সন্তান মানুষ করার সিক্রেট, এই লেখাটি প্রতিটি বাবা-মায়ের পড়া উচিত।।।
অনেকদিন পর সেই ভদ্রলোকের সঙ্গে আবার দেখা।
যাঁকে দেখলেই মনে হতো—এত স্বচ্ছ, ভদ্র আর নীরব মানুষ এখন খুব কমই দেখা যায়।
তাঁকে ভালো লাগার আরেকটি বড় কারণ ছিল—তাঁর দুই ছেলেই ছিল মেধাবী, সেরা ছাত্র।
আমি আগ্রহ নিয়ে সবসময়ই তাঁদের গল্প শুনতাম।
সময় বয়ে গেছে প্রায় এক যুগ।
তিনি অনেক আগেই সত্তর পেরিয়েছেন।
কিন্তু আশ্চর্যভাবে শরীরের টানটান ভাব এখনো অটুট।
বরং মুখে এক ধরনের নতুন আলো, নতুন প্রশান্তি—যা আগে কখনো দেখিনি।
কথার ফাঁকে জিজ্ঞেস করলাম,
— আচ্ছা, আপনার ছেলেরা এখন কী করছে?
তিনি শান্ত গলায় বললেন,
— উপরওয়ালার কৃপায় বড়োটা বুয়েট থেকে পাশ করে এমআইটি থেকে পিএইচডি শেষ করেছে। আর ছোটোটাও বুয়েট থেকে রেকর্ড মার্ক নিয়ে ফার্স্ট হয়ে সেখানেই জয়েন করেছিল। এখন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছে। পড়া শেষে দেশে ফিরে আসবে।
শুনে মনটা ভরে গেল।
তারপর জিজ্ঞেস করলাম,
— আপনি কেমন আছেন?
হালকা হাসি দিয়ে বললেন,
— খুব ভালো। বছরের একটা সময় ওদের সঙ্গে থাকি, বাকি সময় দেশে আগের কোম্পানিতেই চাকরি করি। মালিক আমাকে ছাড়েননি।
কিছুটা দ্বিধা ভেঙে বললাম,
— এই যে আপনার সন্তানেরা এত ভালো করছে—এর সিক্রেট কী?
তিনি মাথা নেড়ে বললেন,
— কোনো সিক্রেট নেই। তবে কিছু উপদেশ আছে। আগ্রহী হলে বলি।
আমি বললাম,
— অবশ্যই।
তিনি একটু থেমে বললেন—
শুনুন তাহলে…
১. খান বা না খান, সন্তানের জন্য সেরা শিক্ষক খুঁজবেন।
মনে রাখবেন—টাকা দিয়ে সেরা শিক্ষক পাওয়া যায় না।
যাঁর জ্ঞান ভালো, মন ভালো—তিনিই সেরা শিক্ষক।
২. সন্তানের শরীর ঠিক রাখার সব ব্যবস্থা নেবেন।
সামান্য অসুস্থ হলেও ভালো ডাক্তারের কাছে নেবেন।
স্বাস্থ্যই সব সাফল্যের ভিত্তি।
৩. সবসময় উপরওয়ালার কাছে সন্তানের শান্তির জন্য দোয়া করবেন।
কারণ শান্তির চেয়ে বড় কোনো সাফল্য নেই।
৪. বাচ্চাদের সামনে কখনো ঝগড়া করবেন না।
বাবা–মায়ের ঝগড়া টর্নেডোর মতো—
যা সন্তানের ভবিষ্যৎ উড়িয়ে নিয়ে যায়।
৫. প্রয়োজনে কঠোর হবেন।
বাবা–মা দরকারে শক্ত না হলে
সন্তানের ভবিষ্যৎ ‘নরম’ হয়ে যায়।
৬. সন্তানের চলাফেরা খেয়াল রাখবেন।
আমার ছেলেরা টেম্পুতে স্কুল–কলেজে যাওয়ার সময় জানতো না—
পেছনের টেম্পুতে আমি তাদের ফলো করছি।
সব কাজ ফেলে আমি এটা করতাম।
কারণ একটা বয়স পর্যন্ত নজরদারি খুব জরুরি।
৭. বাচ্চাদের জন্য একটি উপদেশই যথেষ্ট—
“তুমি মানুষ, পশু নও।
তাই মানুষের মতো আচরণ করবে, পশুর মতো নয়।”
৮. স্ত্রীকে ধন্যবাদ দিতে ভুলবেন না।
কারণ আসলে বাচ্চারা মানুষ হয় মায়ের হাতে।
বাবারা অনেক সময় চাইলেও পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না।
একটানা কথা বলে তিনি দম নিলেন।
তারপর মৃদু হেসে বললেন,
— বাচ্চা মানুষ করার জন্য এগুলোই যথেষ্ট। আর কিছু লাগবে না।
তিনি হাসছিলেন…
আর সেই হাসিতে এমন এক ধরনের আলো ছিল,
যে আলোয় আমি নীরবে ডুবে যাচ্ছিলাম।
collected
সাহসী মানুষ
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from সাহসী মানুষ, Personal coach, Rajshahi.
