Ahsanul Irfan

Ahsanul Irfan

Share

ক্ষমা করো, তোমাকেও ক্ষমা করা হবে।

05/05/2026

🔵 Post no: 391

17/04/2026

🔵 Post no: 390

শব্দ বিভ্রান্তি:

১. "যতোটুকু পারো করো, বাকিটা আল্লাহর ভরসা।"

কেউ বলতে পারে, "নাহ, পুরোটাই আল্লাহর ভরসা।"। হ্যাঁ, পুরোটাই আল্লাহর ভরসা, কিন্তু এখানে যা বোঝানো হচ্ছে তা হলো "যতোটুকু পারার করো, তুমি যা করবে তারপর বাকিটা আল্লাহ দেখবেনি", এটা কথা বলার এক ধরন মাত্র।

২. "ঈমান অর্জন করতে খুব বেশি জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না, আল্লাহ চাইলেই একজনের অন্তরে ঈমান দিতে পারেন।"

কেউ বলতে পারে, "নাহ, তুমি ভুল, 'আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী তারাই কেবল তাকে ভয় করে' (৩৫:২৮)। এ আয়াতে জ্ঞানী বলতে যারা কুরআন সুন্নাহর আলোকে জ্ঞান রাখে, যেমন: একজন ধার্মিক কৃষক হয়তো ইসলামের সব জানে না, কিন্তু কিছু ভালো জ্ঞান রাখে ফলে জ্ঞানী।

৩. "যেকোনো কিছুর অতিরিক্ততা সমস্যাজনক, অতিরিক্ত ইবাদত করাও ঠিক নয়।"

কেউ বলতে পারে, "নাহ, নবি রসূলরা আল্লাহর অনেক ইবাদত করতেন"। ওপরে "অতিরিক্ত" বলতে বাড়াবাড়ি করা বোঝানো হচ্ছে, কেউ ধরুন সারাদিন শুধু নামাজই পড়ে, অন্য কিছুই করে নাহ, এমন অতিরিক্ততা।

৪. "নারীকে চারটি কারণে বিবাহ করা হয়: তার ধন-সম্পদের জন্য, তার বংশ-মর্যাদার জন্য, তার সৌন্দর্যের জন্য এবং তার ধার্মিকতার জন্য। তুমি ধার্মিক নারীকে বিয়ে করো—তোমার হাত ধূলিমলিন হোক (অর্থাৎ তুমি সফল হও)।"
— সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৫০৯০), সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ১৪৬৬)

কেউ বলতে পারে, "ধরুন, আমি একজন নারীকে বিয়ে করতে চাই কারণ সে নারী গরিব, তাকে বিয়ে করলে তার উপকার হবে, এক্ষেত্রে তো আমি ওপরের একটি কারণেও বয়ে করছি না"। হ্যাঁ, ঠিক। ওপরে যা বোঝানো হচ্ছে তা হলো "সাধারণত" একটি নারীকে চারটি কারণে বিয়ে করা হয়।

৫. "তুমি নামাজ পড়েও কী, না পড়েও কী, তুমি তো মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করোই।"।

কেউ বলতে পারে "নাহ, সে যেহেতু নামাজ পড়ে, তাই সে কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করলেও জান্নাতে যাওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তাই দুটা এক নয়"। এখানে "পড়েও কী, না পড়েও কী" বলতে বোঝানো হচ্ছে "সে পড়েও খারাপ ব্যবহার করে, আবার না পড়েও খারাপ ব্যবহার করে।


17/04/2026

🔵 Post no: 389

গানবাজনা ও ইসলাম :

[1] Ringtone কিন্তু বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে তৈরি হয়।

[2] নাশিদ অর্থাৎ ইসলামি গানে শি-শি ধরনের এক ধরনের দীর্ঘ সময়ের আওয়াজ (music) ব্যবহার করা হয়, সেটাও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে তৈরি হয়।

[3] নানা ইসলামি অনুষ্ঠান, যেমন— আলোকিত জ্ঞানি; সেখানে নানা কথা, যেমন— আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ; এগুলোর সাথে নানা আওয়াজ (music) হয়, সেগুলো বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে তৈরি হয়।

[1], [2] ও [3]-এর ভেতর [1]-তো প্রয়োজন।

[] "বিশেষ অনুষ্ঠানে" "নিরীহ বা বলা যেতে পারে কম উত্তেজক বাদ্যযন্ত্র" বাজানো হালাল, যেমন- দফ, আর রাসূল (সা.)-এর যুগে যে কয়টি বাদ্যযন্ত্র ছিলো তার ভেতর দফ সবচেয়ে প্রচলিত ছিলো আর দফ নিরীহ ও কম উত্তেজক। আর যদি হালাল গান গাইতে হয় সবার সামনে তাহলে কিশোরীরা সেটা করতে পারবে, যুবতীরা নয়।

গান: কুরআনে সূরা লোকমানে যে আয়াত (৩১:৬) দ্বারা আলেমরা গানবাজনাকে হারাম বলে, সেখানে যে শব্দ আছে তা হলো: লাহূও আল-হাদিস, যার অর্থ হলো মূলত তুচ্ছ বিনোদনের জন্য কথাবার্তা। এই শব্দের দ্বারা ওপরেরগুলো হারাম ঘোষণা করা সাধারণত যায় না।

[] আর হাদিসে উট চলার গান গাওয়া, বিয়েতে কিশোরীদের গান গাওয়া— এগুলো আছে। গান নানা ধরনের হয়ে থাকে— বাবাকে নিয়ে গান, স্ত্রীকে নিয়ে প্রেমের গান, জাহাজ নিয়ে গান। সব গান হারাম নয়। যদি লাহূও আল-হাদিস, যার অর্থ তুচ্ছ বিনোদনের জন্য কথাবার্তা, তা দ্বারা সব ধরনের গান সবক্ষেত্রেই হারাম বোঝানো হয়, তাহলে তা হালাল গান গাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে আমরা জানি, উট চলার হালাল গান গাওয়ার হাদিস আছে। হালাল গান গাওয়া সব ক্ষেত্রেই হালাল, কিন্তু নিরীহ বা কম উত্তেজক বাদ্যযন্ত্র যেমন— দফ কেবল বিশেষ অনুষ্ঠানে হালাল। আর রাসূল (সা.)-এর যুগে যে বাদ্যযন্ত্র সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হতো তা হলো দফ, অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র তেমন ব্যবহার হতো না, আর দফ সবচেয়ে নিরীহ ও কম উত্তেজক।

> বলার একটি বিশেষ কারণ— অনেকে জাতীয় সংগীত গাইতে চায় না, প্রকৃতি নিয়ে গানও গাইতে চায় না; বাদ্য ছাড়াও— কারণ হারাম মনে করে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আমার উম্মতের মধ্যে কিছু লোক এমন হবে যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে…" — (সহিহ বুখারী, হাদিস নম্বর: ৫৫৯০ (কিছু সংস্করণে ভিন্ন হতে পারে।)

> এখানে রেশমের কথাও আছে, আর আমরা জানি রেশম নারীদের জন্য শুরু থেকেই হালাল। তাই এখানে যে বাদ্যযন্ত্রের কথা বলা আছে সেটাও সব বাদ্যযন্ত্র সব ক্ষেত্রে নয়, তা মূলত বিশেষ অনুষ্ঠান ছাড়া, বিশেষ অনুষ্ঠানে নিরীহ ও কম উত্তেজক বাদ্যযন্ত্র হালাল, যেমন— দফ বিয়েতে, ঈদে বাজানোর সহীহ হাদিস আছে। আর রাসূল (সা.)-এর যুগে যে বাদ্যযন্ত্র সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হতো তা হলো দফ, অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র তেমন ব্যবহার হতো না, আর দফ সবচেয়ে নিরীহ ও কম উত্তেজক।

[] মদ পান, যিনা, রেশম পুরুষদের জন্য যে হারাম, তা কুরআন-হাদিস দ্বারা স্পষ্ট। তাই রাসূল (স.)-এর কোনো উম্মতরা এগুলোকে হালাল ভাবতে পারে? যারা একেবারেই অজ্ঞ। কিন্তু বর্তমানে যারা দফ ছাড়াও নানা নিরীহ ও কম উত্তেজক বাদ্যকে বিশেষ অনুষ্ঠানে হালাল মনে করে, তারা কিন্তু যিনা, মদ পান, পুরুষদের জন্য রেশমকে হালাল মনে করে না।

[] ইসলাম প্রচলিত হওয়ার আগে এবং হিজরতের আগে আরবের সমাজে প্রধান বাদ্যযন্ত্রগুলো ছিলো:

১. দাফ (Daf / দফ)
একটি হাতে বাজানো চামড়ার ঢাকনা।
সাধারণত উৎসব, শাদী বা সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে ব্যবহার হতো।

