18/02/2026
রমাদান রুটিন: ২০২৬ খ্রিঃ।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা এবারে আমরা ভিন্ন রকম ভাবে রমাদান পালন করতে যাচ্ছি। হতে পারে জীবনের শেষ রমাদান। এই মাস মুক্তির মাস,গোনাহ মাফ, দুয়া কবুল, জান্নাত লাভের মাস। এই মাসের প্রতিটি সেকেন্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দামী। কেউ যেন হেলায় কাটিয়ে না দেই। আমার মতো নাখান দানের জন্য এই রুটিন, আমি বিশ্বাস করি আল্লাহর অনেক আবেদ-আবেদা আছে যারা আরও বেশি ইবাদত করেন। রুটিনটা আমি আমার মতো করে সাজিয়ে দিলাম।
৩:৩০-৩:৪০ → ঘুম থেকে উঠা, টয়লেট, ওযু।
৩:৪০-৩:৪৫ → তাহ্যিয়াতুল ওযুর ২ রাকাত নামাজ।
৩:৪৫-৪:২৫ → তাহাজ্জুদের ৮-১২ রাকাত নামাজ।
৪:২৫-৪:৩৫ → দুয়া-মুনাজাত।
৪:৩৫-৪:৫০ → সাহরী করা।
৪:৫০→ ফজরের আযান পর্যন্ত কুরআন পড়া অথবা ইস্তিগফার করা। এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ইস্তেগফার। এটি তাহাজ্জুদ এবং তারাবিহ থেকে ভিন্ন ধরনের ইবাদত।
শেষ রাতে বা ফজরের আগে ইস্তেগফার সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা ঈমান এনেছি, কাজেই আমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দাও আর আমাদেরকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর।
তারা ধৈর্য্যধারণকারী, সত্যবাদী, নির্দেশ সম্পাদনকারী, সৎপথে ব্যয়কারী এবং শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনাকারী।[আলি ইমরান:১৬-১৭]
[ধূলিমলিন উপহার রামাদান বইটি দেখুন]
৪:৫০- ৫:৩০ → ফজরের নামাজ, জিকির, কোরআন তিলাওয়াত। সম্ভব হলে এশরাক পর্যন্ত জেগে থাকবেন। আর যদি সকালে কাজ থাকে তবে নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে যেতে পারেন।
৯:০০-৯:১৫ → ঘুম থেকে উঠা, টয়লেট, ওযু, তাহ্যিয়াতুল ওযুর নামাজ।
৯:১৫-১:০০→ যারা বাইরে কাজ করবেন তারা কাজে চলে যাবেন। যারা বাসায় থাকবেন তারা বাসার কাজ সেরে চেষ্টা করবেন যেন অন্তত ১ ঘন্টা কুরআন তিলাওয়াত করা যায়। কাজের ফাঁকে ফাঁকে ইস্তেগফার, জিকির করতে থাকবেন। শুরুতেই বলেছি এবারে আমরা ভিন্ন রকম ভাবে রমাদানকে পালন করতে যাচ্ছি, আল্লাহ তায়ালার বিশাল এক নিয়ামত হলো অবসর, তাও আবার এই মহান পবিত্র মাসে সুবহানাল্লাহ, ইবাদত করার অনেক বড় এক সুযোগ পেয়েছি তাই কাজে লাগাই।
১:০০-১:৪৫- যোহরের সালাত
১:৪৫-২:১৫ → কুরআন তিলাওয়াত।
২:১৫-৩:৩০ → দ্বীনি ইলম অর্জন,বাড়ির সবাইকে নিয়ে তালিমে বসা, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দুয়া ইত্যাদি।
৩:৩০-৪:৩০ → দুপুরের ঘুম।
৪:৪৫-৫:০০ → আসরের সালাত।
৫:০০-৫:২০→ মাসনুন জিকির, কোরআন তিলাওয়াত, দুয়া করা।
৫:২০-৫:৫০→ ইফতারি তৈরি/ তৈরিতে সাহায্য করা।
৫:৫০-৬:০০→ দুয়া
৬:০০-৭:০০→ ইফতার, মাগরীবের সালাত এবং ৬ রাকাআত আওয়াবীনের সালাত।
৭:০০-৭:৪৫→ বিশ্রাম। এই সময় বিভিন্ন মোটিভেশনাল লেকচার, কোরআন তিলাওয়াত শোনা যেতে পারে।
৮:০০-১১:০০ → এশার সালাত, তারাবীহ্। প্রত্যেক ওয়াক্ত যদি সম্ভব হয় অবশ্যই বাড়ির মাহরাম নারী-পুরুষ জামাআতে আদায় করার চেষ্টা করুন। একাকী সালাত আদায়ের চেয়ে আমাআতে আদায় করা উত্তম। যে কয়েকটি সুরা মুখস্থ আছে সেগুলো দিয়েই পড়ুন।
১১:০০-১১:১৫ → কুরআন তিলাওয়াত।
১১:১৫-১১:৩০ → ঘুমের প্রস্তুতি।
১১:৩০→ ঘুম।
এই রুটিনটা একটা খসড়া রুটিন। যার যার সুবিধামত একে পরিবর্তন করে নিতে পারেন। সবার সাথে টাইমিং না মিললেও আমলের ক্রমধারা বজায় রাখার চেষ্টা করতে পারেন। রমাদানে সবচেয়ে বেশি নফল যে আমল করতে হবে তা হল কুরআন পড়া। এরপর রাতের সালাত। গোনাহ থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকতে হবে। গিবত, চোগলখোরি ত্যাগ করতে হবে। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের যথাসম্ভব দ্বীনের দাওয়াত দেয়া দরকার। বেশি বেশি সাদাকা করা উচিত সাদাকা আল্লাহর ক্রোধকে ধ্বংস করে। মনে রাখতে হবে রমাদান মাস আমলের মাস। যে যত বেশি আমল করবে সে তত লাভবান। দুনিয়াবি ব্যস্ততা নেই বললেই চলে। হতে পারে আমাদের অনেকেরই জিবনের শেষ রমাদান। দুয়া কবুলের মাস বেশি বেশি দুয়া করি আরশের মালিক আমাদের উপর থেকে করোনাভাইরাসের আযাব যেন তুলে নেন।
আল্লাহ্ তা'অালা আমাদেরকে রমাদানের হক যথাযথভাবে আদায় করার তৌফিক দিন।
সবার টাইমলাইনে শেয়ার করুন,ম্যানশন করুন।