17/04/2026
কেন রাশিয়াতে পড়তে যাবেন?
বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়া উচ্চশিক্ষার জন্য সারাবিশ্বে সমাদৃত। সাশ্রয়ী খরচে মানসম্মত শিক্ষা এবং চমৎকার বৃত্তির সুযোগের কারণে এটি পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় একটি দারুণ বিকল্প। নিচে বিস্তারিত কারণগুলো দেওয়া হলো:
১. মানসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানে রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
• বৈশ্বিক র্যাঙ্কিং: লোমনোসভ মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটি (MSU) এবং বাউমান মস্কো স্টেট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় আছে।
• কারিগরি দক্ষতা: পারমাণবিক শক্তি, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সাইবার সিকিউরিটিতে রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী দেশ। বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্পের কারণে এই ক্ষেত্রগুলোতে ডিগ্রিধারীদের বিশাল সুযোগ রয়েছে।
• চিকিৎসা বিজ্ঞান: রাশিয়ার এমবিবিএস ডিগ্রি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) অনুমোদিত তালিকায় থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পড়ে এসে দেশে প্র্যাকটিস করা সম্ভব।
২. বিশাল সরকারি বৃত্তি
রাশিয়া সরকার প্রতি বছর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিপুল সংখ্যক স্টেট কোটা স্কলারশিপ প্রদান করে।
• সম্পূর্ণ ফ্রি শিক্ষা: প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে শতাধিক শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তি দেওয়া হয়, যা টিউশন ফি ১০০% মওকুফ করে।
• ভাষা শিক্ষা: আপনার যদি রুশ ভাষা জানা না থাকে, তবে ডিগ্রির আগে এক বছরের একটি 'প্রিপারেটরি ফ্যাকাল্টি' কোর্সে বিনামূল্যে রুশ ভাষা শেখার সুযোগ থাকে।
• মাসিক ভাতা ও আবাসন: শিক্ষার্থীরা মাসিক সামান্য হাতখরচ এবং খুব কম খরচে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থাকার সুবিধা পান।
৩. সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার ব্যয়
ইউরোপ বা আমেরিকার তুলনায় রাশিয়ায় পড়াশোনা ও থাকার খরচ অনেক কম।
• টিউশন ফি: নিজস্ব খরচে পড়তে চাইলেও বছরে টিউশন ফি প্রায় ১,৩০০ থেকে ৫,৫০০ ডলার এবং মেডিক্যাল ৭-৮ হাজার ডলারের মধ্যে থাকে যা ইউরোপ আমেরিকার তুলনায় খুবই কম।
• থাকা-খাওয়া: মস্কো বা সেন্ট পিটার্সবার্গের বাইরে থাকলে মাসে ২০০ থেকে ৩৫০ ডলারের মধ্যেই খাবার ও যাতায়াত খরচ মিটে যায়।
• আবাসন: বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরি বা হোস্টেলগুলোতে মাসে মাত্র ২০ থেকে ৭০ ডলারে থাকা যায়।
৪. সহজ ভর্তি প্রক্রিয়া ও আইইএলটিএস (IELTS)-এর প্রয়োজন নেই
পশ্চিমা দেশের তুলনায় রাশিয়ার ভর্তি প্রক্রিয়া অনেক সহজ।
• আইইএলটিএস ছাড়া ভর্তি: আপনি যদি রুশ ভাষায় পড়াশোনা করতে চান (এক বছরের ভাষা কোর্সের পর), তবে সাধারণত আইইএলটিএস বা টোফেল (TOEFL) লাগে না।
• উচ্চ ভর্তির হার: টপ-লেভেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিযোগিতামূলক হলেও, সাধারণ ভালো একাডেমিক ফলাফল থাকলেই রাশিয়ায় পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া যায়।
৫. ক্যারিয়ার ও কৌশলগত সুযোগ
• দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক: জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা খাতে রাশিয়ার সাথে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক থাকায় রুশ ভাষা জানা এবং রাশিয়ার ডিগ্রিধারী প্রকৌশলী ও অনুবাদকদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
• বলোনিয়া প্রক্রিয়া: রাশিয়া ইউরোপীয় শিক্ষামান বা বলোনিয়া প্রসেসের অন্তর্ভুক্ত। ফলে রাশিয়ার ডিগ্রি নিয়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশে উচ্চতর শিক্ষা বা চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়।
বিশেষ করে যাঁরা ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে চান। তাঁদের জন্য রাশিয়া একটি বিশ্বমানের সাশ্রয়ী এবং বহু সংস্কৃতির মিলনমেলায় সমৃদ্ধ চমৎকার গন্তব্য হতে পারে। বাংলাদেশে অনেক অভিভাবক ছেলেমেয়েদের ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানানোর ইচ্ছা পূর্ণ করতে ব্যর্থ হন, কারন সরকারি এমনকি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে পর্যাপ্ত সিট নেই। বাংলাদেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজের খরচ আর রাশিয়াতে নিজ অর্থে পড়ার খরচ খুব বেশি পার্থক্য নেই এবং ইউরোপ আমেরিকার থেকে অনেক অনেক কম। এছাড়া বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পড়তে গেলে এককালীন মোট কোর্স ফির ৫০-৬০ ভাগ দিতে হয়, অপরদিকে রাশিয়ায় প্রতিবছর শুধুমাত্র বাৎসরিক ফি দিলেই চলে।
এসকল ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে ইচ্ছুক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রাশিয়ায় প্রচুর সুযোগ রয়েছে।
এখানে পড়াশোনার মাধ্যমে রাশিয়ান ভাষা হলেও রুশ ভাষার পাশাপাশি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষা মাধ্যমেও পড়াশোনা করা যায়।
খুব কমন প্রশ্ন – রাশিয়ায় পড়াশোনার কাজের সুযোগ আছে? যারা সত্যিকার পড়াশোনা বিশেষ করে মেডিকেল বা ইঞ্জিনিয়ারিং বা পিএইচডি পড়তে যাবেন তাদের নতুন একটি ভাষা আয়ত্ত করে সেই ভাষায় ভালোভাবে পড়াশোনা করতে গেলে আসলে কাজ করার কোন সময়ই থাকবে না। অবশ্য গ্ৰীষ্মের ছুটিতে কিছুটা সময় পাওয়া যায় ।
তাহলে কি ভাবছেন?