Jamia Abu Bakar Ra. Al Arabia Rajshahi

Jamia Abu Bakar Ra. Al Arabia Rajshahi

Share

خدمة القرآن والسنة شرف لنا

Photos from Jamia Abu Bakar Ra. Al Arabia Rajshahi's post 24/05/2026

জামিআ আবু বকর রাজি. আলআরাবিয়া রাজশাহী এর সংস্কৃতি বিভাগ “লাজনাতু আবি বকর রাজি.” এর উদ্যোগে ১৪৪৭-৪৮ হিজরি শিক্ষাবর্ষে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে জামিআর মুহতামিম, লেখক ও সম্পাদক মাওলানা আসিফ মাহমুদ হাফি.-এর সম্পাদনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং লাজনাতু আবি বকর রাজি.-এর তত্ত্বাবধায়ক মুফতি ওমর ফারুক হাফি. সহ সম্মানিত আসাতিজায়েকেরামের সুচিন্তিত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় বৃহৎ পরিসরে বাংলা দেয়ালিকা ‘ইনকিলাব’ ও আরবি দেয়ালিকা ‘আলইনতিফাদা’-এর চতুর্থ সংখ্যা প্রকাশিত হলো।

এই দেয়ালিকাদ্বয়ে দীনি চেতনা, সাহিত্য-সংস্কৃতি, কুরবানির তাৎপর্য, ইসলামি ভাবধারা ও সৃজনশীল লেখনীর সমন্বয়ে তালিবুলইলমদের মেধা ও মননের সুন্দর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

মহান আল্লাহ তাআলা এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন।

আলইনতিফাদা ও ইনকিলাব পরিবার :
মাওলানা আসিফ মাহমুদ
মুফতি মীযানুর রহমান
মুফতি ওমর ফারুক
মুফতি মাহবুবুর রহমান
মারুফ ইসলাম ও
কসিদুর রহমান প্রমুখ।

Photos from Jamia Abu Bakar Ra. Al Arabia Rajshahi's post 24/05/2026

ছাত্রদের লেখাপড়া ও তারবিয়তের মানোন্নয়ন উপলক্ষ্যে 'জামিআর আইনকানুন ও তালিবুলইলমের তথ্য ও রিপোর্ট বই ' বিতরণ করা হলো।
এর পেছনে রয়েছে বিশাল কর্মযজ্ঞের বিস্তৃত ফিরিস্তি। আসাতিজায়েকেরামের ঘামঝরা মেহনত। এ বইয়ের মাধ্যমে ছাত্রদের কিছুটা উপকার হলেও আমরা স্বার্থক, আমাদের মেহনত মুজাহাদা মাকবুল।

24/05/2026

এবারের আয়োজন কুরবানির বিরতি উপলক্ষে 'সৃজনশীল প্রতিযোগিতা ও ঈদ আনন্দ অনুষ্ঠান।' চিন্তার উৎকর্ষতা, মনের প্রফুল্লতা এবং দৃঢ় মননশীলতা তৈরিতে এর ভূমিকা অনন্য।
আপনারা সবান্ধব আমন্ত্রিত।

Photos from Jamia Abu Bakar Ra. Al Arabia Rajshahi's post 22/05/2026

শুরু হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাসিক পরীক্ষা-২৬

আলহামদুলিল্লাহ!
জামিআ আবু বকর রাজি. আলআরাবিয়া রাজশাহী-এ পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাসিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

তালিবুলইলম নিজেদের ইলমি মেহনত, অধ্যবসায় ও আমানতের সাথে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।

আল্লাহ তাআলা জামিআর সকল আসাতিজায়েকেরামকে সুস্থতা, বারাকাত ও উত্তম প্রতিদান দান করুন।
জামিআকে দীনি খেদমাতের একটি গ্রহণযোগ্য মারকাজ হিসেবে কবুল করুন।
তালিবুলইলমদেরকে সহীহ ইলম, উত্তম আমল, সুন্দর আখলাক ও তাকওয়ার গুণে গুণান্বিত করুন।
তাদেরকে যুগের আদর্শ, মুত্তাকি, আলেমে বাআমল ও দীনের খেদমাতে নিবেদিত বান্দা হিসেবে কবুল করুন।

