08/10/2020
প্রানের বিদ্যালয়; স্বপ্নের আঙিনা
"নাড়িয়াগদাই উচ্চ বিদ্যালয় "
প্রারম্ভঃ বিদ্যালয় কথাটি লিখতে বা বলতে অতীব ছোট হলেও এর ব্যাপ্তি অনেক বড়।আজ এই বিদ্যালয় সম্পর্কে স্বপ্নময় সাঁথিয়ার মাধ্যমে কিছু লিখতে পারার সুযোগ করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
লেখাপড়া করে যে, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে,
এই কথাটি হয়তো ছেলেমেয়েদের মন ভুলানোর জন্য খুবই দরকারী।কিন্তু " লেখাপড়া করে যে ডিপুটিগিরি পায় সে"এই কথাটি আমরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকেই শুনে থাকি।
শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য মানুষিক বিকাশ ও প্রবৃদ্ধি।কালে কালে পৃথিবীর পট পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের জীবনানুভূতি বদলায়- স্বাভাবিক ভাবে তারই প্রতিফলন ঘটে বিদ্যালয়ে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে।
তাই আমি বলতে চাই --
বিদ্যালয় হলো জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে মুহূর্তে,নব নব সত্য উদঘাটনে দুর্বার,নব নব মূল্যবোধে উচ্চকিত,নব নব উপলব্ধিতে মহান,সেই চলমান জীবন,দেশ,মাটি,মানুষ ও তার পরিবেশকে সুন্দর করার জন্য বিদ্যালয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
এবার আমি প্রাণের আঙিনার অর্থ্যাৎ নাড়িয়াগদাই উচ্চ বিদ্যালয়ের সংক্ষিপ্ত কিছু তথ্য তুলে ধরছিঃ
নাড়িয়াগদাই উচ্চ বিদ্যালয় টি ১৯৬৩ সালে স্থাপিত হয়।বিদ্যালয় টি ইছামতির কোল ঘেঁষে অবস্থিত।
বিদ্যালয়টি স্থাপন করার জন্য প্রথম উদ্যেক্তা হিসেবে যাঁরা বিশেষ ভূমিকা পালন করেন তারা হলেন-
*করিম বক্স
*কাশেম বিশ্বাস
* কালাম বিশ্বাস
এবং আরো অনেকে।
আর জমি দাতা হিসেবে যার নাম শুনতে পাওয়া যায় তিনি হলেন
*মোঃ উসমান মোল্লা।
#জমির পরিমাণ -১.১৮ একর।
#খেলার মাঠের জায়গার পরিমান-১.১ একর।
# প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন
*মোঃ মনিরুজ্জামান।
বিদ্যালয়ের মোট ছাএছাএীর সংখ্যা -৭৯২ জন
#বিদ্যালয়ের স্বনামধন্য প্রাক্তন শিক্ষকগন হলেনঃ
* মোঃ ইয়াকুব আলী
*মোঃ আফতাব উদ্দীন
* মোঃ আব্দুর রাজ্জাক
* মোঃ আব্দুল হামিদ
* নূর মোহাম্মদ
* মোঃ তোফাজ্জল
*মোঃ এমাজ
* মোঃ ময়নুল
আরো অনেকে আছেন।
এবার আসি বর্তমানে কর্তব্যরত শিক্ষকগণ যারা আছেন তাদের তালিকাঃ
১.মোঃ আব্দুল হান্নান ( প্রধান শিক্ষক)
২.মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম ( সহকারী প্রধান শিক্ষক)
বি এস সি - পদার্থ ও গণিত
৩.নজরুল ইসলাম ( সহকারী শিক্ষক)
বি এস সি - গনিত ও জীব বিজ্ঞান
৪.আজমত আলী ( সহকারী শিক্ষক)
বি এস সি- গণিত
৫.মোছাঃ রোকেয়া পারভীন-কৃষিশিক্ষা
৬.মোছাঃশামীমা খাতুন-সমাজবিজ্ঞান
৭.মোছাঃফিরোজা পারভীন-কম্পিউটার
৮.মোছাঃসানজিদা পারভীন-সমাজবিজ্ঞান
৯.মোঃআব্দর রউফ- ইংরেজী
