আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ মহিলা হাফেজিয়া মাদ্রাসা

আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ মহিলা হাফেজিয়া মাদ্রাসা

Share

Alhamdulillah for everything

21/06/2026

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন :

اَلطَّلَاقُ مَرَّتٰنِ ۪ فَاِمْسَاكٌۢ بِمَعْرُوْفٍ اَوْ تَسْرِیْحٌۢ بِاِحْسَانٍ ؕ

তালাক (বেশির বেশি) দু’বার হওয়া চাই। অতঃপর (স্বামীর জন্য দু’টি পথই খোলা আছে) : হয়ত নীতিসম্মতভাবে (স্ত্রীকে) রেখে দেবে (অর্থাৎ তালাক প্রত্যাহার করে নেবে), অথবা উৎকৃষ্ট পন্থায় তাকে ছেড়ে দেবে (অর্থাৎ প্রত্যাহার না করে বরং ইদ্দত শেষ করতে দেবে)।

সূরা বাকারা, আয়াত : ২২৯
পাদটিকা :

আয়াতে এক নির্দেশ তো এই দেওয়া হয়েছে যে, তালাক যদি দিতেই হয় তবে সর্বোচ্চ দুই তালাক দেওয়া উচিত। কেননা এ অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক বহাল রাখার সুযোগ থাকে, যেহেতু তখন ইদ্দত চলাকালে তালাক প্রত্যাহার করে নেওয়ার অধিকার স্বামীর থাকে এবং ইদ্দতের পর উভয়ে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে নতুন মোহরানায় নতুনভাবে বিবাহ সম্পন্ন করতে পারে। কিন্তু তিন তালাক দিয়ে ফেললে এ উভয় পথ বন্ধ হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে সম্পর্ক বহাল করার কোনও পথই খোলা থাকে না। দ্বিতীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই যে, স্বামী তালাক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিক বা সম্পর্কচ্ছেদের, উভয় অবস্থায়ই ব্যাপারটা সুন্দরভাবে সদাচরণের সাথে সম্পন্ন করা চাই।
সূত্র : তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন

21/06/2026

পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা বলেন,

یَمْحَقُ اللّٰهُ الرِّبٰوا وَ یُرْبِی الصَّدَقٰتِ ؕ وَ اللّٰهُ لَا یُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ اَثِیْمٍ۝

আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান-সদকাকে বর্ধিত করেন। আর আল্লাহ এমন প্রতিটি লোককে অপছন্দ করেন যে অকৃতজ্ঞ, পাপিষ্ঠ।

সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৭৬ সূত্র : তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন

19/06/2026

আনাস রা. বলেন,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

مَنْ قَالَ - يَعْنِي ، إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ -: بِسْمِ اللهِ ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ ، لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ ، يُقَالُ لَهُ : كُفِيتَ ، وَوُقِيتَ ، وَتَنَحَّى عَنْهُ الشَّيْطَانُ.

যে ব্যক্তি (ঘর থেকে বের হওয়ার সময়) বলে,بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِঅর্থ : আমি আল্লাহর নামে বের হচ্ছি, আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কারও পক্ষে গুনাহ থেকে বাঁচা এবং তাঁর তাওফিক ছাড়া কারও পক্ষে নেক কাজ সম্ভব নয়।তাকে বলা হয়, তোমাকে হিদায়াত দিয়ে দেয়া হলো। তোমার দায়িত্ব নিয়ে নেয়া হলো এবং তোমাকে রক্ষা করা হলো। আর শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায়।

জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৪২৬ সূত্র : রিয়াযুস সালেহীন, ২য় খণ্ড, মাকতাবাতুল আশরাফ কর্তৃক প্রকাশিত, হাদীস নং ৮৩

19/06/2026

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

رَحِمَ اللَّهُ رَجُلاً سَمْحًا إِذَا بَاعَ ، وَإِذَا اشْتَرَى ، وَإِذَا اقْتَضَى

যে ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয় ও পাওনা তাগাদায় নম্র ব্যবহার করে, আল্লাহ তার ওপর রহম করুন।

