বিএনপির ১৬ গুরুত্বপূর্ণ নেতা কারাগারে
বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে বৈঠক করে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গতকাল সোমবার রাতে আটক হন ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী।
এর আগের দিন দলের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে প্রেসক্লাব থেকে বের হওয়ার পরপরই গ্রেপ্তার হন আরেক ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ। তাঁকে ঢাকার বাংলামোটরে পুলিশ হত্যা মামলায় আসামি করা হয়। এ মামলায় গতকাল তাঁর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বিএনপি বলছে, যখনই কোনো নেতাকে দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেওয়া হয়, তখনই তাঁকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ।
এর আগে বিএনপির মুখপাত্র ও দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দুই দফা গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি পরে জামিনে বের হলেও এখন গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন। দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের বেশির ভাগই পুলিশের ধরপাকড়ের মুখে আত্মগোপনে আছেন।
মির্জা ফখরুল আত্মগোপনে যাওয়ার পর দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পান যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে লম্বা সময় ধরে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বের হননি। সেখানে থেকেই দলের বক্তব্য ও কর্মসূচি গণমাধ্যমে তুলে ধরছিলেন। গত ৩০ নভেম্বর ভোরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে রিজভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর দলের যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদকে মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই দিনই তাঁকে ধরার জন্য তাঁর বাসায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। তিনি আত্মগোপনে গিয়ে কয়েক দিন অজ্ঞাত স্থান থেকে গণমাধ্যমে ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে দলীয় বক্তব্য ও কর্মসূচি দেন।
এরপর কয়েক দিন গণমাধ্যমে দলীয় বক্তব্য তুলে ধরেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনিও এখন আত্মগোপনে চলে গেছেন।
এভাবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১৬ জন কারাগারে আছেন। বাকি নেতাদের অধিকাংশই আত্মগোপনে। যাঁদের গ্রেপ্তারের আশঙ্কা কম, কেবল তাঁরাই প্রকাশ্যে রয়েছেন।
বিএনপির দায়িত্বশীল একজন নেতা বলেন, বিএনপিতে থাকা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও আইনজীবী নেতাদের গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলে মনে করা হয়। এই দুই ঘরানার নেতাদের এখন প্রকাশ্যে দেখা যায়। যদিও গত রোববার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদকে এবং তার আগে ২৬ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও দলের যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা নেতারা দাবি করেন, ২৫ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর টানা অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে দলের প্রায় ছয় হাজার নেতা-কর্মী আটক হয়েছেন। পরে তাঁদের অনেকে ছাড়াও পেয়েছেন। এরপর ঢাকা অভিমুখে ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচি ঘোষণার পর আটক হয়েছেন আরও প্রায় দেড় হাজার জন। তবে তাঁদের সবাই বিএনপির কর্মী নন; সাধারণ মানুষও আছেন অনেক।
তবে এ মুহূর্তে সারা দেশে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিএনপির মোট কতজন নেতা কারাগারে আছেন, সে সম্পর্কে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরের কারও কাছে সঠিক কোনো তথ্য নেই। তবে দলটির দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, গত এক মাসে বিভিন্ন মামলায় ৫০ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় বিপুলসংখ্যক অজ্ঞাতনামা আসামি থাকায় নেতা-কর্মীরা সবাই গ্রেপ্তার-আতঙ্কে থাকেন। কেননা, কাউকে সামনে পেলেই পুলিশ আটক করে ওই সব মামলায় গ্রেপ্তার দেখাচ্ছে।
