09/03/2026
“মান কুন্তু মাওলা ফাহাযা আলিয়্যুন মাওলা” — এক ঐতিহাসিক ঘোষণা 🌹
ইসলামের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ বাণী হলো: “মান কুন্তু মাওলা ফাহাযা আলিয়্যুন মাওলা”।
সহজ অর্থ: "আমি যার মাওলা (অভিভাবক, নেতা বা প্রিয়জন), আলীও তার মাওলা।"
পটভূমি ও বর্ণনা:
আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশো বছর আগে, দশম হিজরিতে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবনের শেষ হজ অর্থাৎ 'বিদায় হজ' সম্পন্ন করে মদিনায় ফিরছিলেন। ফেরার পথে ১৮ই জিলহজ তারিখে 'গাদীরে খুম' নামক এক মরুপ্রান্তরে সমবেত হাজার হাজার সাহাবীর সামনে তিনি এই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি হযরত আলী (রা.)-এর হাত উঁচিয়ে ধরে মুসলিম উম্মাহকে এক বিশেষ বার্তা দেন। এই ঘটনাটি জামে তিরমিজি (হাদিস নং ৩৭১৩), মুসনাদে আহমদ এবং সুনানে ইবনে মাজাহ-সহ অসংখ্য নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
সহজ ভাষায় এর গভীর ব্যাখ্যা:
এখানে ‘মাওলা’ শব্দটি অত্যন্ত ব্যাপক। আলেমদের মতে, এর প্রধান অর্থ হলো— পরম প্রিয় বন্ধু, সাহায্যকারী এবং সম্মানিত নেতা। রাসূলুল্লাহ (সা.) এই বার্তার মাধ্যমে আমাদের বুঝিয়ে গেছেন যে:
১. মুমিন হতে হলে নবীজীর পাশাপাশি হযরত আলী (রা.)-কেও মনেপ্রাণে ভালোবাসতে হবে।
২. ইসলামের পথে হযরত আলী (রা.)-এর ত্যাগ ও মর্যাদাকে সম্মান করতে হবে।
৩. নবীজীর সাথে যার আত্মার সম্পর্ক, হযরত আলীর সাথেও তার গভীর মহব্বত থাকা জরুরি।
আমাদের শিক্ষা:
এই হাদিসটি কেবল একটি তথ্য নয়, বরং এটি হযরত আলী (রা.)-এর প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও আনুগত্যের এক অনন্য দলিল। ইসলামের ইতিহাসে এটি এমন এক মুহূর্ত, যেখানে নবীজী (সা.) নিজে তাঁর প্রিয় সাহাবী ও ভাই আলীর মর্যাদা সবার সামনে তুলে ধরেছিলেন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে নবীজী (সা.) এবং তাঁর আহলে বাইতের (পরিবার) প্রতি সঠিক মহব্বত ও সম্মান পোষণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন। 🤲
#বিদায়_হজ #ইসলামিক_পোস্ট