আল্লাহ তাআলা সকল পরীক্ষার্থী ভাইদের জন্য পরীক্ষা সহজ করে দিন এবং উত্তম ফলাফল নসিব করুন।
🤲 آمين يا رب العالمين ।

18/05/2026

তাকবিরে তাশরিক্বের শব্দ-বাক্য: ‎

যুলহিজ্জাহ মাসের প্রথম দশকে বেশি বেশি তাকবির পাঠ করা গুরুত্বপূর্ণ আমল। মুসনাদু আহমাদে ইবনু ‎উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‎এই দশ দিনে ‘তাহলিল’, ‘তাকবির’ এবং ‘তাহমিদ’ বেশি বেশি পড়তে। (মুসনাদু আহমাদ, হাদিস ‎নং: ৫৪৪৬) ইবনু উমার এবং আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এই দশ দিনে বাজারে গিয়ে জোরে ‎জোরে তাকবির পাঠ করতেন। উপরের হাদিসটা সামনে রেখে ‘তাকবিরে তাশরিক্ব’ই পড়তে বলা হয়।

‎‘তাকবিরে তাশরিক্বে’র বাক্য কয়েকভাবে সালাফ থেকে প্রমাণিত। ‎

১. এর মধ্যে আমরা সাধারণত আমরা যেটা পাঠ করি, সেটা হচ্ছে, ‎
اللهُ أكبر اللهُ أكبر، لا إلهَ إلَّا الله، واللهُ أكبر اللهُ أكبر، ولله الحَمْد، ‏
قال ابنُ قُدامة: (وصفة التكبير: اللهُ أكبرُ اللهُ أكبر، لا إلهَ إلَّا الله، واللهُ أكبرُ اللهُ أكبرُ، ولله الحمدُ، هذا قولُ عُمرَ، وعليٍّ، وابن مسعود، ‏وبه قال الثوريُّ، وأبو حنيفة، وإسحاق، وابن المبارك، إلَّا أنه زاد: على ما هدانا؛ لقوله: لِتُكَبِّرُوا اللهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ الحج: 37) ‏‏((المغني)) (2/293). وقال ابنُ المنذر: (رُوينا عن عُمرَ بن الخطَّاب، وعبدِ الله بنِ مسعود، أنَّهما كانا يُكبِّران مِن صلاة الغداة يومَ ‏عَرفةَ إلى الصلاة من آخِر أيَّام التشريق، يقولان: اللهُ أكبرُ اللهُ أكبرُ، لا إلهَ إلَّا الله، واللهُ أكبرُ اللهُ أكبرُ، ولله الحمد، ورُوي ذلك عن عليِّ ‏بن أبي طالب... أنَّ عليًّا كان يُكبِّر يومَ عرفةَ «مِن» صلاة الفَجرِ إلى العصرِ مِن آخِرِ أيَّام التشريق، يقول: اللهُ أكبرُ اللهُ أكبر، لا إلهَ إلَّا ‏الله، واللهُ أكبرُ اللهُ أكبرُ، ولله الحمدُ"، وبه قال النَّخَعيُّ، والثوريُّ، وأحمدُ، وإسحاقُ، وسفيان، ومحمد) ((الأوسط)) (4/349)، وينظر: ‏‏((المجموع)) للنووي (5/40)، ((تبيين الحقائق)) للزيلعي (1/227)، ((فتح القدير)) للكمال ابن الهمام (2/82‏‎). ‎
মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবার সূত্রে ফটোটিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, ইবনু মাসউদ এবং আলি ‎রাদিয়াল্লাহু আনহুমার তাকবিরে তাশরিকের শব্দ ছিল এমনটি। ‎

২. আরেকটা বহুল প্রচলিত (আরবের অনেকে এই বাক্যটি বলেন। আলি সাল্লাবি রমযানের ঈদের ‎সময়ে এই বাক্যে তাকবির পোস্ট করেছেন) বাক্য হচ্ছে, (এখানে শুরুতে ‘আল্লাহু আকবার’ বাক্যটি ‎তিনবার)‎
‎ ‎‏(اللهُ أكبرُ اللهُ أكبرُ اللهُ أكبرُ، لا إلهَ إلَّا الله، واللهُ أكبرُ اللهُ أكبرُ، ولله الحمد).‏
‏ رواه ابنُ أبي شَيبةَ في ((المصنَّف)) (2/165)، والطبراني (9/355) (9534)، عن عبد الله بن مسعود. جوَّد إسنادَه الزيلعيُّ في ‏‏((نصب الراية)) (2/223)، ووثق رجاله الهيثمي في ((مجمع الزوائد))‏‎ (‎‏2/200‏‎).‎
মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবার ৫৬৭৯ নং বর্ণনায় এটাও ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর তাকবির ‎হিসেবে এটা বর্ণিত হয়েছে। এই বর্ণনা সম্পর্কে শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামা আযমী রহিমাহুল্লাহুর বক্তব্য ‎উল্লেখ করেছেন, তিনি এটাকে কপিকারের ভুল বলেছেন।