ছোট্ট রিমি আর সুমাইয়াকে বুকে জড়িয়ে রেখেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন মা পারভীন। জটিল টিবি রোগ নীরবে কেড়ে নিয়েছিল একজন মায়ের জীবন। রেখে গিয়েছিল দুই নিষ্পাপ চোখের প্রশ্ন আর অসহায় এক বাবার নীরব আহাজারি।
দিনমজুর সেই বাবা মানুষটা নিজের দুঃখ কখনো কাউকে দেখাননি। তারও একদিন যৌবন ছিল, স্বপ্ন ছিল, নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ ছিল। কিন্তু দুই মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে সবকিছু থামিয়ে দিয়েছিলেন। আর কখনো বিয়ে করেননি—কারণ তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল রিমি আর সুমাইয়ার ভবিষ্যৎ।
কখনো বই কেনার টাকা ছিল না, কখনো ভালো খাবার জোটেনি। নতুন পোশাক ছিল বিলাসিতা। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, ক্ষুধা আর ক্লান্তিকে সঙ্গী করে প্রতিদিন লড়াই করেছেন—শুধু এই ভেবে, তার মেয়েরা একদিন মানুষ হবে।
শত কষ্ট, শত না-পাওয়ার ভেতর দিয়েই বড় হয়েছে রিমি আর সুমাইয়া। বাবার ঘামঝরা সংগ্রাম, না বলা ত্যাগ আর নীরব কষ্ট বুকের গভীরে ধারণ করেই তারা এগিয়ে গেছে সামনে। বাবার চোখে তারা ছিল স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতেই মানুষটা নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েছেন।
আজ সেই দুই বোন—রিমি আর সুমাইয়া—বিসিএস ক্যাডার।
এটা শুধু দুই বোনের সাফল্যের গল্প নয়।
এটা একজন বাবার নীরব আত্মত্যাগের বিজয়।
এটা প্রমাণ—ত্যাগ কখনো বৃথা যায় না।
চোখ ভিজে আসে… গর্বে বুক ভরে যায়।
👉 এমন বাবারাই সত্যিকারের নায়ক।
#নীরব_নায়ক
#বাবার_ত্যাগ
#সংগ্রামের_গল্প
#অনুপ্রেরণা
#পরিশ্রমের_ফল
#গর্বিত_বাবা
#হার_না_মানা
#বাংলার_গল্প
17/12/2025
তালাক হয়ে যাওয়ার পর স্বামী কোর্ট থেকে বেরিয়ে অটোতে বসলো,আর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী সেই একই অটোতে এসে বসে পড়ল,উদাস স্বামী ১০ বছর একসঙ্গে থাকা স্ত্রী আফরোজার দিকে এক কাতর দৃষ্টিতে তাকালো
আফরোজা নিভে আসা হাসি দিয়ে বলল,বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত শেষ পথটা তোমার সাথেই যেতে চাই।
স্বামী বলল,ঠিক আছে!"
রাস্তায় যেতে যেতে স্বামী বলল
"অ্যালিমনি (ভরণপোষণ) এর টাকা দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে দিয়ে দেবো।
বাড়িটাও বেচে দেবো। তোমার জন্যই তো বানিয়েছিলাম।
তুমি যদি জীবনেই না থাকো, তবে সেই বাড়ি দিয়ে কি করব আমি?"
আফরোজা তাড়াহুড়ো করে বলল —
"বাড়ি কখনোই বেচো না।
আমাকে টাকা দেয়া লাগবে না।
প্রাইভেট চাকরি করছি, আমার আর বাবুর খরচ হয়ে যায়।"
হঠাৎ অটোওয়ালা ব্রেক কষলো, আফরোজার মুখ সামনে থাকা রেলিংয়ে ধাক্কা লাগার উপক্রম,
তখনই স্বামী হঠাৎ তার হাত ধরে তাকে বাঁচিয়ে দিল।
স্বামীর চোখের দিকে তাকিয়ে আফরোজা অশ্রুভরা কণ্ঠে বলল —
"আমরা আলাদা হয়ে গেছি, তবে তোমার যত্ন নেওয়ার অভ্যাসটা তো যায়নি!"
সে কিছু বলল না।
কিন্তু আফরোজা কেঁদে ফেলল।
কাঁদতে কাঁদতে বলল —
"একটা কথা জিজ্ঞেস করি?"
স্বামী চোখ তুলে বলল —
"কি?"
আফরোজা ধীরে ধীরে বলল —
"দুই বছর হয়ে গেল আমরা আলাদা থাকছি...
আমার কথা তোমার কখনো মনে পড়ত?"
স্বামী বলল —
"এখন বলেই বা কি লাভ?
এখন তো সব শেষ হয়ে গেছে না?
তালাক হয়ে গেছে।"
আফরোজা বলল —
"এই দুই বছরে একবারও সেই ঘুমটা আর পাইনি...
যে ঘুম তোমার হাতকে বালিশ বানিয়ে হতো..."
কথা শেষ করে সে ফুপিয়ে কেঁদে উঠল।
এসময় বাসস্ট্যান্ড চলে এসেছে।
দু’জন অটো থেকে নেমে দাঁড়াতেই স্বামী তার হাত ধরে ফেলল।
অনেকদিন পর স্বামীর স্পর্শ কব্জিতে অনুভব করে আফরোজা আবেগে ভেসে গেল।
স্বামী বলল —
"চলো, নিজের বাড়িতে চলে যাই।"
এটা শুনেই আফরোজা বলল —
"তালাকের কাগজগুলো তাহলে?"
