27/08/2025
আবু শুরাইহ খুযাঈ (রাদিয়াল্লাহু 'আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।"
প্রতিবেশীর অধিকার: ঈমানের পবিত্র বন্ধন
হে বিশ্বাসী! একবার ভেবে দেখুন, আপনার ঈমানের বাঁধন কত গভীর! এই হাদিসটি শুধু একটি উপদেশ নয়, এ যেন আপনার হৃদয়ের গভীরতম বিশ্বাস আর আপনার কর্মের মাঝে এক পবিত্র সেতু।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন, আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি যার truly ঈমান আছে, তার আচরণে যেন প্রতিবেশীর বিন্দুমাত্র কষ্ট না হয়! প্রতিবেশীর শান্তি বিঘ্নিত হলে, প্রতিবেশীর চোখে জল থাকলে, আপনার ইবাদত কি সত্যিই পূর্ণতা পায়? না, পায় না। আপনার ঈমানের দাবী হলো, আপনার পাশেই যে মানুষটি থাকেন— সে যেই হোক না কেন, তার শান্তি নিশ্চিত করা।
ভাবুন তো, রাতের আঁধারে যখন আপনার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে আর আপনি তৃপ্তির সাথে ঘুমান, কিংবা আপনার সামান্য শব্দে যখন তার রাতের ঘুম ভেঙে যায়, তখন আপনার ঈমান কি নীরব প্রশ্ন করে না?
জিবরীল (আঃ)-এর পক্ষ থেকে প্রতিবেশীর অধিকার এতোবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) ধারণা করেছিলেন— হয়তো প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকারীই বানিয়ে দেওয়া হবে! আপনার প্রতিবেশী আপনার ওয়ারিশ না হলেও, আপনার অনুভূতির ওয়ারিশ, আপনার হকের ওয়ারিশ।
আসুন, প্রতিবেশীর প্রতি আমাদের আচরণ হোক ভালোবাসার দলিল। তাদের হাসিই হোক আপনার ইবাদতের নূর, আর তাদের কষ্টের উপশম হোক আপনার হৃদয়ের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা। প্রতিবেশীকে ভালোবাসা মানেই আল্লাহকে ভালোবাসা, কারণ এতেই পূর্ণতা পায় আমাদের ঈমানের পবিত্র অঙ্গীকার।