Abdul Hakim Salehi

Abdul Hakim Salehi Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Abdul Hakim Salehi, Education Website, Kanki Rampur Masumia Complex, Patuakhali.

জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি মন
এই পেইজে আপনি পাবেন –
🔹 শিক্ষামূলক লেখা
🔹 ধর্মীয় অনুপ্রেরণা
🔹 সমাজ ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ভাবনা
🔹 হৃদয় ছোঁয়া উক্তি ও ব্যাখ্যা

01/07/2026

আরবি ও ইংরেজি করুন
যে চায়, সে পায়।

01/07/2026

আরবি এবং ইংরেজি করুন
যে চায়, সে পায়।

09/04/2026
06/03/2026

বদর দিবসের গুরুত্ব ও ফজিলত:
হযরত মাওলানা মোঃ আব্দুল হাকিম সালেহী

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد الأنبياء والمرسلين.
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি আসমান-জমিনের মালিক। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানবজাতির শ্রেষ্ঠ নেতা Muhammad ﷺ-এর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবায়ে কেরামের উপর।
প্রিয় মুসল্লিগণ,
রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই বরকতময় মাসেই ইসলামের ইতিহাসে এক মহান ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল—মহান Battle of Badr।
২ হিজরির ১৭ রমজান, বদরের ময়দানে সত্য ও মিথ্যার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মুসলমানদের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩১৩ জন, আর কুরাইশদের বাহিনী ছিল প্রায় ১০০০ জন। বাহ্যিক দিক থেকে মুসলমানদের শক্তি কম ছিল—অস্ত্র কম, ঘোড়া কম, প্রস্তুতি কম। কিন্তু তাদের কাছে ছিল এক মহান শক্তি—আল্লাহর উপর অটুট ভরসা ও দৃঢ় ঈমান।
📖 কোরআনে বদরের উল্লেখ
আল্লাহ তাআলা পবিত্র Qur'an-এ বলেন—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের বদরের যুদ্ধে সাহায্য করেছিলেন, অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল।”
(সূরা আলে ইমরান: ১২৩)
আরও বলেন—
“যেদিন সত্য ও মিথ্যার ফয়সালা হয়েছিল।”
(সূরা আনফাল: ৪১)
এই কারণেই বদরের দিনকে বলা হয় ইয়াওমুল ফুরকান—সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যের দিন।
⚔️ ইসলামের শত্রুর পরিণতি
বদরের ময়দানে ইসলামের বড় শত্রু Abu Jahlও উপস্থিত ছিল। সে বহু বছর নবী ﷺ এবং মুসলমানদের উপর অত্যাচার করেছিল।
কিন্তু আল্লাহর বিচার থেকে সে রক্ষা পায়নি। দুই তরুণ সাহাবি সাহসিকতার সাথে তাকে আক্রমণ করেন। পরে সাহাবি Abdullah ibn Mas'ud তাকে পরাজিত অবস্থায় দেখতে পান।
যখন তার মৃত্যুর সংবাদ নবী ﷺ-কে জানানো হলো, তখন তিনি বললেন—
“এ ব্যক্তি ছিল এই উম্মতের ফেরাউন।”
এই বর্ণনা এসেছে Sahih al-Bukhari-এ।
🌙 বদর যুদ্ধের শিক্ষা
প্রিয় ভাইয়েরা, বদর যুদ্ধ আমাদের অনেক শিক্ষা দেয়—
১️⃣ আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা থাকলে অসম্ভবও সম্ভব হয়।
২️⃣ ঈমান ও তাকওয়া মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি।
৩️⃣ সত্য কখনো পরাজিত হয় না; শেষ পর্যন্ত সত্যেরই বিজয় হয়।
৪️⃣ ত্যাগ ও ধৈর্যের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য লাভ করা যায়।
🤲 উপসংহার ও দোয়া
প্রিয় মুসল্লিগণ,
আজ আমাদের সমাজ, আমাদের উম্মাহ—সত্যিকার ঈমান, ঐক্য এবং তাকওয়ার খুব বেশি প্রয়োজন। বদরের সাহাবিদের মতো যদি আমাদের ঈমান দৃঢ় হয়, তবে আল্লাহ অবশ্যই আমাদের সাহায্য করবেন।
আসুন আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি—
হে আল্লাহ!
আমাদেরকে বদরের সাহাবিদের মতো দৃঢ় ঈমান দান করুন।
আমাদেরকে সত্যের পথে অটল থাকার তাওফিক দিন।
আমাদের গুনাহ ক্ষমা করুন এবং আমাদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন।
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