স্বামী শান্ত গলায় বলল —
"ছিঁড়ে ফেলব।"
এটা শুনেই আফরোজা হাউমাউ করে কেঁদে স্বামীর গলায় মাথা রাখল...
পেছনে আরেকটা অটোতে আসা স্বামী-স্ত্রীর আত্মীয়রা সবকিছু দেখে চুপচাপ কোনো কথা না বলে বাসে উঠে চলে গেল...
নিজের সম্পর্ককে কখনোই আত্নীয়দেয় হাতে ছেড়ে দিতে নেই
নিজে সিদ্ধান্ত নিজেই নেন, নিজেদের মধ্যে কথা বলেন,
ভুল হলে তা স্বীকার করেন।💝
""তাই সমস্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে, নিজে ভাবুন এবং আপনার জীবনসঙ্গীকে নিয়ে ভাবুন দুজনে একসঙ্গে বসে আলাপ-আলোচনা করুন যদি সমাধানের মত হয় নিজেদের মধ্যেই সমাধান করুন এর মধ্যেই সব সমাধান ভুল অপরাধ ক্ষমা প্রার্থী হয় এবং সবার কাছে আশা করি সবাই বুঝবেন বুঝাবেন কিন্তু কখনো ছেড়ে যাওয়া বা চলে যাওয়া এই সিদ্ধান্ত নিবেন না প্রয়োজন হলে অনেক সময় নেবেন দুজন একটু ভিন্ন থাকবেন যেমন হচ্ছে তার কথাগুলো আপনি একা একা বসে ভাববেন তার শাসন তার কেয়ার ভালোবাসা যত্ন স্নেহ সম্মান এগুলো আপনি দুজন একা একা বসে ভাববেন তারপর সিদ্ধান্ত নিবেন দেখবেন আপনি উত্তমটা পেয়ে যাবেন,,,
ভালো থাকবেন
✨ কলেজে ক্লাস চলছে। নিরীহ দেখতে এক ছাত্রীকে উদ্দেশ্য করে শিক্ষক বললেন, "এই যে নীল জামা, তোমার নাম কি?"
মেয়েটি দ্বিধাগ্রস্ত সুরে জবাব দিল, "রেশমি, স্যার!"
শিক্ষক আদেশের সুরে বললেন, "তুমি এক্ষুণি ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাও। ভবিষ্যতে কখনও যেন তোমার মুখ না দেখি আমি!"
সারা ক্লাস মুহূর্তেই নিস্তব্ধ হয়ে গেল। রেশমি হতবাক হয়ে বলল, "স্যার, আমি তো কোনো দোষ করিনি। তাহলে আপনি আমার সাথে এমন করছেন কেন?"
শিক্ষক গর্জে উঠলেন, "আমি এক কথা দ্বিতীয়বার বলি না। চুপচাপ ক্লাস ছেড়ে বেরিয়ে যাও।"
রেশমি আর কোনো কথা না বলে কাঁদতে কাঁদতে নিজের ব্যাগ গুছিয়ে নিল এবং মাথা নিচু করে বেরিয়ে গেল ক্লাস থেকে। বাকি ছাত্রছাত্রীরা হতচকিত হয়ে তাকিয়ে রইল, কিন্তু কেউ মুখ খুলল না।
এরপর শিক্ষক একটু থেমে গম্ভীর স্বরে বললেন, "বল তো, আইন কেন তৈরি করা হয়?"
একজন বলল, "সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য।"
আরেকজন বলল, "যাতে কেউ অন্যায়ের শিকার না হয়।"
তৃতীয়জন বলল, "রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস রাখার জন্য।"
চতুর্থজন বলল, "সবাই যেন ন্যায্য বিচার পায়।"
শিক্ষক একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, "তোমাদের সবার কথাই ঠিক।"
তারপর তিনি আবার বললেন, "তোমাদের কি মনে হয় না কিছুক্ষণ আগে আমি রেশমির সাথে অন্যায় করেছি?"
সবাই চুপ, কেউ কিছু বলার সাহস পেল না।
শিক্ষক কৈফিয়ত দেবার ভঙ্গিতে বললেন, "হ্যাঁ, আমি রেশমির সঙ্গে স্পষ্টতই অবিচার করেছি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তোমরা কেউ কিছু বললে না কেন?"
পুরো ক্লাসে একবার চোখ বুলিয়ে তিনি নিজেই নিজের প্রশ্নের জবাব দিলেন, "কারণ তোমরা ভাবলে, এটা তো আমার সঙ্গে হয়নি! তাহলে আমি কেন প্রতিবাদ করব?"
