লিমন আনসারী’স বাতায়ন

লিমন আনসারী’স বাতায়ন Know thyself

ASPR Baseline Survey সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের নিমিত্ত IPEMIS সিস্টেমে নির্ধারিত বিদ্যালয়ের ৩য় ও ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ...
25/09/2026

ASPR Baseline Survey সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের নিমিত্ত IPEMIS সিস্টেমে নির্ধারিত বিদ্যালয়ের ৩য় ও ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তথ্য প্রদান সংক্রান্ত চিঠি।

 #প্রাথমিক_বৃত্তি_পরীক্ষা ২০২৬ এর পরীক্ষার্থীর তথ্য (ডিআর) IPEMIS সফটওয়্যারে এন্ট্রি, যাচাই এবং অনুমোদন প্রসঙ্গে।
07/09/2026

#প্রাথমিক_বৃত্তি_পরীক্ষা ২০২৬ এর পরীক্ষার্থীর তথ্য (ডিআর) IPEMIS সফটওয়্যারে এন্ট্রি, যাচাই এবং অনুমোদন প্রসঙ্গে।

04/09/2026
অসংখ্য ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা  -কে আমার মতামতটি তুলে ধরার জন্য।
04/09/2026

অসংখ্য ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা -কে আমার মতামতটি তুলে ধরার জন্য।

স্নাতক-স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী শিক্ষকদের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে মূল্যায়ন নয়; মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা ন....

04/09/2026

পে স্কেল এ বেতন ডাবল বনাম বাস্তবতা 😁😁 #পেস্কেল

03/09/2026

#পে-স্কেল #সমাচার।
বুদ্ধিজীবীদের জন্য 😀

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন: অযৌক্তিক সমালোচনার জবাব। (সংগৃহীত)
----------------------------------------------------
গত ৩১ শে আগস্ট নবম জাতীয় পে স্কেল-২০২৬ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছে, যেখানে সরকারি চাকরিজীবীদের বেসিক বেতন নিম্নগ্রেডে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ এবং উচ্চগ্রেডে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই বেতন বৃদ্ধির ফলে আমাদের দেশের তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবী এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের চাকরিজীবীদের অনেকেরই চুলকানির সমস্যা শুরু হয়েছে। তাদের জন্য ফ্রিতে পরামর্শ হলো—ভালো কোনো বিশেষজ্ঞকে দেখান। তাদের বেশ কিছু সমালোচনার ক্ষেত্র হলো:

১। সরকার সব সময় সরকারি চাকরিজীবীদের কথাই ভাবায়। তাদের বেতন দ্বিগুণ করে দিল। এই দেশে শুধু সরকারি চাকরিজীবীরাই বাস করে, বেসরকারি চাকরিজীবীদের কথা কেউ ভাবে না!
২। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির ফলে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে, অর্থাৎ মুদ্রাস্ফীতি হবে।
৩। সরকারি চাকরিজীবীরা সবাই ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ। এদের বেতন বৃদ্ধি করলেও ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধ হবে না। এদের বাড়তি ইনকামই তো অনেক, এদের জন্য আলাদা করে বেতন বৃদ্ধির কোনো প্রয়োজন নেই।
৪। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির ফলে বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীরা পিছিয়ে পড়বে, কারণ তাদের বেতন তো আর বাড়বে না।

জবাব:
প্রথমে আসি মুদ্রাস্ফীতির কথায়, অর্থাৎ জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ার ইস্যুতে। আচ্ছা, সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বশেষ বেতন বেড়েছিল কবে? উত্তর: ২০১৫ সালে। তার মানে আপনাদের যুক্তি অনুযায়ী গত ১১ বছরে জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি, অথবা বাড়লেও তা স্বাভাবিক নিয়মে বেড়েছে! চলেন তাহলে দেখে আসি গত ১১ বছরে জিনিসপত্রের দাম কতটুকু "স্বাভাবিক" নিয়মে বেড়েছে!

নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের বাজার মূল্য (২০১৫ বনাম ২০২৬)

• চিনি (১ কেজি): ২০১৫ ➔ ৪২-৪৫ টাকা | ২০২৬ ➔ ১০৫-১১০ টাকা (বৃদ্ধি: ১৪৪%)
• রসুন (দেশি) (১ কেজি): ২০১৫ ➔ ৭০-৮০ টাকা | ২০২৬ ➔ ১৭০-১৯০ টাকা (বৃদ্ধি: ১৪০%)
• সয়াবিন তেল (খোলা) (১ লিটার): ২০১৫ ➔ ৮০-৮৫ টাকা | ২০২৬ ➔ ১৮৬-১৯২ টাকা (বৃদ্ধি: ১৩০%)
• বড় রুই মাছ (১ কেজি): ২০১৫ ➔ ২৫০-২৮০ টাকা | ২০২৬ ➔ ৫৫০-৬০০ টাকা (বৃদ্ধি: ১২২%)
• গরুর মাংস (১ কেজি): ২০১৫ ➔ ৩৫০-৩৮০ টাকা | ২০২৬ ➔ ৭৮০-৮৫০ টাকা (বৃদ্ধি: ১২২%)
• গুঁড়ো দুধ (১ কেজি): ২০১৫ ➔ ৫৫০-৫৮০ টাকা | ২০২৬ ➔ ১১৫০-১২০০ টাকা (বৃদ্ধি: ১০৮%)
• আটা (প্যাকেট) (১ কেজি): ২০১৫ ➔ ৩২-৩৫ টাকা | ২০২৬ ➔ ৬৫-৭০ টাকা (বৃদ্ধি: ১০২%)
• ব্রয়লার মুরগি (১ কেজি): ২০১৫ ➔ ১১০-১২০ টাকা | ২০২৬ ➔ ২২০-২৪০ টাকা (বৃদ্ধি: ১০০%)
• সরু চাল (মিনিকেট) (১ কেজি): ২০১৫ ➔ ৪০-৪৫ টাকা | ২০২৬ ➔ ৭২-৮৫ টাকা (বৃদ্ধি: ৮৫%)

আচ্ছা, এই জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে বাকি কর্মজীবীরা কি তাদের সেবার মূল্য বাড়ায়নি?

২০১৫ বনাম ২০২৬: দৈনিক মজুরি ও জীবনযাত্রার সেবামূল্যের তুলনা

• দৈনিক শ্রমিকের মজুরি: ২০১৫ ➔ ৩০০-৩৫০ টাকা | ২০২৬ ➔ ৭০০-৮০০ টাকা (বৃদ্ধি: ১৩৩%)
• বিদ্যুৎ বিল (গড় ইউনিট): ২০১৫ ➔ ৫.৮০-৬.১০ টাকা | ২০২৬ ➔ ১১.৫০-১২.৫০ টাকা (বৃদ্ধি: ১০৫%)
• বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ফি: ২০১৫ ➔ ৫০০-৮০০ টাকা | ২০২৬ ➔ ১,০০০-১,৫০০ টাকা (বৃদ্ধি: ৮৮%-১০০%)
• সাধারণ ওষুধ (প্যারাসিটামল ১০টি): ২০১৫ ➔ ৮-১০ টাকা | ২০২৬ ➔ ২০-২৫ টাকা (বৃদ্ধি: ১৫০%)
• অকটেন / পেট্রোল (১ লিটার): ২০১৫ ➔ ৯৬ টাকা | ২০২৬ ➔ ১৪০ টাকা (বৃদ্ধি: ৪৬%)
• ডিজেল (১ লিটার): ২০১৫ ➔ ৬৮ টাকা | ২০২৬ ➔ ১১৫ টাকা (বৃদ্ধি: ৭০%)
• ২২ ক্যারেট সোনা (১ ভরি): ২০১৫ ➔ ৪১,০০০-৪৩,০০০ টাকা | ২০২৬ ➔ ২,২৫,০০০-২,৬৫,০০০ টাকা (বৃদ্ধি: ৪৫০%)

এবার সুশীলদের কাছে আমার প্রশ্ন—গত ১১ বছরে তো নতুন করে কোনো পে স্কেল হয়নি, তাহলে জিনিসপত্রের দাম এত বৃদ্ধি পেল কেন? আপনাদের যুক্তি অনুযায়ী তো কেবল সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি করলেই মুদ্রাস্ফীতি হয়, বাকি সব সময় সব ধোয়া তুলসী পাতা!

