আইনী পড়াশোনা

আইনী পড়াশোনা

Share

Legal

01/10/2025
23/09/2025

#আগাম জামিনটা কি? একটু জেনে রাখি:

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় বলা হয়েছে, এই অধ্যায়ের অধীন সম্পাদিত প্রত্যেকটি মুচলেকার অর্থের পরিমাণ মামলার পরিস্থিতি বিবেচনা করিয়া নির্ধারণ করিতে হইবে এবং উহা অত্যধিক হইবে না এবং দণ্ডের পর আপিল থাকুক আর না থাকুক, #হাইকোর্ট বিভাগ বা #দায়রা আদালত যেকোন ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করিবার বা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দাবিকৃত জামিন হ্রাস করিবার নির্দেশ দিতে পারিবেন।

#আগাম জামিন কি?
আগাম জামিন হচ্ছে #গ্রেফতারপূর্ব জামিন। মামলা হওয়ার পর এবং গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন চাওয়া হয়।

#আগাম জামিনের বিষয়ে বিখ্যাত নজীর:

১। 19 BLC (2014) 372. Shahjahan (Md) vs State, এই মামলায় বলা হয়েছে, যেহেতু মামলার নথি চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নিকট স্বাভাবিক ভাবে পড়ে থাকে সেক্ষেত্রে জামিনের আবেদন সহ অভিযুক্ত আবেদনকারীর পক্ষে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করার সুযোগ থাকে না। সেকারণে আগাম জামিনের আবেদন মামলায় বিদ্যমান বাস্তবতাসহ পদ্ধতিগত দৃষ্টি কোণে সচল গণ্য হয়।

২। 19 BLC (2014) 454. Mahfuz Ali vs State, represented by the DC, Chittagong. অভিযুক্ত আবেদনকারী একজন মূত্রনালী তথা কিডনীর সংক্রমানগত ক্যান্সার রোগী এবং সে ইতিমধ্যে ৭ বার কেমোথেরাপী গ্রহণ করেছে। বর্তমান অভিযুক্ত আবেদনকারী প্রাণঘাতী সংক্রমনগত ক্যান্সার রোগ ভোগ করছেন, অভিযুক্ত আবেদনকারী স্বাস্থ্যগত কারণে জামিন পেতে হকদার কারণ তিনি ক্যান্সারের মত প্রাণঘাতী রোগ ভোগ করছেন।

30/08/2025

আল্লাহ আপাতত ধৈর্য্য ছাড়া কিছু চাইনা।যে আমাকে কষ্ট দিয়েছে তাকে ক্ষমা করার তৌফিক দিও। আর আমাকে শান্তি দিও আল্লাহ

26/08/2025

#আলোচ্য বিষয়-
জমি কেনার আগে অবশ্যই যে বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করবেন:

I. প্রথমেই , জমির তফসিল অর্থাৎ জমির মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর এবং উক্ত দাগে জমির মোট পরিমাণ সম্পর্কে জানতে হবে।

II. যার কাছ থেকে জমি কিনবেন তার কাছ থেকে ঐ জমি সংক্রান্ত সকল কাগজপত্রের ফটোকপি চেয়ে নিন, যেমন- সি.এস খতিয়ান, এস.এ খতিয়ান , আর.এস খতিয়ান, বি.এস/ঢাকা সিটি জরীপের খতিয়ানসহ সর্বশেষ পর্যন্ত যে সকল বেচাকেনা হয়েছে সেগুলোর বায়া দলিল(chain of title), নামজরী খতিয়ান এবং হাল সনের খাজনার দাখিলাসহ সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র।

III. যার কাছ থেকে জমি কিনবেন সে যদি ক্রয়সূত্রে ভূমির মালিক হয়ে থাকলে তার ক্রয় দলিল বা বায়া দলিল রেকর্ডের সঙ্গে মিল করে বিক্রেতার মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে এবং সে যদি উত্তরাধিকার সূত্রে ভুমির মালিক হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে সর্বশেষ জরিপের খতিয়ান বিক্রেতা বা তিনি যার মাধ্যমে প্রাপ্ত তাঁর নামে অস্তিত্ব (যোগসূত্র) মিলিয়ে দেখতে হবে।

IV. উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি বিক্রেতার শরিকদের সঙ্গে বিক্রেতার সম্পত্তি ভাগাভাগির বণ্টননামা (ফরায়েজ) দেখে নিতে হবে। বিক্রেতা যদি বলেন যে আপোষমুলে বণ্টন হয়েছে, কিন্তু রেজিস্ট্রি হয়নি, তবে ফারায়েজ অনুযায়ী বিক্রেতা যেটুকু অংশের দাবিদার শুধু সেটুকু কিনাই নিরাপদ হবে।

V. উক্ত জমিটি নিয়ে কোন মামলা বিচারাধীন আছে কিনা কিংবা কোন প্রকার মামলা নিস্পত্তি হয়েছে কিনা এবং ব্যাংক কিংবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে জমিটি বন্ধক/ দায়বদ্ধতা আছে কিনা।