শিক্ষক বলে চললেন, "এই মানসিকতাই একদিন তোমাদের জন্য বিপদের কারণ হবে। আজ যাকে নিঃশব্দে অবিচারের শিকার হতে দেখলে, আগামীকাল সেই অবস্থায় যদি তুমি নিজেই পড়ো, সেদিন কেউ তোমাদের পাশে দাঁড়াবে না।"
সারা ক্লাস নীরব, সবাই মাথা নিচু করে আছে। কেউ মুখ তুলে তাকাতে পারছে না।
শিক্ষক একটু বিরতি দিয়ে বললেন, "আজ তোমাদের এমন এক শিক্ষা দিলাম, যা তোমরা বছরের হাজারটা ক্লাস করেও হয়তো পেতে না। আজকের শিক্ষাটা জীবনের জন্য। সব সময় মনে রেখো, অন্যায়ের প্রতিবাদ না করলে তুমিও সেই অন্যায়ের অংশীদার হয়ে যাও। চুপ থাকা মানেই সম্মতি দেওয়া। তাই যেখানেই অন্যায় দেখো, সেটা যার সঙ্গেই ঘটুক না কেন, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও।
প্রায় পনেরো বছর পর হঠাৎ একদিন হোটেলের লবিতে দেখা হয়ে গেল আমার এক পুরনো বন্ধুর সাথে। শৈশবের সেই মৃদুভাষী, ভদ্র, শান্ত ছেলেটি, যে খুব সাধারণ জীবন যাপন করত, আজও সেই আগের মতোই রয়ে গেছে। চেহারায় বিনয়ের ছাপ, পরনে সাধারণ পোশাক, চালচলনে নেই কোনো বাহুল্য।
কুশল বিনিময়ের পর আমি বললাম, "চল, তোকে আমার গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেই।"
আসলে বন্ধুকে গাড়িতে তুলতে চাওয়ার পিছনে আমার একটা গোপন উদ্দেশ্য ছিল। আমার দামি মার্সিডিজ গাড়িটা ওকে দেখানো! বন্ধু দেখুক, আমি কত সফল, কত বড়লোক হয়েছি! কিন্তু সে বিনয়ের সাথে জানাল, “না, থাক, আমি আমার গাড়িতেই চলে যাব।”
পার্কিং লটে দুজন পাশাপাশি হেঁটে এলাম। বন্ধুর গাড়িটা একেবারেই সাধারণ। মনে মনে হাসলাম, ও এখনও এমন পুরোনো মডেলের গাড়ি চালায়!
সপ্তাহখানেক পরে ওকে ডিনারে আমন্ত্রণ জানালাম। ও পরিবার সহ এলো। ওর স্ত্রী, দুই সন্তান, সবাই এতটাই নম্র আর মার্জিত যে দেখে অবাক হলাম। সাজ-পোশাকে কোনো আড়ম্বর নেই, কিন্তু একটা প্রশান্তি, একটা শান্ত সৌন্দর্য লেগে আছে চোখেমুখে!
সেই রাতে কথার ফাঁকে ফাঁকে আমি বন্ধুকে বুঝিয়ে দিলাম আমার অভিজাত জীবন, দামি গাড়ি বাড়ি, আসবাবপত্র, আমার লাক্সারিয়াস লাইফ স্টাইল, অফিসের বিদেশ ভ্রমণ, লেটেস্ট ট্রেন্ড আর ফ্যাশনের প্রতি ঝোঁক, কত হাই ক্লাস লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ!
সত্যি কথা বলতে, আমি যেন আমার আভিজাত্য ওকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাইছিলাম। মোবাইলে একটার পর একটা ছবি দেখাচ্ছিলাম, গল্পের ফাঁকে ফাঁকে আমার অফিসের বিজনেস ডিলের প্রসঙ্গ তুলছিলাম।
কিন্তু ও যেন এসব নিয়ে খুব একটা উৎসাহী না। বরং ওর মুখে তখন অন্য এক আলো! শৈশবের স্কুল, পুরোনো বন্ধু, প্রিয় স্যারদের কথা, কতদিন কার খোঁজ নেওয়া হয় না, কতজন এখন আর বেঁচে নেই —এসব মনে করে ওর চোখের কোণে একটুখানি অশ্রুও দেখা গেল।
আমি বিরক্তি গোপন না করে বলেই ফেললাম, “শুধু পুরোনো স্মৃতি আর নীতিকথা মনে করে থাকলে জীবনে এগোনো যায় না!”
ডিনারের পরে ওরা চলে গেল। আমি ভাবলাম, এবার নিশ্চয় ও বুঝতে পারল, কে কতদূর এগিয়েছে!
কয়েক সপ্তাহ পর ফোন এলো বন্ধুর কাছ থেকে। বলল, "আগামীকাল দুপুরে ফ্রি আছো? সবাই মিলে আমার বাড়িতে বেড়াতে আসো।”
সেদিন আমার স্ত্রী আমার বাল্য বন্ধুটির ওপর বেশ বিরক্ত হয়েছিল। ওকে তাই অনেকটা জোর করে রাজি করিয়ে গেলাম বন্ধুর বাসায়।
গিয়ে দেখি, সবকিছু গোছানো, পরিপাটি, কিন্তু একদম সাধারণ। দামি আসবাব নেই, ঝকমকে কিছু নেই, তবু কি যে শান্ত আর আপন একটা পরিবেশ! যেন একটা মমতার ঘ্রাণ চারপাশে ভেসে বেড়াচ্ছে।
টেবিলের উপর চোখ পড়তেই দেখি, আমার কোম্পানির পাঠানো একটা সুন্দর গিফট বক্স!
আমি বিস্মিত হয়ে বললাম, “এই কোম্পানিতে তো আমি চাকরি করি! তুই এটা কোথায় পেলি?”
ও হেসে বলল, “ডেভিড পাঠিয়েছে।”
আমি থমকে গিয়ে বললাম, “কোন ডেভিড? ডেভিড থমসন?”
সে মাথা নেড়ে বলল, “হ্যাঁ, ডেভিড আমার পুরোনো বন্ধু। আমরা বহুদিন ধরেই আমরা একসাথে ব্যবসা করি।”
আমি যেন বিশ্বাস করতে পারছিলাম না! এই মানুষটাই আমাদের কোম্পানির ৭০% এর মালিক! যার নামে আমরা সম্মানে মাথা নিচু করি, সেই ডেভিড থমসনের পার্টনার — এই আমার সেই ছোটবেলার সাধারণ বন্ধু!