এখন আপনারা হয়তো বলবেন—এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব তো সবার জীবনেই পড়েছে, কেবল তো সরকারি চাকরিজীবীরাই এর ভুক্তভোগী নয়! সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনেই মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়েছে। ওকে, তাহলে দেখে আসি কার জীবনে কতটুকু প্রভাব পড়েছে আর কে কীভাবে তা সামলেছে।

২০১৫ সালের ২০ টাকার রিকশা ভাড়া বর্তমানে হয়েছে ৬০ টাকা, ২০০ টাকার সিএনজি ভাড়া হয়েছে ৬০০ টাকা, ৪০ টাকার ডাব হয়েছে ১৫০ টাকা, ৩০০ টাকার শ্রমিকের মজুরি হয়েছে ৮০০ টাকা, ৩০০ টাকার ডাক্তারের ফি হয়েছে ১০০০-১৫০০ টাকা, ৫০০ টাকার স্কুলের বেতন হয়েছে ২০০০ টাকা, ১০০০ টাকার টিউশন ফি হয়েছে ৫০০০ টাকা, ৩০০ টাকার বাস ভাড়া হয়েছে ৮০০ টাকা! একইভাবে প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের আয় বাড়িয়েছে। অথচ বাড়েনি কেবল সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন! অনেকেই হয়তো বলবেন, "সরকারি চাকরিজীবীদের তো প্রতিবছর ৫% ইনক্রিমেন্ট হয়, তাহলে কে বলল তাদের বেতন বাড়েনি?" অপেক্ষা করুন, আসছি সেই হিসাবেও। পিকচার তো আভি বাকি হ্যায় মেরে দোস্ত!
আমাদের দেশের সুশীলদের কথা শুনলে মনে হয়, এ দেশে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন শুরু হয় ৫ম গ্রেড থেকে আর শেষ হয় ১ম গ্রেডে। এছাড়া আর কোনো গ্রেডই নেই! কারণ কথায় কথায় তারা বলেন—সরকারি চাকরিজীবীরা বিনা সুদে গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা লোন পান, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ হিসেবে আরও ৫০,০০০ টাকা মাসিক পান। এছাড়াও তাদের বিভিন্ন টিএ/ডিএ ভাতা, মিটিং ভাতা, প্রশিক্ষণ ভাতা ও অন্যান্য নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। অথচ তারা যতগুলো সুযোগ-সুবিধাসংক্রান্ত বয়ান দেন, তার বেশিরভাগই পান ৫ম গ্রেড ও তার উপরের অফিসাররা। সরকারের মোট কর্মচারীর তুলনায় ১ থেকে ৫ গ্রেড পর্যন্ত কতজন কর্মচারী রয়েছেন? সর্বোচ্চ ৩-৫%! বাকি ৯৫% কর্মচারীই হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের।

