23/12/2025
ছোটবেলায় আমাদের বাসায় যখন গৃহশিক্ষক পড়াতে আসতেন, তখন বাবা–মা স্পষ্ট করে বলতেন—
“শিক্ষক পড়া মুখস্থ করিয়ে দিয়ে যাবে না, বুঝিয়ে দিয়ে যাবে। নিজের পড়া নিজেকে পড়তে হবে।”
কিন্তু এখন এসে বাস্তবতা অনেকটাই বদলে গেছে।
বর্তমানে অনেক অভিভাবকের মনোভাব এমন—
“আমার সন্তান বাসায় পড়ে না, তাই শিক্ষক রেখেছি। শিক্ষকই সব পড়া মুখস্থ করিয়ে দেবে।”
এটা স্পষ্টতই অভিভাবকীয় ব্যর্থতা।
এর ফলাফল তারা হয়তো এখন বুঝবেন না, কিন্তু ভবিষ্যতে ঠিকই বুঝবেন।
ক্লাস ৫-এর একজন শিক্ষার্থীর জন্য সপ্তাহে ৫ দিন, প্রতিদিন ২ ঘণ্টা পড়ানোর শিক্ষক চাই।মাসিক বেতন ২৫০০ টাকা।অর্থাৎ ঘণ্টাপ্রতি প্রায় ৫৬ টাকা 😥।
আবার SSC শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে শিক্ষক চাই শুধু RUET থেকে, আবার EEE বা CSE ডিপার্টমেন্ট ছাড়া নয়,কিন্তু বেতন দেওয়ার সময় শুরু হয় ব্যাপক Negotiation করে
৪০০০ টাকায় রাজি হয়, অনেক সময় সেটাও দিতে চায় না।
শিক্ষকের সম্মান ও শ্রদ্ধার কথা তো বাদই দিলাম।
এখন কিছু গ্রুপ বা ব্যক্তি এসে বলে—
“মিডিয়াগুলোর কারণেই রাজশাহীতে টিউশনের স্যালারি এত কম।”
আমি অন্যদের কথা বলতে পারছি না,
তবে স্পষ্ট করে বলতে পারি—
আমরা সবসময় চেষ্টা করি টিউশনের একটি স্ট্যান্ডার্ড স্যালারি নিশ্চিত করতে।কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই অভিভাবকরা স্যালারি বাড়াতে রাজি হন না।তখন বাধ্য হয়েই টিউশন দিতে হয়, কারণ আমাদের কাজই শিক্ষক দেওয়া।তাছাড়া রাজশাহীতে বর্তমানে শতশত মিডিয়া রয়েছে—
আমরা না দিলে, অন্য কোনো মিডিয়া ঠিকই দিয়ে দেয়।
তবুও,
আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে যেন একজন শিক্ষক তার ন্যায্য সম্মান ও একটি স্ট্যান্ডার্ড স্যালারি পায়