24/12/2013
পাবনার বেড়া উপজেলার বেশির
ভাগ বিদ্যালয়ে মানসম্মত
বিজ্ঞানাগার নেই। এতে পুঁথিগত
শিক্ষা কোনো রকমে আত্মস্থ হলেও,
হাতেকলমে শিখতে না পেরে বিজ্ঞান
শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে এ বিভাগের
শিক্ষার্থীরা। ফলে এ
বিভাগে শিক্ষার্থীর
সংখ্যা দিনকে-দিন কমে আসছে।
যারা পড়ছে, তারাও উচ্চমাধ্যমিক
পর্যায়ে এসে সামাল
দিতে পারছে না চাপ।
সরেজমিনে উপজেলার বেশ
কয়েকটি মাধ্যমিক
বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, এর
মধ্যে অনেকগুলোতেই বিজ্ঞানাগার
নেই। যেগুলোয় নামেমাত্র
বিজ্ঞানাগার আছে, তাতে আবার
নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি।
যেগুলোয় ছিল, তা-ও রক্ষণাবেক্ষণের
অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ব্যবহারিক
বিষয়ের শিক্ষকসহ নানা সমস্যায়
সারা বছরই তালাবদ্ধ
থাকছে গবেষণাগার।
শিক্ষার্থীরা সেখানে ঢোকারও
সুযোগ পায় না।
১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু
আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে আজও
বিজ্ঞানাগার হয়নি। অথচ
এখানে নবম শ্রেণীতে ৮৭ ও দশম
শ্রেণীতে ৬৩ জন
শিক্ষার্থী বিজ্ঞান শাখায়
পড়ালেখা করছে। প্রধান শিক্ষক
মানিক হোসেন জানান, ২০১০
সালে এমপিওভুক্ত হলেও অর্থের
অভাবে বিজ্ঞানাগার করা সম্ভব
হয়নি। সরকারি অনুদান
ছাড়া আপাতত বিজ্ঞানাগার
করা সম্ভব নয়।
১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত
বেড়া উচ্চবিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর
সংখ্যা ৭০০। এখানে দশম শ্রেণীর ১১০
শিক্ষার্থীর
মধ্যে বিজ্ঞানে পড়ছে ৩০ জন। নবম
শ্রেণীর ১০৫ শিক্ষার্থীর
মধ্যে বিজ্ঞানে আছে ৩০ জন।
এখানকার বিজ্ঞানাগারের অবস্থাও
ভালো নয়। প্রধান শিক্ষক
আলী আশরাফ বলেন,
‘অর্থাভাবে বিজ্ঞানাগারের
যন্ত্রপাতি কেনা যাচ্ছে না।
বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের
হাতেকলমে শিক্ষাদান ব্যাহত হলেও
আমরা তেমন কিছু করতে পারছি না।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাধ্যমিক
পর্যায়ের দুর্বল বিজ্ঞান শিক্ষার
প্রভাব পড়ছে উচ্চমাধ্যমিক
বা পরবর্তী পর্যায়ে। উচ্চমাধ্যমিক
পর্যায়ে গিয়ে বিজ্ঞানের অনেক
শিক্ষার্থী বিভাগ পরিবর্তন
করে মানবিক বা ব্যবসায়
শিক্ষা শাখায় চলে যাচ্ছে।
বিজ্ঞান বিভাগে যারা পড়ছে,
তুলনামূলকভাবে তারা অন্য বিভাগের
চেয়ে খারাপ ফলাফল করছে। এবারের
(২০১৩) এইচএসসি পরীক্ষায়
রাজশাহী বোর্ডে ১৫তম স্থান অর্জন
করে বেড়ার আলহেরা একাডেমি স্কুল
অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির
বিজ্ঞান বিভাগের ৯৪ জন
পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫
পেয়েছে ৩৪ জন। অথচ
এসএসসিতে তাদের মধ্যে ৭৬ জন
জিপিএ-৫ পেয়েছিল। অন্যদিকে,
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায়
এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ছিল
যথাক্রমে আট ও ছয়জন। এবারের
এইচএসসিতে জিপিএ-৫
পেয়েছে যথাক্রমে ১৬ ও আটজন।
বেড়া মনজুর কাদের মহিলা কলেজের
এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থীর
মধ্যে এসএসসিতে জিপিএ-৫
পাওয়া শিক্ষার্থী ছিল
মানবিকে তিন ও বিজ্ঞানে ১০ জন।
তাদের মধ্যে এইচএসসিতে জিপিএ-৫
পেয়েছে মানবিকে আট ও
বিজ্ঞানে মাত্র তিনজন।
বেড়া আলহেরা একাডেমি স্কুল
অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মকসুদ আলম
চৌধুরী বলেন, ‘অন্য বিভাগের
শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানের
চেয়ে ভালো করছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজ
পর্যায়ের একজন বিজ্ঞানশিক্ষক
জানান, বিজ্ঞানাগার ও যোগ্য
শিক্ষকের অভাবে মাধ্যমিক
পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের
ভিত্তি দুর্বল থেকে যাচ্ছে।
মুখস্থবিদ্যার ওপর ভর
করে তারা এসএসসি পার হলেও কলেজ
পর্যায়ে এসে সমস্যায় পড়ছে।
বেড়া উপজেলা মাধ্যমিক
শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম শাহাদৎ
হোসেন বিজ্ঞান শিক্ষার দুর্দশার
কথা স্বীকার করে বলেন, ‘প্রধান
শিক্ষকদের বিজ্ঞান শিক্ষার
ব্যাপারে যত্নবান হওয়ার তাগিদ
দিয়ে যাচ্ছি।
তা ছাড়া বিজ্ঞানাগার সমস্যার
সমাধানের চেষ্টা করছি।’