VI. যাচাই করতে হবে জমিটি খাস, পরিত্যক্ত, শত্রু স¤পত্তি কিনা বা সরকার কোন কারনে অধিগ্রহণ করেছে কিনা সে বিষয়ে উপজেলা ভূমি অফিস বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এল এ শাখা থেকে জেনে নিতে হবে।

VII. জমির মালিক নাবালক বা অপ্রকৃতিস্থ কিনা লক্ষ্য রাখতে হবে। নাবালক হলে আদালতের মাধ্যমে অভিভাবক নিযুক্ত করে বিক্রয়ের অনুমতি নিতে হবে।

VIII. সর্বশেষ নামজারি পরচা ডিসিআর খাজনা দাখিল (রসিদ) যাচাই করে দেখতে হবে।

IX. জমির মালিকানা স্বত্ব সঠিক পাওয়ার পর আপনাকে সি.এস/আর.এস/বি.এস/ঢাকা সিটি জরীপের নকশা নিয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখতে হবে নকশা অনুযায়ী ঐ জমিটি সেই দাগের কিনা এবং সাব–রেজিস্ট্রারের অফিসে তল্লাশি দিয়ে জমির সর্বশেষ বেচাকেনার তথ্য জেনে নেওয়া যেতে পারে।

X. এরপর বিক্রয়ের জন্য নির্দিষ্ট জমিটি বর্তমানে কে দখলে আছে, কিনতে গেলে কোন কারনে ভোগ দখলে বাধাগ্রস্থ হবে কিনা কিংবা রাস্তা বা পথাধিকারের কোন বাধা নিষেধ আছে কিনা তাও সরেজমিনে যাচাই করে নিতে হবে।

বিঃ দ্রঃ - নিজে জানুন এবং অন্য কে জানতে সাহায্য করুন।

17/08/2025

আদালতে জেরা চলছে। সাক্ষী অন্ধ, চোখে দেখতে পায় না। উনি বিবাদীপক্ষের স্বাক্ষী । বাদীপক্ষের আইনজীবী খুবই কড়া জেরা করছে। স্বাক্ষী এবং আইনজীবী হুটহাট চিৎকার করে উঠছেন। এমন অবস্থায় আইনজীবী প্রশ্ন করলেন " বাদীরা তো এখনো নালিশী ভূমিতেই থাকে, ঐখানের বাড়ি থেকেই আজ কোর্টে আসছে। বলেন সত্য কিনা? "

পেছন থেকে বিবাদীর আইনজীবী সাক্ষীকে উদ্দেশ্য করে হাত উঁচু করে নেড়ে নেড়ে "না" বলার সাজেশন দিচ্ছেন। এতটাই হাত উঁচু করেছেন, সবাই দেখছেন। একদম ভিজিবল ।
জজ সাহেব তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, "লার্নেড, আপনি মনে হয় ভুলে গিয়েছেন, আপনার সাক্ষী চোখে দেখে না। "

(আদালতের দিনাতিপাত)

17/08/2025

জমি দখল হলে বা উচ্ছেদের চেষ্টা হলে জরুরি ব্যবস্থা: নতুন আইন বাস্তবায়নে দ্রুত প্রতিকার সম্ভব।

বাংলাদেশের ভূমি অধিকার রক্ষায় বড় পরিবর্তন এসেছে। জমি দখল বা উচ্ছেদের শিকার ব্যক্তিরা এখন দীর্ঘসূত্রী দেওয়ানি মামলা ছাড়াই দ্রুত এবং কার্যকর প্রতিকার পেতে পারেন। ২০২৩ সালের “ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন” ও ২০২৪ সালের সংশ্লিষ্ট বিধিমালা কার্যকর হওয়ায় জমির প্রকৃত মালিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ত্বরিত ন্যায্যতা অর্জন করতে পারবেন।

জমি দখল বা উচ্ছেদ হলে কি করবেন?
আইনের ৭ নম্বর ধারার অধীনে, যদি কেউ আপনার বৈধ মালিকানাধীন জমি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ বা দখল করার চেষ্টা করে, তবে আপনি সরাসরি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত আবেদন করতে পারেন। এই আবেদনের সঙ্গে জমির মালিকানা প্রমাণ করার জন্য দলিলপত্র, খতিয়ান, নামজারি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে।

আবেদন নিজে বা আইনজীবীর মাধ্যমে দাখিল করা যাবে এবং এটি নির্ধারিত ফরমে করতে হবে যা ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিধিমালা, ২০২৪ অনুযায়ী প্রস্তুত।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকা কী?

🔹 অভিযোগ প্রাপ্তির পর অপর পক্ষকে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ প্রদান করবেন।

🔹 প্রয়োজনে সরেজমিন তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জমি যাচাই করবেন।

🔹 যাচাই শেষে যথাযথ আদেশ দিয়ে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করবেন।

জরুরি অবস্থায় ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ ক্ষমতা

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দখলদারকে উচ্ছেদ করে জমির দখল প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারবেন।

🔹 আদেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হবে।

🔹 ভবিষ্যতে জমি দখল রোধে বন্ড নেওয়ারও বিধান রয়েছে।

নিষ্পত্তির সময়সীমা

আইন অনুযায়ী, জমি দখল সংক্রান্ত অভিযোগ ৪৫ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে জমি যদি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া হয় বা বণ্টন না হয়ে থাকে, কিংবা দেওয়ানি আদালতে মামলা চলমান থাকে, সেই ক্ষেত্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। তখন দেওয়ানি আদালতে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মোবাইল কোর্টের আবেদন করা যাবে।

কেন এই আইন গুরুত্বপূর্ণ?

