09/10/2025
★অপেক্ষার ছায়া★
*প্রথম পৃষ্ঠা*
*১৩৬৯ সাল, বিকেলের শেষ প্রহর।*
*পুন্ড্রবর্ধন নগর* তখনও বেঁচে আছে ধূপ, দীপ আর সুরের শহর হিসেবে।
মন্দিরের পাশের পাথরের ঘরে বসে রক্তচন্দনের গন্ধ মাখা চিঠি লিখছিলেন *মেহেরুন্নেসা*—
এক বণিক কন্যা, যার প্রেম ছিল এক সেনাপতির সঙ্গে।
সেই প্রেম ছিল সমাজবিরোধী, কারণ সেনাপতি ছিল বিদেশি সৈন্যদলের একজন—
যে কিনা যুদ্ধের ছলে শহরে এসে প্রেমে পড়ে যায় এক বাঙালি কন্যার।
মেহেরুন্নেসার প্রতিদিনের কাজ ছিল—
একটা করে চিঠি লেখা।
সেই চিঠিগুলো সে মাটির পাত্রে রেখে দিত মন্দিরের পেছনের পুরনো কূপে, যেখানে বলা হতো—
"যার অপেক্ষা সত্য, সে ঠিক খুঁজে নেবে পথ… জল, পথ, কূপ—সব পার হয়ে।"
বছরের পর বছর কেটে যায়…
কিন্তু একদিন হঠাৎ…
এক অচেনা যুবক এসে হাজির হয় তার দরজায়, হাতে এক চিঠি নিয়ে—
যেটা সে কোনোদিন কাউকে দেয়নি…!
মেহেরুন্নেসা থমকে যায়।
সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকের চোখে কিছু একটা আছে—
যেটা সে কোনোদিন কারও চোখে দেখেনি।
চোখ যেন চিনে নিয়েছে তাকে… তার শত লেখা চিঠির ভাষা, তার প্রতীক্ষার দীর্ঘশ্বাস।
-এটা কোথা পেলেন?"* — গলা শুকিয়ে আসে তার।
যুবক হাসে না, কাঁদেও না।
শুধু বলে,
-"তুমি যখন প্রথম চিঠিটা ফেলেছিলে কূপে, তখনই আমি তা পেয়েছিলাম… ঠিক আজ থেকে ৬৪ বছর আগে।"*
মেহেরুন্নেসার বুকের ভিতর কেমন কাঁপে।
*৬৪ বছর আগে?*
কিন্তু যুবক তো তার বয়সের থেকেও কম দেখাচ্ছে!
-আপনি কে?"— জিজ্ঞেস করতেই যুবক মাটির দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলে—
-আমি সেই কূপের নিচের আত্মা, যাকে তুমিই জাগিয়ে তুলেছিলে।
তোমার চিঠিগুলোর প্রেম, প্রতীক্ষা, আর প্রতিজ্ঞা আমাকে জন্ম দিয়েছে।
আমি তোমার উত্তর… আর আমি এসেছি… কারণ তুমি আর লিখছো না।
মেহেরুন্নেসা কাঁপতে থাকে…
চোখে জল জমে—
সে জানে, কিছু প্রেম জন্মায় ইতিহাসে নয়, আত্মায়…
#অপেক্ষার ছায়া''
চলবে