২. রাবাব (Rabāb / রাবাব)
এক ধরনের দুই বা তিন স্ট্রিং-যুক্ত স্ট্রিং বাদ্যযন্ত্র।
প্রায়শই কাব্য পাঠ বা গান পরিবেশনে ব্যবহার হতো।

৩. নাযির (Nāy / নাযির)
বাঁশের তৈরি বায়ুস্রোতবাদ্য, যা বাঁশের নলের মতো।
গানের সাথে মিলিয়ে ধ্বনি উৎপন্ন করত।

৪. কোনো বাঁশ বা কাঠের বাদ্যযন্ত্র
মূলত হালকা আকারের, সামাজিক বা পারিবারিক আনন্দ-উৎসবের জন্য।

[] সরাসরি রাবাব, নাযির বা বাঁশের বাদ্যযন্ত্রের নাম নিয়ে কোনো সহীহ হাদিসে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই।

আর রাসূল (সা.)-এর যুগে সাধারণত এ কয়টি বাদ্যযন্ত্র ছিলো তার ভেতর দফ সবচেয়ে প্রচলিত ছিলো আর দফ নিরীহ ও কম উত্তেজক। "বিশেষ অনুষ্ঠানে" "নিরীহ বা বলা যেতে পারে কম উত্তেজক বাদ্যযন্ত্র" বাজানো হালাল, যেমন- দফ।

অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র যেমন রাবাব, নাযির, বাঁশের বাদ্য মূলত শিল্পী বা গায়ক দ্বারা ব্যবহৃত হতো এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে তেমন প্রচলিত ছিলো না আর এগুলো হয়তো নিরীহ বা কম উত্তেজক বাদ্যযন্ত্র নয়।

> বার বার হাদিসে কেবল বিশেষ অনুষ্ঠানে দফের কথা এসেছে কারণ দফ সে সময়ের যে কয়টি বাদ্যযন্ত্র ছিলো তার ভেতর সবচেয়ে নিরীহ ও কম উত্তেজক।

[] অনেক কাজই আছে, যেগুলোর দ্বারা ইহকালীন ও পরকালীন বড়ো কোনো উপকার নেই, কিন্তু হালাল। যেমন: ছোটোরা পুতুল দিয়ে খেলা, গাছ-পালার শোপিস রাখা, হালাল মজা করা। যেমন— রাসূল (সা.) এক বৃদ্ধ নারীকে বলেছিলেন, "বৃদ্ধ নারীরা জান্নাতে যাবে না।" এ কথা শুনে বৃদ্ধা কেঁদে ফেললে রাসূল (সা.) তাকে বুঝিয়ে বললেন যে তিনি মজা করেছিলেন। কারণ জান্নাতে কেউ বৃদ্ধ অবস্থায় প্রবেশ করবে না; সবাই যুবক-যুবতী হয়ে যাবে।

এগুলো ভালো লাগে বলে মানুষ করে; ভালো লাগাই উপকার। আর এসবের ওপর নিষেধাজ্ঞা না থাকায় এগুলো হালাল। কেউ যদি প্রয়োজনীয় কাজ বাদ দিয়ে এগুলো করে তখন তা করা অনর্থক।

[] কোনো ইসলামী গানে যদি রাসূল (সা.)-কে আল্লাহর সাথে তুলনা করে হয়, তখন সে ইসলামি গানও হারাম হবে। তাই শুধুমাত্র যে সাধারণ গানই হারাম হতে পারে এমন নয়।

________________________________________________________________________

আনাস বিন মালিক (রা) বলেন নবী (সা.) যুদ্ধ অথবা সফর শেষে (মদিনায়) ফিরে এসেছিলেন, তখন মদীনার কিছু কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি তাঁকে স্বাগত জানালো। তারা তাঁর সামনে নাচছিলো এবং তাদের (হাবশার) ভাষায় গান গাইছিলো এবং বলছিলো মুহাম্মাদ এসেছেন, তিনি একজন সৎকাপিরায়ণ ব্যক্তি। কিন্তু নবী (সা.) (তাদের কথা গুলো) বুঝতে পারলেন না। তাই তিনি লোকদের জিজ্ঞাসা করলেন তারা কি বলছে? লোকেরা বললো, তারা বলছে 'মুহাম্মাদ আল্লাহর সৎকর্মপরায়ণ বান্দা'।
– (সুনান আল কুবরা, ৪২৩৬) হাদিসের মান: সহীহ।

> গানে যদি হারাম কিছু না থাকে তাহলে তা গাওয়া জায়েজ।
> নারীরা পুরুষের সামনে নয়, কেবল পুরুষ যদি শুধু নাচের মতো করে গা নড়ায় তাহলে তা জয়েজ।

"হালাল" গান হওয়া কি কেবল বিশেষ অনুষ্ঠানে হালাল?
আনাস ইবন মালিক (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এক সফরে ছিলেন। তাঁর একজন খাদেম বা উটচালক ছিলো, যার নাম ছিলো আঞ্জাশা। সে সুন্দর কণ্ঠে উট চলার গান গাইতো। তখন নবী (সা.) তাকে বললেন, "হে আঞ্জাশা! আস্তে চালাও। কাঁচের পাত্রগুলো ভেঙে ফেলো না।" (অর্থাৎ নারীদের ব্যাপারে সাবধান হও; তারা কোমল কাঁচের পাত্রের মতো।)
— (সহীহ বুখারী, কিতাবুল আদব )كتاب الأدب( হাদীস নং: ৬১৪৯ (ফাতহুল বারী/দারুসসালাম নম্বরিং অনুযায়ী, সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ফাদাইল )کتاب الفضائل( হাদীস নং: ২৩২৩ (দারুসসালাম নম্বরিং অনুযায়ী)

এ হাদিস থেকে প্রমাণ হয় "হালাল" গান হওয়া কেবল বিশেষ অনুষ্ঠানে হালাল নয়, বিশেষ অনুষ্ঠান ছাড়াও হালাল।

আর বিশেষ অনুষ্ঠানের অনেক হাদিস আছে, যেমন নিচের হাদিস:

এক বিয়েতে নবী (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, "তোমরা কি কনেকে পাঠিয়েছো? ... তার সাথে কি কাউকে পাঠিয়েছো যে গান গাইবে?" কারণ আনসাররা গান পছন্দ করতো। – (সহিহ বুখারি (৫১৬২-এর আশেপাশে, কিতাবুন নিকাহ)

এতে বোঝা যায়-বিয়েতে গান প্রচলিত ছিলো এবং নবী (সা.) তা নাকচ করেননি। কিন্তু এগুলো হারাম গান ছিলো না, এবং সবার সামনে যুবতীরা গাইতো না, কিশোরীরা গাইতো।

আয়িশা (রা.) বলেন, ঈদের দিনে আমার কাছে আনসারদের দুই কিশোরী ছিলো; তারা গান করছিলো এবং দফ বাজাচ্ছিলো। তখন আবু বকর (রা.) বললেন, "রাসূলুল্লাহ-এর ঘরে শয়তানের বাঁশি!" নবী (সা.) বললেন, ওদের ছেড়ে দাও, হে আবু বকর। প্রত্যেক জাতির একটি ঈদ আছে; আর এটি আমাদের ঈদ।
– (সহীহ বুখারি, হাদিস নং ৯৫২, সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৮৯২)

এখানে, রাসূল (সা.) কেন বললেন না যে, "না আবু বকর কেবল দফ বাজানো যেতে পারে?" কারণ দফও কেবল বিশেষ অনুষ্ঠানে হালাল, এজন্য তিনি বলেছেন, "আজ ঈদের দিন, আর ঈদের দিন দফ বাজানো যেতে পারে।" আর রাসূল (সা.)-এর যুগে সাধারণত এ কয়টি বাদ্যযন্ত্র ছিলো তার ভেতর দফ সবচেয়ে প্রচলিত ছিলো আর দফ নিরীহ ও কম উত্তেজক।

যদি বলা হয়, চলচিত্র হারাম। তার মানে কি নন মাহরামের মেলামেশা ছাড়া, হারাম জিনিস ছাড়া কোনো চলচ্চিত্র যেটাতে কোনো খারাপ ঘটনা নেই, সে চলচিত্রও হারাম? = না (যদি মানুষের ভিডিও বানানো হালাল হয়)। তাই যদি হাদিসে বলা হয় বাদ্য হারাম। তার মানে যে সব বাদ্যই সব ক্ষেত্রেই হারাম এমন হবে না।

[] বাদ্য হারাম এমন হাদিস আছে, কিন্তু "সব" বাদ্য নিঃশর্তভাবে হারাম—এমন সরাসরি, দ্ব্যর্থহীন ভাষার সহিহ হাদিস নেই এবং "দফ ছাড়া সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র হারাম" এমন কোনো হাদিসও নেই।