আগে জমি দখল বিরোধ নিষ্পত্তিতে অনেক সময় এবং খরচ হয় দীর্ঘসূত্রী দেওয়ানি মামলার কারণে। নতুন আইন বাস্তবায়নের ফলে সাধারণ মানুষ দ্রুত ন্যায্যতা পাচ্ছে এবং ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এটি ভূমি অধিকার রক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষ পরামর্শ

জমি সংক্রান্ত সকল দলিল ও দস্তাবেজ সর্বদা প্রস্তুত রাখা জরুরি। সমস্যার শুরুতেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা অভিজ্ঞ আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে দ্রুত ও সুষ্ঠু প্রতিকার পাওয়া যায়।

সুত্র: ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এবং বিধিমালা, ২০২৪

17/08/2025

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ অনুযায়ী, পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ। নৌ-বন্দর একটি পাবলিক প্লেস ও লঞ্চ পাবলিক পরিবহন। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এগুলো ব্যবহার করে। এসব স্থানে ধূমপান করলে শিশু, নারীসহ অধূমপায়ীদের ক্ষতি হয়। এসব স্থানে কাউকে ধূমপান করতে আইন সম্পর্কে জানান ও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন। |

15/08/2025

একটি অমানবিক মৃত‍্যুদন্ড...
১৯১৬ সালের ২৩ শে সেপ্টেম্বর ...
পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা ঘটে, কারণ ওইদিন পৃথিবীতে প্রথম এবং শেষ কোনও হাতিকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

আজ আমরা সেই কাহিনীই জানব বিস্তারিতভাবে।

ঘটনাটি আমেরিকার শহর টেনেসি শহরের কিংস্টনে ঘটেছিল।সেখানকার এক সার্কাস দলে কাজ করত 'বিগ ম্যারি' নামের এক বৃহদাকার হাতি। ওজন ছিল পাঁচ টন। ম্যারি সার্কাসে দুর্দান্ত সব কসরত দেখিয়ে মানুষকে অভিভূত করে রাখত। ম্যারিকে দেখতেই সার্কাসে ভিড় হত।এই সার্কাস দলের নাম ছিল স্পার্কস ওয়ার্ল্ড ফেমাস শো ট্র্যাভেল সার্কাস। মালিকের নাম 'চার্লি স্পার্কস'। স্পার্কসের বাবা মরিয়ম বা ম্যারি'কে চার বছর বয়সে সম্ভবতঃ দশহাজার পাউন্ডের বিনিময়ে কিনেছিলেন।

এই সার্কাস দলটির মালিক একদিন হাতিদের পুরোনো মাহুতকে অপসারণ করে নতুন কর্মচারী রেড এল্ড্রিক্স'কে নিয়োগ করেন হাতিদের দেখাশুনো করতে এবং হাতিদের নিয়ে কসরত দেখাতে।রেড হাতিদের বিষয়ে অতটা অভিজ্ঞ ছিলনা। তাছাড়া নতুন কর্মচারী হওয়ায় সে হাতিদের আচরণ, ইচ্ছে এসবও ঠিক -ঠাক বুঝতনা। একদিন খেলা চলার সময় রেড ম্যারির উপরে বসে খেলা দেখাচ্ছে।সব কিছু ঠিক-ঠাক চলছিল, ম্যারি দুই পা তুলে পেছন পায়ে ভর দিয়ে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে যাচ্ছে।কিন্তু সেসময় মাহুত রেড অযথাই ম্যারির কানে লোহার শিক দিয়ে আঘাত করতে থাকে। একসময় ম্যারির মেজাজ চড়ে যায় সে রেডকে টেনে নিচে নামিয়ে পা দিয়ে পিষে মেরে ফেলে।

ঘটনায় সমগ্র সার্কাস প্রাঙ্গণ এবং শহর জুড়ে ম্যারি বিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠে। সবার এক দাবি যে হত্যাকারী হাতিকে সাজা দিতে হবে। তা নাহলে আন্দোলন থামবেনা। একটি হাতি থেকে একজন মানুষের প্রাণের মূল্য যে অনেক বেশি।কেউই চার্লি স্পার্কস-এর কোন শো দেখতে যাচ্ছিলনা এই ঘটনার প্রতিবাদে।সার্কাস দলটিই একসময় প্রায় বন্ধ হয়ে হওয়ার উপক্রম হল। সার্কাস মালিক কোনমতেই জনগণকে
বোঝতে পারছিলেন না যে রেড হত্যায় ম্যারির দোষ যতটা তার চেয়ে বেশি রেড- এর কেননা সেই অনাবশ্যক ম্যারিকে উত্তেজিত করে তুলছিল।