৩. ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত একটা বাক্য, ‎
الله أكبر كبيرا، الله أكبر كبيرا، الله أكبر وأجل، الله أكبر ولله الحمد
মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবার ৫৬৯২, ৫৬৮৫, ৫৭০১ নং বর্ণনা।

৪. চতুর্থ আরেকটা বাক্য আছে। হাসান বসরি থেকে বর্ণিত একটা দেখেছিলাম কোথায় যেন, ভুলে ‎গিয়েছি। ‎
‏(اللهُ أكبرُ اللهُ أكبرُ اللهُ أكبرُ كبيرًا). ‏
أخرجه البيهقيُّ في ((فضائل الأوقات)) (227) عن سلمان. وصحَّح إسنادَه ابنُ حجر في ((فتح الباري)) (2/536)، والشوكاني في ‏‏((نيل الأوطار))‏‎ (‎‏3/389‏‎).‎
এগুলো থেকে যে কোন একটা বললেই তাকবির তাশরিক্ব বলা হবে। তবে আমরা সাধারণত প্রথমটা ‎বলি। ‎

‎(লেখাটা তৈরির সময় আমার সামনে মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবাহ এবং আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ‎ওয়েবসাইটের একটা লেখা ছিল। আরবীগুলো সেখান থেকেই কপি করেছি। ‎

18/05/2026

চলছে পবিত্র ঈদুল আজহা সংখ্যার পূর্ব প্রস্তুতি!

পরম আনন্দ, ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের মহান শিক্ষা নিয়ে সমাগত পবিত্র ঈদুল আজহা ১৪৪৭ হিজরি/২০২৬ ঈসায়ি উপলক্ষে জামিআ আবু বকর রাজি আলআরাবিয়া রাজশাহী এর পক্ষ থেকে প্রকাশ হতে যাচ্ছে বিশেষ আরবি-বাংলা দেয়ালিকা — “ঈদুল আজহা সংখ্যা”।

শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন, সাহিত্যচর্চা ও সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ ঘটাতেই এ ব্যতিক্রমী আয়োজন।

বর্তমানে দেয়ালিকাটির সম্পাদনা, সংগ্রহ ও প্রকাশনার কাজ জোর প্রস্তুতির সাথে এগিয়ে চলছে।

আল্লাহ তাআলা জামিআর প্রতিটি খেদমাত ইখলাসের সাথে কবুল করুন এবং এ আয়োজনকে শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণ ও অনুপ্রেরণার মাধ্যম বানিয়ে দিন। আমিন। 🤲

17/05/2026

✨আলহামদুলিল্লাহ ✨

'জামিআ আবু বকর রাজি. আলআরাবিয়া রাজশাহী' এর ১৪৪৭-৪৮ হিজরি মুতাবিক ২০২৬-২৭ ই. শিক্ষাবর্ষের তালিবুলইলমদের প্রাতিষ্ঠানিক "তথ্য ও রিপোর্ট বই" এর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

🖋️ তালিবুলইলমদের লেখাপড়ার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দৈনন্দিন রিপোর্ট সংরক্ষণের সুবিধার্থে এই তথ্য ও রিপোর্ট বইটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে ইনশাআল্লাহ।

🤲 জামিআর সকল দীনি কার্যক্রমে আপনাদের আন্তরিক দুআ ও সহযোগিতা কামনা করছি।


17/05/2026

🌙 আমার কুরবানি 🌙

🏛️ জামিআ আবু বকর রাজি. আলআরাবিয়া রাজশাহী
📍 বাসা-৩৭৮, রোড-০৮, ভদ্রা, চন্দ্রিমা, রাজশাহী।