আমির বিন সাদ বাজলী বর্ণনা করেন, 'তিনি বলেন যে, এক বিবাহ তানুষ্ঠানে আমি কারজা বিন কাব, আবু মাসুদ আনসারী এবং সাবিত বিন যায়েদের কাছে বসেছিলাম। তখন তামি দেখলাম কিছু মেয়ে দফ বাজাচ্ছে এবং গান গাইছে। আমি বললাম, "সুবহানাল্লাহ, আপনারা সবাই নাবী (সা.) এর সাহাবী, বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী, এবং এসব আপনাদের নাকের ডগায় ঘটছে"। তখন কারজা বিন্ন কাব এবং আবু মাসুদ আনসারী বললেন, যদি তোমরা চাও, তাহলে আমাদের সাথে এটি শুরাতে পারো, আর, যদি না চাও, তাহলে চলে যেতে পারো। কারণ, আমাদেরকে বিবাহের সময় গান গাওয়া এবং মৃতদের জন্য কান্না করার অনুমতি দেয়া হয়েছে, যদি সেই কান্নায় বিলাপ করা না হয়। (সুনান আল কুবরা, ৫৫৩৯)

হাদীসের আরবি বর্ণনায় সাধারণত শব্দ এসেছে: "جوار" জাওয়ারিন এটি "جارية" জারিয়াহ-এর বহুবচন।

শব্দের অর্থ "جارية"

[] কিশোরী/অল্পবয়স্ক মেয়ে।
[] তরুণী মেয়ে।
[] কখনও দাসী মেয়ে (প্রসঙ্গভেদে)

এই হাদীসের প্রেক্ষাপটে অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও ভাষাবিদ ব্যাখ্যা করেছেন যে এখানে অল্পবয়স্ক মেয়ে বা কিশোরী মেয়েদের বোঝানো হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক নারী নয়। তবে এই হাদিসটি যঈফ।

মুহাম্মাদ ইবনু হাতিব আল-জুমাহি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, হালাল বিবাহ ও হারাম বিবাহের পার্থক্য হলো— বিবাহে দফ বাজানো ও প্রকাশ্য ঘোষণা (প্রকাশ্য ঘোষণা = উচ্চস্বরে বিবাহের কথা বলা, বিয়ের অনুষ্ঠানে আনন্দ প্রকাশ, কিশোরীদের হালাল গান।)
– (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১০৮৮)

> তবে, এখানে হারাম গানবাদ্য বোঝানো হয়নি।
> প্রাপ্তবয়স্ক বা যুবতী নয়, কিশোরী বা অল্পবয়সী মেয়ে পুরুষের সামনে হালাল গান গাওয়া জায়েজ।
> আর প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে একা অথবা মাহরামের সামনে "হালাল" গান গাওয়া জায়েজ।

হারাম কাজের জন্য মানত করা যায় না। তাহলে রাসূল (সা.) কেন দাসীকে বললেন না যে, গান গাওয়ার জন্য মানত করলে তা করা যাবে না? :

হযরত বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, একবার নবী (সা.) যখন যুদ্ধ থেকে বিজয়ী হয়ে মদিনায় ফিরে আসলেন, তখন একজন কৃষ্ণাঙ্গ দাসী নবী (সা.)-এর কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল, আমি মানত করেছিলাম যে, যদি আল্লাহ আপনাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনেন, তাহলে আমি আপনার সামনে দাফ বাজাবো এবং আপনার জন্য একটি গান গাইবো। নবী (সা.) বললেন, যদি তুমি মানত করে থাকো, তাহলে তোমার মানত পূরণ করো, আর যদি মানত না করে থাকো, তাহলে তা কোরো না। এরপর সেই কৃষ্ণাঙ্গ দাসী বললো, "হ্যাঁ, আমি সত্যিই মানত করেছিলাম। তখন নবী (সা.) বসলেন এবং সে দাফ বাজাতে শুরু করলো। ইতিমধ্যে আবু বাকার (রা.) এবং তার সঙ্গে আরও কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এরপর উমর (রা.) আসলেন। বুরাইদা (রা.) বলেন, দাসীটি একটি চাদর পরিধান করেছিলো। যখন সে উমর (রা.)-কে দেখতে পেলো, তখন দাফটি তার পেছনে লুকিয়ে রাখলো। এটা দেখে নবী (সা.) বললেন, "উমর, শয়তান কেবল তোমাকেই ভয় পায়।"
— (মুসনাদে আহমদ, ২৩০১১) হাদিসের মান: সহিহ।

[] এখানে হারাম গান গাওয়া হচ্ছিলো না। হালাল গান গাওয়া হচ্ছিল।
[] আর দাসীটি যুবোতী হওয়ার কথা নয়, অবশ্যই কিশোরী হওয়ার কথা। যুবতী নারী অন্য পুরুষের সামনে গান গাইবে এমন সাধারণত হতে পারে না।

রাসূল (সা.) কেন বললেন যে, মানত না করে থাকলে কোরো না? কারণ রাসূল (সা.) চাচ্ছিলেন না যে, বিজয় উদযাপনের জন্য গান গাওয়া হোক; বরং তিনি ইবাদত-বন্দেগি করতে চাচ্ছিলেন।

রাসূল (সা.) কেন বললেন, 'উমর, শয়তান কেবল তোমাকেই ভয় পায়'? কারণ অন্য হাদিসেও দফ বাজানো বিশেষ অনুষ্ঠানে হালাল হলেও উমর (রা.) তা জানতেন না এবং বাদ্যযন্ত্রের বিরুদ্ধে উমর (রা.) কথা বলেছিলেন। তাই এ কারণে হয়তো রাসূল (সা.) উমর (রা.)-এর চরিত্রের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন যে, শয়তান কেবল তোমাকেই ভয় পায় আর নারীটি ভৎসনার শিকার হবে ভেবে দফটি লুকিয়ে রেফেছিলো। কিন্তু সব গান-বাজনা সবক্ষেত্রে হারাম নয়। যদি সব গান-বাজনা সব ক্ষেত্রেই হারাম হতো, তাহলে রাসূল (সা.) বলতেন, 'না, হারাম জিনিস নিয়ে মানত করা যাবে না।

[] "বিশেষ অনুষ্ঠানে" "নিরীহ বা বলা যেতে পারে কম উত্তেজক বাদ্যযন্ত্র" বাজানো হালাল, যেমন- দফ, আর রাসূল (সা.)-এর যুগে যে কয়টি বাদ্যযন্ত্র ছিলো তার ভেতর দফ সবচেয়ে প্রচলিত ছিলো আর দফ নিরীহ ও কম উত্তেজক। আর যদি হালাল গান গাইতে হয় সবার সামনে তাহলে কিশোরীরা সেটা করতে পারবে, যুবতীরা নয়।

নাফে (রহ.) বলেন, "আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.)-এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। তিনি পথে এক রাখালের বাঁশি বাজানোর শব্দ শুনতে পেলেন। তখন তিনি তাঁর দুই কানে আঙুল ঢুকিয়ে দিলেন এবং তাঁর বাহনটিকে রাস্তা থেকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিলেন। এরপর তিনি আমাকে বলতে লাগলেন, 'হে নাফে, তুমি কি এখনও সেই শব্দ শুনতে পাচ্ছ?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তখন তিনি চলতেই থাকলেন। কিছুক্ষণ পর আবার জিজ্ঞাসা করলেন, 'তুমি কি এখনও শুনতে পাচ্ছ?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' অবশেষে যখন শব্দ বন্ধ হয়ে গেল, আমি বললাম, 'এখন আর শোনা যাচ্ছে না।' তখন তিনি তাঁর কান থেকে আঙুল সরিয়ে নিলেন এবং তাঁর বাহনটিকে আবার আগের পথে ফিরিয়ে নিলেন। এরপর তিনি বললেন, 'আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে একবার এমনই এক রাখালের বাঁশি বাজানোর শব্দ শুনতে পেলে ঠিক এভাবেই করতে দেখেছি।'''
— (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৪৫৩৫)

