16/07/2026
আপনার সন্তানকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তি করাতে চান?
ক্যাডেট কলেজে ভর্তির জন্য যে সকল বিষয় জেনে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যাডেট কলেজগুলো প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল শাখার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
লেখাপড়ার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং অতিরিক্ত শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাডেটদের সুনাগরিক ও চৌকস ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তোলা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজ সংখ্যা ১২টি।
বালকদের জন্য ৯টি আর বালিকাদের জন্য ৩টি।
বাংলাদেশের প্রথম ক্যাডেট কলেজ ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ এবং সর্বশেষ জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ।
ক্যাডেট কলেজগুলোতে ভর্তি নেওয়া হয় ৭ম শ্রেণিতে।নিয়ম অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী একবারের অধিক ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে না।
ফলে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো আসে ষষ্ঠ এবং কখনো সপ্তম শ্রেণির আংশিক পাঠ থেকে
আর ভর্তির প্রক্রিয়াটি হবে লিখিত, মৌখিক ও স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার মাধ্যমে।
পরীক্ষার সিলেবাস: ভর্তি পরীক্ষা হবে,জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ষষ্ঠ শ্রেণির সিলেবাসের আলোকে।
ভর্তি পরীক্ষার বিষয়:
গণিত= ১০০
ইংরেজিত= ১০০
বাংলা= ৬০
সাধারণ জ্ঞান= ৪০
সর্বমোট= ৩০০
সময় ৩ ঘন্টা
প্রতি বিষয়ে পৃথক পৃথক ৪০% মার্ক পেয়ে সর্বোচ্চ নম্বরধারী ছেলে ১১০০+ এবং মেয়ে ৪০০+- পেয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে থাকে।
ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র বাংলা মাধ্যম এবং ইংলিশ ভার্সন দুই ভাবেই ছাপা হয়।
কিন্তু ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হওয়ার পর ইংলিশ ভার্সনে পড়াশোনা করতে হয়।
আবেদনকারীর যোগ্যতা:-
জাতীয়তা: ছাত্রছাত্রীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা:
ছাত্রছাত্রীকে ষষ্ঠ শ্রেণি অথবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
বয়স: যে বছর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করবে, সেই সময় = সর্বোচ্চ ১৩ বছর ৬ মাস হতে হবে।
শারীরিক যোগ্যতা: প্রার্থীকে নিজের শারীরিক যোগ্যতা- সম্পন্ন হতে হবে।
উচ্চতা: ন্যূনতম ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি (বালক ও বালিকা উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)।
সুস্থতা: প্রার্থীকে অবশ্যই শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হতে হবে।
দৃষ্টিশক্তিঃ- চশমা বিহীন চোখে -এক চক্ষুতে ৬/১২, অন্য চক্ষুতে:৬/১৮।
চশমা সহ এক চক্ষুতে ৬/৬,অন্য চক্ষুতে ৬/৬। চশমার পাওয়ার কোন ক্ষেত্রেই (-)2D এর অধিক হবে না।
আবেদন করার সময়সূচিঃ প্রত্যেক বছরের প্রায়
নভেম্বরে শুরু হয়ে –ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে যায়।
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের শনিবারে কিংবা জানুয়ারির ১ম সপ্তাহের শনিবারে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
ক্যাডেট কলেজ থেকে পাশ করার পর একজন ক্যাডেট ISSB পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরাসরি সশস্ত্র বাহিনীর কমিশন্ড অফিসার হিসেবে জয়েন করতে পারে। তাছাড়া বুয়েট, মেডিকেল,ঢাবি এবং উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশের বাহিরে ও ক্যাডেটরা তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখছে।
কেন আপনার সন্তানকে ক্যাডেট কলেজে পড়াবেন?
✔️ মানসম্মত শিক্ষা – দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাব্যবস্থায় পড়ার সুযোগ।
✔️ শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন – নিয়ম,সময়ানুবর্তিতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অভ্যাস গড়ে ওঠে।
✔️ দক্ষ নেতৃত্বের বিকাশ – নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
✔️ চমৎকার একাডেমিক ফলাফল – বোর্ড পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে অসাধারণ সাফল্য।
✔️ সহশিক্ষা কার্যক্রমে সমান গুরুত্ব – খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন ক্লাবে অংশগ্রহণের সুযোগ।
✔️ আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্বের বিকাশ – একজন সুশৃঙ্খল, আত্মবিশ্বাসী ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।
✔️ উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারে এগিয়ে থাকার সুযোগ – দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন পেশায় সফল হওয়ার ভিত্তি তৈরি হয়।
✔️ নিরাপদ আবাসিক পরিবেশ – অভিজ্ঞ শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা বেড়ে ওঠে।
বর্তমান নৈতিক অবক্ষয়ের যুগে আপনার সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ক্যাডেট কলেজ হতে পারে একটি সেরা সিদ্ধান্ত।