30/05/2026
★ভালো স্টুডেন্ট হতে চাইলে বা স্টুডেন্ট লাইফের মোড় ঘুরাতে চাইলে নিচের লেখাটি তোমার জন্য:
অনেকেই পরিবর্তন চায়, কিন্তু সবাই পারে না। তুমি বর্তমানে যেভাবে জীবন-যাপন(Lifestyle) করছ, এভাবে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। পরিবর্তনের জন্য তোমাকে একটি সিস্টেমের মধ্যে প্রবেশ করতে হবে।
নিজেকে পরিবর্তন করতে হলে, নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করো—
১/ ফ্রেন্ড সার্কেল বদলাও:
“You are the average of your four friends.” অর্থাৎ তোমার গুণগত মান হলো তোমার ঘনিষ্ঠ চারজন বন্ধুর গড়। মানুষ তার পরিবেশ ও সঙ্গের প্রভাবেই গড়ে ওঠে। তুমি যদি দীর্ঘ সময় খারাপ মানুষের সঙ্গে মিশো, তাদের অভ্যাস, চিন্তাভাবনা ও আচরণ ধীরে ধীরে তোমার মধ্যেও চলে আসবে।
“তুমি যদি ৫ বছর ৩ জন চোরের সাথে চলো, ৫ বছর পর ৪র্থ চোর তুমি হবে; তুমি যদি ৫ বছর ৩ জন ধূমপায়ীর সাথে চলো, ৫ বছর পর ৪র্থ ধূমপায়ী তুমি হবে; তুমি যদি ৫ বছর ৩ জন জ্ঞানী ব্যাক্তির সাথে চলো, ৫ বছর পর ৪র্থ জ্ঞানী ব্যক্তি তুমি হবে।”
👉 “যেমন সঙ্গ, তেমন রং।”
২/ তুমি কেমন হতে চাও তা কল্পনা করো:
যার মতো হতে চাও, তার মতো করে কাজ করো। তোমার একটি রোল মডেল থাকা প্রয়োজন যাকে তুমি অনুসরণ করতে পারো।
তোমার একজন Mentor বা Coach থাকা দরকার। অনেকের বাবা-মা অথবা বড় ভাই-বোনের সেই দায়িত্ব পালন করার মতো যোগ্যতা আছে। যাদের পরিবারে এমন যোগ্য ও দক্ষ লোকের অভাব, তারা তোমার প্রতিষ্ঠানের একজন অল- রাউন্ডার শিক্ষকের নিয়মিত ফলো-আপে থাকো। তুমি তাঁকে বলো(sir/madam), "আমি আপনার কথা ছাড়া কিছুই করব না।"
মানুষ যা কল্পনা করতে পারে ও বিশ্বাস করতে পারে, তা বাস্তবায়নও করতে পারে।
আগে কল্পনা, পরে বাস্তব।
কেউ কোনো একদিন আকাশে উড়ার কল্পনা করেছিল বলেই বিমান আবিষ্কার হয়েছে।
এ. পি. জে. আব্দুল কালাম বলেছিলেন,
“মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়।” বড় স্বপ্ন ছাড়া, বড় হওয়া অসম্ভব। তাই কল্পনা করো, বড় স্বপ্ন দেখো।
৩/ এখনই শুরু করো, কোনো দেরি নয়:
আগামীকাল থেকে বা আগামী মাসের ১ তারিখ থেকে শুরু করব—এমন চিন্তা বাদ দাও। এখন যে অবস্থায় আছো, সেখান থেকেই শুরু করো। আগামীকাল আরও গতি বাড়িও।
জাপানি 5S পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারো—
Seiri (Sort): বাছাই করা
Seiton (Set in Order): গুছিয়ে রাখা
Seiso (Shine): পরিষ্কার রাখা
তোমার টেবিলের বইগুলো প্রয়োজন ও গুরুত্বের ক্রমানুসারে এখনই এভাবে সাজাও। টেবিলটা পরিষ্কার একটি পানির বোতল টেবিলে রাখো। টেবিলের সামনে একটি ক্যালেন্ডার টানাও।
৪/ কাইজেন বজায় রাখো (জাপানি পদ্ধতি, প্রতিদিন অল্প উন্নতি):
Be regular in everything. ক্লাস, কোচিং, প্রাইভেট ও রুটিন মেনে পড়া, সবকিছুতে।
Go slowly, but never backward.