এই হাদিসটি যঈফ বা দুর্বল।

[] এই হাদিসটি যদি সঠিক হয়, এই হাদিসের দ্বারা প্রথমে কেবল এটা নির্ধারণ হয় যে রাসূল (সা.) কানে হাত দিয়েছিলেন — ধরে নিলাম এজন্য নয় যে বাঁশির শব্দ হারাম, বরং তিনি ইবাদত করছিলেন এ কারণে। কিন্তু রাসূল (সা.)-এর বেলাতেও যে রাসূল (সা.) আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.)-কে বলেছিলেন, "তুমি কি শুনিতে পাচ্ছো?" এমন এই হাদিস দ্বারা নির্ধারণ হয় না। যদি রাসূল (সা.)-এর বেলাতেও এমন হয় যে রাসূল (সা.) বলেছিলেন, "তুমি কি শুনতে পাচ্ছো?" তাহলে প্রশ্ন উঠতো, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমারকে (রা.)-কে কেন শুনতে মানা করলেন না, বরং বললেন, "তুমি কি শুনতে পাচ্ছো?"। কিন্তু, রাসূল (সা.)-এর বেলাতেও যদি রাসূল (সা.) না বলে থাকেন, "তুমি কি শুনতে পাচ্ছো?" তবুও প্রশ্ন ওঠে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) "সাধারণভাবেই" কেন বলেননি, "তুমি বাঁশির শব্দ শুনো না" অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) কেন বললেন না যে, যখন বাঁশির শব্দ হচ্ছিলো তখন রাসূল (সা.) কানে হাত দিয়েছিলেন এবং আমাকে বলেছিলেন, "তুমিও শুনো না"। তবে এই হাদিসটি যঈফ বা দুর্বল।

ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মদ, জুয়া ও সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র হারাম করেছেন'।
— (বায়হাক্বী, মিশকাত, হা/৪৫০৩)

এই হাদিসের সহীহ অনুবাদ: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মদ, জুয়া এবং 'কুবাহ' হারাম করেছেন। আর প্রত্যেক নেশাদার বস্তুই হারাম।"

এই হাদিসটি সহীহ হওয়া নিয়ে মতভেদ আছে, এবং অধিকাংশ মুহাদ্দিসের মতে এটি সহীহ নয়।

[] এই হাদিসে সরাসরি "সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র" শব্দ নেই — বরং "আল-কুবাহ" এসেছে।

(১️) ইমাম খাত্তাবী (রহ.) তিনি বলেন:
"আল-কুবাহ হলো তবলা (الطبل)"
অর্থাৎ এটি এক ধরনের ড্রাম।

(২️) ইবনুল আসীর (রহ.): তিনি আন-নিহায়া ফি গারীবিল হাদিস-এ লিখেছেন, "আল-কুবাহ: এটি তবলা জাতীয় বাদ্যযন্ত্র।"

17/04/2026

🔵 Post no: 383

[] ইসলাম প্রচলিত হওয়ার আগে এবং হিজরতের আগে আরবের সমাজে প্রধান বাদ্যযন্ত্রগুলো ছিলো:

১. দাফ (Daf / দফ)
একটি হাতে বাজানো চামড়ার ঢাকনা।
সাধারণত উৎসব, শাদী বা সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতে ব্যবহার হতো।

২. রাবাব (Rabāb / রাবাব)
এক ধরনের দুই বা তিন স্ট্রিং-যুক্ত স্ট্রিং বাদ্যযন্ত্র।
প্রায়শই কাব্য পাঠ বা গান পরিবেশনে ব্যবহার হতো।

৩. নাযির (Nāy / নাযির)
বাঁশের তৈরি বায়ুস্রোতবাদ্য, যা বাঁশের নলের মতো।
গানের সাথে মিলিয়ে ধ্বনি উৎপন্ন করত।

৪. কোনো বাঁশ বা কাঠের বাদ্যযন্ত্র
মূলত হালকা আকারের, সামাজিক বা পারিবারিক আনন্দ-উৎসবের জন্য।

[] সরাসরি রাবাব, নাযির বা বাঁশের বাদ্যযন্ত্রের নাম নিয়ে কোনো সহীহ হাদিসে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই।

আর রাসূল (সা.)-এর যুগে সাধারণত এ কয়টি বাদ্যযন্ত্র ছিলো তার ভেতর দফ সবচেয়ে প্রচলিত ছিলো আর দফ নিরীহ ও কম উত্তেজক। "বিশেষ অনুষ্ঠানে" "নিরীহ বা বলা যেতে পারে কম উত্তেজক বাদ্যযন্ত্র" বাজানো হালাল, যেমন- দফ।

অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র যেমন রাবাব, নাযির, বাঁশের বাদ্য মূলত শিল্পী বা গায়ক দ্বারা ব্যবহৃত হতো এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে তেমন প্রচলিত ছিলো না আর এগুলো হয়তো নিরীহ বা কম উত্তেজক বাদ্যযন্ত্র নয়।

17/04/2026

🔵 Post no: 382

"আমি কুরআন-হাদিসের সরাসরি অনুবাদ নয় — সূক্ষ্ম ব্যাখ্যার দ্বারা জান্নাত-জাহান্নামের শাস্তির ব্যাপারে যতোটুকু বুঝতে পারলাম তা হলো— কেউ একজন কেবল অমুসলিম পরিচয়ের জন্য বা বলতে পারি সে যে সমাজে অমুসলিম নামে পরিচিত কেবল তার এ পরিচয়ের জন্য জাহান্নামে যাবে, ব্যাপারটা এমন নয় (সে তার কর্মের জন্য জাহান্নামে যাবে)। আবার কেউ একজন কেবল তার নবি পরিচয়ের জন্য বা সমাজে যে তিনি নবি নামে পরিচিত কেবল এই পরিচয়ের জন্য জান্নাতের উচু স্থান পাবেন, এমনও নয় (তিনি তার কর্মের জন্য জান্নাতের উচু স্থান পাবেন)। আল্লাহ একজন মানুষের জীবনের পরিস্থিতি, সুযোগ, বোঝাপড়া, অনিচ্ছাকৃতভাবে করা, বুঝে করা— এসব কিছু মিলিয়ে তার বিচার করবেন, এবং সে বিচার অনুযায়ী তাকে জান্নাতের উচ্চ স্থান, নিম্ন স্থান, অথবা জাহান্নামের উচ্চ স্থান, নিম্ন স্থান-কাউকে বেশি, কাউকে কম দেবেন। আল্লাহ মিযান দিয়ে পাপ-পুণ্যের হিসাব করবেন— তার মানে ব্যাপারটা এমন নয় যে আল্লাহ মেপে দেখার ক্ষেত্রে মিযানের ওপর নির্ভরশীল।

স্রষ্টা যে এক— এটা একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি বা বিশ্বাস, সবাই এই বিশ্বাস নিয়ে জন্ম নেয়। কেউ যখন সমাজের ভুল বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত হয়ে, বা না বুঝে এই প্রবৃত্তি বা বিশ্বাস থেকে দূরে চলে যায়— তখন আল্লাহ ন্যায়বিচার করবেন। কিন্তু সে ন্যায়বিচারের খুঁটিনাটি সবকিছু আল্লাহ বলেননি। মানুষ সত্যকে জানার নানা সুযোগ পায়। একজন ডাক্তার রোগীর শরীরের জটিল প্রক্রিয়া দেখবেন, শরীরের নানা জটিল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ইত্যাদি দেখে তিনি বুঝবেন একজন স্রষ্টা আছেন। একজন বিজ্ঞানী চাঁদ, গ্রহ-তারা ইত্যাদি দেখে বুঝবেন একজন স্রষ্টা আছেন। একজন পুরুষ অথবা নারী তার শরীরের গঠন, অথবা তার সন্তান-সন্ততি দেখে বুঝবেন একজন স্রষ্টা আছেন।

কেউ যদি অবজ্ঞার সাথে অথবা অহংকারবশত এই সত্যকে অস্বীকার করে এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তওবা না করে— আল্লাহ তওবা করার নানা সুযোগ দেবেন তবুও করবে না— তাহলে তাকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। আবার যাদের কাছে আল্লাহ নবি-রাসূল পাঠাননি, কিংবা যারা সত্যকে ভুলভাবে জেনেছে— তাদের সাথেও আল্লাহ ন্যায়বিচার করবেন। কিন্তু সে ন্যায়বিচার কেমন হবে, তার খুঁটিনাটি আল্লাহ বলেননি।

কোনো ছোটো বাচ্চা যদি মারা যায়, তাহলে সে জান্নাতে যাবে। কিন্তু মুহাম্মদ ﷺ জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান পাবেন। ছোটো বাচ্চারা সর্বোচ্চ স্থান পাবে না। এর মানে এই নয় যে ছোটো বাচ্চারা কষ্টে থাকবে— বরং তারা কম পাবে। আর মুহাম্মদ ﷺ নবি পরিচয় পেয়েছেন বা কেবলমাত্র তার এ পরিচয়ের জন্য সর্বোচ্চ স্থান পাবেন— এমন নয়, তাঁর জীবনে নানা পরীক্ষা ছিলো, তিনি সেগুলোতে সফল হয়েছেন, এ কারণে তিনি সর্বোচ্চ স্থান পাবেন। ভালো থাকা, আর বেশি সুখে থাকা দুটো এক নয়, আমি ভালো আছি মানে আমি কষ্টে নেই; সুখেই আছি। আর আমি বেশি সুখে আছি মানে আমি অনন্দের ভেতর আছি।

এখন প্রশ্ন: কেউ যদি বড়ো হয়, তখন তো তার জাহান্নামে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে; অপরদিকে ছোটো বাচ্চারা মারা গেলে জান্নাতে যাবে। এটা কি অন্যায়? না, অন্যায় নয়। কারণ কেউ যখন জেনে-বুঝে সত্যকে অস্বীকার করবে, বারবার, আর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত — তওবা করার নানা সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও তওবা করবে না— তখন তারা তো জাহান্নামে থাকারই উপযুক্ত। এক্ষেত্রে সে বলতে পারবে না— ছোটো বাচ্চারা মারা গেলে জান্নাতে গেলো, আর আমি কেন জান্নাতে যেতে পারবো না!

