22/07/2025
আমার সীমিত ক্রিকেটীয় জ্ঞানে “ধানক্ষেত” টাইপ পিচ মানে হলো এমন উইকেট:
১। স্পিনারদের সহায়ক হবে
২। বল মাঝে মাঝে হঠাৎ লাফাবে বা নিচু থাকবে (আনইভেন বাউন্স)
৩। ব্যাটে আসতে দেরি করবে (স্লো পিচ)
৪। প্রচুর টার্ন থাকবে
এখন, মিরপুরে এই সিরিজের পিচকে এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি — একেকটা পয়েন্ট ধরে:
১। স্পিন সহায়ক ছিল?
এই সিরিজের দুই ম্যাচে মোট ৩৩টি উইকেট পড়েছে — তার মধ্যে পেসাররা নিয়েছে ২২টি, স্পিনাররা ৫টি এবং রান আউটে আউট হয়েছে ৬জন। পেসাররা স্পিনারদের চেয়ে ৪.৫ গুণ বেশি উইকেট পেয়েছে।
ইকোনমি রেটও বলছে স্পিনারদের (৭.২৫) তুলনায় পেসারদের (৫.৮) পারফরম্যান্স ছিল ভালো।
👉 অতএব, পিচ স্পিনারদের সহায়ক ছিল — এমন বলা যায় না।
২। আনইভেন বাউন্স ছিল?
কিছুটা ছিল — যেমন ডানিয়েলের একটা বল শর্ট লেংথে পড়ে উইকেটকিপারের মাথার ওপর দিয়ে যায়। তবে, এমন উদাহরণ হাতে গোনা। আর এক মাস ধরে প্রায় নিয়মিত বৃষ্টি হয়েছে ঢাকায় — সেক্ষেত্রে পিচে সামান্য আনইভেন বাউন্স থাকা স্বাভাবিক।
৩। বল লেটে আসছিল?
এই সিরিজে এখন পর্যন্ত ২৬টা ছয় হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ মেরেছে ১৬টি।
মানে ইনিংস প্রতি গড়ে ৮টি ছয় হয়েছে — যদি বল স্লো হত, তাহলে এত ছয় হত না।
উল্লেখযোগ্যভাবে বাংলাদেশ ৪.৩ ওভার কম খেলেছে, তাও ডেথ ওভারে (যেখানে ছয় বেশি হয়)।
👉 অতএব, বল খুব বেশি স্লো ছিল — এমন দাবি ঠিক নয়।
৪। প্রচুর টার্ন হচ্ছিল?
যারা পুরো ম্যাচ দেখেছে তারা জানে, স্পিনাররা খুব একটা টার্ন পায়নি। সাইম আইয়ুবের একটা বল আর রিশাদের কয়েকটা বল ছাড়া স্পিনে বিশেষ কিছু দেখা যায়নি।
পিচ যে ১৮০+ এর তা বলছি না। কিন্তু রান কম হওয়ায় পিচকে ধানক্ষেত ট্যাগ দেওয়া হয় তারও কোন মানে নেই।