08/03/2026
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে রুয়েটে যুক্তিতর্কে মুখর ব্র্যাকের "বিতর্ক প্রতিযোগিতা"
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠান ‘শিখা’র উদ্যোগে একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রবিবার (৮ মার্চ) নারী দিবসে ব্র্যাকের সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স প্রোগ্রাম বিষয়ক প্রতিষ্ঠান "শিখা"র উদ্যোগে আয়োজিত এই বিতর্ক প্রতিযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার সভাপতিত্ব করেন রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. রবিউল ইসলাম সরকার। বিচারক হিসেবে ছিলেন রুয়েট ইটিই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: আবু ইসমাইল সিদ্দিকী, ইসিই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ঐশি জ্যোতি এবং স্থাপত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জেড. এইচ. এম. মঞ্জুর মোর্শেদ।
"এই সংসদ মনে করে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা পুরুষদের জন্য ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনে" শিরোনামে অনুষ্ঠিত আজকের প্রতিযোগিতায় সরকারি দল (পক্ষ দল) ও বেসরকারি দল (বিপক্ষ দল) অংশগ্রহণ করে। সরকারি দলে ছিলেন রুয়েট ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী চিন্ময় সেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু নাঈম এবং রাজশাহী কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সাবিহা আহমেদ। অন্যদিকে বেসরকারি দলে ছিলেন রাজশাহী কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া সানজিদা, নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হোমায়রা তাবাসসুম এবং রুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুস্তফা মুবাশশির সাবিত।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও বিতর্কে মুখর প্রতিযোগিতা শেষে ২–১ ব্যালটে জয়ী হয় সরকারি দল (পক্ষ দল)। এছাড়াও সরকারি দলের সেরা বিতার্কিক নির্বাচিত হন আবু নাঈম এবং বেসরকারি দলের সেরা বিতার্কিক নির্বাচিত হন হোমায়রা তাবাসসুম।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে ‘GiveToGain’ প্রতিপাদ্যে এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের শিখা (Shikha) প্রকল্পের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন ব্র্যাকের শিখা প্রকল্পের সিনিয়র সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স ডেভেলপার কাজী লুৎফুন নাহার এবং রাশেদ উজ জামান ভূঁইয়া।
বিচারক মণ্ডলীর পক্ষ থেকে সহকারী অধ্যাপক মো: আবু ইসমাইল সিদ্দিকী বলেন,"আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে নারী ও পুরুষ সমান মর্যাদা ও অধিকারের অধিকারী। নারীর সম্মান, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হলেই আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে পারব।"
সরকারি (পক্ষ) দলের সদস্য সাবিহা আহমেদ নারী দিবস সম্পর্কে মতামত জানাতে বলেন,"নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে নারীরা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজেরই এক বড় শক্তি। একজন নারী কখনো মা, কখনো বোন, কখনো বন্ধু—ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে সে ভালোবাসা, ত্যাগ আর সাহসের উদাহরণ হয়ে থাকে। আজকের দিনে নারীরা শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র ও সমাজের নানা ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতা ও সক্ষমতা প্রমাণ করছে। তবে নারীর এই অগ্রগতির পেছনে অনেক পুরুষের ইতিবাচক ভূমিকা ও সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। একজন সচেতন বাবা, সহানুভূতিশীল ভাই, কিংবা সহযোগী স্বামী যখন একজন নারীর স্বপ্নকে সম্মান করে ও পাশে দাঁড়ায়, তখন সেই নারী আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারে। নারী দিবস আমাদের এই বার্তাই দেয়—পরস্পরের প্রতি সম্মান ও সমর্থনের মধ্য দিয়েই আমরা একটি আরও সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়তে পারি।"
এছাড়াও রুয়েট শিক্ষার্থী চিন্ময় সেন বলেন, "আন্তর্জাতিক নারী দিবস কেবল নারীদের অর্জন উদযাপনের দিন নয়, বরং এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার আহ্বান। যখন নারীর অধিকার বাস্তবায়িত হয়—শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়—তখন তার ইতিবাচক প্রভাব শুধু নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং পুরুষদের জীবনেও গভীর পরিবর্তন আনে। ফলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গড়ে ওঠে যেখানে সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ন্যায়বোধ শক্তিশালী হয়। তাই নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা শুধু নারীর অগ্রগতি নয়, এটি পুরুষের মানসিক, সামাজিক ও নৈতিক উন্নয়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।"
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে যুক্তিনির্ভর আলোচনা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
08/02/2026
21/01/2026
15/01/2026
14/01/2026