আমি যেন মুহূর্তেই ভেতরে ভেতরে খুব ছোট হয়ে গেলাম। যে মানুষটিকে আমি আমার দামি জিনিসপত্র দেখিয়ে মুগ্ধ করতে চেয়েছি, সে তো নিজেই আমার চাকরিদাতার বন্ধু। এমনকি কোম্পানির বেশিরভাগ মালিকানাও তার!
আমার অহংকার, দম্ভ, গর্ব সব যেন এক নিমেষে ধুলায় মিশে গেল। গাড়িতে ফিরে স্ত্রীর দিকে তাকালাম। দেখলাম, সেও চুপচাপ। আমাদের মুখে কোনো কথা নেই, কিন্তু মনের মধ্যে চলছে অনেক কিছু!
হঠাৎ মনে পড়ল আমাদের স্কুলের সেই প্রিয় স্যার বলতেন, "যে নদী যত গভীর, তার বয়ে চলার শব্দ তত কম।” আজ মর্মে মর্মে উপলব্ধি করলাম কথাটার মানে। যাদের হৃদয়, মানসিকতা আর আত্মবিশ্বাস গভীর, তারা কখনও বড় বড় কথা বলে না, বাহারি জিনিস দেখিয়ে বড় হওয়ার চেষ্টা করে না। তারা নীরবে বয়ে চলে, কিন্তু তাদের গভীরতায় সত্যিকারের আভিজাত্য প্রকাশ পায়।
সংগৃহীত
22/11/2025
পাক্কা তিন বছর পর ‘তার’ মেসেজ আসলো।
মেসেজে মাত্র দু’টা শব্দ— “কেমন আছো?”
আশ্চর্যজনকভাবে হাত কাঁপলো না, চোখ ভিজলো না। শুধু ভেতরে কোথাও একটা নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস উঠলো—এই মানুষটাই তো একদিন আমার পৃথিবী ছিল!
আমি হোয়াটসঅ্যাপ খুললাম।
শেষ কথোপকথন তিন বছর আগের—
আমার পাঠানো ২১টা মেসেজ
আর ৪৮টা কল—
সবগুলোই ডেলিভার্ড,
কোনোটার পাশে নেই কোনো রিপ্লাই।
সত্যিই… রিপ্লাই না পাওয়াও এক ধরনের রিপ্লাই।
তারপর আমি আর কল দেইনি।
আর কোনো মেসেজও না।
ধীরে ধীরে সেই নীরবতাই আমার জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছিল।
তিন বছর পর তার আবার মেসেজ—
“কেমন আছো?”
আমি লিখলাম—
“ভালো আছি। তুমি?”
সে সাথে সাথেই লিখলো—
“আমি ভালো নাই! তুমি আসলেই ভালো আছো?”
আমি বললাম—
“ভালো না থাকার মতো কোনো কারণ এখন আর নেই। সত্যিই ভালো আছি।”
তার পরের মেসেজটা অদ্ভুত, কেমন যেন অসহায়—
“আমি ভালো নাই! তুমি কি আমাকে অভিশাপ দিছো? বদদোয়া? আমার জীবনে সব এলোমেলো হয়ে গেছে… আমি ভালো নাই!”
আমি শান্তভাবে উত্তর দিলাম—
“তোমার প্রতি রাগ, অভিমান, অভিশাপ—কিছুই নেই। তুমি এখন আমার মনে নেই।”
সে শুধু seen করলো।
কিছুক্ষণ পর আবার লিখলো—
“আমার রাতে ঘুম হয় না।
জীবনে প্রচণ্ড অশান্তি।
তুমি যাকে ভালোবাসতে—সেই মানুষটা আমি আর নাই!
আমি এখন বুঝতে পারছি আমি তোমার সাথে অন্যায় করেছি… ঠকাইছি।
নাহলে আমি জীবনে এত কষ্ট পাওয়ার মতো কিছু করি নাই।
আমি তোমার কাছেই সবচেয়ে বেশি ভুল করেছি।
তোমাকে যতভাবে কষ্ট দেওয়া যায়—সব করেছি।
তোমাকে যে কষ্ট দিয়েছি—সব ফেরত আসছে আমার কাছে।
নাহলে আমার জীবনে এমন অশান্তি হওয়ার কথা না!
