20/07/2026
🌴🎓হল রিলেটেড গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট🎓🌴
দীর্ঘদিন ধরেই তোমাদের চাওয়া ছিলো হল নিয়ে বিস্তারিত একটা পোস্ট,আমরাও সঠিক সময়ের অপেক্ষাতেই ছিলাম।এখন যেহেতু ২৮,২৯ জুলাই ওরিয়েন্টেশন এবং ৩০ জুলাই ক্লাস শুরুর সময় ঠিক হয়ে গিয়েছে,তাই এখন হল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার উপযুক্ত সময়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর নতুন পরিবেশ,নতুন মানুষ, বন্ধু,বড় ভাই সব মিলিয়ে একটা হল,সবার কাছে সেকেন্ড হোম।কয়েক মাস গেলে এই হল লাইফ হয়ে উঠবে আবেগের জায়গা।
⏺️প্রথমেই আসা যাক, কবে উঠতে পারবে হলে?
ওরিয়েন্টেশন যেহেতু ২৮,২৯ তারিখ,তাহলে তার দুই দিন আগেই হলে উঠতে পারবে।
বি:দ্র:কৃষি গুচ্ছে ও গুচ্ছে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে নতুন ভর্তিকৃত ছাত্র-ছাত্রীদেরকে হলে সিট খালি থাকা সাপেক্ষে মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং যারা হলে সিট বরাদ্দ পাবে না তাদেরকে নিজ ব্যবস্থাপনায় থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।এটাচমেন্ট প্রাপ্ত হলের নাম ও হলে সিট প্রাপ্তদের তালিকা ওয়েবসাইটে জানিয়ে দেওয়া হবে।
⏺️হল গুলোর পরিবেশ কেমন?
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব গুলোর হলের গণরুমেই নতুন করে সংস্কার,প্রত্যেক রুমে ফ্যান দেওয়া,পর্যাপ্ত আলোর সরবরাহ নিশ্চিত করতে একাধিক লাইট,নতুন করে রং করা সহ-সম্পূর্ণ হলের মধ্যেই কাজ করা হয়েছে।
প্রতিটি হলেই রয়েছে আলাদা রিডিং রুম/লাইব্রেরি, হল মসজিদ,কমনরুম/টিভি রুম,ডাইনিং,ক্যান্টিন। এছাড়া প্রায় প্রতিটা হলেই রয়েছে ব্যাডমিন্টন কোর্ট থেকে আলাদা খেলার মাঠ (নিজস্ব)।
⏺️কোন হল সবচেয়ে ভালো?
তুমি যেই হলেই ওঠো না কেন,বছর খানেক পর তোমার কাছে নিজের হলটাকে মনে হবে সবচেয়ে ভালো।কাজেই কোনো একটা হলকে আলাদা করে ভালো বলার কিছু নেই।সব হলেরই আবাসিক পরিবেশ ভালো।পড়াশোনা করতে চাইলে ভালো মতোই সম্ভব।
⏺️নির্ধারিত হলেই উঠতে হবে কিনা?
মেয়েদের তো অবশ্যই নির্ধারিত হলে উঠতে হবে।সম্ভবত মেয়েদের হলে মেধার ভিত্তিতে সিট দেওয়া হতে পারে।
আর ছেলেদের ক্ষেত্রেও বর্তমান সময়ে এটা নিয়ে প্রশাসন আগের চেয়ে কড়া।তাই নির্ধারিত হলেই উঠতে হবে।
⏺️গণরুমের পরিবেশ কেমন?
মেয়েদের ক্ষেত্রে গণরুমেই ফার্স্ট ইয়ার পার করতে হয়।এমনকি সেকেন্ড ইয়ারের অর্ধেকটা থাকা লাগতে পারে!
ছেলেদের ক্ষেত্রে সব হলে গণরুম।তবে ফার্স্ট ইয়ার শেষ হতে হতেই সরাসরি রুম বা ৬ জন করে রুম পাওয়া যায়।
তবে যেহেতু নতুন হলের কাজ চলছে।কাজ শেষ হলে আর গণরুমে থাকা লাগবে না।কাজ কবে শেষ হবে সঠিক বলা যাচ্ছে না।
⏺️হলে না থেকে বাইরে থাকা কি যৌক্তিক?
ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি হলে থাকা ভালো।
হলে থাকলে তোমার প্রয়োজনীয় সবকিছুই ক্যাম্পাসে হাতের নাগালে পাবে।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে যেহেতু সবাই গণরুমে সিট পাবে না ওরিয়েন্টেশন নোটিশ অনুযায়ী সেক্ষেত্রে বাকিদের হলের বাইরে থাকা লাগবে।
⏺️হল থেকে কি পাওয়া যাবে?কি নিয়ে আসতে হবে?
হলে তোমাকে গণরুমে একটা সিট দেওয়া হবে।শুধু বেড থাকবে,টেবিল/চেয়ার থাকবে না(তবে কেরামত আলী হলে টেবিল থাকতে পারে)।রিডিং রুম/হল লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারবে।তোমাকে সাথে করে অবশ্যই নিজের প্রয়োজনীয় অন্য সকল জিনিস আনতে হবে।বালিশ,কাঁথা,বেড কভার, তোশক, মশারী সহ সব নিজের সাথে আনতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের দোকানে অবশ্য তোমরা তোশক,বালিশ কিনতে পারবা।চাইলে একটা ট্রাংক আনতে পারো যাতে প্রয়োজনীয় জিনিস রাখতে পারবে।
শুরুতে অনেক বেশি কিছু আনার প্রয়োজন নেই। সময়ের সাথে আস্তে আস্তে সব নিয়ে আসতে পারবে।
হলে এসে নিজের ব্যাচমেটদের একসাথে পাবে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সবথেকে কাছের এই মানুষগুলোর সাথে দ্রুতই পরিচিত হয়ে নেবে।আর সার্বিকভাবে সবসময় তোমাদের ইমিডিয়েট সিনিয়র ব্যাচ তোমাদের সহযোগিতা করবে।সকলের সাথে শ্রদ্ধা,সম্প্রীতির সম্পর্ক বজায় রাখবে।
আর একটা কথা,হল কখনো বাড়ির মত হবে না, তাই শুরুর দিকে ছোটখাট কিছু সমস্যা উপেক্ষা করে একবার মানিয়ে নিতে পারলে,হল লাইফ হয়ে উঠবে স্মৃতিপূর্ণ।
আশা করছি হল কেন্দ্রীক সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি।অন্য কোনো কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করো।
সকলের জন্য শুভ কামনা রইলো।
লেখা ক্রেডিট: Asif Ahmed
ফটো ক্রেডিট:ক্যাম্পাসের ফটোগ্রাফারবৃন্দ