তাই আমি আজকে এই ৯৫% কর্মচারীর কথাই বলব। সুবিধার জন্য আমি একজন ২০তম গ্রেডের কর্মচারী, একজন ১৩তম গ্রেডের কর্মচারী (সহকারী শিক্ষক লেভেল) ও একজন ৯মে গ্রেডের কর্মচারীর (বিসিএস ক্যাডার এন্ট্রি পোস্ট) বেতন নিয়ে আলোচনা করব।
২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেল অনুযায়ী একজন ২০তম গ্রেডের কর্মচারীর বেসিক বেতন ৮,২৫০ টাকা। অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে তিনি সর্বসাকুল্যে স্থানভেদে বেতন পান ১৪,৫০০ থেকে ১৬,০০০ টাকা। বছরে ৫% ইনক্রিমেন্ট ধরলে প্রতিবছর গড়ে তার বেতন বৃদ্ধি পায় ৪০০-৫০০ টাকা। ১০ বছর পর তার মোট বেতন বৃদ্ধি পাবে ৫,০০০-৬,০০০ টাকা। অনেক টাকা, তাই না? অর্থাৎ, আজ নতুন জয়েন করা ২০তম গ্রেডের কর্মচারী বেতন পান সেই আগের মতোই ১৪,৫০০-১৬,০০০ টাকা। আর ১০ বছরের পুরোনো একজন ২০তম গ্রেডের কর্মচারী বর্তমান ২০২৬ সালে এসে সর্বসাকুল্যে বেতন পান ২১,০০০-২২,০০০ টাকা।

এবার আপনি হয়তো বলবেন, "এই ১০ বছরে কি সে কোনো প্রমোশন পাবে না?" হ্যাঁ, অবশ্যই পেতে পারে। ধরলাম তিনি প্রমোশন পেয়ে বর্তমানে ১৬তম গ্রেডে আছেন। এবার দেখি তার কত টাকা বেতন বৃদ্ধি পেল! ১৬তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৯,৩০০ টাকা। সদ্য জয়েন করা কর্মচারী সর্বসাকুল্যে পাবেন ১৭,০০০-১৮,০০০ টাকা। প্রতিবছর ৫% ইনক্রিমেন্ট ধরলে তার বেতন বৃদ্ধি পাবে গড়ে ৪৫০-৫৫- টাকা। আসলেই প্রচুর টাকা!! আর যিনি প্রমোশন পেয়ে ১৬তম গ্রেডে এলেন, তিনি হয়তো সর্বসাকুল্যে পাবেন ২৩,০০০-২৪,০০০ টাকা। আমার আসলে আর বলার ভাষা নেই, নিজের কাছেই হিসাব করতে লজ্জা লাগছে!
এবার আসি ১৩তম গ্রেডের একজন শিক্ষকের কথায়। তার প্রারম্ভিক মূল বেতন ১১,০০০ টাকা। নতুন জয়েন করলে তিনি সর্বসাকুল্যে পান ১৯,০০০-২০,০০০ টাকা! ভাবা যায়, আমাদের দেশের একজন শিক্ষক সর্বসাকুল্যে বেতন পান মাত্র ১৯,০০০ টাকা! ২০২৬ সালে এসে একজন শিক্ষকের এই বেতন জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জার! ১০ বছরের পুরোনো কোনো শিক্ষক হয়তো ইনক্রিমেন্ট পেয়ে বেতন পাবেন ২৫,০০০-২৬,০০০ টাকা!

আচ্ছা, এবার আসি মোস্ট প্রেস্টিজিয়াস জব বিসিএস ক্যাডার এন্ট্রি পোস্ট অর্থাৎ ৯ম গ্রেডে। ৯ম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেসিক ২২,০০০ টাকা। একজন সদ্য জয়েন করা বিসিএস ক্যাডার ২০২৬ সালে এসে সর্বসাকুল্যে বেতন পাবেন ৩৪,০০০-৩৫,০০০ টাকা! ভাবা যায় কত টাকা!! ৪ বছর ধরে প্রায় ৩ লাখ প্রতিযোগীর সাথে ফাইট করে top 0.5%-এ সফল মানুষদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে তিনি বেতন পাবেন ৩৫ হাআআআআআজার টাকা! ও মা গো! ও আচ্ছা, প্রতিবছরের ৫% ইনক্রিমেন্ট বাদ পড়ে গেল তো! প্রতিবছর তার বেতন বৃদ্ধি পাবে ১১০০-১২০০ টাকা। ৫ বছরে তার মোট বেতন দাঁড়াবে ৪০,০০০ টাকা!

চলেন তো এবার দেখে আসি একজন ৯ম গ্রেডের বিসিএস ক্যাডারের সমতুল্য বেসরকারি চাকরিজীবীর এন্ট্রি পোস্টে বেতন কত?