ম্যারি একটি অবলা প্রাণী তার দোষ নেই। কিন্তু মানুষ তা বুঝলনা।শেষে বাধ্য হয়েই সার্কাস মালিক সিদ্ধান্ত নিলেন ম্যারিকে হত্যা করে জনরোষ শান্ত করা হবে।কিন্তু কিভাবে? ..
বিশালদেহী এশিয়ার এই হাতি এতই বড় ছিল যে তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পন্থা নিয়েই অনেক ভাবতে হয় সবাইকে।

কেউ বলল গুলি করে মারা হোক, কেউ বলল দুটো ট্রেনের মাঝে দাঁড় করিয়ে পিষে ফেলা হোক। কেউ কেউ আবার পরামর্শ দিল যে না ওতে উপযুক্ত শাস্তি হবে না, বরঞ্চ ইলেকট্রিক শক দিয়ে মারা হোক। কিন্তু ওইসময় ওখানে বিদ্যুতায়িত করবার মত বিদ্যুতের অভাব ছিল।তাই পরিশেষে সিদ্ধান্ত হয় ম্যারিকে ক্রেনে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেয়া হবে। তাই বিশাল এক ক্রেন নিয়ে আসা হল। শহরের বিক্ষুব্ধ সব নাগরিককে আমন্ত্রন জানানো হল।

সবাই মেতে উঠলো ভয়ংকর এক হত্যালীলা প্রত্যক্ষ করতে। সবার চোখে তখন প্রতিশোধের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে।খুন করে তবেই শান্তি ফাঁসীতেই ঝোলাতে হবে খুনী হাতিটিকে, আর সেটাই হবে ওর উপযুক্ত শাস্তি! এই সভ্য মনুষ্য সমাজে ওর ঠাঁই নেই.. ঠাঁই নেই.. ঠাঁই হবেনা !!

ম্যারিকে অবশেষে বিশাল এক চেন দিয়ে ক্রেনের হুকে বাঁধা হল।ক্রেন যেই চালু করা হল মুহূর্তে ম্যারিকে এক হ্যাঁচকা টানে ২০ ফুট উপরে তুলে নিল।ম্যারি অনেক স্বাস্থ্যবান হওয়াতে মুহূর্তে ক্রেনের চেন ছিঁড়ে ২০ ফুট উপর থেকে নীচে পড়ে গেল। পড়ামাত্র ম্যারির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে গেল। পা ও ভেঙ্গে যায় বেচারার।গলা কেটে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। তথাপি উপস্থিত সুসভ্য ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গের মনে করুণার উদ্রেক হয় না।পুনরায় ম্যারিকে ক্রেনের চেনের সাথে বাঁধা হল। থেমে গেলে চলবেনা, কোনরূপ দয়া দেখালে চলবে না এই খুনী হাতির প্রতি। শাস্তি নিশ্চিত করতেই হবে।

অন্তিম চেষ্টায় ম্যারি ফাঁসির চেনে ছটফট করতে করতেই প্রাণত্যাগ করল। মুহূর্তে উল্লাসে ফেটে পড়ে উপস্থিত সুশিক্ষিত ব্যাক্তিবর্গ ! হ্যাঁ ! এতক্ষণে উপযুক্ত শাস্তি পেল পাপী, ঘৃণ্য জন্তুটা !! কোনও খুনী পার পাবে না।ধরাধামে আমরা মনুষ্যজাতিই যে সর্বশ্রেষ্ঠ। আমরা বুদ্ধিমানও বটে। আমরাই কেবল দিতে পারি নিরপেক্ষ বিচার। জয় মনুষ্যকুলের জয় ! জয় মানবতার জয় ! মানবতা ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার জয়ধ্বনি দিতে দিতে সন্মিলিত জনতা একরাশ খুশি নিয়ে বাড়ির পথ ধরে। সার্কাসের মালিকের মনও বেশ খুশি খুশি। আবারও ডলারে ভরে উঠবে পকেট। আনন্দে দু'কলি গান গুনগুন করতে চায় বুঝি মন।

এখন প্রশ্ন হল , আসলে ওইদিন
ফাঁসীতে কে ঝুলেছিল ? ম্যারি কি সত্যি মারা গিয়েছিল ? না কি আসলে ম্যারি মারা যায়নি, ফাঁসীর চেনে ওইদিন নৃশংসভাবে ঝোলানো হয়েছিল মানবতা, দয়া- মায়া ও সভ্যতার ?..

পরমেশ্বরের সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে দাবী করা মনুষ্য সমাজের কাছে একটু সহানুভূতি ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গোটা ঘটনাটির পর্যালোচনা করবার আশা করা কি অন্যায় হত ? এ প্রশ্ন তুলে দিয়ে গিয়েছিল ইতিহাসের এই মর্মস্পর্শী ঘটনাটি।

এই মর্মন্তুদ ঘটনাটির প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ আজ এই টেনেসি শহরের নাগরিকেরা মাতঙ্গকুলের রক্ষার্থে অহর্নিশ কাজ করে চলেছেন।