এখন প্রশ্ন হলো: আল্লাহ নিজে কেন এসব কিছু কুরআনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেননি? তার একটি কারণ হলো যেনো মানুষ ইজতিহাদ করতে পারে; চিন্তা-গবেষণা করতে পারে— যে যার জায়গা থেকে যতোটুকু সম্ভব। আল্লাহ সবাইকে তার অবস্থা, পরিস্থিতি, সুযোগ— এসব বিবেচনা করে সেই অনুযায়ী বিচার করবেন।

আমরা তো সব বুঝি না— একটা বুঝলে অন্যটা বুঝি না। সব দেখি না— সামনে তাকালে পেছনে দেখতে পারি না। কিন্তু আল্লাহ সবই বোঝেন, সবই দেখেন, সবই জানেন।"

17/04/2026

🔵 Post no: 381

আল্লাহ সম্পর্কে :

1. আল্লাহ মানুষের উপকার করতে একই ধরনের মানুষকে এক জায়গায় জড়ো করেন।

2. আল্লাহ সাধারণত কাউকে বলে বলে শিখিয়ে দেন না, তিনি অনেক জনকে কষ্টের ভেতর দিয়ে নিয়ে গিয়ে গিয়ে অনুভব করান কোনটি সঠিক আর কোনটি বেঠিক।

3. আল্লাহ চাইলেই একজনকে বড়োকিছু বানাতে পারেন, আবার চাইলেই তাকে ছোটো বানাতে পারেন, কারণ প্রত্যেক মানুষেরই কিছু ভালো গুণ ও কিছু দুর্বল দিক থাকে। অনেকে অহংকার করে বলে সে তার দুর্বল দিকের দ্বারা পিছিয়ে পড়ে, আর কেউ বিনয়ী বলে সে তার ভালো গুণের দ্বারা বড়োকিছু হতে পারে; আর এমনটা আল্লাহই ঘটান।

4. অনেকে যিনা করতে পছন্দ করে কিন্তু আল্লাহ ইসলামে চারটি পর্যন্ত বিয়ে করার সুযোগ দিয়েছেন, কেউ হারাম গান শুনতে পছন্দ করে কিন্তু আল্লাহ তাঁর নিজস্ব বাণী (কুরআন) পাঠিয়েছেন সুন্দর কণ্ঠে পাঠ করতে, কেউ মদ পান করতে পছন্দ করে কিন্তু আল্লাহ তার জন্য দিয়েছেন অতি মিষ্টি মধু।

5. কুরআন ও বিভিন্ন তাফসির গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, ফেরাউনের রাজসভায় বহু দক্ষ যাদুকর ছিলো, যারা তাদের জাদুকৌশল দিয়ে মানুষকে বিমোহিত করতো। সেই যুগে আল্লাহ তাআলা মূসা (আ.)-কে এমন অলৌকিক শক্তি দান করেছিলেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিলো তাঁর লাঠিকে সাপে রূপান্তর করার ক্ষমতা—যা দেখে মানুষ বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যেতো। অন্যদিকে, নবী মুহাম্মদ (স.)-এর যুগে আরববাসীদের মধ্যে কবিতা রচনায় গভীর আগ্রহ ও অসাধারণ দক্ষতা ছিলো। সেই সময় আল্লাহ পবিত্র কুরআন নাজিল করেন অসাধারণ কাব্যিক ভাষায়, যা বিস্ময়কর ও অতুলনীয়।

17/04/2026

🔵 Post no: 380

ইসলামে জন্য: — আহসানুল ইরফান

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ-

পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

⚫ আমি মনে করি আল্লাহ এমনভাবে করেন যাতে করে অনেকে সন্দেহ করে আবার অনেকে বিশ্বাসও করে:

আমি মনে করি, আল্লাহ এমনভাবে করেন যাতে করে অনেকে সন্দেহ করে আবার অনেকে বিশ্বাসও করে। যেমন—

পৃথিবীতে সুখ আছে যেটার জন্য মানুষ আল্লাহ তায়ালায় বিশ্বাস করে। আবার, কষ্ট আছে, যেটার জন্য অনেকে আল্লাহকে সন্দেহ করে।

পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা আছে যেটার জন্য অনেকে আল্লাহ তায়ালায় সন্দেহ করে।

আবার, পৃথিবীতে সৌন্দর্য আছে যেটার জন্য অনেকে আল্লাহ তায়ালায় বিশ্বাস করে।

হয় আল্লাহ তায়ালাকে কেউ বানাননি, অথবা প্রকৃতিকে কেউ বানায়নি —যেকোনো একটি হবে। আর আমি মনে করি, আল্লাহ তায়ালাকে কেউ বানায়নি এমন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আল্লাহ নবি রসূলদেরকে "স্বপ্নে" অনেককিছু দেখান। ফলে অনেকে সন্দেহ করবে, কিন্তু অনেকে আবার বিশ্বাসও করবে।

⚫ যেকোনো কিছু অতিরিক্ততা সমস্যাজনক:

"অতিরিক্ত" ও "বেশি" দুটি ভিন্ন।

পৃথিবীতে সুখ আছে, কষ্ট আছে, ভুল আছে, সঠিক আছে, রাত আছে, দিন আছে... এ সব কিছুই প্রয়োজন, কিন্তু এগুলোর ভেতর ভারসাম্যতা ঠিক রাখা দরকার। কোনো কিছু নিয়েই বাড়াবাড়ি করা ঠিক নয়। আলোচনা করার প্রয়োজন আছে, কিন্তু সেক্ষেত্রেও চিন্তার সীমালঙ্ঘনে আমি বিশ্বাস করি, আমি নাস্তিকদের তথাকথিত মুক্ত চিন্তায় বিশ্বাসী নই। মানুষ ভুল করবে এটা ঠিক, তাই বলে আমি উদারপন্থী নই, দোষ ধরারও প্রয়োজন আছে। মতোভেদের শেষ নেই এটা ঠিক, তবুও আলোচনা করার প্রয়োজন আছে; যদি আমরা চিন্তা না করতাম, বিশ্লেষণ না করতাম তাহলে কম্পিউটার আবিষ্কার হতো না, মোবাইল ফোন আবিষ্কার হতো না, তাই চিন্তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

জানার প্রয়োজনীতা, দোষ ধরার প্রয়োজনতা, কঠোর হওয়ার প্রয়োজনীয়তা, চিন্তা করার প্রয়োজনীয়তা, ক্ষমা করার প্রয়োজনীয়তা, এ সবগুলোই প্রয়োজন। আর এগুলোর ভেতর ভারসাম্যতা ঠিক রাখা দরকার। জানার ক্ষেত্রেও সব জানার প্রয়োজন নেই, যতোটুকু জানা প্রয়োজন ততোটুকু জানলেই অনেক।

(চিন্তার সীমালঙ্ঘনের কিছু উদাহরণ হলো: আল্লাহকে যুক্তি দেবো এমন চিন্তা করা, আমি যদি আল্লাহ হতাম এমন চিন্তা করা এবং এমন ইত্যাদি।)

⚫ কীভাবে ভুল হয়:

বিজ্ঞান ও দর্শনে একটি কথা আছে "তত্ত্ব কখনো ভুল হয় না, তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা থাকে"। এ কথা কেন বলা হয়? কারণ প্রত্যেক জিনিসের সাথে অন্য প্রত্যেক জিনিসের নির্দিষ্ট পরিমাণ মিল ও নির্দিষ্ট পরিমাণ অমিল আছে। মিল থেকে আমরা একই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত করি, আর অমিল থেকে আমরা পার্থক্য করি।

যেমন: আমি আছি, আল্লাহও আছেন। এটা আমার আর তার মাঝের কিছু মিল। কিন্তু আমি যেভাবে আছি, আর তিনি যেভাবে আছেন দুটা এক নয়, এটা আমাদের মাঝের অমিল। কেউ বলতে পারে ফোন বক্সের মতো, কথাটা ভুল নয়, কিন্তু কথাটা পুরোপুরি সঠিকও নয়, আবার কেউ বলতে পারে ফোন ক্যালকুলেটরের মতো একথাটাও ভুল নয়, কিন্তু পুরোপুরিভাবে সঠিকও নয়। কারণ যেটা যেইটা, সেটা তো সেটাই। একটি জিনিস একই সাথে অন্য আরেকটি জিনিস হতে পারে না। কলম রকই সাথে পেন্সিল হতে পারে না, থাকা একই সাথে না-থাকা হতে পারে না...