বেসরকারি খাতে খাতভিত্তিক সর্বমোট মাসিক বেতন (Gross Salary)

• মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি (MNC - MTO): ৭০,০০০ – ১,২০,০০০ টাকা
• বিদেশি ও শীর্ষ স্থানীয় ব্যাংক (MTO/PO): ৫৫,০০০ – ৯০,০০০ টাকা
• টেলিকম ও টেক ফার্ম (Software Engineer): ৫০,০০০ – ৮০,০০০ টাকা
• দেশি বড় কর্পোরেট (Executive Engineer): ৩৫,০০০ – ৫৫,০০০ টাকা
• এনজিও / আইএনজিও (Program Officer): ৪০,০০০ – ৮০,০০০ টাকা

দয়া করে কেউ ছদর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ থেকে কোনোমতে ডিগ্রি পাস করা যদু/কদু—যে জীবনে বইটাও খুলে দেখেনি—তার ২০ হাজার টাকা বেতনের বেসরকারি জবের সাথে একজন নবম গ্রেডের অফিসারের বেতনের তুলনা করতে আসবেন না।

এবার দেখি গত ১১ বছরের মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় পুরোনো সরকারি চাকরিজীবীদের ৫% ইনক্রিমেন্ট কতটুকু স্বস্তিদায়ক! ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরের বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি (Annual Average Inflation Rate) নিচে দেওয়া হলো:
• ২০১৬: ৫.৫১%
• ২০১৭: ৫.৪৪%
• ২০১৮: ৫.৫৪%
• ২০১৯: ৫.৪৮%
• ২০২০: ৫.৬৯%
• ২০২১: ৫.৫৫%
• ২০২২: ৭.৭০%
• ২০২৩: ৯.০২%
• ২০২৪: ৯.৭৩%
• ২০২৫: ৯.৫২%
• ২০২৬: ৮.৫০%
সামগ্রিকভাবে, ২০১৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই পুরো ১১-১২ বছরের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় প্রায় ৭.২০%-এ। এবার আপনারাই বিচার করুন, ওই ৫% ইনক্রিমেন্ট কতটুকু মূল্য বহন করে? এই ১১ বছরে তো নতুন করে কোনো পে স্কেল হয়নি, তাহলে এত মুদ্রাস্ফীতি কেন হলো—প্রশ্ন রেখে গেলাম!

সার্বিক আলোচনার আলোকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, বর্তমান আর্থিক বাস্তবতায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি করা খুবই যুক্তিসঙ্গত এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এবার হয়তো আপনি আপত্তি তুলতে পারেন, "ঠিক আছে, বেতন বৃদ্ধি করা দরকার; তবে সেটা ১০০% না করলেও চলতো।"

আচ্ছা, বেতন ১০০% বৃদ্ধি পাওয়া মানে কি মোট বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাওয়া? এর মানে কি বর্তমানে একজন নবম গ্রেডের অফিসার যিনি ৩৫ হাজার টাকা বেতন পান, তিনি কাল থেকেই ৭০ হাজার টাকা পাবেন? না! তার মোট বেতন দ্বিগুণ হচ্ছে না, কেবল মূল বেতনটুকুই দ্বিগুণ হচ্ছে। যদিও ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে অন্যান্য ভাতাও সমন্বয় হবে, তবুও ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে গিয়ে একজন নবম গ্রেডের অফিসারের মোট বেতন দাঁড়াবে সর্বসাকুল্যে ৬২,০০০ টাকা। আর এই ২০২৬ সালের জুলাই থেকে নতুন বর্ধিত বেসিকের মাত্র ৪০% কার্যকর হবে, যার ফলে তার বেতন বৃদ্ধি পাবে মাত্র ৬,৬০০ টাকা (১০% বিশেষ প্রণোদনা বাদ দিলে)। তো এই সামান্য টাকা কি সত্যিই দেশের মূল্যস্ফীতিতে বিশাল বড় আঘাত হানবে?