কারাবন্দী ১৬ নেতা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির মধ্যে চারজন নেতা এখন কারাগারে বন্দী আছেন। তাঁরা হলেন: মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং আ স ম হান্নান শাহ। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাদের মধ্যে আবদুল আউয়াল মিন্টু ও মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ১২ জন নেতা এখন কারাগারে আছেন। তাঁরা হলেন: ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, শমসের মবিন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার, সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন, কেন্দ্রীয় সদস্য বেলাল আহমেদ, রওশন আরা ফরিদ ও সাংসদ শাম্মী আক্তার।
এ ছাড়া বিএনপির অঙ্গসংগঠনের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মীর শরফত আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বজলুর করিমকে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হরতাল-অবরোধের সময় করা মামলার বাইরে অন্য মামলায় আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা কারাবন্দী আছেন।
এ ছাড়া ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচি দেওয়ার পর দুই দিন ধরে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কার্যত গৃহবন্দী অবস্থায় আছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ যাঁকে পাচ্ছে তাঁকেই গ্রেপ্তার করছে। কাউকে দলের কোনো দায়িত্ব দেওয়া মাত্রই তাঁকে ধরার জন্য পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে, কেউ সেখানে গেলেই আটক করা হয়। তিনি বলেন, অনেক সময় কৌশলগত কারণে অনেক নেতাকে আত্মগোপনে থাকতে হচ্ছে।
nilima
Belive only Allah
তৃতীয় দিনের মতো অবরুদ্ধ দেশ
তৃতীয় দিনের মতো অবরুদ্ধ দেশ, বিচ্ছিন্ন ঢাকা। সরকারি অবরোধে গতকাল সোমবারও রাজধানীর সাথে সারা দেশের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল। রাজধানীতে চলেনি তেমন কোনো গণপরিবহন। এমনকি হেঁটে চলতেও কোনো কোনো এলাকায় বাধা দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গতকালও তার বাসা থেকে বের হতে পারেননি। গুলশানের বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে তাকে। গতকালও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারসমর্থক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ১৮ দলীয় জোট নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল পুরোপুরি অবরুদ্ধ। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাজপথ দখল করে সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সরকারসমর্থক বিভিন্ন সংগঠন। গতকালও রাজধানীজুড়ে কারফিউ পরিস্থিতি বিরাজ করে।
২৯ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার ‘মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি’কে কেন্দ্র করে ২৮ ডিসেম্বর থেকেই পুরো দেশ অচল হয়ে যায় সরকারি নির্দেশে। সরকারের বিভিন্ন বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারেরা পুরো দেশ অবরুদ্ধ করে ফেলে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও তারা যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। দূরপাল্লার বাস, নৌযান, ট্রেনসহ সব ধরনের যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হয়। রাজধানীর প্রবেশপথগুলো পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রাখা হয় সরকারি বাহিনী এবং সরকার-সমর্থকদের দিয়ে। এমনকি নদী পার হয়ে মানুষ যাতে রাজধানীতে আসতে না পারে সে জন্য বুড়িগঙ্গার সব খেয়ানৌকা বন্ধ রাখা হয়। ২৯ ডিসেম্বর বেগম জিয়াকে গুলশানের বাসা থেকে বের হতে না