যেহেতু প্রত্যেক জিনিসের সাথে অন্য প্রত্যেক জিনিসের মিল আছে তাই আমরা নানা ভুল করি এবং নানা ক্ষেত্রে সমাধানও করি, আবার প্রত্যেক জিনিসের সাথে অন্য প্রত্যেক জিনিসের অমিল আছে তাই আমরা পার্থক্যও করি।

⚫ ন্যায়নিষ্ঠতা:

কেউ মনে করে, এ অন্যায়ের জন্য ১০০ ঘাত চাবুক মারা উচিত। আবার কেউ মনে করে, এ অন্যায়ের জন্য ২০০ ঘাত চাবুক মারা উচিত। আবার কেউ মনে করে, আমি নিজে জীবনে কতো ভুল কতেছি, তাই তাকে ক্ষমা করা উচিত।

আমরা সব দেখি না, আল্লাহ সব দেখেন তাই আল্লাহই ভালো জানেন কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল।

কারো কাছে বিয়ে করাও পাপ মনে হতে পারে। কারো কাছে সিগারেট খাওয়া পাপ নাও মনে হতে পারে, কিন্তু চুরি করা পাপ মনে হতে পারে।

আমরা সব দেখি না, সামনে তাকালে পেছনে দেখতে পারি না। আল্লাহ সব দেখেন তাই আল্লাহই ভালো জানেন কোনটি সঠিক আর কোনটি বেঠিক।

⚫ বিজ্ঞানের মতামত পরিবর্তন হয় এবং বিজ্ঞানও অনেক কিছু ব্যাখ্যা করতে পারবে না:

এক সময় ধরা হতো সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে, পরে জানো গেলো "নাহ, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে, পরে জানা গেলো সূর্যও তার নিজ কক্ষপথে ঘোরে। বিজ্ঞানও পরিবর্তন হয়। আর বিজ্ঞানও অনেককিছু ব্যাখ্যা করতে পারবে না। যেমন: স্পেস বা স্থান কীভাবে সৃষ্টি হলো।

আল্লাহ সব দেখেন, আল্লাহই ভালো জানেন কোনটি সঠিক।

⚫ আমার জীবনের আশ্চর্যজনক কিছু ঘটনা:

আগে ধর্ম নিয়ে আমার অনেক সন্দেহ হতো কিন্তু আমি আমার নিজের জীবনেই আশ্চর্যজনক নানা ঘটনা ঘটতে দেখেছি। আমার সাথে এমন অনেকবার হয়েছে যে আমি বিপদে পড়লাম, যখন রক্ষা পেলাম ঠিক ওসময়ই আজান হচ্ছে, শুধু একবার নয়, আমার সাথে অনেকবার এমন হয়েছে। আবার আমি স্বপ্নে কিছু দেখলাম, পরে দেখি বাস্তবেও ওরকম হলো; এমনও অনেকবার হয়েছে।

__________________________________________________

বেশিরভাগ যে সকল বিজ্ঞানী ও দার্শনিকরা হেদায়াত পায় না সম্ভাবত তাদের না পাওয়ার কারণ এটা যে তারা তাদের এন্যালেটিক্যাল মেধা ও জ্ঞানকে প্রধান্য দেয়, সুন্দর পবিত্র অন্তরকে নয়, যেখানে হেদায়াত পাওয়ার ক্ষেত্রে সুন্দর পবিত্র অন্তর বেশি ভূমিকা রাখে। সাধারণত এটা প্রকৃত মুসলিমরা সহজেই ধরতে পারে, কিন্তু ওসকল বিজ্ঞানী ও দার্শনিকরা অনেক জ্ঞানী ও মেধাবী হয়েও ধরতে পারে না।

(লেখায় সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে।)

17/04/2026

🔵 Post no: 379

তার মানেই এ নয় যে:

— আহসানুল ইরফান

(কুরআন, হাদিসের সরাসরি অনুবাদ নয়, সুক্ষ্ম ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে আমি যতোটুকু বুঝতে পারলাম তার ভিত্তিতে লেখা।)

[] যাচাই করে দেখতে হবে তার মানেই এ নয় যে আপনি সবই যাচাই করে দেখবেন। ধরুন কেউ আপনাকে চড় মারলো আর আপনি তখন নেটে সার্চ দিলেন "প্রতিশোধ তোলা হালাল নাকি হারাম?"। কিছু জিনিস আপনাকে নিজের নৈতিকতা অনুযায়ী বিবেচনা করতে হবে, আর কিছু জিনিস আপনাকে কুরআন হাদিস থেকে জানতে হবে। আবার, কিছু জিনিস আপনাকে যাচাই করতে হবে, আর কিছু জিনিস আপনাকে বিশ্বাসের ওপর ছেড়ে দিতে হবে বা বিশ্বাস করে নিতে হবে।

হিন্দু ধর্ম বলে— সব ধর্ম ত্যাগ করে কৃষ্ণের শরণাগত হও।

ইসলাম বলে— আল্লাহর কাছে মনোনীত একমাত্র ধর্ম ইসলাম।

খ্রিস্টধর্ম বলে— যিশু বলেন, "আমিই পথ ও সত্য ও জীবন, আমি ছাড়া কেউ পিতার (স্রষ্টার) কাছে যেতে পারবে না।"

কিন্তু আগের কিতাবগুলো অনেককিছু —সবকিছু নয়— বিকৃত হয়ে গেছে। তাই সেগুলো আর পুরোপুরি সঠিক নেই। আপনি যদি কোনো লেখকের বই পড়তে চান, আপনি তো লেটেস্ট সংস্করণই কিনবেন, তাই না? মুসলিমরা বিশ্বাস করে সেই লেটেস্ট সংস্করণ হলো কুরআন। আগের কিতাবগুলো একসময় সম্পূর্ণভাবে সঠিক ছিল, কিন্তু পরে তার অনেককিছু বিকৃত হয়ে গেছে।

যাচাই করে দেখার প্রয়োজনীয়তা:

প্রত্যেকে তার জায়গা থেকে যতোটুকু সম্ভব সত্যের সন্ধান করতে হবে। সবাই যদি শুধু নিজের মতামত অনুযায়ী কাজ করে— যার কাছে যা সঠিক মনে হয় সেটাই করলো— তাহলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে নিজের মতামতকে একেবারেই গুরুত্ব দেয়া যাবে না। কিছু ক্ষেত্রে সত্যের সন্ধান, আবার কিছু ক্ষেত্রে নিজের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া— দুটোই প্রয়োজন।

যাচাই করার নানা উপায় আছে:

প্রত্যেকেরই তার জায়গা থেকে সত্য জানার অনেক সুযোগ আছে। যেমন: একজন ডাক্তার একজন রোগীর শরীরের জটিল প্রক্রিয়া ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেখে বুঝবেন একজন স্রষ্টা আছেন; একজন সাধারণ পুরুষ অথবা নারী নিজের শরীরের গঠন অথবা তার সন্তান-সন্ততি দেখে বুঝবেন একজন স্রষ্টা আছেন; একজন বিজ্ঞানী গ্রহ-তারা-নক্ষত্র দেখে বুঝবেন একজন স্রষ্টা আছেন।

ধরুন কেউ একজন জিজ্ঞেস করলো: প্রাণী ও উদ্ভিদ উভয়েরই জীবন আছে, কিন্তু প্রাণী জবাই করার সময় বিসমিল্লাহ বলতে হয়, কিন্তু উদ্ভিদ কাটার সময় বলতে হয় না— কেন?