তাহলে চলুন দেখে আসি পূর্বের পে স্কেল বাস্তবায়নের সময় মূল্যস্ফীতিতে কী রকম প্রভাব পড়েছিল।
"পে স্কেলের কারণে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে"—এই দাবিটি অর্থনৈতিক নীতি ও বাংলাদেশের বাস্তবতায় সম্পূর্ণ অসংগতিপূর্ণ। মুদ্রাস্ফীতির ৩টি মূল কারণের আলোকেও তা নিচে স্পষ্ট করা হলো:

১) অর্থের অতিরিক্ত সরবরাহ (Money Supply): মুদ্রাস্ফীতি হতে হলে একযোগে দেশের সিংহভাগ মানুষের হাতে অতিরিক্ত টাকা আসতে হয়। অথচ বাংলাদেশে মোট শ্রমশক্তির মাত্র ১% থেকে ১.৫% সরকারি চাকরিজীবী। মাত্র ১% মানুষের বেতন বাড়লে জাতীয় অর্থনীতি বা মানি সাপ্লাইয়ে কোনো বড় প্রভাব পড়ে না। যদি সরকারি-বেসরকারি সর্বস্তরে একযোগে সবার বেতন বাড়ত, তবেই কেবল এর প্রভাব পড়ত।

২) চাহিদা বৃদ্ধি (Demand-Pull Inflation): মাত্র ১% মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সামান্য বাড়লেই দেশের সামগ্রিক পণ্যের চাহিদা রাতারাতি বেড়ে মুদ্রাস্ফীতি ঘটানো সম্ভব নয়।

৩) উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি (Cost-Push Inflation): বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির প্রধান কারণ হলো বৈশ্বিক সংকট, ডলারের মান বৃদ্ধি, কাঁচামাল ও জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং অভ্যন্তরীণ বাজার সিন্ডিকেট।

বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, মুদ্রাস্ফীতির মূল কারণ বৈশ্বিক বাজার ও স্থানীয় সিন্ডিকেট, সরকারি পে স্কেল নয়। ১% মানুষের বেতন সমন্বয়কে মুদ্রাস্ফীতির অজুহাত বানানো একটি অর্থনৈতিক ভিত্তিহীন দাবি।
২০০০ সালের পর থেকে বাংলাদেশে কার্যকর হওয়া তিনটি জাতীয় পে স্কেলের (২০০৫, ২০০৯ ও ২০১৫) আগের ও পরের বছরের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক মূল্যস্ফীতির সরকারি তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

২০০০-পরবর্তী পে স্কেল ও মূল্যস্ফীতির ঐতিহাসিক চিত্র:

• ৬ষ্ঠ পে স্কেল (২০০৫): পূর্বের বছর (২০০৪): ৫.৮৩% ➔ কার্যকর বছর (২০০৫): ৬.৪৮% ➔ পরের বছর (২০০৬): ৬.৭৭% (পরিবর্তন: +০.৯৪% - স্বাভাবিক ও নগণ্য)
• ৭ম পে স্কেল (২০০৯): পূর্বের বছর (২০০৮): ৮.৯০% ➔ কার্যকর বছর (২০০৯): ৫.৪৩% ➔ পরের বছর (২০১০): ৭.৩১% (পরিবর্তন: -৩.৪৭% - বাস্তবায়নের বছর উল্টো হ্রাস পায়)
• ৮ম পে স্কেল (২০১৫): পূর্বের বছর (২০১৪): ৬.৯৯% ➔ কার্যকর বছর (২০১৫): ৬.১৯% ➔ পরের বছর (২০১৬): ৫.৫১% (পরিবর্তন: -১.৪৮% - বেতন ১০০% বৃদ্ধির পরও হ্রাস পায়)