দেয়ায় তিনি ‘মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি’ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এ দিকে সরকারও তার বাহিনী ও সমর্থকদের দিয়ে অবরোধ অব্যাহত রাখে। গতকালও রাজধানীর সাথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল। রাজধানীর প্রবেশপথগুলো ছিল যৌথবাহিনী এবং সরকার সমর্থকদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। রাজধানীর আমিনবাজার, চিটাগাং রোড, ডেমরা রোড, বুড়িগঙ্গার তিন সেতু এবং টঙ্গি ও আশুলিয়া থেকে কোনো যানবাহন রাজধানীতে আসতে পারেনি। দেশের কোথাও থেকে সদরঘাটে কোনো নৌযান আসেনি।
এ দিকে রাজধানীজুড়ে চলছে কারফিউ পরিস্থিতি। দিনের বেলা রাস্তায় ফাঁকা ফাঁকা কিছু রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা ও প্রাইভেট কার দেখা গেলেও সন্ধ্যা হতেই রাজধানীতে নেমে আসে ভুতুড়ে পরিবেশ। কোনো কোনো এলাকার রাস্তাঘাট একেবারে জনশূন্য হয়ে পড়ে। পাড়া-মহল্লার কিছু দোকানপাট ছাড়া বেশির ভাগ মার্কেট-বিপণিবিতান বন্ধ রাখা হয় পুলিশের নির্দেশে। ফুটপাথের ব্যবসায়ও বন্ধ। বায়তুল মোকাররম, জিপিও, দৈনিক বাংলা, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাথের সব টঙ দোকান উঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
মালিবাগে আ’লীগকর্মীরা দোকান ভাঙচুর করে : রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় আওয়ামী লীগ কর্মীরা জামায়াত-শিবির খোঁজার নামে সাধারণ মানুষের দোকানপাট ভাঙচুর করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বেশ কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী লাঠি হাতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের খোঁজ করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার ৩৮ নম্বর সুমন হেয়ার ড্রেসারের গ্লাসে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে ওই সেলুনের সামনে থাই অ্যালুমিনিয়ামের গ্লাস ভেঙে যায়।
নয়াপল্টন অবরুদ্ধ : মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসির কেন্দ্রস্থল নয়াপল্টন দ্বিতীয় দিনেও ছিল র্যাব-পুলিশে অবরুদ্ধ। নাইটিংগেল মোড় থেকে ফকিরেরপুল মোড় পর্যন্ত সড়ক আগের দিনের মতোই ছিল বন্ধ। দুই পাশেই কয়েক স্তরে ছিল পেশাদারী ও সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যেন যুদ্ধাবস্থা। সাধারণ পথচারীদের ওই এলাকা দিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। সাংবাদিকদেরও পুলিশের নানা অনাকাক্সিত প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। বিএনপি অফিসের ঠিক সামনে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং মিডিয়াকর্মী ছাড়া আর কাউকে দেখা যায়নি পুরো দিনে। বিএনপি বা বিরোধী দলের কেউ বিএনপি অফিসের কাছেও ঘেঁষতে পারেননি। ওই এলাকার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান দোকানপাট সব বন্ধ ছিল। মাঝে মধ্যে পুলিশ, র্যাবের টহলগাড়ি, পুলিশ কর্মকর্তাদের গাড়ির বহর ব্যারিকেডের মধ্যে প্রবেশ করতে দেখা যায়। পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিভিন্ন স্থানে গুলি : ককটেল বিস্ফোরণ : সকাল ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হলের সামনে দুই যুবককে বেদম মারধর করে ছাত্রলীগ। তারা হলেনÑ আখতারুজ্জামান (২৮) ও জিয়াউল হাসান (৩০)। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা জানিয়েছেন, তারা জহুরুল হক হলের ছাত্র মনিরের কাছে এসেছিলেন। তাদের বাড়ি রাজশাহীতে। চাকরির জন্যই ঢাকায় এসেছিলেন। ছাত্রলীগের দাবি ওই দুই যুবক শিবির করে।