16/01/2026

ধর্ম ও ইসলাম
শবেমেরাজ
আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্যে নবীজি
ফয়জুল্লাহ রিয়াদ
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ২১
ইসলামের ইতিহাসে শবেমেরাজ অনুপম, অতুলনীয় ও বিস্ময়কর একটি ঘটনা। এটি নবুয়তের সত্যতা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মর্যাদা প্রকাশ এবং মানবজাতির জন্য আল্লাহর চূড়ান্ত দিকনির্দেশনার অধ্যায়।
মেরাজের অর্থ
বিজ্ঞাপন
মেরাজ শব্দের আভিধানিক অর্থ ঊর্ধ্বগমন। ইসলামি পরিভাষায় মেরাজ হলো মহানবী (সা.)-এর সশরীরে, পূর্ণ জাগ্রত ও সচেতন অবস্থায়, ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) ও মিকাইল (আ.)-এর সঙ্গ নিয়ে বিশেষ বাহন বোরাকে আরোহণ করে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত গমন; এরপর প্রথম আসমান থেকে পর্যায়ক্রমে সপ্তম আসমান অতিক্রম করে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত পৌঁছানো এবং সেখান থেকে রফরফ নামক বাহনে একাকী আরশে আজিমে উপনীত হওয়ার নাম। মেরাজে রাসুলুল্লাহ (সা.) রাব্বুল আলামিনের সান্নিধ্য লাভ করেন, জান্নাত ও জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করেন এবং অতঃপর পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করেন।
ইসরা ও মেরাজ
মেরাজের প্রথম অংশকে বলা হয় ‘ইসরা’। ইসরা অর্থ রাত্রিকালীন সফর। যেহেতু এই ঐতিহাসিক ভ্রমণ রাতের বেলায় সংঘটিত হয়েছিল, তাই একে ইসরা বলা হয়। বিশেষভাবে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত অংশটিই ইসরা নামে পরিচিত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা এই সফরের কথা ঘোষণা করে বলেন, ‘তিনি পবিত্র সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাত্রিতে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত—যার আশপাশ আমি বরকতময় করেছি—যাতে আমি তাকে আমার নিদর্শনাবলি দেখাতে পারি। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ১)
মেরাজ আত্মিক নাকি শারীরিক
প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, মেরাজ সংঘটিত হয় নবুয়তের একাদশ বছরের রজব মাসে। তখন নবীজি (সা.)-এর বয়স ছিল ৫১ বছর। এই সফর কোনো স্বপ্ন বা আত্মিক দর্শন ছিল না, এটি ছিল সশরীরে সংঘটিত বাস্তব ঘটনা। এর অন্যতম প্রমাণ কাফের, মুশরিক ও মুনাফিকদের তীব্র অস্বীকৃতি ও বিদ্রুপ। যদি এটি শুধু স্বপ্ন বা রুহানি যাত্রা ও অভিজ্ঞতা হতো, তবে তাদের অবিশ্বাস করার কোনো যুক্তিসংগত কারণ থাকত না।
কোরআন ও হাদিসে মেরাজের প্রমাণ
মেরাজের ঘটনাবলি পবিত্র কোরআনের সুরা নাজম ও সুরা বনি ইসরাইলে সুস্পষ্টভাবে বিবৃত হয়েছে। বিশেষ করে সুরা নাজমের প্রথম ১৮টি আয়াতে নবীজি (সা.)-এর আসমানি দর্শন, জিবরাইল (আ.)-এর সাক্ষাৎ, সিদরাতুল মুনতাহা ও আল্লাহর নিদর্শনাবলি প্রত্যক্ষ করার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিমসহ সিহাহ সিত্তার বহু নির্ভরযোগ্য হাদিসে ইসরা ও মেরাজের বিস্তারিত বিবরণ সংরক্ষিত আছে, যা আকিদা ও ইতিহাস উভয় দিকেরই অকাট্য প্রমাণ।
মেরাজের সংক্ষিপ্ত ঘটনা
এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক অবস্থায় ছিলেন, যা ঘুম ও জাগরণের মধ্যবর্তী। ঠিক সেই সময় আল্লাহর পাঠানো ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) তাঁর কাছে উপস্থিত হন। আল্লাহর হিকমতে নবীজির বুক বিদীর্ণ করা হয়, জমজমের পবিত্র পানি দিয়ে তা ধৌত করা হয় এবং ঈমান ও প্রজ্ঞায় তা পরিপূর্ণ করে আবার যথাস্থানে স্থাপন করা হয়। এ ঘটনাটি ছিল নবীজির অন্তরকে আসমানি দর্শনের জন্য প্রস্তুত করার এক বিশেষ ব্যবস্থা।
এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য হাজির করা হয় বুরাক নামের এক অনন্য বাহন। এর গতি ছিল অবিশ্বাস্য। একেকটি কদম পড়ছিল চোখ যত দূর দেখতে পায় তারও শেষ প্রান্তে। এই বাহনে আরোহণ করে নবীজি (সা.) মুহূর্তের মধ্যেই মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাসে পৌঁছে যান। সেখানে তিনি দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন এবং পূর্ববর্তী সব নবীর ইমামতি করেন।
এরপর শুরু হয় ঊর্ধ্বাকাশের দিকে আরোহণ। সহিহ বুখারির বর্ণনায় এসেছে, প্রতিটি আসমানে প্রবেশের আগে জিবরাইল (আ.) সংশ্লিষ্ট আসমানের প্রহরী ফেরেশতাদের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেন। এই অনুমতির ধারা আসমানি শৃঙ্খলা, নিয়ম ও আল্লাহর দরবারের অসীম মর্যাদার সুস্পষ্ট প্রমাণ।
প্রতিটি আসমানে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক বা একাধিক নবীর সাক্ষাৎ লাভ করেন। প্রথম আসমানে তিনি মানবজাতির আদি পিতা আদম (আ.)-এর সাক্ষাৎ পান। দ্বিতীয় আসমানে ছিলেন ইসা (আ.) ও ইয়াহইয়া (আ.)। তৃতীয় আসমানে সৌন্দর্য ও চরিত্রের অনন্য দৃষ্টান্ত ইউসুফ (আ.)। চতুর্থ আসমানে ইদরিস (আ.), পঞ্চম আসমানে হারুন (আ.), ষষ্ঠ আসমানে মুসা (আ.) এবং সপ্তম আসমানে মুসলিম মিল্লাতের পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়।
ইবরাহিম (আ.)-কে নবীজি (সা.) দেখতে পান বাইতুল মামুরের সঙ্গে হেলান দিয়ে বসে থাকতে। এটি আসমানের কাবা, যেখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা ইবাদতে প্রবেশ করেন এবং এখানে যারা একবার ইবাদত করেন, তারা আর কখনো সেখানে ফিরে আসার সুযোগ পান না।
এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) পৌঁছান সিদরাতুল মুনতাহায়, এটি সৃষ্টিজগতের চূড়ান্ত সীমা। এখানেই এসে জিবরাইল (আ.) থেমে যান এবং বলেন, ‘আমি যদি এখান থেকে সামান্যও অগ্রসর হই, তবে আমি জ্বলে-পুড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাব।’
এই সীমা অতিক্রম করে একমাত্র রাসুলুল্লাহ (সা.) অগ্রসর হন। অতঃপর আল্লাহতায়ালা তাঁকে বিশেষ নৈকট্য দান করেন। এই মহিমান্বিত অবস্থায় প্রথমে উম্মতের ওপর দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়। ফেরার পথে হজরত মুসা (আ.)-এর পরামর্শে নবীজি বারবার আল্লাহর দরবারে ফিরে যান। প্রতিবারই নামাজের সংখ্যা কমতে থাকে। অবশেষে তা পাঁচ ওয়াক্তে নির্ধারিত হয়, তবে আল্লাহতায়ালা দয়া করে এর সওয়াব পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমানই রেখে দেন। (বুখারি : ৩২০৭)
শবেমেরাজে ঘোষিত সিদ্ধান্ত
এই মহিমান্বিত রজনিতে আল্লাহতায়ালা মানবজাতির জন্য ১৪ দফার এক মৌলিক নীতিমালা ঘোষণা করেন। এতে তাওহিদ, পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি, নৈতিকতা ও ব্যক্তিচরিত্রÑসবকিছুর দিকনির্দেশনা রয়েছে। এগুলো হলো—আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত না করা, পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণ, আত্মীয়স্বজনের অধিকার আদায়, মিসকিন ও পথচারীর হক প্রদান, অপচয় পরিহার, কৃপণতা বর্জন, সন্তান হত্যা নিষিদ্ধকরণ, ব্যভিচারের ধারে-কাছেও না যাওয়া, অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা না করা, এতিমের সম্পদ সংরক্ষণ, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, মাপে ও ওজনে পূর্ণতা, অজ্ঞতার অনুসরণ বর্জন এবং অহংকার পরিহার। আল্লাহতায়ালা বলেন, এসব কাজই মন্দ এবং তিনি (আল্লাহতায়ালা) এগুলো অপছন্দ করেন। (সুরা বনি ইসরাইল : ২২-৪৪