তথ্যভিত্তিক ৩টি মূল যুক্তি:
• ৮ম পে স্কেলের কালজয়ী প্রমাণ (২০১৫): ২০১৫ সালে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন প্রায় ৮০% থেকে ১০০% পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল—যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বেতন বৃদ্ধি। কিন্তু তথ্যে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ৬.৯৯% মূল্যস্ফীতি ২০১৫ সালে নেমে আসে ৬.১৯%-এ এবং ২০১৬ সালে আরও কমে দাঁড়ায় ৫.৫১%-এ। বেতন প্রায় দ্বিগুণ হলেও মূল্যস্ফীতি বাড়েনি, বরং কমেছে।
• বিশ্ববাজারের প্রভাব (২০০৮–২০০৯): ২০০৮ সালে বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের কারণে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৯০%। ২০০৯ সালে ৭ম পে স্কেল দেওয়ার পর মূল্যস্ফীতি না বেড়ে উল্টো কমে ৫.৪৩%-এ নেমে আসে। এতে প্রমাণিত হয় যে দেশীয় পে স্কেল নয়, বরং বৈশ্বিক বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরই মূল্যস্ফীতি নির্ভরশীল।
• ১১ বছরের পে-স্কেলবিহীন বাস্তব অভিজ্ঞতা: ২০১৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১১ বছর কোনো নতুন পে স্কেল দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও বাজার সিন্ডিকেট, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, ডলার সংকট ও আমদানি খরচের কারণে নিত্যপণ্যের দাম ২০০% থেকে ৩০০% পর্যন্ত বেড়েছে। অর্থাৎ পে স্কেল না থাকলেও মুদ্রাস্ফীতি ঠেকানো যায়নি।

সরকারি পে স্কেল কখনো মুদ্রাস্ফীতির কারণ হতে পারে না; এটি কেবল অতীতে জমে থাকা মূল্যস্ফীতির কারণে ক্ষয় হয়ে যাওয়া ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের একটি যৌক্তিক প্রশাসনিক সমন্বয় মাত্র।

আচ্ছা, আপনারা কি জানেন আমাদের দেশের একজন বিসিএস ক্যাডারের বেতন আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় কেমন? উত্তর শুনলে লজ্জায় আপনার মাথা নিচু হয়ে যাবে!

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সরকারি চাকরি (সমমানের ৯ম গ্রেড) বেতনের তুলনা (২০২৬):

• বাংলাদেশ (Grade-9): Basic ৳ ২২,০০০ | USD: $১৮১
• ভারত (Level-10): Basic ₹ ৫৬,১০০ | USD: $৬৫৩
• পাকিস্তান (BPS-17): Basic PKR ১,১১,০০০ | USD: $৩৯৭
• নেপাল (Section Officer): Basic NPR ৪৩,৬৮৯ | USD: $৩২৫
• শ্রীলঙ্কা (SL-1 Executive): Basic LKR ৮২,১৫০ | USD: $২৭৬
• ভুটান (EX3/ES3): Basic Nu ৪৪,১২০ | USD: $৫১৩
• মালদ্বীপ (R9): Basic MVR ১৬,৫৫০ | USD: $১,০৭৩
(তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারি ওয়েবসাইট)

এবার সমালোচকদের সর্বশেষ অস্ত্র: "সরকারি চাকরিজীবীরা সবাই ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ। এদের বেতন বৃদ্ধি করেও লাভ নেই, কারণ বেতন বাড়ালেও ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধ হবে না।"

জবাব:
হ্যাঁ, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে সরকারি চাকরিজীবীদের একটি অংশ ঘুষ ও দুর্নীতির সাথে জড়িত। তবে বেতন বৃদ্ধির সাথে এদের কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ এদের উপরি ইনকাম এত বেশি যে বেতনের টাকায় এদের হাতই দেওয়া লাগে না! কারো কারো ক্ষেত্রে এই মাসিক উপরি ইনকামের পরিমাণ কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে—নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কতজন কর্মচারী এই ঘুষ-দুর্নীতির সাথে জড়িত? আর যারা দুর্নীতির সাথে জড়িত, তাদের অনেকেই সিস্টেমের গ্যাঁড়াকলে পড়ে দুর্নীতি করতে বাধ্য হয়।

