বলে উঠলো
“কিছু কিছু জিনিস আছে,” “যেগুলো ভাঙার জন্য না… যত চাপই দাও, ওরা নিজের রূপ পাল্টে আরও শক্ত হয়ে যায়।”
আমি কিছু বললাম না। শুধু চুপচাপ তার পাশে গিয়ে বসে পড়লাম।
তার হাতের দিকে তাকিয়ে দেখি—সে যে মুখটা বানাচ্ছিলে, সেটা আমার মতো। একটু অবাক হলাম, একটু অস্বস্তিও লাগলো।
হঠাৎ বুঝলাম, আমি এতদিন ধরে তাকে কষ্ট দিতে চেয়েছি, কিন্তু সে কষ্টটাকেই অন্য কিছু বানিয়ে ফেলছো।
আমি যেখানে ভাঙন খুঁজছিলাম, শাহীন সেখানে নতুন এক রূপ তৈরি করেছে।
সেদিন প্রথমবার মনে হলো—
হয়তো আমি হারাতে আসিনি, আমি বদলাতে এসেছি।

19/03/2026

#সীমাবদ্ধতা

বৃষ্টি হলে আজও আমি থেমে যাই। কারণ বৃষ্টির ভেতরেই তাকে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে।
সেদিনও এমনই এক বিকেল ছিল। বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলাম—চারপাশে অনেক মানুষ, অনেক চোখ, অনেক হাসি। কিন্তু আমার দৃষ্টি বারবার গিয়ে থামছিল এক জায়গায়… তার দিকে। কতদিন কথা নেই, তবুও তাকে দেখলেই মনে হয়, এই শহরে আর কাউকে দেখার দরকার নেই।
আমি জানি, আমার সামনে আরও ভালো কেউ আসতে পারে। কেউ হয়তো আমাকে আরও বেশি বুঝবে, আরও বেশি ভালোবাসবে। কিন্তু অদ্ভুতভাবে, আমার মন সেটা মানে না। সে থাকতে—অথবা শুধু তার স্মৃতি থাকতেই—আমি আর কাউকে কল্পনাও করতে পারি না।
হয়তো এটা বোকামি। হয়তো একধরনের জেদ।
তবুও সত্যিটা হলো—আমি তাকে ছাড়িয়ে আর কাউকে দেখতে শিখিনি।
সেদিন সাফির আমার দিকে তাকিয়েছিল একবার। চোখে কোনো কথা ছিল না, তবুও আমি বুঝে গিয়েছিলাম—আমার মতো সেও হয়তো আটকে আছে কোথাও।
আমি হাসিনি, ডাকি নি। শুধু মনে মনে বলেছিলাম—
“তুমি থাকলেই আমার পৃথিবী ভরে যায়। তোমার বাইরে আর কাউকে দেখার ইচ্ছে হয় না… আর সেটাকেই হয়তো ভালোবাসা বলে।”

14/03/2026

#শব্দহীন

বিকেলের আলোটা আজ কেমন নিস্তেজ। ক্যাম্পাসের পুরোনো কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে মিহি বুঝছিল—কিছু কথা না বললেও থেকে যায়, আর কিছু কথা বললেও কোনো মানে হয় না।

তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা শুধু শিক্ষক নন, তার ভরসার জায়গা। লেকচারের বাইরে যে মানুষটা গল্প করতেন জীবন নিয়ে, ব্যর্থতা নিয়ে, স্বপ্ন নিয়ে—সেই মানুষটার দিকেই একদিন অদ্ভুত টানে ঝুঁকে পড়েছিল মিহির মন।

সে জানত, এই অনুভূতি সহজ নয়। বয়সের ব্যবধান, সামাজিক সীমারেখা, দায়িত্বের বেড়া—সব মিলিয়ে এ এক অনুচ্চারিত নিষেধাজ্ঞা। তবু হৃদয় তো নিয়ম মানে না। সে ভেবেছিল, মানুষটা যদি পাশে থাকেন, তবে ভাঙা আত্মবিশ্বাস জোড়া লাগবে, অনিদ্রা কমবে, পৃথিবীটাও একটু সহনীয় হবে।

কিন্তু মানুষটা দূরত্ব বজায় রাখলেন। কণ্ঠে কোমলতা ছিল, চোখে মায়া ছিল—শুধু ছিল না এগিয়ে আসার সাহস। তিনি বুঝিয়েছিলেন, কিছু সম্পর্ক কাছাকাছি এলে পুড়ে যায়; দূরে থাকলেই টিকে থাকে।

সেদিন মিহি প্রথমবার উপলব্ধি করল—কাউকে ভালো লাগা আর তার সঙ্গে জীবন কাটানো এক বিষয় নয়। কারও উপস্থিতি কখনো স্বপ্ন হয়ে থাকে, বাস্তব হওয়ার জন্য নয়।

মিহি চলে যাচ্ছিল ধীরে ধীরে। পেছনে তাকায়নি। কারণ সে জানে, যাকে ভেবেছিল তার শান্তির ঠিকানা, সে আসলে তার জীবনের অপ্রাপ্ত অধ্যায়। আর কিছু মানুষ থাকে শুধু শেখানোর জন্য—কীভাবে ভালোবাসতে হয়, আর কীভাবে ছেড়ে দিতে হয়।

05/03/2026

#দূরত্ব
বৃষ্টির পরের ঠান্ডা রাতে রিয়াদ ছাদে দাঁড়িয়ে ছিল।
হঠাৎ মনে পড়ল—এই ছাদেই একদিন সে আর তৃষা মহাবিশ্ব নিয়ে কথা বলেছিল।

তৃষা আকাশের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল,
“মহাবিশ্ব কি সত্যিই বড় হচ্ছে?”