সূত্রঃ উইকিপিডিয়া | collected

11/08/2025

ফৌজদারি কার্যবিধির যুগান্তকারী সংস্কার

ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইন ‘ফৌজদারি কার্যবিধি’ দ্বিতীয়বারের মতো সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিভিন্ন মামলায় উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে এই সংশোধন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় যুগান্তকারী কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি
বর্তমানে গ্রাম আদালতের জরিমানা করার ক্ষমতা তিন লাখ টাকা, অথচ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানা করার এখতিয়ার মাত্র দশ হাজার টাকা। এবারের সংশোধনীতে ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটদের জরিমানা করার এখতিয়ার বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের জরিমানা করার ক্ষমতা দশ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা এবং তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষেত্রে দুই হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে (ধারা ৩২)।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির রক্ষাকবচ
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির সুরক্ষায় ঐতিহাসিক ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ মামলায় আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগের পর্যবেক্ষণসমূহকে ফৌজদারি কার্যবিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। নতুন ৪৬এ ধারায় বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার করার সময় গ্রেপ্তারকারীর নেমপ্লেট থাকতে হবে, নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। যেক্ষেত্রে আসামিকে তার বাড়ির বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, সেক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের পর অবিলম্বে (যা কোনোভাবেই ১২ ঘণ্টার বেশি হবে না) আসামির পরিবার বা নিকটজনকে জানাতে হবে। গ্রেপ্তারের সময় আসামির শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলে বা আসামি অসুস্থ হলে অবশ্যই তার প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং আঘাত বা অসুস্থতা সম্পর্কে চিকিৎসকের প্রত্যয়ন গ্রহণ করতে হবে। আসামি যদি আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী হন, সেক্ষেত্রে তাকে সেই সুযোগ দিতে হবে।

মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির সুরক্ষায় এবারের সংশোধনীতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিধান হলো ‘মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট’ এর প্রবর্তন (ধারা ৪৬এ)। আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এই বিধান এবং এ-সম্পর্কিত একটি ফর্ম যুক্ত করা হয়েছে। যেকোনো গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রেই পুলিশকে এখন থেকে ‘মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট’ প্রস্তুত করতে হবে। এই ফর্মে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির আইনি সুরক্ষাসমূহের একটি চেকলিস্ট রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে উপস্থাপনের সময় এই ফর্মটিও দাখিল করতে হবে। রক্ষাকবচ সম্পর্কিত বিধানসমূহ কতটা প্রতিপালিত হয়েছে, এই ফর্ম দেখে ম্যাজিস্ট্রেট সেটি তদারকি করতে পারবেন। উল্লেখ্য, আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে দেশের কিছু জেলায় বর্তমানে এই ফর্ম সফলভাবে চালু আছে। ফৌজদারি কার্যবিধিতে সন্নিবেশ করার ফলে এখন থেকে সারা দেশে এই বিধান বাস্তবায়িত হবে।

গ্রেপ্তারের তথ্য সরবরাহে বিশেষ বিধান
গ্রেপ্তারকৃতের তথ্য পেতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির পরিবারকে ভয়ানক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গ্রেপ্তারকৃতকে কেন বা কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কোথায় রাখা হয়েছে, তার সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করা যাবে—এ-সম্পর্কিত তথ্যপ্রাপ্তি খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। নতুন বিধান যুক্ত করে এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। ৫৪এ ধারায় বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হবে। আবার ৪৬বি এবং ৪৬সি ধারায় বলা হয়েছে, প্রতিটি গ্রেপ্তারের তথ্য গ্রেপ্তারকারীর অফিসের রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি যে থানা এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই থানার সাধারণ ডায়েরিতেও এন্ট্রি করতে হবে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির পক্ষে কেউ থানায় যোগাযোগ করলে তাকে গ্রেপ্তার সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য অবশ্যই সরবরাহ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতি থানা, জেলা ও মহানগর পুলিশ অফিসে প্রতিদিন গ্রেপ্তারের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

গ্রেপ্তারকৃতের টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রীর তালিকা
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির কাছে অনেক সময় টাকা-পয়সা, অলঙ্কার, মোবাইল ফোন ইত্যাদি মূল্যবান সামগ্রী থাকে। এসব দ্রব্য যদি অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, সেক্ষেত্রে মামলার জব্দতালিকায় সেগুলো উল্লেখ করা হয়। কিন্তু অনেক সময় এসব মূল্যবান বস্তুর সঙ্গে অপরাধের সংযোগ থাকে না। সেক্ষেত্রে এসব সামগ্রী নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। এখন থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির কাছে এমন মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া গেলে তার জন্য পৃথক তালিকা প্রস্তুত করতে হবে এবং সম্ভব হলে সেই তালিকায় একজন সাক্ষীর স্বাক্ষর গ্রহণ করতে হবে। ওই তালিকার একটি কপি গ্রেপ্তারকৃতের নিকটজনকে দিতে হবে। (ধারা ৫১)।

৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারে অধিকতর সতর্কতা
অনেকের ধারণা, ৫৪ ধারার গ্রেপ্তার মানে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়াই খামখেয়ালী গ্রেপ্তার। মনে করা হয়, মামলাসূত্রে যেসব গ্রেপ্তার, সেগুলো ৫৪ ধারার অধীন নয়। অথচ বাস্তবতা হলো, পুলিশ যেসব ক্ষেত্রে আদালতের পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার করতে পারে, ৫৪ ধারায় তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা রয়েছে। থানায় দায়েরকৃত এজাহার কিংবা আদালত দায়েরকৃত নালিশি মামলা- তদন্ত যদি পুলিশ কর্তৃক পরিচালিত হয়, আর পুলিশ যদি আমলযোগ্য (কগনিজেবল) অপরাধের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পায়, সেক্ষেত্রে আসামিকে ওই মামলাসূত্রে পুলিশের গ্রেপ্তার করার যে ক্ষমতা, সেটিও ৫৪ ধারার বিষয়বস্তু।

এবারের সংশোধনীতে আমলযোগ্য অপরাধ সম্পর্কিত পুলিশের গ্রেপ্তারের এই ক্ষমতা আরও সুনির্দিষ্ট ও জবাবদিহিমূলক করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমলযোগ্য অপরাধে কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে হলে পুলিশকে দেখাতে হবে, পুলিশের সামনে ওই ব্যক্তি অপরাধটি ঘটিয়েছেন। অন্যদিকে, আমলযোগ্য অপরাধ সংক্রান্ত কোনো এজাহার বা নালিশি মামলা পুলিশের কাছে তদন্তাধীন থাকলে এবং পুলিশ ওই মামলা সংক্রান্তে কাউকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে পুলিশকে দেখাতে হবে, অপরাধটি ওই ব্যক্তি করেছেন মর্মে পুলিশের সন্দেহ করার যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে। যেখানে আমলযোগ্য অপরাধটির সাজা সাত বছর বা তার কম, সেক্ষেত্রে পুলিশকে আরও দেখাতে হবে যে, আসামি অধিকতর অপরাধ জড়ানো থেকে প্রতিহত করতে, তার পালিয়ে যাওয়ার ঠেকাতে বা সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপাট করা থেকে তাকে বিরত রাখতে এই গ্রেপ্তার জরুরি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে আসামিকে গ্রেপ্তার করা কিংবা না করা উভয় ক্ষেত্রেই পুলিশকে এর কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তিকে নিবারণমূলক আটক করার প্রয়োজনে ৫৪ ধারার বিধান প্রয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার সম্পর্কিত বিধানের প্রতিপালনে আদালতের দায়িত্ব
গ্রেপ্তার সম্পর্কিত যেসব বিধান আইনে আছে, সেগুলো সঠিকভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা, তা দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতকে। ৬৭এ ধারায় বলা হয়েছে, যে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতের সামনে গ্রেপ্তারকৃত আসামি হাজির করা হবে, তার দায়িত্ব হবে গ্রেপ্তার সম্পর্কিত বিধানাবলি প্রতিপালন হয়েছে কিনা দেখা। কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আদালত অবহেলাকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিতে পারবে।

পুলিশ রিমান্ড ও শ্যোন অ্যারেস্ট
একজন আসামিকে কতদিন পর্যন্ত পুলিশ রিমান্ডে রাখা যায়, সে ব্যাপারে ফৌজদারি কার্যবিধির বিদ্যমান বিধান অস্পষ্ট। এবার ১৬৭ ধারায় সংশোধন করে বলা হয়েছে, এক মামলায় কোনোভাবেই ১৫ দিনের বেশি পুলিশ রিমান্ড নয়। একই সঙ্গে রিমান্ডে প্রেরণের আগে-পরেও আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। রিমান্ডে নির্যাতন করলে এবং আসামির শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলে ম্যাজিস্ট্রেট আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন এমন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
আবার ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ সম্পর্কিত ১৬৭এ ধারায় যুক্ত করা হয়েছে, এক মামলার আসামিকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে চাইলে পুলিশকে আদালতে আসামি ও পুলিশ ডায়েরি উপস্থাপন করতে হবে এবং আসামিকে শুনানির সুযোগ দিতে হবে।

তদন্তের সময়সীমা নির্ধারণ
ফৌজদারি কার্যবিধিতে প্রথমবারের মতো তদন্তের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৭৩বি ধারায় বলা হয়েছে, এখন থেকে যেকোনো মামলার তদন্ত সাধারণভাবে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এই সময়সীমার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব না হলে বিস্তারিত কারণ এবং প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করে তদন্তকারী প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন। তার প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের সময়সীমা বর্ধিত করতে পারবেন। বর্ধিত সময়ের মধ্যেও তদন্ত সম্পন্ন না হলে তদন্তকারী পুনরায় তার কারণ ব্যাখা করে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রতিবেদন পেশ করবেন। তদন্তকারীর গাফলতি প্রতীয়মান হলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন মনে করলে তদন্তকারী পরিবর্তন বা তদন্তকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে পারবে।