সহীহ বুখারী, হাদীস ২০৭৬ (ফুআদ আবদুল বাকী তাহকীককৃত), ১৯৪৬ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ)

25/05/2026
Photos from আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ মহিলা হাফেজিয়া মাদ্রাসা 's post 25/05/2026

আপনাদের প্রিয় আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসার বাচ্চাদেরকে মৌসুমী ফল লিচু খাওয়ানো হলো। আলহামদুলিল্লাহ

03/05/2026

প্রশ্ন (১৬/২১৬) : শিশুদের ছোট বয়সে রোগ হওয়ার পূর্বেই প্রতিষেধক হিসাবে যেসব টিকা দেওয়া হয় এগুলি কি জায়েয? এটা কি তাওয়াক্কুল বিরোধী নয়?❓

🖊 উত্তর : এগুলি তাওয়াক্কুল বিরোধী নয়। বরং চিকিৎসা নেওয়াই শরী‘আতের নির্দেশ। তবে ঔষধ বা ডাক্তারকে আরোগ্যদানকারী মনে করলে শিরক হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমরা চিকিৎসা করাও। তবে হারাম বস্ত্ত দিয়ে করো না’ (আহমাদ হা/১২৬১৮; ছহীহুল জামে‘ হা/১৭৫৪; মিশকাত হা/৪৫৩৮)। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে ৭টি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন বিষ এবং জাদু তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪১৯০)। এ হাদীছ প্রমাণ করে যে, রোগ আসার পূর্বেই প্রতিষেধক নেওয়া যাবে (আব্দুল্লাহ বিন বায, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৬/২১)।

রাসূল (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ এমন কোন রোগ নাযিল করেননি যার প্রতিষেধক সৃষ্টি করেননি। যারা এবিষয়ে জ্ঞান অর্জন করার তারা করল। আর যারা অজ্ঞ থাকার তারা অজ্ঞই থাকল (আহমাদ হা/৩৫৭৮; ছহীহাহ হা/৪৫১, ১৬৫০)। তিনি আরো বললেন, ‘প্রত্যেক রোগের ঔষধ রয়েছে। যখন সেটা পৌঁছে যায়, তখন সে রোগমুক্ত হয় আল্লাহর হুকুমে (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৫১৫)। তাই যাবতীয় কল্যাণ বা অকল্যাণ সংঘটিত হয় আল্লাহর হুকুমে। এরূপ আক্বীদা পোষণ করে যাবতীয় হালাল চিকিৎসা বা প্রতিষেধক গ্রহণে শরী‘আতে কোন বাধা নেই।

📝 প্রশ্নোত্তর
📚 মাসিক আত তাহরীক

26/04/2026

ভূমিকা

قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ
الدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ مَلْعُونٌ مَا فِيهَا إِلَّا ذِكْرَ اللَّهِ وَمَا وَالاهُ وَعَالِمًا أَوْ مُتَعَلِّمًا

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন এবং মানুষকে তা শিখিয়েছেন যা সে জানত না। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানবতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর।

ইসলামী সভ্যতার সুউচ্চ মিনার কোনো বিলাসবহুল প্রাসাদে বসে নির্মিত হয়নি; বরং এটি নির্মিত হয়েছে সাহাবায়ে কেরাম এবং সালাফে সালেহীনের পবিত্র ঘাম, নির্ঘুম রাত এবং অভাবনীয় ত্যাগের বিনিময়ে। জ্ঞান অন্বেষণকে তাঁরা কেবল শখ নয়, বরং ইবাদত ও জান্নাতের পথ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

ইলম বা জ্ঞান শুধু অর্জনের বিষয় নয়—এটি একটি আমানত, একটি দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ব পালনে যাঁরা সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তাঁরা হলেন সাহাবায়ে কেরাম (রা.)। তাঁরা জ্ঞান অর্জনের জন্য যেমন কষ্ট, ত্যাগ ও ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করেছেন, তেমনি সেই জ্ঞান মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেও ছিলেন নিরলস ও উদার। তাঁদের জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে ফুটে ওঠে ইলমের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং নববী শিক্ষার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা।

সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ছিলেন মহানবী (সা.)-এর সরাসরি ছাত্র। তাঁরা তাঁর প্রতিটি কথা, কাজ ও অনুমোদন গভীর মনোযোগের সাথে গ্রহণ করতেন এবং তা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করতেন। শুধু তাই নয়, তাঁরা এই জ্ঞানকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াকেও নিজেদের ঈমানী দায়িত্ব মনে করতেন।

আজ আমরা যে জ্ঞান শিখছি তা সেই জ্ঞান যা আল্লাহ সরাসরি নাবীকে + সাহবীকে+তাবেই +তাবে তাবেইন+সালাফগন

ইলম অর্জনের মূলনীতি
(সালাফদের দৃষ্টিভঙ্গি) সালাফরা ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত মূলনীতিগুলো মেনে চলতেন:
১. নিয়ত বিশুদ্ধকরণ: একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইলম অর্জন করা [১.১.৬]।
২. আদব ও শিষ্টাচার: আদব বিহীন ইলম আরোহীকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়, তাই তারা ইলমের আদব রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন [১.৩.৫]।
৩. আমলের মাধ্যমে ইলম: ফুযাইল ইবনে ইয়ায (রহ.) বলেন, "ইলম অর্জন করা মানুষের কর্তব্য। আর যখন শেখা হয়ে যাবে, তখন সেই অর্জিত ইলমের প্রতি আমল করা অপরিহার্য" [১.৩.৫]।

সালাফদের ইলম অর্জনের পথ সহজ ছিল না। অভাব, অনটন ও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তারা ইলম হাসিল করতেন।
১. একটি হাদীসের জন্য মাসব্যাপী সফর
সালাফদের কাছে ইলমের গুরুত্ব এতই বেশি ছিল যে, একটি মাত্র বাক্য শোনার জন্য তাঁরা মরুভূমির তপ্ত বালু মাড়িয়ে মাসের পর মাস এক শহর থেকে অন্য শহরে পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করতেন।
তাদের এই সফর সম্পর্কে উক্তি রয়েছে:
مَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ رِحْلَةٌ لَمْ يَكُنْ لَهُ رَحْمَةٌ
(যার [ইলমের জন্য] কোনো সফর নেই, তার মাঝে ইলমের রহমত পূর্ণতা পায় না।)
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.): তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইস (রা.)-এর কাছে থাকা একটি মাত্র হাদীস শোনার জন্য মদীনা থেকে সিরিয়া পর্যন্ত এক মাসের দীর্ঘ সফর করেছিলেন।

সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহ.) বলেন:
"إِنْ كُنْتُ لَأَسِيرُ اللَّيَالِيَ وَالْأَيَّامَ فِي طَلَبِ الْحَدِيثِ الْوَاحِدِ"
(নিশ্চয়ই আমি একটি মাত্র হাদীসের তালাশে দিনরাত একটানা সফর করতাম।) [হাওলা: সহীহ বুখারী, কিতাবুল ইলম; জামে বয়ানিল ইলম: ১/৯৪; তারিখু দিমাশক: ২০/৪৪৭]

ঘটনা: ইবনে কাছির রহ. নিজের কষ্টের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন:
بُلْتُ الدَّمَ فِي طَلَبِ الْعِلْمِ مَرَّتَيْنِ: مَرَّةً بِبَغْدَادَ، وَمَرَّةً بِمَكَّةَ، وَكُنْتُ أَمْشِي حَافِيًا فِي الْحَرِّ الشَّدِيدِ، وَأَحْمِلُ كُتُبِي عَلَى رَأْسِي
(আমি ইলম অনুসন্ধানের পথে দুবার রক্তপ্রস্রাব করেছি—একবার বাগদাদে এবং অন্যবার মক্কায়। আমি প্রখর রোদে খালি পায়ে হেঁটেছি এবং আমার কিতাবগুলো নিজের মাথায় বহন করতাম।)