এ ছাড়া বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নবাবপুর বিসিসি রোডে পুলিশের গুলিতে ইউসুফ আলী খান (৫৫) নামে এক পিঠা বিক্রেতা আহত হয়েছেন। ইউসুফের ছেলে সোলেমান আলী খান জানান, হঠাৎ করে এলাকায় বিএনপির একটি মিছিল বের হলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। পুলিশের ছোড়া একটি গুলি তার বাবা ইউসুফের পেটে বিদ্ধ হয়। তিনি ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ওয়ারী থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা নবাবপুরে একটি বিােভ মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে। পুলিশ তাদের ল্য করে শর্টগানের গুলি ছোড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এক বিএনপি কর্মীকে আটক করেছে।
বেলা ১টার দিকে গোপীবাগে বিােভ মিছিল বের করে ছাত্রশিবির। পুলিশ তাদের বাধা দিলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে শটগানের গুলি ছোড়ে। ওয়ারী থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা জানান, গোপীবাগ থেকে ছয় শিবিরকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
বেলা ২টার দিকে নবাবপুরে ককটেল বিস্ফোরণে শরীফুল ইসলাম (১৯) নামে জুতার দোকানের এক শ্রমিক আহত হয়। তার মাথায় ও চোখে স্পিøন্টার বিদ্ধ হয়। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। তিনি ঢাকা মেডিক্যালের চু বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে প্রেস কাবের পেছনে ককটেল বিস্ফোরণে রাজীব (১৮) নামে এক ছাত্র আহত হয়েছে। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাজীবের বন্ধু অমিত হাসান জানান, নারায়ণগঞ্জ সরকারি কলেজের ইন্টার মিডিয়েটের ছাত্র রাজীব। কাসের সার্জিক্যাল সরঞ্জাম কিনতে তাকে নিয়ে প্রেস কাবের পাশে বিএমই ভবনে আসেন রাজীব। কেনার পর সেগুলো নিয়ে প্রেস কাবের পেছন দিয়ে গুলিস্তান যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি ককটেল রাজীবের পায়ের কাছে বিস্ফোরিত হলে তিনি আহত হন।
হেঁটে যেতেও বাধা গাবতলীতে : গতকালও গাবতলী এলাকা ছিল যৌথবাহিনী এবং আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দখলে। আমিনবাজার ব্রিজ থেকে শুরু করে টেকনিক্যাল মোড় পর্যন্ত ছিল প্রায় ১০টি চেকপোস্ট। তবে গত রোববার যেসব মানুষ হেঁটে ঢাকায় প্রবেশ করতে পারেননি গতকাল সোমবার সেসব মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করেছেন। তবে একসাথে একাধিক ব্যক্তি থাকলে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়েছে। এ দিকে গতকালও গাবতলী থেকে দূরপাল্লা বা সিটি সার্ভিস বাস চলাচল করেনি। এর আগের দিন রিকশা প্রবেশে বাধা থাকলেও গতকাল রিকশা প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ও আমিনবাজার এলাকায় গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। আগের দিন গাবতলী টার্মিনালের দিকে যেতে প্রথমেই মাজার রোডে ঢাকা-১৪ আসনের এমপি আসলামুল হকের নেতৃত্বে যে প্যান্ডেলটি চোখে পড়ে, গতকাল সেই প্যান্ডেল না থাকলেও সেখানে চেয়ারে কয়েকজন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী বসে থাকতে দেখা গেছে। তবে সেখানে গানবাজনা করতে দেখা যায়নি।
এর একটু সামনের প্যান্ডেলটি আগের মতোই ছিল। সেখানে চলছিল নৌকা মার্কার পক্ষে বিভিন্ন গান। এরপর গাবতলী আমিনবাজার ব্রিজের কাছে গিয়ে দেখা যায় প্রথমে র্যাব, তারপর পুলিশ এবং সবশেষে রয়েছে বিজিবির সদস্যরা। তবে এখানে সেনাবাহিনীর কোনো সদস্যকে অবস্থান করতে দেখা যায়নি।
অবরুদ্ধ চিটাগাং রোড : রাজধানীর অন্যতম প্রবেশদ্বার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর ব্রিজ ও ঢাকা-সিলেট সড়ক কার্যত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেষ্টনিতে ছিল। সারা দিন এই সড়ক দিয়ে কোনো যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। জরুরি কাজে বা অফিস মুখো মানুষ ঢাকায় রওনা হয়ে পথে পথে তল্লাশির মুখে পড়েছেন। হেঁটে বা বিকল্প ব্যবস্থায় রওনা হওয়া এসব সাধারণ মানুষের অনেককেই গন্তব্যে যেতে দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কাউকে আবার সন্দেহ হলে পথে বসিয়ে রেখেছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