সংক্ষিপ্ত বিচারে বিশেষ বিধান
সংক্ষিপ্ত বিচারের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের আর্থিক এখতিয়ার বাড়ানো হয়েছে। পূর্বে চুরি, আত্মসাৎ প্রভৃতি মামলার বিষয়বস্তুর মূল্যমান অনূর্ধ্ব দশ হাজার টাকা হলে তার বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে করা সম্ভব ছিল। বর্তমানে এই মূল্যমান বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত বিচার সংক্রান্ত বিশেষ বিধান ২৬৪এ যুক্ত করে বলা হয়েছে, সম্ভব হলে একই বৈঠকে আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন থেকে শুরু করে যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে এবং যেকোনো স্থানে সংক্ষিপ্ত বিচার আদালত পরিচালনা করা যাবে।

অনুপস্থিত আসামির বিচারে ক্রোকি ও হুলিয়া পরোয়ানা বাধ্যতামূলক নয়
অনুপস্থিত আসামির বিচারে ক্রোকি ও হুলিয়া পরোয়ানা কেবল দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টিকারী এক প্রক্রিয়ার নাম। ৩৩৯বি ধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে, আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার জন্য ক্রোকি ও হুলিয়া পরোয়ানা জারির কোনো আবশ্যকতা আর থাকবে না। ফলে পলাতক আসামির মামলা দ্রুততর সময়ের মধ্যে বিচারের জন্য প্রস্তুত হবে।

একইসঙ্গে পলাতক আসামিকে আদালেত উপস্থিত হওয়ার আদেশ দুটি পত্রিকার পরিবর্তে একটি বাংলা পত্রিকায় এবং পাশাপাশি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার বিধান সন্নিবেশ করা হয়েছে।

আপসযোগ্য মামলা
বেআইনি সমাবেশ সম্পর্কিত দণ্ডবিধির ১৪৩ ধারা এতদিন আপসঅযোগ্য ছিল। এবার এই অপরাধকে আপসযোগ্য করা হয়েছে। এতদিন অনেক মামলা আপসে নিষ্পত্তি করার পথে এই ধারাটির আপসঅযোগ্যতা বাধা ছিল।

আপসের ক্ষেত্রে আরও একটি বড় সংশোধনী হলো— এখন থেকে আদালত নিজে আপস কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে পারবে এবং পাশাপাশি জেলা লিগ্যাল এইড অফিস আপসের জন্য মামলা প্রেরণ করতে পারবে। শুধু তাই নয়, আপসের ভিত্তিতে কোনো চুক্তি সম্পাদিত হলে সেই চুক্তি নথিভুক্ত করে এর শর্ত বাস্তবায়নে আদালত প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। অনেক মামলায় দেখা যায়, আপস হলেও আপসের চুক্তি লিপিবদ্ধ করা হয় না এবং আসামি চুক্তি মোতাবেক কিস্তিতে কিছু টাকা পরিশোধের পর টাকা প্রদান বন্ধ করে দেন। এরকম ক্ষেত্রে এতদিন আপস-প্রক্রিয়া স্থগিত করে সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার রায় দিতে হতো। এখন থেকে আপস-চুক্তি থাকলে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় না গিয়েও চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে পারবে।

জামিনে শর্তযুক্ত করা
বর্তমানে প্রবেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত আসামির ওপর নানা শর্ত আরোপ করার সুযোগ রয়েছে। এভাবেই সারা দেশে হাজার হাজার আসামি সংশোধন হচ্ছে। তবে প্রবেশনের সীমাবদ্ধতা হলো এটি কেবল মামলার শেষে প্রয়োগযোগ্য। মামলা চলাকালে আসামির সদাচরণ সংক্রান্ত শর্ত আরোপ করার সুযোগ আছে কি না, তা নিয়ে আদালত অঙ্গনে দ্বিধা ছিল। অনেক মনে করেন, শর্ত আরোপ করে জামিন প্রদানের সুযোগ নেই। তবে এ-সম্পর্কিত বিভিন্ন রেফারেন্স পাঠ করলে দেখা যায়, কেবল এমন কঠোর শর্ত দেওয়া যাবে না, যা জামিন না দেওয়ারই নামান্তর। যেমন আসামির সামর্থ্যবহির্ভুত বিরাট অঙ্কের টাকা জমাদান সাপেক্ষে জামিন দেয়া হলে সেই শর্ত সঠিক হবে না। এরকম শর্তের বাইরে আসামির সদাচরণ নিশ্চিত করার জন্য যুক্তিসঙ্গত শর্ত আরোপ করার সুযোগ উচ্চ আদালতের বহু সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়েছে। এবারের সংশোধনীতে ৪৯৮ ধারায় বলা হয়েছে, জামিন প্রদানের সময় আদালত যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায্য যেকোনো শর্ত আরোপ করতে পারবে। ফলে মামলা চলাকালে আসামিদের ডোপটেস্ট বা সমাজকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণের শর্ত আরোপ করতে পারবে আদালত। যা সংশোধনমূলক বিচার প্রক্রিয়ার জন্য দারুণ সহায়ক হবে।

ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে আসামির অব্যাহতি
ফৌজদারি মামলায় ভোগান্তির জন্য আসামি চূড়ান্ত রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না। মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই এই হয়রানি শুরু হয় মূলত তারিখে তারিখে আদালতে হাজিরা দেওয়ার মাধ্যমে। জামিনপ্রাপ্ত আসামিরও নিস্তার নেই এই ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে। হাজিরা দিতে একটু ব্যত্যয় ঘটলেই আসামির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়। এবারের সংশোধনীতে তদন্ত চলাকালে আসামির হাজিরা শিথিল করার চেষ্টা করা হয়েছে। ৫৪০এ ধারায় বলা হয়েছে, আদালত চাইলে তদন্ত রিপোর্ট শুনানি পর্যন্ত জামিনপ্রাপ্ত আসামিকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে। এ-সময় আসামি তার আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দিতে পারবেন। পূর্বে কোনো কোনো আদালত ২০৫ ধারার অধীনে এ ধরনের প্রতিকার প্রদান করতেন, যদিও আইনত ওই ধারা কেবল মামলা আমলে গ্রহণের পর প্রযোজ্য, তার আগে প্রযোজ্য নয়। নতুন আইনে স্পষ্ট বিধান যুক্ত হওয়ায় সারা দেশের লাখ লাখ জামিনপ্রাপ্ত আসামি ব্যক্তিগত হাজিরার ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।
একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে কোনো আসামি উপস্থিত না থাকলেও এখন থেকে আসামির আইনজীবী আদালতের অনুমতিক্রমে সাক্ষীদের জেরা করতে পারবেন। এতদিন পর্যন্ত এই সুযোগ নিতে হলে অন্তত একজন আসামি আদালতে উপস্থিত থাকতে হতো।

সাক্ষীর খরচ ও সুরক্ষা
আদালতে আগত সাক্ষীদের অনেকেই দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। সাক্ষ্যদানের পর তারা যাতায়াত ও খোরাকি ভাতা প্রত্যাশা করেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪৪ ধারায় সাক্ষীর খরচ প্রদানের জন্য বিধান থাকলেও সেটি কার্যকর করার জন্য পৃথক বিধি প্রণয়ন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। বিষয়টি সহজ করার উদ্দেশ্যে এবার ‘বিধি’-এর পরিবর্তে ‘সরকারি আদেশ’ দ্বারা প্রয়োজনীয় বিধান করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে সাক্ষী সুরক্ষায় বিভিন্ন বিশেষ আইনে বিধান থাকলেও ফৌজদারি কার্যবিধিতে কোনো বিধান ছিল না। এবারের সংশোধনীতে সাক্ষী ও ভিকটিমদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো আদেশ প্রদানের ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে। ফলে সব ধরনের ফৌজদারি মামলায় সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পথ সুগম হয়েছে।

দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারায় জামিনঅযোগ্য
দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারা এতদিন পর্যন্ত জামিনযোগ্য ছিল। ফলে হাত-পা ভেঙে যাওয়া, চোখ-কানের মতো মূল্যবান অঙ্গহানির ক্ষেত্রেও আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পেত। আসামির জামিনকে কঠিন করার জন্য মামলায় ভয়ঙ্কর অস্ত্রের মিথ্যা বর্ণনা যুক্ত করা হতো, যাতে মামলাটি দণ্ডবিধির জামিনঅযোগ্য ৩২৬ ধারার আওতায় দেখানো যায়। এতে করে মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে জামিন কঠিন হলেও চূড়ান্ত সাক্ষ্যপ্রমাণে ভয়ঙ্কর অস্ত্রের প্রমাণ না মিললে আসামি সুবিধা পেত। সবদিক বিবেচনায় এবারের সংশোধনীতে দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারাকে জামিনঅযোগ্য করা হয়েছে। ফলে গুরুতর জখমের ক্ষেত্রে অস্ত্রের প্রয়োগ ছিল কি না, জামিন প্রদানের ক্ষেত্রে এখন থেকে আর সেটি ধর্তব্য হবে না।

মিথ্যা মামলার সাজা বৃদ্ধি
ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে কোনো মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে মামলাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বে ঐচ্ছিক ছিল (২৫০ ধারা)। বর্তমানে এটিকে ম্যাজিস্ট্রেটের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলার সর্বোচ্চ অর্থদণ্ড তিন হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বিবিধ
ডিজিটাল মাধ্যমে সমন জারি এবং অনলাইনে বেল বন্ড দাখিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। বেত্রাঘাতের মতো অবমাননাকর সাজা সম্পর্কিত সকল বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে। পূর্বে আপিলঅযোগ্য অর্থদণ্ডের পরিমাণ ছিল পঞ্চাশ টাকা, এটিকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়েছে।

©️মারুফ আল্লাম স‍্যার
সিনিয়র সহকারী সচিব, আইন ও বিচার বিভাগ

11/08/2025

মামলা না প্রেম?
কোর্টে এক আইনজীবী জোরে তর্ক করছিল। বিচারক বললেন—
“আপনি কি যুক্তি দিচ্ছেন, নাকি প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছেন? এত আবেগ কেন?”
আইনজীবী হেসে উত্তর দিল—
“মাননীয় বিচারক, প্রেম আর মামলা—দুটোই হৃদয় জয় করার খেলা।”

Want your school to be the top-listed School/college in Rajshahi?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address

Rajshahi
6300