26/06/2025

📿 হিজরি নববর্ষের বাণী 🕋
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
"নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মাসসমূহের সংখ্যা বারটি—আসমান ও জমিন সৃষ্টি হবার দিন থেকেই।"
(সূরা আত-তাওবা: ৩৬)
🌙 মুহাররম মাসের আগমন মানেই নতুন হিজরি বছরের সূচনা।
এই মাসটি সম্মানিত চার মাসের একটি, যেখানে নেক আমলের পুরস্কার বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং অন্যায়ের শাস্তিও গুরুতর হয়ে যায়। নববর্ষ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—
👉 হিজরতের ইতিহাস, আত্মত্যাগের শিক্ষা, ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সমস্ত কিছু বিলিয়ে দেওয়ার আদর্শ।
🕌 এ বছরে আমাদের করণীয় কী?
✅ আত্মশুদ্ধির নিয়ত করা
✅ পুরনো গুনাহের জন্য তওবা করা
✅ সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানো
✅ নামায, কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া-দরুদে সময় কাটানো
✅ অন্যের হক আদায় ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করা
💖 আসুন, আমরা এই নববর্ষে আল্লাহর পথে ফিরে আসি।
নতুন বছর হোক তাকওয়া, ইখলাস, এবং নেক আমলের নতুন দরজা।
হিজরি বর্ষপঞ্জি যেন আমাদের জীবনে ইসলামের গুরুত্ব ও ইতিহাসকে আরও বেশি করে জাগিয়ে তোলে।
📅 ১ মুহাররম, ১৪৪৭ হিজরি
🕋 নতুন হিজরি বছর মোবারক!
🤲 আল্লাহ তাআলা যেন এই বছরটিকে আমাদের জন্য শান্তিময়, বরকতময় ও হিদায়াতের বছর হিসেবে কবুল করেন।
আমিন ইয়া রাব্বাল আলামিন।
✒ শাহ মোঃ আবদুল হাকিম সালেহী

কোরবানি : পিতা-পুত্রের আত্মত্যাগের অভিব্যক্তি --মাও: আবদুল হাকিম ছালেহীসদ্য ফোটা পুষ্পতুল্য ইসমাঈলের প্রজ্ঞাপূর্ণ প্রতিউ...
03/06/2025

কোরবানি : পিতা-পুত্রের আত্মত্যাগের অভিব্যক্তি

--মাও: আবদুল হাকিম ছালেহী

সদ্য ফোটা পুষ্পতুল্য ইসমাঈলের প্রজ্ঞাপূর্ণ প্রতিউত্তরে পিতা ইবরাহীম
(আ.) অত্যন্ত পুলকিত ও শংকামুক্ত, রবের কৃতজ্ঞতায় মস্তকাবনত, আর্দশ বাবার আদর্শ ছেলে বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নিলেন প্রভুর ফরমান। মক্কার অনতিদূরে মীনার প্রান্তরে সৃষ্টি হল পিতা-পুত্রের অপূর্ব ত্যাগের এক সোনালি স্মৃতি।