আমি খুব খারাপ সময় পার করছি…
তুমি প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও। প্লিজ।”
সেই মেসেজের পর ফোনটা নিঃশব্দ হয়ে রইলো।
আমি আর কোনো রিপ্লাই দিলাম না।
কারণ সত্যি কথা হলো—
আমি তাকে ঘৃণা করি না।
রাগ করি না।
অভিশাপ দেইনি কখনো।
আমি তাকে ‘মাফ’ করার মতো মহানও নই।
আমি শুধু… আর নেই।
তার গল্পে নেই, তার ভবিষ্যতে নেই, তার স্মৃতির জায়গাতেও নেই।
আমি যে মানুষটাকে ভালোবেসেছিলাম, সে আজ কারো ছায়ায় হারিয়ে গেছে।
কোনো ভেঙে পড়া প্রেম,
কোনো ক্ষমা,
কোনো অতীত আমাকে আর টানে না।
এই তিন বছরে আমি বুঝেছি—
বিদায় কখনো শব্দে হয় না,
চলতি পথে হয়।
ধীরে ধীরে হয়।
নিঃশব্দে হয়।
আজ আমি শুধু তাকেই অনুভব করলাম—
তারও যন্ত্রণার আছে, তারও অনুতাপ আছে…
কিন্তু তাতে আমার কিছুই যায় আসে না আর।
আমাদের দু’জনের পথ বহু আগে আলাদা হয়ে গেছে।
আজকের এই মেসেজগুলো শুধু তার দেরিতে আসা উপলব্ধি—
আর আমার অনেক আগেই শেখা সত্য।
শেষবার ফোনটা বন্ধ করার আগে আমি শুধু মনে মনে বললাম—
“তুমি ভালো থেকো… তবে আমায় ছাড়া।
আমার গল্পে তোমার জায়গা এখানেই শেষ।”
~ হয়তো এটাই ছিল আমাদের নিঃশব্দ, শেষ বিচ্ছেদ।
----( )
13/11/2025
কিছু পেশার মানুষকে তাদের স্ত্রীর সম্পর্কে বলতে বলা হলো।
সৈনিক বলল - সকল শত্রু আমাদেরকে ভয় পায়, আর আমরা শুধু ভয় পাই আমাদের স্ত্রীকে।
মুচি বলল - আমি জুতা মেরামত করি, আর আমার স্ত্রী আমাকেই মেরামত করে।
টিচার বলল - আমি কলেজে লেকচার দেই, কিন্তু ঘরে আমার স্ত্রীর কাছ থেকে আমি লেকচার শুনি।
বস বললো- আমি অফিসে সবার বস, কিন্তু ঘরে আমার স্ত্রী আমার বস।
সবশেষে জজ সাহেবকে জিজ্ঞেস করা হলো।। তখন জজ সাহেব বলতে বলতে ইমোশনাল হয়ে গেল।
বলল -. আমি কোর্টে সত্য এবং নয় ন্যায়ের আদেশ দেই কিন্তু ঘরে এখনো নিজের কোন আদেশ তো দূরের কথা, ন্যায়ের জন্য অপেক্ষা করছি।
একেই বলে স্ত্রীর পাওয়ার।
আদালত থেকে খলিফা হারুন অর রশিদের নিকট চিঠি এলো: শহরের বিচারক এক মাস যাবত অসুস্থ। এজন্য বিচারকাজ স্থগিত আছে। খলিফা যেন দ্রুত বিচারক নিয়োগের ব্যবস্থা করেন।
হারুন অর রশিদ চিঠির জবাব পাঠালেন:
অতি শীঘ্র নতুন বিচারক কাজে যোগদান করবেন।
কয়েকদিন পরের কথা। নতুন বিচারকের অধীনে বিচার কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রহরীরা একজন বৃদ্ধ মহিলাকে আসামী হিসেবে দরবারে হাজির করলেন। তার অপরাধ তিনি শহরের এক রেস্তারাঁ থেকে রুটি আর মধু চুরি করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন।
বিচারক: আপনি চুরি করেছেন?
বৃদ্ধা: (মাথা নিচু করে) জি।
– আপনি কি জানেন না চুরি করা কত বড় পাপ?
– জানি।
– জেনেও কেন চুরি করলেন?
– কারণ আমি গত এক সপ্তাহ যাবৎ অনাহারে ছিলাম । আমার সাথে এতিম দুই নাতিও না খেয়ে ছিল। আমি ওদের ক্ষুধার্ত চেহারা এবং কান্না সহ্য করতে পারিনি, তাই চুরি করেছি। আমার কাছে এ ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।
বিচারক এবার পুরো এজলাসে চোখ বুলালেন। এরপর বললেন, "কাল যেন নগর প্রধান, খাদ্যগুদাম প্রধান, বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ আদালতে উপস্থিত থাকেন। তখন এই মামলার রায় দেওয়া হবে।"
পরদিন সকালে সবাই হাজির। বিচারকও যথাসময়ে উপস্থিত হলেন। সবার সামনে তিনি রায় ঘোষণা করলেন:
বৃদ্ধা মহিলার চুরির অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১ বছর কারাদণ্ড, ৫০টি চাবুক এবং ১০০ দিনার অর্থদণ্ড প্রদান করা হলো।