১০.মোঃরবিউল ইসলাম-সমাজবিজ্ঞান
১১. মোঃসুৃমন হোসেন-গনিত
১২.মোঃআব্দুল মালেক-ধর্মীয় বিষয়ক
১৩.মোঃশফিকুল ইসলাম- ক্রীড়া বিষয়ক
১৪.মোঃইমরুল ইসলাম - লাইব্রেরিয়ান
১৫.মোঃআশরাফুল ইসলাম- অতিরিক্ত
১৬.মোঃ ইউনুস আলী- অফিস সহকারী
এবার আসি
রেজাল্ট বিষয়ক কিছু তথ্যদি নিয়ে--
জে এস সি-২০১৭
এ+=১৫
এ=৬৪
এ-=৩২
বি=১৮
সি=১৭
ডি=০০
এফ=০০
মোট=১৪৬
জে এস সি- ২০১৮
এ+=০২
এ=৩৬
এ-=৩০
বি=২৮
সি=৪২
ডি=০৮
এফ=০৩
মোট=১৪৯
এস এস সি -২০১৮
এ+=১০
এ=২৩
এ-=১২
বি=১৮
সি=০৪
ডি=০০
এফ=১১
মোট=৭৯
নাড়িয়াগদাই স্কুল থেকে পড়াশুনা করে আজ যারা বিভিন্ন ভাবে খ্যাতি অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন-
* মোঃশাহিন সিদ্দিকী
বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার (বর্তমানে কানাডা প্রবাসী)
* মোঃ সফিক সিদ্দিকী
কৃষি বিজ্ঞানী ( বর্তমানে মালয়েশিয়ান প্রবাসী)
উল্লেখ্য উনারা দুইজন -ই নাড়িয়াগদাই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষকের ছেলে.
* মোস্তাক আহমেদ
ব্যারিস্টার, ( বর্তমান লন্ডন প্রবাসী)
*বাবু আহমেদ
বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালক
*সৈয়দ আহমেদ
বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালক।
এছাড়াও আরও অনেকেই অনেক সুনামের সাথে বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত আছেন।
নাড়িয়াগদাই উচ্চ বিদ্যালয় টি একটি বিশেষ ও তাৎপর্যপূর্ণ একাডেমিক প্রতিষ্ঠান।এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীগণ আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রী প্রাপ্ত হয়।একই সাথে পাশকৃত ছাত্র ছাএীগণ তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশের কল্যানে কাজে লাগানোর জন্য বৃহত্তর জীবন প্রবেশ করে।তাই এই শিক্ষাঙ্গন টি অনেকটাই গুরুত্ব বহন করে। কিন্তু সে অনুযায়ী এই বিদ্যালয়ে পড়াশুনার মান উন্নয়ন করার জন্য একটা ল্যাব পর্যন্ত নেই,একটা লাইব্রেরি রুম নাই।
যা অনেক শিক্ষার্থীর জন্য অতীব প্রয়োজনীয়।দেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত
করার জন্য আধুনিকায়ন শিক্ষার কোন বিকল্প নাই। যা স্কুলটিতে অনেকাংশেই নাই। আর তাই শিক্ষার মান উন্নয়নের দিকে লক্ষ্য রেখে এবং নতুন প্রজন্ম কে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে।আমাদের শিক্ষার লক্ষ্য হতে হবে বিশ্ব মানের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন।এর সংগে যুক্ত হতে হবে সততা,নৈতিকতা,মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম এবং অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শ। কেবল তা হলেই সে শিক্ষা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশ ও জাতির জন্য কল্যান বয়ে আনতে পারবে।
সায়মা হক
প্রাক্তন শিক্ষার্থী (2002)
নাড়িয়া গদাই উচ্চ বিদ্যালয়।