রিয়াদ বলেছিল,
“হ্যাঁ। গ্যালাক্সিগুলো একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে… আর সেই দূরে যাওয়ার বেগও নাকি বাড়ছে।”

তৃষা হেসে বলেছিল,
“তাহলে মানুষও কি এমন হয়? ধীরে ধীরে দূরে চলে যায়?”

রিয়াদ তখন মজা করে বলেছিল,
“না, মানুষ চাইলে কাছে থাকতেই পারে।”

কথাটা বলার সময় সে জানত না—
কিছু বছর পর সেই কথাটাই ভুল প্রমাণ হবে।

আজ তৃষা অন্য শহরে, অন্য জীবনে।
কথা হয় না, খবরও না।

রিয়াদ আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবল—
হয়তো মহাবিশ্বের নিয়ম শুধু গ্যালাক্সির জন্য না।

কিছু মানুষও আছে,
যারা একসময় খুব কাছাকাছি ছিল—

তারপর অদৃশ্য কোনো শক্তি তাদের ধীরে ধীরে
এমন দূরে সরিয়ে দেয়,
যেখান থেকে আর ফিরে আসা যায় না।বৃষ্টির পরের ঠান্ডা রাতে রিয়াদ ছাদে দাঁড়িয়ে ছিল।
হঠাৎ মনে পড়ল—এই ছাদেই একদিন সে আর তৃষা মহাবিশ্ব নিয়ে কথা বলেছিল।

তৃষা আকাশের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল,
“মহাবিশ্ব কি সত্যিই বড় হচ্ছে?”

রিয়াদ বলেছিল,
“হ্যাঁ। গ্যালাক্সিগুলো একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে… আর সেই দূরে যাওয়ার বেগও নাকি বাড়ছে।”

তৃষা হেসে বলেছিল,
“তাহলে মানুষও কি এমন হয়? ধীরে ধীরে দূরে চলে যায়?”

রিয়াদ তখন মজা করে বলেছিল,
“না, মানুষ চাইলে কাছে থাকতেই পারে।”

কথাটা বলার সময় সে জানত না—
কিছু বছর পর সেই কথাটাই ভুল প্রমাণ হবে।

আজ তৃষা অন্য শহরে, অন্য জীবনে।
কথা হয় না, খবরও না।

রিয়াদ আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবল—
হয়তো মহাবিশ্বের নিয়ম শুধু গ্যালাক্সির জন্য না।

কিছু মানুষও আছে,
যারা একসময় খুব কাছাকাছি ছিল—

তারপর অদৃশ্য কোনো শক্তি তাদের ধীরে ধীরে
এমন দূরে সরিয়ে দেয়,
যেখান থেকে আর ফিরে আসা যায় না।

04/03/2026

#বসন্ত
তোমাকে প্রথম দেখেছিলাম ফাল্গুনের বিকেলে, শিমুল ফুল ঝরছিল নীরবে। চারদিকে এত রঙ ছিল, তবু তোমার মেরুনটাই আলাদা করে চোখে লেগেছিল। খোলা চুলে বাতাস খেলছিল, আর হাসলেই গালের ছোট্ট তিল টা এমনভাবে ফুটে উঠছিল যেন বসন্ত নিজের ঠিকানা বদলে তোমার মুখেই এসে উঠেছে।

সেদিন বুঝেছিলাম, ঋতু ক্যালেন্ডারে আসে না, কখনও কখনও সে মানুষ হয়ে আসে। আর আমার জন্য, সেই বসন্তের নাম ই ছিলে তুমি।

03/03/2026

#রঙিনদোষ

প্রকৃতিতে রঙ নেই—শুধু আলোর তরঙ্গ। আমাদের চোখে তিন ধরনের ফটো-সেল আছে, যা আলোর ফ্রিকোয়েন্সি ইলেকট্রো-কেমিক্যাল সংকেতে রূপান্তর করে। মস্তিষ্ক সেই সংকেতকে বিশ্লেষণ করে এবং আমাদের বলে, “এটা লাল।” শব্দ, ঘ্রাণ—সবই একইভাবে মস্তিষ্কের খেলা।
রুপার চোখে জনি ত্রুটিযুক্ত, স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। কিন্তু সে দেখছে শুধু দোষ নয়—তার মস্তিষ্ক সেই ত্রুটিগুলোকে রঙিন শেডে রূপান্তর করছে, সুন্দর করে তুলছে।
জনি হেসে বলল, “তুমি কি সবকিছু দেখো যেমন আমি?”
রুপা হেসে বলল, “না, তোমার দোষও আমি রঙিন দেখি। ঠিক যেমন বাস্তব রঙ মস্তিষ্ক তৈরি করে, আমি তোমার ত্রুটিকেও ভালোবাসার রঙে সাজাই।”

Address

Rajshahi

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Echoheaven posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share