একজন ইঞ্জিনিয়ার বলবে: সাইকেল ও মোটরসাইকেল দুটোই সাইকেল, কিন্তু শুধু সাইকেলে প্যাডেল করতে হয়, মোটরসাইকেলে নয়।

একজন মহিলা বলবে: ভাপা পিঠা ও দুধ পিঠা দুটোই পিঠা, কিন্তু ভাপা পিঠায় নারিকেল দিতে হয়, দুধ পিঠায় নয়।

একজন ডাক্তার বলবে: সিরাপ ও বিষ দেখতে একই রকম, কিন্তু উপযুক্ত সিরাপ উপযুক্ত পরিমাণ খেলে উপকার হবে, বিষ খেলে মৃত্যু হবে।

এভাবে সত্যকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝা সম্ভব।

— কিন্তু তার মানে কি কুরআন-হাদিসের দরকার নেই? না, কুরআন-হাদিস প্রয়োজন আছে। এর পাশাপাশি বোঝার নানা উপায়ও আছে যেগুলো কুরআন-হাদিসে সরাসরি উল্লেখ নেই।

[] চেষ্টা করে দেখতে হবে তার মানেই এ নয় যে আপনি না পারলেও চেষ্টা করতে হবে, আর না পারলে আল্লাহ আপনাকে জাহান্নামে দেবেন।— আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে বোঝা দেন না।

[] কাফের মুসরিক মানেই এ নয় যে একজন সাধারণভাবেই সত্য বুঝতে পারেনি আর সে না বুঝতে পারার কারণে আল্লাহ তাকে জাহান্নামে রাখবেন। বরং কুরআন হাদিস থেকে বোঝা যায় কাফের মুশরিক হলো "সাধারণত" তারা যারা অহংকার করে বা অবজ্ঞা করার কারণে সত্যকে বুঝতে পারছে না এবং বার বার সুযোগ পাওয়ার পরেও তওবা করেনি।

স্রষ্টা যে এক, তা একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি বা বিশ্বাস— যেটা নিয়ে প্রত্যেকেই জন্ম নেয়। কেউ যখন সমাজের ভুল বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এ বিশ্বাস থেকে সরে যায়, তখন আল্লাহ ন্যায়বিচার করবেন। কিন্তু সেই ন্যায়বিচারের খুঁটিনাটি সব আল্লাহ বলেননি। তবে কেউ যদি অহংকার বা অবজ্ঞার কারণে এ সত্যকে না বোঝে এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বহু সুযোগ পাওয়ার পরও তওবা না করে, তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না। আর যাদের কাছে কোনো নবি কিংবা রসূল পাঠানো হয়নি অথবা যারা সত্যকে ভুলভাবে জেনেছে, তাদের সঙ্গেও আল্লাহ ন্যায়বিচার করবেন, তবে সেই ন্যায়বিচার সম্পর্কে আল্লাহ বিস্তারিতভাবে বলেননি। আল্লাহ একজনের পরিস্থিতি, সুযোগ, চেষ্টা, বোঝাপড়া, ইচ্ছাকৃতভাবে করা, অনিচ্ছাকৃতভাবে করা এসবকিছু বিবেচনা করে একজনের বিচার করবেন। আর সেটার ভিত্তিতে অনেকে জান্নাতের উচু স্থান পাবে, নিম্ন স্থান পাবে, কেউ বেশি উচু স্থান পাবে, কেউ জাহান্নামের উচু স্থান পাবে, কেউ নিচু স্থান পাবে; কেউ বেশি কেউ কম।

[] ছোটো বাচ্চা মারা গেলে জান্নাতে যাবে কিন্তু বড়ো মানুষ জাহান্নামে যাওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তার মানেই এটা বড়োদের প্রতি অন্যায় নয়:

যারা ছোটো বাচ্চা তারা মারা গেলে জান্নাতে যাবে, কিন্তু জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান পাবেন মুহাম্মদ (সা.), তিনি কেবল "নবি" পরিচয়ের জন্য বা সমাজে তাকে নবি বলে ডাকা হয় বলে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান পাবেন না, তিন সর্বোচ্চ স্থান পাবেন কারণ তিনি জীবনে অনেক পরীক্ষার ভেতর দিয়ে গেছেন, অনেক কষ্টের ভেতর দিয়ে গিয়ে পরীক্ষায় পাস করেছেন। একারণে তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দেয়া হবে।

আল্লাহ একজনের পরিস্থিতি, সুযোগ, চেষ্টা, বোঝাপড়া, ইচ্ছাকৃতভাবে করা, অনিচ্ছাকৃতভাবে করা এসবকিছু বিবেচনা করে একজনের বিচার করবেন। তার ভিত্তিতে অনেকে জান্নাতের উচু স্থান পাবে, কেউ নিম্ন স্থান পাবে, কেউ বেশি উচু স্থান পাবে, কেউ জাহান্নামের উচু স্থান পাবে, কেউ নিচু স্থান পাবে; কেউ বেশি কেউ কম। তার মানেই এ নয় যে আমি ইচ্ছাকৃতভাবে পাপ কাজ করলাম, আর তারপর বললাম "আল্লাহ আমার কষ্ট বুঝবেননি", ইচ্ছাকৃতভাবে পাপ কাজ করলে আল্লাহ বরং শাস্তি দেবেন।

অনেকজনের সওয়াব আল্লাহ অনেক গুণ বাডিয়ে দেবেন, কিন্তু পাপকে তার আগের পরিমাণেই রাখবেন।

সবার শেষে যে জান্নাতে যাবে তাকে আল্লাহ ন্যূনতম এই দুনিয়ার ১০ গুণ সমপরিমাণ জান্নাত দান করবেন।

আল্লাহ মিযান দিয়ে পাপ পূন্যের হিসেব করবেন। তার মানেই এ নয় যে আল্লাহ মেপে দেখার ক্ষেত্রে মিযানের ওপর নির্ভরশীল। মানুষ সবকিছু তার নিজের মতো করে চিন্তা করে, কিন্তু তার মানে এটাও নয় যে আল্লাহ তায়ালার সাথে আমাদের কোনো দিক থেকে কোনো রকম মিল থাকতে পারে না। আবার মিল থাকা মানেও এ নয় যে সব দিক থেকেই মিল থাকবে।

আমি আমার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, আর মুহাম্মদ (সা.) তাঁর অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। আমি আমার যুগে ধরুন দিন-রাত মিলিয়ে ১২ ঘন্টা পরিশ্রম করি — আমার দেখা সমস্যা সমাধান করতে, আর মুহাম্মদ (সা.) তার যুগে ধরুন দিন-রাত মিলিয়ে ১২ ঘন্টা পরিশ্রম করেছেন — তার দেখা সমস্যাগুলো সমাধান করতে। তাহলে কেন আমাকে জান্নাতে কম পুরস্কার দেয়া হবে আর মুহাম্মদ (সা.)-কে বেশি দেয়া হবে?

= ধরুন, আপনার তিনজন সন্তান আছে।

একজন মেধাবী হয়ে জন্ম নিয়েছে, তাই তাকে আপনি বড়ো দায়িত্ব দিলেন। আরেকজন সাধারণ মেধার, তাকে আপনি মাঝারি দায়িত্ব দিলেন। তৃতীয়জন দুর্বল হয়ে জন্ম নিয়েছে, তাকে আপনি ছোটো দায়িত্ব দিলেন।

এখন তিনজনই তাদের দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করলো। প্রশ্ন হলো—আপনি কি সবার জন্য একই পুরস্কার ঠিক করবেন?

অবশ্যই না। আপনি কাউকেই কষ্টে রাখবেন না, তবে পুরস্কারের মাত্রা ভিন্ন হবে। কেউ ভালো থাকবে, কেউ আনন্দে থাকবে, আর কেউ বেশি আনন্দে থাকবে।

> আপনি আপনার কোনো সন্তানকে বেশি ভালো বাসতেই পারেন, তার মানেই অন্য সন্তানকে ঘৃণা করা নয়।

> আল্লাহ পুরুষ্কার হিসেবে কাউকে বেশি দিতে পারেন, কিন্তু অন্যায় হিসেবে কাউকে কষ্ট দেন না। (কোনটা অন্যায় আর কোনটা অন্যায় নয় সেটা আল্লাহই ভালো জানেন।)

> আল্লাহ ন্যায়বিচার করে তো দেবেনই, কিন্তু অনেককিছু স্বেচ্ছায় কাউকে পুরুষ্কার হিসেবেও দিতে পারেন, তার মানেই এ নয় যে অন্য যাকে দেয়া হলো না তা সে ব্যক্তির প্রতি অন্যায়।

একজন বিজ্ঞানী বিজ্ঞানে অবদান রাখে, একজন রাজনীতিবিদ রাজনীতিতে অবদান রাখে, কেবল ইসলামে অবদান রাখার জন্যই কেন একজন জান্নাতে যাবে?