ভোর থেকে পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কের কাঁচপুর ব্রিজ ও ঢাকা-সিলেট সড়কের সুলতানা কামাল সেতুতে অবস্থান নেয়। এ ছাড়া কাঁচপুর ব্রিজের দুই প্রান্তে সেনাবাহিনী টহল দেয়। ব্রিজের দুই প্রান্তে এবং সাইনবোর্ড মোড়ের দুই পাশে বালুর বস্তা দিয়ে বাংকার স্থাপন করে ডিউটি করে সেনা সদস্যরা। যৌথবাহিনীর তল্লাশি থেকে রেহাই পায়নি সংবাদপত্রের গাড়িও। পথে পথে বিভিন্ন চেকপোস্টে সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে তল্লাশি করে। এ ছাড়া পরিচয়পত্র প্রদর্শন করার পরও সংবাদকর্মীদের নানাভাবে নাজেহাল করা হয়। এ দিকে সাইনবোর্ড এলাকায় লাঠি নিয়ে মহড়া দিয়েছে সরকারসমর্থক দলের কর্মীরা।
দিনভর হয়রানি পোস্তগোলায় : রাজধানীর পোস্তগোলায় বুড়িগঙ্গা সেতুর দুই প্রান্তে ভোর থেকে অবস্থান করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকায় কর্মমুখো শত শত নারী-পুরুষ আটকা পড়েন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধায়। এ সময় অনেকেই তাদের পরিচয়পত্র এবং কর্মস্থলের ঠিকানা জানানোর পরও তাদের গন্তব্যে যেতে দেয়া হয়নি। এ ছাড়া সংবাদকর্মীরাও হয়রানির শিকার হয়েছেন। চেকপোস্টে সংবাদপত্রের গাড়িতে তল্লাশির নামে হয়রানি করা হয় সাংবাদিকদের। এভাবে সারা দিনে চলাচল করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন সাধারণ মানুষ। গতকালও বুড়িগঙ্গায় খেয়া পারাপার বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে শত শত মাঝি গতকাল সারা দিনে কোনো উপার্জন করতে পারেননি।
27/12/2013
প্রতিদিন আলু খাওয়া ভালো
খুব কম মানুষ আছেন যারা আলু খেতে পছন্দ করেন না। দামে সস্তা ও সহজলভ্য বলে সব শ্রেণির মানুষের হাতের নাগালের মধ্যে আছে এই সবজি। আলুর পুষ্টিগুণও অনেক। প্রতি ১০০ গ্রাম আলুতে আছে প্রায় ৯৬ কিলোক্যালরি। আলুতে স্বল্প পরিমাণে ভিটামিন 'এ', 'বি' ও 'সি' আছে। আর আলুর খোসাতে রয়েছে ভিটামিন 'এ', পটাশিয়াম, আয়রন, অ্যান্টি-অক্সাইড, ফাইবারসহ প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট।
এবার জেনে নেয়া যাক আলুর বিভিন্ন উপকারিতার কথা।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: আলুতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভিটামিন 'সি' আছে প্রচুর পরিমাণে। একটি মাঝারি আকৃতির (১৫০গ্রাম) আলুর ত্বকে আছে ২৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন 'সি'। এছাড়া আলুতে ভিটামিন বি, ফলেট, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রন আছে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে আলু খেলে রক্তচাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে অতিরিক্ত আলু খেলে শরীর মুটিয়ে যায় এবং রক্তে চিনির পরিমাণ বেড়ে যায়।
মানসিক চাপ কমায়: আলুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-৬ রয়েছে যা মানসিক চাপ কমিয়ে মন ভালো করতে সহায়তা করে। ভিটামিন বি-৬ মন ভালো রাখার জন্য কার্যকরী দুটি উপাদান সেরেটোনিন ও ডোপামিন নামক নিওট্রান্সমিটার গঠনে সহায়তা করে। নিওট্রান্সমিটার মস্তিষ্কে অনুভূতি আদান প্রদান করে থাকে।
মস্তিষ্ক সচল ও কর্মক্ষম বারায়: মস্তিষ্ক সচল ও কর্মক্ষম রাখার প্রয়োজনীয় গ্লুকোজ, অক্সিজেন, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, এমিনো এসিড, ওমেগা-৩ ও অন্যান্য ফ্যাটি এসিড ইত্যাদি।উপাদানগুলো সরবরাহ করতে আলু ভূমিকা রাখে।
ত্বকের সুন্দর্য বৃদ্ধি: আলুতে ভিটামিন সি, বি কমপ্লেক্স, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস ইত্যাদি রয়েছে যা ত্বকের জন্য জরুরী। আলু বেটে কিংবা আলুর রস ত্বকে লাগালে বিভিন্ন দাগ, র্যাশ ও অন্যান্য ত্বকের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া রোদে পোড়া ভাবও দূর করে আলুর রস।
শীতে চুলের যত্ন
শীত এখনও জেঁকে বসেনি। তবে শীতের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। এই সময়ে নিজেকে সুন্দর রাখতে রূপচর্চায় একটি প্রয়োজনীয় অংশ চুল। আর শীতে এই চুলের যত্নে বেশ কিছু টিপস:
*** চুলের গোড়া অবশ্যই পরিষ্কার রাখুন। চুলের গোড়ায় সরাসরি কণ্ডিশনার, ওয়াক্স বা জেল লাগাবেন না। এতে চুল বেড়ে ওঠার স্বাভাবিক গতি নষ্ট হয়।
*** চুলে ব্যবহারের পণ্য সতর্কতার সাথে নির্বাচন করুন। শ্যাম্পু ব্যবহার করুন এবং পরে ডীপার কণ্ডিশনার ব্যবহার করুন যাতে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা শীতের কারণে চুল পরে না যায়।
*** প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন। প্রোটিন চুলকে মজবুত করে এবং এর উজ্জলতা বাড়ায়। তাই পর্যাপ্ত মাছ, মাংস ও ডিম খান।
***চুলে তাপ দেবেন না। অর্থাৎ হেয়ার ড্রায়ারের ব্যবহার যথাসম্ভব কম করুন। কারণ এটা চুলকে দুর্বল করে দেয়।
***চুল স্ট্রেইট কিংবা কার্ল করবেন না। এতে চুল পর্যায়ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ে। নিয়মিত চুল রং করাও পরিহার করুন।
***গরম পানি দিয়ে চুল পরিষ্কার করবেন না। গরম পানি দিয়ে গোসল করলে হয় তো শীতে কিছুটা ভাল লাগবে। কিন্তু তা চুলকে নষ্ট করে দেয়। কুসুম গরম কিংবা ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে চুলের উজ্জলতা থাকবে।
***ধীরে ধীরে চুল ব্রাশ করুন। যেনতেনভাবে চুল ব্রাস করলে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে।
***বিশেষ করে উৎসবের মৌসুমে বাড়তি কোন মানসিক চাপ নেবেন না। এতে হরমোনের ওপর চাপ পড়বে এবং তা চুল পড়ে যেতে সহায়ক হবে।
12/12/2013
08/12/2013
আইপ্যাড এয়ারের পর আইপ্যাড ম্যাক্সি
এ বছর অ্যাপলের চমক ছিল আইপ্যাড এয়ার। আগামী বছর চমক হতে পারে আইপ্যাড ম্যাক্সি। ১২.৯ ইঞ্চি মাপের একটি মডেলের আইপ্যাড বাজারে আনতে পারে অ্যাপল। আগামী বছরের অক্টোবর নাগাদ উন্নত রেজুশেনের ডিসপ্লেযুক্ত নতুন আইপ্যাডের দেখা মিলতে পারে। প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট অ্যাপল ইনসাইডারের তথ্য অনুযায়ী, চীনের ফক্সকন কারখানায় বর্তমানে ১২.৯ ইঞ্চি মাপের আইপ্যাডের প্রটোটাইপ নিয়ে পরীক্ষা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ বছরের অক্টোবরে ৯.৭ ইঞ্চি মাপের আইপ্যাড এয়ার ও ৭.৯ ইঞ্চি মাপের আইপ্যাড মিনির নতুন সংস্করণ বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছিল অ্যাপল। বাজার বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, হালকা-পাতলা আইপ্যাড এয়ারের পরে আগামী বছর বড় মাপের আইপ্যাডের একটি সংস্করণ বাজারে আনতে পারে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যাপলের নতুন প্রযুক্তিপণ্য নিয়ে সারা বছরই বিভিন্ন প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটগুলোতে গুজব থাকে। অবশ্য এসব গুজব বিষয়ে অ্যাপলের পক্ষ থেকে কখনও কিছু প্রকাশ করা হয় না। তবে অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের গুজবের সঙ্গে অ্যাপলের বাজারে আসা পণ্যের মিল থাকে।
চীন ভিত্তিক প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট প্যাডনিউজ সম্প্রতি নতুন আইপ্যাডের তথ্য প্রকাশ করেছে। শুধু প্যাডনিউজ নয় এর আগে ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩ ইঞ্চির চেয়ে সামান্য ছোট মাপের একটি ট্যাব তৈরিতে কাজ করছে অ্যাপল।
প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট ডিজিটাইমসও এই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কোরিয়ার প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ইটিনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে অ্যাপল বড় আকারের আইপ্যাড আনবে যার নাম হবে ‘আইপ্যাড ম্যাক্সি’। এই আইপ্যাডে ফোরকে বা বর্তমান এইচডির তুলনায় চারগুণ বেশি রেজুলেশনের ডিসপ্লে থাকতে পারে। এ ছাড়াও এতে থাকবে উন্নত প্রসেসর ও নতুন ফিচার।
Like this page for always upadate
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Address
Rajshahi
6203