আজকে ঘরে বসে যেই বালাগাত মানতে, নাহু সরফ শিখছো এটা তাদের সময় এতো সহজ ছিলো না

আজকে মাথার উপর সাদ এসি ফ্যান, সেজন্য হয়তো আর ইবনে কাছীরের মতো প্রখ্যাত ব্যক্তির জন্ম হয়না+++++

২. চরম ক্ষুধা ও দারিদ্র্য সহ্য করা /অভাব ও কষ্টের মাঝেও ইলম অর্জন
পেটে ক্ষুধা নিয়ে জ্ঞানের সাধনা করা ছিল তাঁদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।

ইমাম আওযাঈ (রহ.)-এর একটি মূলনীতি হলো:
تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ فَإِنَّ تَعَلُّمَهُ لِلّٰهِ خَشْيَةٌ، وَطَلَبَهُ عِبَادَةٌ
(তোমরা ইলম অর্জন করো, কেননা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইলম শেখা হলো তাঁকে ভয় করার নামান্তর এবং তা অন্বেষণ করা একটি ইবাদত।)

আবু হুরায়রা (রা.): আসহাবে সুফফার এই মহান সাহাবী ক্ষুধার চোটে বেহুঁশ হয়ে যেতেন। তিনি বলতেন:
"وَاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، إِنْ كُنْتُ لَأَعْتَمِدُ بِكَبِدِي عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْجُوعِ
" (আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই! আমি ক্ষুধার তীব্রতায় কলিজা মাটির সাথে মিশিয়ে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতাম।)
+ ইশ এটা যদি অনুভব করতে চাও তাহলে যাও রেলওয়ে যে সকাল থেকে না খেয়ে পড়ে আছে পাগলের মতো

সালাফদের অনেকে ইলম অর্জনের জন্য নিজেদের সহায়-সম্বল পর্যন্ত বিক্রি করে দিতেন।

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.) বর্ণনা করেন যে, শুবাহ ইবনুল হাজ্জাজ (রহ.)-এর ইলম অর্জনের ত্যাগ সম্পর্কে বলা হয়েছে:
بَاعَ شُعْبَةُ جِذْعَ بَيْتِهِ حَتّٰى تَعَلَّمَ الْعِلْمَ
(শুবাহ ইবনুল হাজ্জাজ ইলম অর্জনের জন্য তাঁর ঘরের ছাদের কাঠ পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছিলেন।)
ইমাম মালিক (রহ.): তিনি ইলম অন্বেষণের জন্য এতটাই নিঃস্ব হয়েছিলেন যে, তাঁর ঘরের ছাদের কড়িকাঠ পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছিল। [হাওলা: সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ৬৪৫২; তারতীবুল মাদারিক: ২/২৫]
[হাওলা: সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ৬৪৫২; তারতীবুল মাদারিক: ২/২৫]

৩. মিথ্যা অপবাদ থেকে বাঁচতে সর্বস্ব বিসর্জন
(১০০০ দীনারের ঘটনা) ইলমের সম্মান রক্ষার্থে সালাফগণ নিজের অর্জিত সম্পদ হেলায় বিসর্জন দিতে দ্বিধা করতেন না।
ঘটনা: জনৈক তালিবে ইলম (মতান্তরে ইমাম আবু বকর ইবনে মুখারিদ) জাহাজে সফর করছিলেন। তাঁর কাছে ১০০০ স্বর্ণমুদ্রা ছিল (১৫ কোটি টাকা?। এক চোর তা দেখে মিথ্যা শোরগোল শুরু করে যে তার টাকা চুরি হয়েছে। তালিবে ইলম যখন দেখলেন যে এখন তল্লাশি চালানো হবে এবং চোরটি মিথ্যা কসম খেয়ে তাঁকে চোর সাব্যস্ত করে অপদস্থ করবে, তখন তিনি ইলম ও ওস্তাদের মান রক্ষা করতে চুপিচুপি টাকার থলিটি সমুদ্রে ফেলে দেন। তিনি বলেছিলেন:
"خِفْتُ أَنْ يَتَدَنَّسَ عِرْضِي، وَأَنْ يُقَالَ عَنِّي سَارِقٌ وَأَنَا طَالِبُ عِلْمٍ"
(আমি ভয় পাচ্ছিলাম পাছে আমার সম্মান ধূলিসাৎ হয় এবং আমি একজন ইলমের ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও আমাকে চোর বলা হয়।) [হাওলা: সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১৩/২৮৮-২৮৯]