তবে অকপটে সত্য বলার কারণে কারাদণ্ডের সাজা মাফ করা হলো। বিচারক প্রহরীকে চাবুক আনার নির্দেশ দিয়ে নিচে নেমে ওই বৃদ্ধ মহিলার পাশে দাঁড়ালেন।
বিচারক বললেন, "যে নগরে একজন ক্ষুধার্ত বৃদ্ধ মহিলা না খেতে পেয়ে ক্ষুধার যন্ত্রণায় চুরি করতে বাধ্য হয়, সেখানে তো সবচেয়ে বড় অপরাধী সে দেশের খলিফা। আর আমি এসেছি খলিফার প্রতিনিধি হয়ে। আমি যেহেতু তার অধীনে চাকরি করি তাই ৫০টি চাবুকের ২০টি আমার হাতে মারা হোক। এটাই হলো বিচারকের আদেশ। আদেশ যেন অবিলম্বে পালন করা হয় এবং বিচারক হিসাবে আমার উপর চাবুক মারতে যেন কোনো রকম করুণা বা দয়া দেখানো না হয়।"
বিচারক তার হাত বাড়িয়ে দিলেন । দুই হাতে পর পর ২০টি চাবুক মারা হলো। চাবুকের আঘাতের বিচারকের হাতের তালু থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। ওই অবস্থায় তিনি পকেট থেকে একটি রুমাল বের করলেন। কেউ একজন তার তালু বাঁধার জন্য এগিয়ে গেলে তিনি হাত উঁচু করে নিষেধ করলেন।
এরপর বিচারক বললেন, "যে শহরে নগর প্রধান, খাদ্য গুদাম প্রধান ও অন্যান্য সমাজ হিতৈষীরা একজন অভাবগ্রস্ত মহিলার ভরণপোষণ দিতে ব্যর্থ হন, সেই শহরে তারাও অপরাধী। তাই বাকি ৩০টি চাবুক সমানভাবে তাদেরকে মারা হোক।"
বিচারকের আদেশ পালন করা হলো।
এবার বিচারক উপস্থিত সবাইকে বললেন, "যে সমাজ একজন বৃদ্ধ মহিলাকে চোর বানায়, যে সমাজে এতিম শিশুরা অনাহারে থাকে, সে সমাজের সবাই অপরাধী। তাই উপস্থিত সবাইকে ১০০ দিনার করে জরিমানা করা হলো।"
এই বলে তিনি নিজের পকেট থেকে ১০০ দিনার বের করে রুমালের ওপর রাখলেন। সবাই জরিমানার টাকা জমা দেবার পর গুনে দেখা গেল প্রায় ১০,০০০ দিনার হয়েছে।
তখন তিনি ওই ১০,০০০ দিনার থেকে ১০০ দিনার জরিমানা বাবদ রেখে ৫০ দিনার চুরি যাওয়া দোকানের মালিককে দিলেন। অবশিষ্ট ৮,৫০০ দিনার বৃদ্ধ মহিলাকে দিয়ে বিচারক বললেন, "এগুলো আপনার ভরণপোষণের জন্য। আর আগামী মাসে আপনি খলিফা হারুন অর রশিদের দরবারে আসবেন। খলিফা আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী!"
এক মাস পরে বৃদ্ধা খলিফার দরবারে গিয়ে দেখেন, খলিফার আসনে বসা লোকটিকে চেনা চেনা মনে হচ্ছে। মহিলা ভয়ে ভয়ে খলিফার আসনের দিকে এগিয়ে যান। কাছে গিয়ে বুঝতে পারেন লোকটি সেদিনের সেই বিচারক। খলিফা চেয়ার থেকে নেমে এসে বললেন, "আপনাকে ও আপনার এতিম দুই নাতিকে অনাহারে রাখার জন্য সেদিন বিচারক হিসেবে ক্ষমা চেয়েছিলাম। আজ দরবারে ডেকে এনেছি প্রজা অধিকার সমুন্নত করতে না পারায় অধম এই খলিফাকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য। আপনি দয়া করে আমাকে ক্ষমা করুন
সংগৃহীত
যারা রবীন্দ্রনাথ পড়েছে,যারা শরৎচন্দ্র পড়েছে তারা জানে ভালোবাসা কি গভীর মনস্তাত্ত্বিক একটা অনুভুতি,না পাবার আকাঙ্ক্ষার তীব্রতা ঠিক কতখানি, একতরফা ভালোবাসার কি অদ্ভুত সৌন্দর্য। হুমায়ূন যারা পড়েছে তারাও জানে,শরীর কাছে পেয়েও মন ছুঁতে না পারার কষ্ট কিরকম, বাবা মায়ের কড়া শাসনে থাকা মেয়েটাও যদি কোনদিন তার প্রেমিককে বিয়ে করতে পারে সে ভালোবাসায় কি প্রচন্ড রকম আত্নহারা হতে পারে! আজকাল আমাদের পছন্দ রগরগে যৌন বর্ণনায় ভরা উপন্যাস,সিনেমা,সিরিজ। কাউকে দেখলাম,ভালো লাগলো, ডেট করলাম টাইপ। প্রথমে শরীরকে জেনে তারপর মনকে জানার গল্পই এখন আমাদের প্রিয়। বাট মনকে কি আমরা আসলেই জানতে পারছি? মন বোঝা কি এতই সহজ!!
