28/11/2025
ট বর্গের বর্ণে য
ষত্ব-বিধি অনুযায়ী বাংলায় ব্যবহৃত সংস্কৃত শব্দের বানানে ট-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে 'মর্ধন্য-ষ' যুক্ত হয়। যেমন: বৃষ্টি, কৃষ্টি, সৃষ্টি, দৃষ্টি, মিষ্টি, নষ্ট, কষ্ট, তুষ্ট, সন্তুষ্ট, শ্রেষ্ঠ, বিষ্ঠা, নিষ্ঠা, তেষ্ঠা ইত্যাদি।
'স্ত' এবং 'স্থ'
যেসব শব্দের শেষে 'দন্ত্য-স' আছে সে সব শব্দের অন্তে 'ত' কিংবা সংস্কৃত 'ক্ত' প্রত্যয়যুক্ত করা হলে শব্দের শেষে 'স্ত' হবে এবং শব্দটি বিশেষণে পরিণত হয়। যেমন: বিন্যাস- বিন্যস্ত, আশ্বাস- আশ্বস্ত, সন্ত্রাস- সন্ত্রস্ত ইত্যাদি। শব্দের অর্থ 'যে বা যে স্থানে' প্রকাশ করলে শব্দটির সঙ্গে 'স্থ' যুক্ত হবে। যেমন: গ্রহস্থ, কণ্ঠস্থ।
কোনও শব্দে 'স্ত' বা 'স্থ' প্রয়োগ নিয়ে ঝামেলায় পড়লে প্রথমে শব্দটি হতে 'স্থ' বাদ দিয়ে দিন। এরপর অবশিষ্ট শব্দাংশ অর্থবোধক হলে নিশ্চিত 'স্থ' প্রয়োগ করা যাবে, অন্যথায় 'স্ত'।
যেমন: অধীনস্থ, অন্তঃস্থ, নিকটস্থ, পকেটস্থ, দ্বারস্থ, পরিবারস্থ, কণ্ঠস্থ, ভূগর্ভস্থ, মনস্থ, মুখস্থ, সভাস্থ, সমাধিস্থ, মনস্থ ইত্যাদি। এ শব্দগুলো থেকে 'স্থ' বাদ দিলেও প্রত্যেকটি শব্দ অর্থবোধক থাকে। অভ্যস্ত, অস্ত, আশ্বস্ত, নিরস্ত, ন্যস্ত, পরাস্ত, পর্যুদস্ত, প্রশস্ত শব্দগুলো হতে 'স্ত' বাদ দিলে শব্দগুলো আর অর্থবোধক থাকে না।
পদান্তে 'দাস'
কোনও শব্দের শেষে 'দাস' শব্দ যুক্ত হলে তার পূর্বে ই-কার বসে। যেমন- কালিদাস, ষষ্টিদাস, দেবিদাস ইত্যাদি। তবে, অন্য শব্দের ক্ষেত্রে ঈ-কার হবে। যেমন: কালীমা, কালীচরণ, কালীপদ প্রভৃতি।
ক্রিয়াপদে 'না' অব্যয়
ক্রিয়াপদের পূর্বে ব্যবহৃত হলে 'না' অব্যয়ের পর হাইফেন বসবে। যেমন- না-দেখা, না-খাওয়া, না-যাওয়া, না-পাওয়া, না-চাওয়া, না-জানা প্রভৃতি। তবে ক্রিয়াপদ ছাড়া অন্য কোনও শব্দের আদিতে ব্যবহৃত 'না'