🔹 কুরবানির নির্ধারিত মূল্য:
🐄 গরু (সম্পূর্ণ) — ৭০,০০০/- টাকা
🐄 গরু (প্রতি ভাগ) — ১০,০০০/- টাকা
🐐 খাসি/ছাগল — ১৫,০০০/- টাকা

📲 বিকাশ ও নগদ:
০১৭৯৩-৬২১৭৬৮

✅ সহিহ কুরবানির নিশ্চয়তায় আপনি বা আপনার পরিচিত যে কেউ সামর্থ্য অনুযায়ী শরিক থাকতে পারেন।

🍽️ কুরবানির গোস্ত সংরক্ষণ করে দীনি ইলম অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের খাওয়ানো হয়।

📖 বিশেষ আহ্বান:
দান-সাদাকা, জাকাত ও কুরবানি মাদরাসায় দিলে দ্বিগুণ সাওয়াবের আশা করা যায়, ইনশাআল্লাহ।
১️⃣ ইবাদত আদায়ের সাওয়াব।
২️⃣ দীনি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার সাওয়াব।

🤲 আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলের কুরবানি কবুল করুন। আমিন।

15/05/2026

এলান

এতদ্বারা জামিআ আবু বকর রাজি. আলআরাবিয়া রাজশাহী'র তালিবুলইলমদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ১৪৪৭-৪৮ হিজরি মুতাবিক ২০২৬-২৭ ইসায়ি শিক্ষাবর্ষের কুরবানি পূর্ব মাসিক পরীক্ষা ও ঈদুল আজহা উপলেক্ষ্য নিম্নোক্ত নির্দেশনাসমূহ প্রদান করা হলো-

১। মাসিক পরীক্ষার সময়সূচি
আগামী ২২-০৫-২০২৬ ই. রোজ শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে ২৪-০৫-২০২৬ ই. রোজ রবিবার পর্যন্ত
মাসিক পরীক্ষা চলবে ইনশাআল্লাহ।

২। খেয়ার সময়সূচি
মাসিক পরীক্ষা উপলেক্ষ্য আগামী
১৯-০৫-২০২৬ ই. রোজ মঙ্গলবার থেকে
২১-০৫-২০২৬ ই. রোজ বৃহ:বার পর্যন্ত
খিয়ার চলবে ইনশাআল্লাহ।

৩। প্রবেশপত্র (বেতাকাতুদ দুখুল) গ্রহণ
আগামী ২১-০৫-২০২৬ ই. রোজ বৃহ:বারের মধ্যে সকল বকেয়া পরিশোধ করতে হবে।
বকেয়া পরিশোধপূর্বক দফতরে তালিমাত থেকে
বেতাকাতুদ দুখুল (প্রবেশপত্র) গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।

৪। ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিরতি
আগামী ২৫-০৫-২০২৬ ই. রোজ সোমবার থেকে ০৫-০৬-২০২৬ ই. রোজ শুক্রবার পর্যন্ত
জামিআর সকল বিভাগের শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

৫। পুনরায় জামিআয় উপস্থিতি
আগামী ০৫-০৬-২০২৬ ই. রোজ শুক্রবার
মাগরিবের পূর্বে সকলকে জামিআয় উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।

-দফতরে তালিমাত
জামিআ আবু বকর রাজি. আলআরাবিয়া রাজশাহী

15/05/2026

৬১৮৪. প্রশ্ন-
দেশের কোনো কোনো এলাকায় কুরবানীর গোশত বণ্টনের একটি সমাজপ্রথা চালু আছে। এই সমাজের নিয়ম হল, এলাকার যারা কুরবানী করেন, তাদের কুরবানীর গোশতের তিন ভাগের একভাগ বাধ্যতামূলকভাবে সমাজে জমা করতে হয়। পরবতীর্তে এই গোশত নির্দিষ্ট সমাজভুক্ত সকল ব্যক্তিবর্গ, যারা কুরবানী করেছেন এবং যারা কুরবানী করেননি সবার মধ্যে বণ্টন করা হয়। এরূপ বণ্টন কি শরীয়মসম্মত? এক্ষেত্রে করণীয় কী?

