01/09/2026
#চিহ্নিত চিত্রসহ একটি আদর্শ নিউক্লিয়াসের গঠন ও কাজ বর্ণনা:-
•নিউক্লিয়াস (Nucleus): ১৮৩১ সালে বিজ্ঞানী রবার্ট ব্রাউন (Robert Brown) সর্বপ্রথম কোষে নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন।
ইউক্যারিওটিক বা আদর্শ কোষের প্রোটোপ্লাজমে অবস্থিত সবচেয়ে ঘন ও গোলাকার অঙ্গাণুটি হলো নিউক্লিয়াস। এটিকে কোষের 'মস্তিষ্ক' বা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বলা হয়, কারণ এটি কোষের যাবতীয় বিপাকীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে এবং বংশগতীয় তথ্য ধারণ ও সঞ্চালন করে।
নিউক্লিয়াসের গঠন:
✓একটি আদর্শ নিউক্লিয়াস প্রধানত চারটি অংশ নিয়ে গঠিত। যথা-
১. নিউক্লিয়ার মেমব্রেন বা নিউক্লিয় পর্দা (Nuclear Membrane): নিউক্লিয়াসের বাইরের দিকের দ্বি-স্তরী আবরণ। এটি নিউক্লিয়াসের ভেতরের উপাদানকে সাইটোপ্লাজম থেকে আলাদা করে রাখে। এতে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে, যার মাধ্যমে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের মধ্যে প্রয়োজনীয় বস্তুর আদান-প্রদান ঘটে।
২. নিউক্লিওপ্লাজম (Nucleoplasm): নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা আবৃত স্বচ্ছ, ঘন ও দানাদার তরল পদার্থ। এটি নিউক্লিওলাসের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং বিভিন্ন এনজাইমের কার্যকলাপের ক্ষেত্র।
৩. নিউক্লিওলাস (Nucleolus): নিউক্লিওপ্লাজমের ভেতরে অবস্থিত সবচেয়ে ঘন, ছোট ও গোলাকার উজ্জ্বল অংশ। এটি মূলত রাইবোসোম (RNA এবং প্রোটিন) তৈরি ও সংরক্ষণের কাজ করে।
৪. ক্রোমাটিন জালিকা বা নিউক্লিয়ার জালিকা (Chromatin Network): নিউক্লিওপ্লাজমে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা সুতার মতো অংশ। কোষ বিভাজনের সময় এগুলো খাটো ও মোটা হয়ে ক্রোমোজোমে পরিণত হয়। এগুলোতে মূলত DNA (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড) থাকে, যা বংশগতির ধারক ও বাহক।
•নিউক্লিয়াসের কাজ:-
i) কোষের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ: কোষের সকল জৈবিক ও বিপাকীয় কার্যক্রম উৎসেচকের (Enzyme) সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করে।
ii) বংশগতি নিয়ন্ত্রণ: DNA ও ক্রোমোজোমের মাধ্যমে পিতা-মাতার বৈশিষ্ট্য পরবর্তী বংশধরে (সন্তান-সন্ততিতে) সঞ্চারিত করে।
iii) প্রোটিন সংশ্লেষণ: নিউক্লিওলাস রাইবোসোম তৈরি করে, যা পরবর্তীতে প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্য করে।
iv) কোষ বিভাজন: কোষ বিভাজনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যার ফলে জীবের বৃদ্ধি ও প্রজনন ঘটে।