আরব মরুভূমির এক স্নিগ্ধ সকাল। বৃদ্ধ বাবার দুটি চোখ যেন অশ্রুতে ছলছল। অজস্র দোয়ার বদৌলতে পাওয়া কিশোর বয়সী প্রাণপ্রিয় পুত্রকে হারাবার আতঙ্কে বিহবিহ্বল। তবু হৃদয়রাজ্যে পরম শান্তি ও অপরিসীম তৃপ্তি, পাহাড়সম ঈমানের দৃঢ়তা ও প্রভুর আনুগত্যের স্বর্গীয় অনুভূতি।
বলছিলাম দেড় সহস্রাধিক বছর আগের কথা। যখন কাবা শরিফের চারপাশে মাইলের পর মাইল ছিল ধূ ধূ মরু-প্রান্তর। জনবসতি বলতে হাতে গোনা কজন। শিশু ইসমাঈল তখন শৈশবের গন্ডি পেরিয়ে চাঞ্চল্যময় কিশোর। বয়োজ্যেষ্ঠ পিতার দীর্ঘদিনের দোয়া ও কান্নার ফসল, জীবনের পড়ন্ত বেলায় প্রাপ্ত বহুল প্রার্থিত নেয়ামত। যাকে ঘিরে তাঁর সমস্ত ভালোবাসা, প্রীতি ও প্রত্যাশা। হঠাৎ এক নিস্তব্ধ নীরব রজনীতে ইবরাহীম (আ.) স্বপ্নে দেখেন- কলিজার টুকরো ছেলে ইসমাঈলকে নিজ হাতে জবাই করছেন। নবী ইবরাহীম (আ.) সহজেই বুঝে নিলেন, এ যে মহামহিমের পক্ষ হতে তার জন্য অগ্নিপরীক্ষা। সর্বময় ক্ষমতার আধার আল্লাহর নামে আদরের পুত্রকে কোরবানি করার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

ইবরাহীম (আ.) কালবিলম্ব না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন। অব্যক্ত যন্ত্রনা আর শত কষ্ট মুছে গেল নয়নজলে, অন্তরের অন্তস্থলে। পুত্রপ্রেম বিসর্জন দিলেন প্রভুপ্রেমের সামনে। খোদা প্রদত্ত নেয়ামতকে খোদার রাহে উৎসর্গ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বাবা। বিষয়টি ছেলে ইসমাঈলের কাছে পেশ করতেই স্বতঃস্ফুর্ত কণ্ঠে পিতাকে অভয় দিয়ে বলে উঠলেন: “আপনি আপনার রবের নির্দেশ পালন করুন। নিশ্চয় আপনি আমাকে ধৈর্যশীল হিসেবে পাবেন।” পবিত্র কোরআনে পিতা-পুত্রের এ আলাপচারিতা এভাবেই বাঙময় হয়েছে-
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعۡیَ قَالَ یٰبُنَیَّ اِنِّیۡۤ اَرٰی فِی الۡمَنَامِ اَنِّیۡۤ اَذۡبَحُكَ فَانۡظُرۡ مَاذَا تَرٰی ؕ قَالَ یٰۤاَبَتِ افۡعَلۡ مَا تُؤۡمَرُ ۫ سَتَجِدُنِیۡۤ اِنۡ شَآءَ اللّٰهُ مِنَ الصّٰبِرِیۡنَ ﴿۱۰۲﴾
“এরপর সে যখন তার পিতার সঙ্গে কাজ করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইবরাহীম তাকে বলল, বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে আমি তোমাকে জবাই করছি। এখন তোমার অভিমত কী? তখন সে বলল, হে আমার পিতা, আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তাই করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন।” (সুরা সাফফাত: ১০২)