উত্তর:
কুরবানীর গোশত বণ্টনের প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিটি আমাদের দেশের কোনো কোনো এলাকায় প্রচলিত একটি সমাজপ্রথা। সাধারণ দৃষ্টিতে এটি একটি ভালো উদ্যোগ মনে হতে পারে; কিন্তু কোনো সামাজিক প্রথা বা রীতি পালন করার জন্য তা শরীয়তের দৃষ্টিতে শুদ্ধ ও আমলযোগ্য কি না— তাও নিশ্চিত হতে হয়। ভালো নিয়ত থাকলেও শরীয়ত সমর্থন করে না অথবা ইসলামের নীতির সাথে মানানসই নয় এমন কোনো কাজ করা বা এমন কোনো রীতি অনুসরণ করার সুযোগ নেই।

প্রশ্নোক্ত সমাজপ্রথাটিতে উদ্দেশ্য ভালো হলেও যে পদ্ধতিতে তা করা হয় এতে শরীয়তের দৃষ্টিতে মৌলিক কিছু আপত্তি রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল, সামাজিক এ প্রথার কারণে সকলেই তার কুরবানীর এক তৃতীয়াংশ গোশত সমাজের লোকদের হাতে দিতে বাধ্য থাকে। এবং এর বিলি-বণ্টন ও গ্রহিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু সমাজপতিদেরই হাত থাকে। গোশত বণ্টনের ক্ষেত্রে এ বাধ্যবাধকতা শরীয়তসম্মত নয়। কেননা শরীয়তে কুরবানী ও গোশত বণ্টন একান্তই কুরবানীদাতার নিজস্ব কাজ।

ঈদের দিন সম্মিলিতভাবে জামাতে নামায আদায় করতে বলা হলেও কুরবানীর জন্য কত মূল্যের পশু কিনবে, সে পশু কোথায় জবাই করবে, গোশত কীভাবে বণ্টন করবে—এ বিষয়গুলো কুরবানীদাতার ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শরীয়তে কুরবানীর কিছু গোশত সদকা করতে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং আত্মীয়-স্বজন ও গরীব-দুঃখীদের কুরবানীর গোশত দিতে তাকিদও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা কুরবানীদাতার উপর অপরিহার্য করা হয়নি। বরং কুরবানীদাতা কী পরিমাণ গোশত নিজে রাখবে, কী পরিমাণ সদকা করবে এবং কাকে কাকে বিলি করবে আর কী পরিমাণ আগামীর জন্য সংরক্ষণ করবে— এগুলো কুরবানীদাতার একান্তই নিজস্ব ব্যাপার এবং ব্যক্তিগতভাবে করার কাজ। এটিকে সামাজিক নিয়মে নিয়ে আসা ঠিক নয়।

তাই শরীয়তের মাসআলা জানা না থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গোশত বণ্টনের প্রশ্নোক্ত যে পদ্ধতি প্রচলিত হয়েছে, তা পরিহারযোগ্য। নিম্নে সংক্ষেপে প্রশ্নোক্ত প্রথাটির কিছু ক্ষতির দিক উল্লেখ করা হল—

১. অনেক কুরবানীদাতার পরিবারের সদস্য-সংখ্যা বেশি হওয়ায় অথবা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে নিজ পরিবারের জন্য বেশি গোশত রাখার প্রয়োজন হয়; ফলে সে পরিবারের জন্য বেশি গোশত রাখতে চায়। আবার অনেকে তার কোনো দরিদ্র আত্মীয়কে কুরবানীর গোশত দিতে চায়। কিন্তু সামাজিক এই বাধ্যবাধকতার কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সামাজিক রীতি অনুযায়ী কুরবানীর এক তৃতীয়াংশ গোশত সমাজে দিতে বাধ্য হয়। অথচ হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
إِنَّهُ لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ.

