14/02/2022
একটা প্রতিষ্ঠান যেনতেনভাবে চালালেই হয়না। একটা প্রতিষ্ঠানের যখন আমরা দায়িত্ব নেব তখন সবগুলো জিনিসের দায়িত্ব আমাদের উপরে চলে আসবে শুধু মাসিক খরচ দিয়েই খালাস নয়। যেমন মাদ্রাসার দায়িত্ব নিয়েছি বাচ্চাদের সবকিছু দেখাশোনা করার দায়িত্ব আমাদের উপর চলে এসেছে। তাদের পড়াশুনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা দেখার দায়িত্ব ও আমাদের। নিজেদের সন্তানদের চেয়েও তারা গুরত্বপূর্ণ কারন নিজেরটা নিজের, কিন্তু অন্যের সন্তান গড়ে তোলার দায়িত্ব যখন নিয়েছি তখন দায়ভার অনেক ইন শা আল্লহ।
আমাদের মাদ্রাসার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আমাদের মাদ্রাসা সম্পূর্ণ ফ্রি। বেতন, বই এবং ৩ বেলা খাবার আবাসিকের সব ফ্রি। অনাবাসিকের বেতন, বই ফ্রি। নাস্তাও দেয়া হয়। ভাত খেলেও বাধা নেই। খাও কিন্তু পড়ো বাবা, পড়তে হবে।
গ্রামের মানুষের অনেকেরই ধারণা বাচ্চাদের উন্নত মানের পড়াশোনা করানোর সামর্থ্য নেই, কিন্তু তবুও ফ্রি জিনিষকে অনেকেই গুরুত্ব দেয় না। বাচ্চা মাদ্রাসায় অনুপস্থিত হোক বা পড়ায় মন না দিক অনেকেই গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু মাসিক বেতন দিতে হলে বাবা মা অনেক সচেতন হয়। তাহলে বাচ্চাদের আরো আগ্রহী করতে কি করা যায়? আবার সরকারি প্রাইমারি স্কুলে আছে টিফিনের ব্যবস্থা যা আমরাও দেই, খেলার জায়গা, অনুষ্ঠান কতকি।
তাই আমিও ভাবলাম বাচ্চাদের জন্য এমন কিছু করি যাতে তারা খুশি হয়, আনন্দ পায়, শারীরিক মানসিক উন্নতিও হয় ইন শা আল্লহ। গ্রামে তো আর পার্ক নেই। প্রাইমারী স্কুলের খেলার সরঞ্জাম তাদের বাচ্চাদের আর এই গ্রামে সেরকম আছে কিনা জানিও না।
তাই মাদ্রাসার সামনে মাঠে বাচ্চাদের জন্য প্লে গ্রাউন্ড করলাম। আমাদের প্লে গ্রাউন্ডে আছে দোলনা, স্লাইড, সী স। মাশা আল্লহ, বারাকাল্লাহু। আল্লহ বদনজর থেকে হেফাযত করুক আমিন।
আলহামদুলিল্লাহ, সুম্মা আলহামদুলিল্লাহ যেভাবে স্বপ্ন দেখেছি আল্লহ কবুল করেছেন। আমি শুধু দূর থেকে ইন্সট্রাকশন দিয়েছিলাম ফোনে কিন্তু এর পিছনে মাদ্রাসার সবাই এবং গ্রামবাসী অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়েছে। জাঝাকাল্লাহু খায়ের।
এখনো বাচ্চারা খেলা শুরু করেনি। ২-৩ দিন পর শুরু করবে ইন শা আল্লহ।
হিফজখানা এবং ফ্রি নুরানি মক্তবের পাশাপাশি গ্রামের যেকোনো বাচ্চাই খেলতে পারবে। তবে শুধু খেলাধুলার সুযোগ দিলেই হবে? তাই সবার জন্যই দৈনিক তালিম এবং তরবিয়ত,আদব,আখলাকের ক্লাস ফ্রি ইন শা আল্লহ স্কুলে পড়ুক বা মাদ্রাসায়।
মসজিদ আর মাদ্রাসা বিল্ডিং নতুন করে করা শুরু করেছে আমার আব্বু এ মাসেই। ইন শা আল্লহ কাজ শেষ হলে লাইব্রেরী করবো একটা। আমরা হয়ত কিতাবখানা খুলতে পারবো না তবে যারা আমাদের থেকে হাফেজ হয়ে বের হবে তারা যেনো আমল, আখলাক আর ইলম এ ব্যতিক্রম হয়, অগ্রজ হয় এটাই আমার নিয়ত ইন শা আল্লহ।
আল্লহ কবুল করুক আমাদের বাচ্চাদের দায়ী হিসেবে, তালেবে ইলম হিসেবে এবং Sadaqah পেইজের সাথে সংশ্লিষ্টদের এবং ডোনারদের এবং মাদ্রাসার খেদমতে জড়িত উস্তাদ এবং দায়িত্বশীলদের আমিন।
মাদ্রাসায় ডোনেশন দিতেঃ http://tiny.cc/fogouz