৪. আরাম ও নিদ্রাকে বিদায় জানানো
সালাফরা রাতের নির্জন সময়কে মুতাআলা বা অধ্যয়নের জন্য শ্রেষ্ঠ সময় মনে করতেন। উমর (রা.)-এর সেই বিখ্যাত উক্তিটি হলো:
تَفَقَّهُوا قَبْلَ أَنْ تُسَوَّدُوا
(নেতৃত্বের আসনে বসার আগেই তোমরা দ্বীনি গভীর জ্ঞান (ফিকহ) অর্জন করে নাও।)

✔️ ইমাম নববী (রহ.): তিনি একটানা দুই বছর রাতে বিছানায় পিঠ ঠেকাননি। তন্দ্রা এলে কিতাবে হেলান দিয়ে সামান্য বিশ্রাম নিতেন। তিনি প্রতিদিন ১২টি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের দরসে অংশ নিতেন।
+++++আমরা নিচ্ছি ৭/৮ তাও এক জায়গায় বসে থেকে

✔️ ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.): তিনি রাতে তন্দ্রা দূর করার জন্য চোখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিতেন এবং বলতেন:
النَّوْمُ مِنَ الْحَرَارَةِ، فَإِنَّمَا نَدْفَعُهُ بِالْمَاءِ الْبَارِدِ"
(নিদ্রা আসে শরীরের তাপ থেকে, তাই আমি ঠান্ডা পানি দিয়ে তা দূর করার চেষ্টা করি।) [হাওলা: আল-মানহালুল আযবুল রাউয়ী: ১৮-২০; শরহুল জামিউস সগির: ১/৫]
"
৫. ওস্তাদের দরজায় বিনম্র অপেক্ষা
জ্ঞানের প্রতি তাঁদের সম্মান ছিল নজিরবিহীন।
ইবনে আব্বাস (রা.):
মহানবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পরের ঘটনা, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) একজন আনসারিকে ডেকে বলেন, আজ অনেক সাহাবি আমাদের মাঝে আছেন। চল, তাদের কাছ থেকে ইলম অর্জন করি। আনসারি বলল, বড় বড় সাহাবিরা জীবিত আছেন, তাদের ছেড়ে কে আমাদের কাছে হাদিস জানতে আসবে? ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আমি তার কথায় কান দিলাম না। আমি সাহাবায়ে কেরামের ঘরে ঘরে গিয়ে রাসুল (সা.)-এর হাদিস অন্বেষণ করতে লাগলাম। যার কাছেই কোনো হাদিস আছে বলে শুনতাম, তার বাড়িতেই যেতাম।

কারও বাড়িতে এসে হয়তো দেখতাম, তিনি ঘুমিয়ে আছেন। আমি তখন চাদর বিছিয়ে দরজার সামনেই বসে পড়তাম। ধুলোবালি পড়ে আমার শরীর মলিন হয়ে যেত। সাহাবি ঘুম থেকে উঠে আমাকে দেখে চমকে উঠতেন এবং বলতেন, হে রাসুলের চাচাতো ভাই! আপনি কেন এসেছেন? খবর দিলেই তো আমি আপনার কাছে হাজির হতাম। আমি তখন বলতাম, জ্বী না। আমারই আপনার কাছে আসা উচিত। এভাবে তার কাছ থেকে হাদিসটি শিখে নিতাম।