কোনো মুসলমানের সম্পদ তার সন্তুষ্টি ব্যতীত হালাল নয়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২০৬৯৫)

২. প্রশ্নোক্ত প্রথায় গোশতদাতা তার দানের অংশটি কাকে দেবে সে স্বাধীনতা হারায়। হয়তো সে তার নিকটাত্মীয় অথবা পরিচিত কাউকে একটু বেশি পরিমাণে দিত, কিন্তু এক্ষেত্রে তার জন্য এমনটি করার সুযোগ থাকে না।

৩. অনেক মানুষ এমন আছেন, যারা প্রত্যেকের হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে চান না। আর শরীয়তও কাউকে সকলের হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে বাধ্য করেনি। কিন্তু সামাজিক এই রীতির কারণে গোশত গ্রহণকারী প্রত্যেকেই অন্য সকলের হাদিয়া বা সদকা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। বলাবাহুল্য এ ধরনের ঐচ্ছিক বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা মোটেই উচিত নয়।

৪. এ ধরনের বাধ্যবাধকতা আরোপের আরেকটি ক্ষতির দিক হল, সমাজের কিছু মানুষ এমন থাকে, যাদের আয় রোজগার হারাম পন্থায় হয়। সেক্ষেত্রে জেনে বুঝে তাদের কুরবানীর গোশত সমাজের সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়। অথচ হারাম উপার্জনের মাধ্যমে কুরবানীকৃত পশুর গোশত খাওয়া জায়েয নয়।

মোটকথা, শরীয়তের শিক্ষা মোতাবেক প্রত্যেককে তার কুরবানীর অংশ দান করার বিষয়ে স্বাধীন রাখতে হবে। প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে বা অন্য কোনোভাবে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যাবে না। কুরবানীদাতা নিজ দায়িত্ব ও বিবেচনা মতো যাকে যে পরিমাণ হাদিয়া করতে চায় করবে এবং গরীব-মিসকীনকে যে পরিমাণ সদকা করতে চায় করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় থেকে শত শত বছর যাবৎ এ পদ্ধতিই চলমান আছে। এই পদ্ধতিই অবলম্বন করা জরুরি। শরীয়ত যা চালু করতে বলেনি এমন কোনো প্রথা চালু করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

—সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭২; জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫১০; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৪৮২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৭৩; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০০; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৮

সূত্র : মাসিক আল কাউসার

12/05/2026

(১৭) বিনষ্ট পাঠাগার ৮২

যে ঘরে বই নেই, সে ঘরের অধিবাসীরা ক্ষুধার্ত - এ কথাটি আমাদের কোন একজন শায়েখের কাছ থেকে মুখস্ত করেছিলাম। আমি এ কথাটি অনেক বেশি বলতাম। তেমনি বলতাম, তোমার ঘরে একটি লাইব্রেরী তৈরি কর, যদিও তা দুইটি বই দিয়ে হোক। বিশ্বাস কর, তোমার ভেতরের কিছুটা হলেও সংশোধন করতে পারবে।

প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সময় থেকেই আমি অধ্যয়নকে ভালোবাসি। আমার দেহের গোশতগুলো বই দিয়েই গঠিত হয়েছে। কিন্তু ইসরাইল আমাদের জন্য কোন ঘর, কোন লাইব্রেরী, কোন বই অবশিষ্ট রাখেনি!

ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই মাস পর আমি ইয়ারমুক খেলার মাঠে প্রবেশ করলাম। শত্রুদের সাঁজোয়া যানগুলো সেটিকে বিচূর্ণ করে দিয়েছে। এর ভিতরের রুমগুলোকে পুড়িয়ে দিয়েছে। তো, সেখানে আমি এমন দুইটি বই পেলাম, যেগুলো আমার কাছে দুনিয়ার অনেক সামগ্রীর চেয়েও বেশি মূল্যবান। প্রথম বইটি হলো, শাইখ মুহাম্মাদ গাযযালী রাহিমাহুল্লাহ কৃত نحو تفسير موضوعي لسور القرآن । আর দ্বিতীয়টি হল, الشهيد نزار ريان محدثا ومجاهدا ।
আমি বই দুটো মাটি থেকে উঠিয়ে নিলাম। আমার সাথে থাকা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করলাম। বই পড়ার জন্য একটি চেয়ার, একটি লাইব্রেরি ও রাত জাগরণে খুব আগ্রহ হচ্ছিল তখন আমার!
...
শহীদ যাকি হামদ
বই: তুফানের পতাকাতলে (অনুবাদের কাজ চলমান। আল্লাহ তাআলা অনুবাদের কাজটি অনুবাদকারী ভাইয়ের জন্য সহজ করে দিন। আমিন।)

Want your school to be the top-listed School/college in Rajshahi?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address

Bhadra, Chondrima
Rajshahi