একজন বিজ্ঞানীও মুসলিম হতে পারে, একজন রাজনীতিবিদও মুসলিম হতে পারে। একজন গায়কও যদি এমন কোনো গান গায় যেটাতে হারাম কোনো শব্দ নেই, তাহলে সে গান গাওয়া হালাল।

("বিশেষ অনুষ্ঠানে" "নিরীহ বা বলা যেতে পারে কম উত্তেজক বাদ্যযন্ত্র" বাজানো হালাল, যেমন- দফ, আর রাসূল (সা.)-এর যুগে যে কয়টি বাদ্যযন্ত্র ছিলো তার ভেতর দফ সবচেয়ে প্রচলিত ছিলো আর দফ নিরীহ ও কম উত্তেজক। আর যদি হালাল গান গাইতে হয় সবার সামনে তাহলে কিশোর/কিশোরীরা সেটা করতে পারবে, যুবোক/যুবতীরা নয়।)

ইসলামে যিনা করা হারাম, কিন্তু বিয়ে করা হারাম নয়।

আবার, ইসলামে যদি কেউ এমন কিছু আবিষ্কার করে যা মানুষের ক্ষতি করে, যেমন—পর্ন সাইট, সুইসাইড মেশিন, তাহলে তা হারাম। কিন্তু হালাল কিছু আবিষ্কার করলে তা হালাল।

যদি কেউ এমন গান গায় যেটাতে অশ্লীল শব্দ আছে, অথবা ছেলে-মেয়ে একসাথে গেয়ে অশ্লীল পরিবেশ তৈরি হয়, তবে তা হারাম। অশ্লীল শব্দ নেই এবং হারামের পরিবেশ তৈরি হয় না, তাহলে তা হালাল।

যদি এমন পরিস্থিতি হয় যে, কেউ ইংরেজি ভাষা শিখলে খ্রিস্টান হয়ে যাওয়ার “বড়ো” সম্ভাবনা থাকে, তাহলে “ঐ মুহূর্তে” ইংরেজি ভাষা শেখাও হারাম।

আবার, যদি যুদ্ধের ভেতর কেউ জোরে জোরে "আল্লাহু আকবার" বলে এবং সেই কারণে শত্রুরা মুসলিম সৈন্যদের অবস্থান জেনে ফেলে, তবে ঐ সময়ে "আল্লাহু আকবার" বলা যাবে না।

একজন কবির জন্য পরীক্ষা হতে পারে—সে যেনো এমন কোনো কবিতা না লেখে যা হারাম।

একজন বিজ্ঞানীর জন্য পরীক্ষা হতে পারে—সে যেনো এমন কিছু আবিষ্কার না করে, যেমন: পর্ন সাইট, সুইসাইড মেশিন ইত্যাদি।

একজন পুলিশের জন্য পরীক্ষা হতে পারে—সে যেনো তার ক্ষমতাকে হারাম কাজে ব্যবহার না করে।

একজন মানুষের জীবনে শুধু বিজ্ঞানের প্রয়োজন আছে এমন নয়, একজন মানুষের জীবনে খাবারেরও প্রয়োজন আছে, বিনোদনেরও প্রয়োজন আছে...। আর আল্লাহ একজনকে বিচার করবেন এগুলোর হারাম-হালালের ওপর নির্ভর করে, যা ধর্ম শেখায়, আর ধর্মেরও প্রয়োজন আছে।

[] কষ্ট, বিশৃঙ্খলা, অমিল থাকা মানেই আল্লাহ নেই এমন নয়:

পৃথিবীতে সুখ আছে, এজন্য কেউ আল্লাহ তায়ালায় বিশ্বাস করে।

আবার কষ্ট আছে, এজন্য অনেকে আল্লাহ তায়ালায় সন্দেহ করবে।

নানা মিল আছে (যেমন দুই চোখ, দুই হাত, নারী-পুরুষ), এজন্য অনেকে আল্লাহতে বিশ্বাস করবে।

আবার নানা অমিলও আছে (যেমন বিশৃঙ্খলা, বিকৃতি), এজন্য অনেকে আল্লাহ তায়ালায় সন্দেহ করবে।

আল্লাহ এমনভাবে করেন যাতে করে অনেকে সন্দেহ করে আবার অনেকে বিশ্বাসও করে। আল্লাহ এভাবে মানুষকে পরীক্ষা করেন।

হয় আল্লাহকে কেউ বানায়নি অথবা প্রকৃতিকে কেউ বানায়নি।

আল্লাহ স্বপ্নে নবি রসূলদেরকে অনেক কিছু দেখান— যেহেতু স্বপ্নে দেখান তাই অনেকে তা বিশ্বাস করে, আবার অনেকে তাতে সন্দেহ করে।

কষ্টের ভেতরও এক ধরনের মিল পাওয়া যায়। যেমন: একই কষ্ট অনেকে পায়, একই রোগ অনেকের হয়, একই বিশৃঙ্খলা অনেক জায়গায়...

[] পৃথিবীতে সুখ কষ্ট, দুখ আনন্দ, ভালো মানুষ খারাপ মানুষ, রাত দিন সবই আছে, সবই প্রয়োজন। তাই মানেই এ নয় যে অত্যাচারীরা প্রয়োজন বলে তারা জাহান্নামে যাবে না:

ছোট্ট সংলাপ:

A: পৃথিবীতে রঙ আছে, রাত-দিন আছে, ভালো-খারাপ মানুষ আছে, সুখ-কষ্ট আছে, বিভিন্ন ধর্ম আছে। সবই প্রয়োজন। যেকোনো একটি ধর্মই সঠিক হতে পারে না।

B: ভুল ধর্মও প্রয়োজন, সঠিক ধর্মও প্রয়োজন। জান্নাত যেমন দরকার, অনেকের জন্য জাহান্নামও দরকার। তবে ভুল ধর্ম প্রয়োজন ভুল করার জন্য, আর সঠিক ধর্ম প্রয়োজন সঠিক কাজের জন্য। খারাপ মানুষও প্রয়োজন, তবে তারা পরে শাস্তি পাবে; ভালো মানুষও প্রয়োজন, তারা পরে জান্নাতে থাকবে।

A: যদি ভুল ধর্মও প্রয়োজন হয়, তাহলে তা পালন করলে মানুষ জাহান্নামে কেন যাবে?

B: ধরো, তুমি জিহান নামে একজনকে খুন করলে। জিহান জীবনে যতো পাপ করেছে, সেই পাপের ভার তখন তোমার ওপর আসলো। পরকালে জিহান বললো: "আমি খুন হয়েছিলাম বলে জান্নাতে যাচ্ছি।" তখন কি তুমি বলবে: "আমি খুন করেছি বলেই সে জান্নাতে যাচ্ছে, তাই আমাকেও জান্নাত দেয়া হোক"? না। তুমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর উদ্দেশ্যে খুন করোনি; তুমি তার ওপর অন্যায় করতে তাকে খুন করেছিলে।

(ইসলাম অনুযায়ী কাউকে হত্যা করলে তার সব পাপ হত্যাকারীর ওপর বর্তাবে এমন নয়। এটা কেবল বোঝানোর জন্য উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে।)

A: তাহলে আমি যদি কাউকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর উদ্দেশ্যে খুন করি, আমরা উভয়ই কি জান্নাতে যাবো?

B: না। এখানে তুমি চালাকি করে জান্নাতে যেতে চাইছো। আল্লাহ বরং তোমাকে শাস্তি দেবেন।

যারা সব ধর্মকেই সমানভাবে সঠিক মনে করে, তারা নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে ভোগবাদিতার দিকে ঝুঁকে পড়ে। অপরদিকে একজন ইসলাম অনুশীলনকারী সাধারণত আত্মসংযমী হয়।

[] চুরি করলে হাত কেটে দেয়া, এর মানেই এ নয় যে, চুরি করার সাথেই সাথেই হাত কেটে দেয়া হয়, হাত কেটে দেয়ার পেছনে নানা শর্ত আছে।

[] মুভি মানেই যে হারাম এমন নয়। ধরুন আমি এমন এক মুভি বানালাম যেটাতে কোনো হারাম গান নেই, সে মুভিতে ছেলে মেয়ের মেলামেশা নেই, খারাপ কিছু নেই, সাধারণ কোনো ঘটনা অর্থাৎ তাতে খারাপকিছু নেই তাহলে সেই মুভি হালাল।

[] নানা ধর্ম ও মত ফলে বিভ্রান্তি, কিন্তু তার মানেই এ নয় যে আমরা সত্য বুঝতে পারবো না:

পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে, অনেক মত আছে, তাই আমরা বুঝতে পারবো না যে কোনটি সঠিক ❌

পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে, অনেক মত আছে— তাই আমরা "সম্পূর্ণভাবে" সবকিছু বুঝতে পারবো না, কিন্তু অনেককিছুই বুঝতে পারবো। ✔️

> আমরা সব বুঝি না- একটা বুঝলে অন্যটা বুঝি না, আমরা সব দেখি না- সামনে তাকালে পেছনে দেখতে পাই না। আমরা সব মনে রাখতে পারি না- একটা জানলে অন্যটা ভুলে যাই। কিন্তু আল্লাহ সবই বোঝেন, সবই দেখেন, সবই জানেন।

Want your school to be the top-listed School/college in Puran Bogra?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address

Puran Bogra