01/06/2026
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে যখন আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া কোলাহলমুক্ত —প্রিয় শিক্ষার্থীরা সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ঈদের আনন্দে ব্যস্ত—তখন যেন পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করছিল এক অপার্থিব নিস্তব্ধতা।
কিন্তু সেই নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে ঈদের পরদিন থেকেই জামিয়া প্রাঙ্গণ আবার মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র কুরআনের সুমধুর তিলাওয়াত, তাজবীদ ও কিরাআত মশকের সুরলহরিতে।
বাংলাদেশ তাহফীজুল কোরআন সংস্থা, এর উদ্যোগে আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত কুরআনের খাদেম, হাফেজ, আলেম, ইমাম, মুয়াজ্জিন, আলিয়া মাদরাসার শিক্ষক এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করছেন।
নিজেদের তিলাওয়াতকে আরও শুদ্ধ, সাবলীল ও হৃদয়গ্রাহী করে তোলার প্রত্যয়ে অংশগ্রহণকারীরা নিবিড় প্রশিক্ষণে নিমগ্ন রয়েছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আল-জামিয়ার প্রতিটি কোণ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে কুরআনের মধুর ধ্বনিতে।
যে প্রাঙ্গণ কয়েকদিন আগেও ছিল নিস্তব্ধ, আজ তা পরিণত হয়েছে কুরআন শিক্ষার এক প্রাণবন্ত মহাসমাবেশে।
নিঃসন্দেহে, কুরবানীর বন্ধে "১০ দিন ব্যাপী কিরাত প্রশিক্ষণ কোর্স" আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার ইতিহাসে এটি একটি অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন। কুরআনের খিদমত, শুদ্ধ তিলাওয়াতের প্রসার এবং দক্ষ কারী তৈরির ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করবে—ইনশাআল্লাহ।
এ মহতী আয়োজনের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ তাহফীযুল কুরআন সংস্থার সভাপতি ও আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ার মুহতামিম হযরত আল্লামা মুফতি একরাম হোসাইন অদূদী (দা.বা.) এবং সংস্থার সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল আবছার সাহেবের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও যুগান্তকারী উদ্যোগ। তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও পরিকল্পনার ফলে কিরাআত শিক্ষার এ ব্যতিক্রমী কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে।
আশা করা যায়, ভবিষ্যতে এ উদ্যোগ আরও ব্যাপকতা লাভ করবে এবং দেশে কিরাআত ও তাজবীদের চর্চাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
আল্লাহ তাআলা এ আয়োজনকে কবুল করুন, সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং কুরআনের খিদমতের এ ধারাকে আরও সমৃদ্ধ ও বেগবান হবে ইনশাআল্লাহ।