সদ্য ফোটা পুষ্পতুল্য ইসমাঈলের প্রজ্ঞাপূর্ণ প্রতিউত্তরে পিতা ইবরাহীম (আ.) অত্যন্ত পুলকিত ও শংকামুক্ত। রবের কৃতজ্ঞতায় মস্তকাবনত। আর্দশ বাবার আদর্শ ছেলে বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নিলেন প্রভুর ফরমান। মক্কার অনতিদূরে মীনার প্রান্তরে সৃষ্টি হল পিতা-পুত্রের অপূর্ব ত্যাগের এক সোনালি উপাখ্যান।

পিতার ধারালো ছুরি চলে স্নেহের পুত্রের গলে। পার্থিব মোহ-টান তুচ্ছ করে বাবা-ছেলের এই কোরবানি আল্লাহর আরশ ছুঁয়ে গেল। ত্যাগের মহিমায় এ ধরা আবার জেগে উঠল। ইথারে-পাথারে প্রতিধ্বনিত হল তাওহীদের জয়গান। মহান আল্লাহর কৃপায় অলৌকিকভাবে ইসমাঈল (আ.)-এর পরিবর্তে জবাই হল এক জান্নাতি দুম্বা। বরাবরের মতো মর্যাদাবৃদ্ধির এ পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হলেন আদি পিতা ইবরাহীম (আ.) । এই অনন্য ত্যাগের নির্দশনস্বরূপ আল্লাহ তায়ালা মুসলিম জাতির উপর অবধারিত করে দিলেন পশু কোরবানির বিধান। মুসলিম উম্মাহর পালনীয় ইবরাহীমি সুন্নাহ পশু কোরবানির এ ধারা দুনিয়ার ইতিহাসে দৃষ্টান্তহীন ত্যাগের চির অক্ষত স্মারক। প্রচলিত পশু কোরবানির যোগসূত্র আলোচ্য ঘটনা সংশ্লিষ্ট হলেও কোরবানির ইতিহাস অতি পুরনো ও প্রাচীন। মানব সভ্যতার শুরু থেকে প্রতি যুগেই ছিল কোরবানির প্রথা। যদিও পন্থা ও পদ্ধতিতে ছিল বিস্তর ব্যবধান। তখনকার সময় কোরবানিতে প্রাণী জবাইয়ের এই পদ্ধতি স্বীকৃত ছিল না। মানুষ নিজের কোরবানির বস্তু পাহাড়ে বা উন্মুক্ত ময়দানে রেখে আসতো। যার কোরবানি কবুল হতো আসমানি অগ্নিখণ্ড এসে তা জ্বালিয়ে ভস্ম করে দিত। এভাবে সবার সামনে প্রকাশ হয়ে যেতো কার কোরবানি কবুল হয়েছে, কার হয়নি? পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম কোরবানি করেছিল আদম (আ.)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল। প্রখ্যাত মুফাসসির আল্লামা ইবনে কাসিরের বর্ণনায় আছে হাবিল একটি ভেড়া আর কাবিল তার ফসলের কিছু অংশ স্রষ্টার উদ্দেশ্যে নিবেদন করে। আল্লাহর নির্ধারিত পদ্ধতিতে আকাশ থেকে নেমে আসা আগুন হাবিলের কোরবানি কবুল করে নেয়, আর কাবিলের কোরবানি অগ্রহণযোগ্যই থেকে যায়।

কোরবানির ইতিহাস যেমন ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল ও চির ভাস্বর, তার তাৎপর্যও তেমন সুগভীর ও মজবুত। পশু কোরবানির নামান্তরে প্রতিপালকের আনুগত্যে নিজেকে সমর্পণ করাই মুখ্য। মহান রবের নির্দেশে মনের পশুত্বকে বর্জন করে প্রকৃত ত্যাগের শিক্ষায় উজ্জীবিত হওয়াই কোরবানির লক্ষ্য ও তাৎপর্য। তাই বছর ঘুরে কোরবানি এসে আমাদেরকে মনে করিয়ে যায় ত্যাগেই প্রেম, রাশি রাশি ভালোবাসা; ত্যাগেই সফলতা-সম্মান।
লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

Address

Kanki Rampur Masumia Complex
Patuakhali

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Abdul Hakim Salehi posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share