এর কিছুকাল পর ইলমে নববীর অন্বেষণে আমার চারপাশে অসংখ্য মানুষের ভিড় দেখে ওই আনসারি বলছিলো, এই যুবক বড়ই বুদ্ধিমান। (মুসতাদরাকে হাকেম, খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ৭৩)
ইবনে আব্বাস বলতেন
"ذَلَلْتُ طَالِبًا، فَعَزَزْتُ مَطْلُوبًا
" (আমি ছাত্র হিসেবে যখন বিনয় ও কষ্ট সহ্য করেছি, তখন শিক্ষক হিসেবে সম্মান লাভ করেছি।) [হাওলা: জামে বয়ানিল ইলম ওয়া ফাদলিহি: ১/৪৮৫]

✅সালাফদের কাছে ইলম অর্জনের গুরুত্ব

১. দুনিয়ার হাকিকত ও ইলমের গুরুত্ব:
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিস :
الدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ مَلْعُونٌ مَا فِيهَا إِلَّا ذِكْرَ اللَّهِ وَمَا وَالاهُ وَعَالِمًا أَوْ مُتَعَلِّمًا
(অর্থ: দুনিয়া অভিশপ্ত এবং যা কিছু দুনিয়াতে আছে তাও অভিশপ্ত; তবে আল্লাহর জিকির ও তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং আলেম ও তালেবে ইলম (জ্ঞান অন্বেষণকারী) ব্যতীত।)

২. ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর সংগ্রাম:
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-কে কেউ জিজ্ঞেস করেছিলেন, "আপনি কতদিন পর্যন্ত হাতে কলম আর দোয়াত নিয়ে ঘুরবেন?" (অর্থাৎ আপনার ইলম অর্জন কি শেষ হবে না?)। তখন তিনি একটি অমর উক্তি করেছিলেন:
"مَعَ الْمَحْبَرَةِ إِلَى الْمَقْبَرَةِ"
(অর্থ: দোয়াত সাথে নিয়ে চলব কবর পর্যন্ত।)

অর্থাৎ সালাফদের কাছে জ্ঞান অর্জন কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছিল না, বরং তা ছিল দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত বিস্তৃত এক নিরবচ্ছিন্ন সফর।

৩. সালাফদের আদর্শ ও সাধনা:
সালাফগণ ইলম অর্জনকে সবচেয়ে বড় ইবাদত মনে করতেন। ইমাম ইবনে মুবারক (রহ.)-কে যখন জিজ্ঞেস করা হলো, "আপনি তো অনেক ইলম শিখেছেন, এখন কেন কিতাব পড়েন?" তিনি উত্তরে বলেছিলেন, "হয়তো যে কথাটি জানলে আমার নাজাত হবে, তা আমি এখনো শিখিনি।"

উম্মাহর জন্য নসিহত: উপসংহার
বর্তমান সময়ের ফিতনা থেকে বাঁচতে হলে সালাফদের মতো ইলমের পথে ফিরে আসতে হবে। ইলম ছাড়া ইবাদত বা আমল সঠিক পথে পরিচালিত হয় না।
হে মুসলিম সমাজ! সালাফদের এই ত্যাগের বিনিময় হচ্ছে আজকের এই বিশুদ্ধ দ্বীন। আজ আমাদের হাতে কিতাব আছে, আধুনিক প্রযুক্তি আছে, কিন্তু তাঁদের মতো একাগ্রতা ও ত্যাগের মানসিকতা কি আছে? আসুন, দুনিয়ার তুচ্ছ মোহের চেয়ে আল্লাহর দ্বীনের ইলম অর্জনকে প্রাধান্য দেই। আল্লাহ আমাদের সকলকে সালাফদের যোগ্য উত্তরসূরি হওয়ার তৌফিক দান করুন। "
أَقُولُ قَوْلِي هَذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ لِي وَلَكُمْ وَلِسَائِرِ الْمُسْلِمِينَ"

Want your school to be the top-listed School/college in Rajshahi?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address

Keshobpur , Panihar, Godagari
Rajshahi