21/10/2024
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন স্যারকে, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগ, ২৪তম ব্যাচের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ❤️
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন স্যার বিভিন্ন সভা-সেমিনারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনটি শিক্ষনীয় ঘটনা উল্লেখ করেন -
উদাহরণ ১: আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত।
======================
ক্যাম্পাসে জারজিস চত্বর নামে একটা জায়গা আছে। জারজিস ভাই সম্ভবত সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রথম বর্ষের কয়েকদিন পার হওয়ার পর উনারা দলবেঁধে ক্যাম্পাসে ঘুরতে বের হন। এর মধ্যে হঠাৎ করে নারকেল গাছ দেখে ডাব খাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন সবাই। সারজিস ভাই গাছে উঠেন এবং একদম গাছের টপ থেকে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়ে যান ( আল্লাহ ওনাকে জান্নাতবাসী করুন) ।
স্যার ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে যে আবেগতাড়িত হয়ে নেওয়া হুটহাট সিদ্ধান্ত কখনো ভালো কিছু বয়ে আনে না।
উদাহরণ ২: মাদকের ভয়াবহতা
=====================
স্যারের বিভাগে সদ্য প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে একজন শিক্ষার্থী যিনি দেশের স্বনামধন্য একটি কলেজ থেকে এসএসসি & এইচএসসি তে জিপিএ ৫ পেয়ে ভর্তি হন। শুরুতে কাজলার দিকে একটি মেসে থাকতেন। নিয়মিত পড়াশোনা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন। কিন্তু একদিন মেসের এক বড় ভাইয়ের ডাকে কৌতুহলবশত সিগারেট খান।কিন্তু বড় ভাই আসলে সিগারেট না দিয়ে গাঁজা খাওয়ান কৌশলে। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে ছেলেটা গাঁজাতে, মাদকে আসক্ত হয়ে যায়। ডিপার্টমেন্টে ক্লাস করতে আসতো না, পরীক্ষা দিতে আসতো না। শিক্ষকরা তার সাথে যোগাযোগ করতেন, উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করতেন। স্যার পার্সোনালি ছেলেটার সাথে যোগাযোগ করলে ছেলেটা বলে, স্যার আমার জীবনটা আরো সুন্দর হতে পারতো, আমার অনেক স্বপ্ন ছিল।কিন্তু কৌতুহলের বশে নেওয়া সিদ্ধান্ত আমাকে ধ্বংস করে দিল। শেষ পর্যন্ত ভাইটা পড়াশোনা শেষ করতে না পেরে ড্রপ আউট হয়ে চলে যান।
স্যার এই ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সঙ্গী নির্বাচন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থীকে ধ্বংস করার জন্য সঙ্গীই যথেষ্ট।
উদাহরণ ৩: পরিবার
==============
কলা অনুষদের শেষ বর্ষের একজন শিক্ষার্থী ভাই ছিলেন যিনি একটা রিলেশনশিপে ছিলেন। একদিন তার তথাকথিত গার্লফ্রেন্ড এর সাথে মান-অভিমান করে চারুকলায় রেললাইনের রাস্তায় গিয়ে শুয়ে পড়েন। তার দ্বিখণ্ডিত দেহ নিয়ে স্যাররা যখন তার গ্রামের বাড়িতে যান তখন দেখতে পান এই শিক্ষার্থীর পরিবার অনেক নিডি। ছেলেটার উপর বাবা-মায়ের সব ভরসা ছিল যে পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের দায়িত্ব নিবে এই ছেলে। কিন্তু একটা ভুল রিলেশন তার নিজের জীবন এবং পরিবারের স্বপ্নটা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। এলাকাবাসী কান্নায় ভেঙে পড়েছে, তারা চিন্তাও করতে পারে নি এ ছেলে এমন কিছু করতে পারে।
স্যার ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, জীবন সম্পর্কিত ডিসিশন নেওয়ার ক্ষেত্রে বারবার ভাবতে হবে। কোনটা আমাদের জন্য ইফেক্টিভ, কতটুকু প্রোডাক্টিভ সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পরিবারের কথা সবার আগে মাথায় রাখতে হবে।
এমন একজন সদালাপী সবসময় হাসিমুখের মানুষ প্রশাসনে দায়িত্ব পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি উপকৃত হবে বলে আশা রাখছি। সবসময় হাসিমুখে সবার সাথে কথা বলেন।
স্যারের অন্যতম একটা ভালো গুণ হলো তিনি ক্লাসে নাম প্রেজেন্ট করার সময় রোল না ডেকে সবার নাম ধরে ডাকেন। এর মাধ্যমে কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ক্লাসের সবার নাম জেনে যান। এবং সাবেক স্টুডেন্টদের সবার নামও তিনি সাবলীলভাবে বলে দিতে পারেন।
জিনিয়াস স্কলারশিপের মাধ্যমে যারা উপকৃত হয়েছেন তারা স্যারকে ভালো চিনে থাকবেন।
সর্বোপরি স্যারের মতো একজন সৎ এবং যোগ্য মানুষ এমন পদে এসেছেন এটা শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। আশা করছি স্যার শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া পূরণে বৃহৎ পরিসরে কাজ করবেন।
অভিনন্দন ও শুভকামনা স্যার আপনার জন্য। ❤️