বলিউড একটা সিনেমা আছে 'Bajirao Mastani'.... ভালোবাসা যে কত তীব্র হতে পারে, শুধুমাত্র একবার চোখের দেখাতেই তা কত প্রতিবাদী হয়ে উঠতে পারে,তার জন্য কত অপমান যে সহ্য করা যায়! ভালোবাসাই পৃথিবীর একমাত্র জিনিস যা হেরে গেলেও জিতে যায়।
একটা সিনেমা আছে 'Raanjhanaa'..... একতরফা ভালোবাসার যে কি প্রচন্ড জোর! বোকাসোকা একটা মানুষকে দিয়েও সেই ভালোবাসা বিরাট কিছু করিয়ে ফেলতে সক্ষম, ভালোবাসা মৃতকেও জাগাতে পারে। কিন্তু তারজন্য এমন তীব্র ভালোবাসা অপরজনের থাকা লাগবে।
একটা হলিউড মুভি আছে 'La La Land' যেটা দেখলেই নজরুলের একটা কথা আমার মনে পড়ে, "তোমারে যে চাহিয়াছে ভুলে একদিন,সে জানে তোমারে ভোলা কতটা কঠিন।"
ভালোবাসা কি সেটা জিজ্ঞেস করেন শেষের কবিতার লাবণ্যকে,কেন সে অমিতকে ছেড়ে অন্য আরেকজনকে বিয়ে করলো শুধুমাত্র ভালোবাসা বাঁচিয়ে রাখার জন্য? ভালবাসা জানতে হলে যেতে হবে সমরেশের কালবেলার মাধবীলতার কাছে, কিসের শক্তিতে সে একটা মানুষকে এভাবে একতরফা এত কষ্ট সয়ে বুকে পুষে সহ্য করলো সমাজের অদৃশ্য সব চাবুকের আঘাত! ভালোবাসা জানতে হলে বিভূতিভূষনের অপু-অপর্ণা জুটিকে দুচোখ ভরে দেখতে হবে, কিভাবে অতবড় বাড়ির একটা মেয়ে পরম আদরে অপুর ভাঙ্গাচোরা ছোট্ট মাটির ঘরে গোবর লেপে দিতে পেরেছিলো, মাসের পর মাস তাকে না দেখে একটা চিঠির অপেক্ষায় কাটিয়ে দিতে পেরেছিলো একাকী বিকালগুলো। পুতুল নাচের ইতিকথাতে শশী ডাক্তার কি আর এমনি এমনি বলেছিলো,"শরীর, শরীর, শরীর! তোমার মন নাই কুসুম?" মনকে ছুঁয়ে দেবার প্রাণপণ চেষ্টায় শশী তখন হাবুডুবু খাচ্ছিলো প্রেমের অতল সাগরে,তাও তল খুঁজে পায়নি।
ভালোবাসা স্বর্গীয়, যৌনতা আসে তারও অনেক অনেক পরে। কিন্তু মন দিয়ে ভালোবাসা অনুভব করতে গেলে সময় দিতে হয়, কাউকে ভালোলাগার সাথে সাথে তাকে হাতের মুঠোয় পেয়ে রগড়ে নিংড়ে অন্তত মনের সেই ভালোবাসার রস আস্বাদন করা যায় না,সেটা করতে হয় ধীরে ধীরে.. ভালোবাসার মানুষটাকে দূর থেকে ভালোবেসে,পাবার আনন্দটা তখনই তীব্র হয়ে ওঠে।
দুঃখী এই জেনারেশন, ভালোবাসা মানেই তারা জানলো শরীরের স্পর্শ,মন স্পর্শ করতে আর শিখলো না! হাত বাড়ালেই পেয়ে গেলো,অপেক্ষার আনন্দ জানলো না। জানলো না প্রিয় গানের লিরিক্সের মধ্যে বন্দী করে রাখা যায় ভালোবাসার মানুষটির সমস্ত স্মৃতিকে,জানলো না রবীন্দ্রনাথের একেকটা গানের সাথেই মিলিয়ে ফেলা যায় নিজের পুরো জীবনটাকে।
কোন কিছু না পারলে বা ১-২ বার ব্যর্থ হলে আর কাউকে দোষ দেন, নাকি নিজের দুর্বলতা গুলো খুঁজে বের করে আবারও পূর্ণ দমে লেগে পড়েন?
এটা জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় খারাপ করলে বলি প্রশ্ন কঠিন এসেছে - অথচ লিখাপড়া যে ঠিক মতো মনোযোগ দিয়ে সময়মত করি নাই, তা স্বীকার করি না।
চাকরী না হলে বলি আমার মামা নাই, চাচা নাই, ভালো ডিগ্রি নাই – লেখাপড়ার পাশাপাশি আমাদের যে কিছু দক্ষতা অর্জন করা দরকার ছিল, ভলান্টিয়ারীর করার দরকার ছিল, নেটওয়ার্কিং করার দরকার ছিল, আমরা অনেকেই তা করি না। যার কারণে পিছনে পরে থাকতে হয়।
ব্যবসা করতে না পারলে বলি আমার মূলধন নাই, আইডিয়া নাই, ভাগ্য নাই – অথচ বিজনেসে যারা সফল হয়েছে তাঁদের কারোই এগুলো ছিল না। তাঁরা স্বপ্ন দেখেছে, সাহস করেছে, শুরু করেছে এবং লেগে থেকেছে... তারা একদিন সফল হয়েছে।
29/10/2025
এ ছবিটা শুধু দুইজন মহিলার পার্থক্য নয় — এটা “জীবনধারার” পার্থক্য।
দুজনেরই বয়স ৫২ বছর, কিন্তু একজন নিজের শরীর, খাবার আর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিয়েছেন, আর অন্যজন সারাজীবন কাজের চাপে নিজের দিকটা ভুলে গেছেন।
শরীর আমাদের বাড়ি — একে যত অবহেলা করব, তত দ্রুত ভেঙে পড়বে।
সময়, বয়স, ব্যস্ততা — এসব অজুহাত নয়।
প্রতিদিন একটু সময় নিজের জন্য রাখুন,
একটু ব্যায়াম করুন, সঠিক খাবার খান, আর নিজের শরীরকে ভালোবাসুন।
কারণ “সুস্থ শরীর” শুধু সুন্দর দেখানোর জন্য নয়,
এটা জীবনকে দীর্ঘ, শক্তিশালী আর সুখী করে তোলে
Click here to claim your Sponsored Listing.