আস্তে এগিয়ে যাও, কিন্তু কখনো পিছিয়ে যেও না।
আজ অল্প পড়ো, কিন্তু আগামীকাল যেন তার চেয়ে কম না হয়। ধীরে ধীরে নিজেকে একটি নির্দিষ্ট রুটিনে নিয়ে যাও এবং তারপর সেই রুটিন মেনে পড়তে থাকো।
অভ্যাস গঠন করো। প্রথমে কষ্ট মনে হলেও, পরে কষ্ট হবে না।
প্রথম দিনেই ৮ ঘন্টা পড়ার দরকার নেই, বরং প্রথম দিন ৩ ঘন্টা দিয়ে শুরু করো। দেয়ালে একটা সাদা কগজ টানিয়ে আজকের তারিখ দিয়ে লেখ ৩ ঘন্টা। আগামীকাল ৩ ঘন্টা ৩০ মিনিট। পরশু ৩ ঘন্টা ৪:৪৫ মিনিট। এভাবে আস্তে আস্তে ৮ ঘন্টায় পৌঁছাও। প্রতিদিন তারিখ দিয়ে সময় লিখে রাখো । ১ মাসে ৮, ১০ বা ১২ ঘন্টায় পৌঁছাও। তারপর একটি মানসম্মত রুটিন করে সেটা নিয়মিত মেনে চলো। প্রতিদিন ৮ ঘন্টা পড়াশোনা করলে যথেষ্ঠ। তবে যারা আগে ফাঁকি দিয়েছ, তাদের সেই গ্যাপ পূরণের জন্য সামনে বেশি পড়তে হবে।
৫/ Consistency বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখো:
সফলতার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো ধারাবাহিকতা।
If you miss one day, it’s an accident. If you miss twice, it’s the beginning of a new habit.(জেমস্ ক্লয়ার)
তাই রুটিনের কোনো কিছু যেন দুইদিন মিস না হয়। প্রথম দিনের মিস দুর্ঘটনা, ২য় দিন মিস মানে খারাপ অভ্যাসের দিকে চলে যাওয়া। So never miss twice.
৬/ ফোন (যদি থাকে) চোখের আড়ালে রাখো:
রুটিন টাইমে ফোন টেবিলে রাখবে না। টেবিলে ফোন থাকলে অজান্তেই সেটার দিকে মন চলে যাবে। “৫ মিনিট দেখব” ভাবলেও কখন যে ৩০–৩৫ মিনিট চলে যাবে, তা বুঝতেই পারবে না।
৭/ অজুহাত দেওয়া বন্ধ করো:
সুযোগ-সুবিধার অজুহাত দিও না। একই পরিবারের দুই ভাই সমান সুযোগ পেয়েও ভিন্ন ফলাফল করে।
মানুষের সবচেয়ে বড় বাধা তার অজুহাত, আর সবচেয়ে বড় শক্তি তার ইচ্ছাশক্তি।
কোনো কিছু অর্জনের জন্য তোমার প্রবল ইচ্ছা (burning desire) থাকতে হবে।
একটি গল্প মনে রাখো—
এক ব্যক্তি সক্রেটিসের কাছে সফলতার রহস্য জানতে চাইল। সক্রেটিস তাকে নদীতে নিয়ে গেলেন এবং পানি নিচে চেপে ধরলেন। যখন সে হাঁসফাঁস করতে লাগল, তখন তাকে ছেড়ে দিলেন।
তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি পানির নিচে সবচেয়ে বেশি কী চেয়েছিলে?”
লোকটি বলল, “অক্সিজেন।”
সক্রেটিস বলল, "কীভাবে?"
লোকটি বলল, " আমি সবকিছুর কথা ভুলে গিয়েছিলাম এবং সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে শুধু অক্সিজেন চেয়েছিলাম।"
সক্রেটিস বললেন, “যেদিন সফলতাকেও এভাবে চাইবে, সেদিনই সফল হবে এবং এটাই সফলতার গোপন রহস্য।"
৮/ সবশেষে মনে রেখো:
তোমাকে কষ্ট করতেই হবে—হয় এখন, না হয় পরে।
কিন্তু পরে কষ্ট করে সেই সুবিধা পাওয়া যায় না, যা স্টুডেন্ট লাইফে পাওয়া সম্ভব।
স্কুলে সবচেয়ে বেশি কাজ করে কেরানি, কিন্তু বেতন বেশি পায় হেডমাস্টার।
“যদি তুমি হাল না ছাড়ো এবং নিজের কাজে নিয়মিত থাকো, তবে তুমি অবশ্যই বিজয়ী হবে।”
"বিজয়ীরা ভিন্ন ধরনের কাজ করে না, তারা একই কাজ ভিন্নভাবে করে।"(শিব খেরা)
©মো. লুৎফর রহমান আরিফ স্যার
HSC & Admission Preparation
BCS Aspirants
Tuhin Hossain