দেশের জনগণ এবং সরকার উভয়ই জানে আমাদের দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত কোনগুলো। ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ, বিএসটিআই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইত্যাদি হচ্ছে দুর্নীতির আখড়া। এই দুর্নীতি কি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়? অবশ্যই সম্ভব! এর জন্য প্রয়োজন কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা। কিন্তু এই দুর্নীতি বন্ধ করলে তো রাজনীতিবিদদের রাজনীতি করার আর কোনো মানেই থাকবে না! যার প্রমাণ—কদিন আগে একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা (যিনি বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন) একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, "রাজনীতিবিদরা সচিবদের সাহায্য ছাড়া টাকা লুটপাট করতে পারে না।" আর এই লুটপাটের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে গেলে রাজনীতিবিদরা কখনোই দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ করতে চাইবেন না।
এখন কথা হলো—কিছু মানুষের দুর্নীতির অজুহাত তুলে আপনারা নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের লাখ লাখ কর্মচারীকে ন্যায্য বেতন বৃদ্ধি থেকে বঞ্চিত করবেন, এটা কোন ধরনের ন্যায়বিচার?

সর্বশেষ কথা—সরকারি চাকরিজীবী ব্যতীত এই দেশের সাধারণ মানুষ কি ধোয়া তুলসী পাতা? আমাদের দেশের ৯৫% মানুষই দুর্নীতিবাজ, আমরা সবাই কেবল সুযোগের অভাবে সৎ! যেই দেশে আধা ঘণ্টা বৃষ্টি হলে ২০ টাকার রিকশা ভাড়া ১০০ টাকা হয়ে যায়, কোথাও আগুন লাগলে ২৫ টাকার পানির বোতল ২০০ টাকা হয়ে যায়, অ্যাক্সিডেন্ট হলে ৫০০ টাকার সিএনজি ভাড়া ৫০০০ টাকা হাঁকানো হয়, বাজারে কিছুটা চাহিদা বাড়লে ৫০ টাকার কাঁচা মরিচ ১০০০ টাকা হয়—আপনারা সেই দেশের মানুষকে রাতারাতি দুর্নীতিমুক্ত করার ফ্যান্টাসিতে ভুগছেন! এটা হাস্যকর বৈকি আর কিছুই নয়!

#কালেক্টেড

 #প্রাথমিক_বৃত্তি_পরীক্ষা-২০২৫ এর গেজেট✅☑️🌹
30/08/2026

#প্রাথমিক_বৃত্তি_পরীক্ষা-২০২৫ এর গেজেট✅☑️🌹

শিক্ষকদের দাবি, প্রাথমিক স্কুল সময়সূচি ১০টা থেকে ৩টা।অবিলম্বে এ সময়সূচি কার্যকর করা হোক। #প্রাইমারি  #প্রাথমিক
29/08/2026

শিক্ষকদের দাবি, প্রাথমিক স্কুল সময়সূচি ১০টা থেকে ৩টা।অবিলম্বে এ সময়সূচি কার্যকর করা হোক।

#প্রাইমারি #প্রাথমিক

 -এর  #ফিচারগুলো অত্যন্ত সুন্দর, আকর্ষণীয় ও ব্যবহারবান্ধবভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর সহজ ও সুসংগঠিত  #ইন্টারফেসের মাধ্যম...
28/08/2026

-এর #ফিচারগুলো অত্যন্ত সুন্দর, আকর্ষণীয় ও ব্যবহারবান্ধবভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর সহজ ও সুসংগঠিত #ইন্টারফেসের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই প্রয়োজনীয় যেকোনো মডিউলে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা গ্রহণ করতে পারেন.......

Address

Vill: Nayavanguni, PO: Koralia, Upazila: Rangabali, District: Patuakhali
Patuakhali
8640

Telephone

+8801735137796

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when লিমন আনসারী’স বাতায়ন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to লিমন আনসারী’স বাতায়ন:

Shortcuts

Share