21/12/2023
প্রেম ও বিষাদ
পর্ব-১০
দীপের সাথে সুভার বন্ধুত্ব তৈরী হওয়ার আরেকটা প্রধান কারণ ছিলো দীপ ছিল খুবই ভালো চুপচাপ এক শ্রোতা আর সুভা ছিলো প্রচন্ড চঞ্চল আর এক মুহূর্তেই অসংখ্য কথাবলা সারাক্ষণ খলখলিয়ে হাসতে থাকা এক রুপকথার গল্পকার।যার চোখে জীবন ছিলো স্বর্গের চাইতেও সুন্দর আর স্বপ্নের মত ভালোবাসায় মোড়ানো।
দীপ তার জীবনে অনেক দূরত্ব দেখেছে, অনেককেই স্বার্থের জন্য আত্মীয় হতে দেখেছে আবার সেই স্বার্থের কিছুটা কমতিতেই দেখেছে দূরে চলে যেতে। তার কাছে সবচাইতে বেশী কষ্টের কারণ ছিলো তার বাবা মায়ের মধ্যে তৈরী হওয়া এক পাহাড় দূরত্ব যেটা সে আগে সেভাবে বুঝতেই পারেনি যতটা বুঝতে পেরেছে তার মায়ের হঠাৎ হওয়া অস্বাভাবিক মৃত্যুতে। দীপের কাছে মনে হয় ক্ষমতা আর টাকার চাইতেও দুজন মানুষের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্কটা দৃঢ় হওয়া জরুরী। যেন কোনভাবেই সেখানে কোন সন্দেহ বা তৃতীয় ব্যক্তি কোনদিন জায়গা করে নিতে না পারে।
দীপের সুভাকে ভালোলাগার একটি প্রধান কারণ ছিলো
সুভার সহজ সরল ভাবে কথা বলা,কোন লুকোচুরি নেই
সে যা তাই তার কথা আর আচরণে প্রকাশ করা।
দীপ আর সুভার কথা হতো, কথা বলতে বলতে কখন যে ঘন্টা পার হয়ে যেত তার খেয়াল থাকতোনা তাদের। সুভা বলেই যেত আর দীপ শুধুই শুনে যেত। এভাবেই একদিন দীপ সাহস করে সুভাকে বললো," আচ্ছা সুভা আমরা কি একদিন দেখা করতে পারি তোমার কি কোন সমস্যা আছে?" সুভা প্রথমেই খুব হাসলো, দীপ কারণ জানতে চাইলে সে হাসতে হাসতেই বললো," আমার সাথে দেখা হলে আমার কি সমস্যা হবে আমিতো আপনাকে ভালোবাসিনা, আপনারই বরঞ্চ কষ্ট হবে
আপনার মনে হবে," আহারে কি সুন্দর মেয়েটা এত ভালো কিন্তু আমাকে ভালোই বাসলোনা কখনো,"।
দীপ খুবই হতাশ হলো মনে মনে ভাবলো এতো দিন ধরে কথা হচ্ছে অথচ মেয়েটার মনে একটুও জায়গা হলোনা,কিন্তু তবুও সে আশা ছাড়লোনা, আবার বললো থাক আমার কষ্ট নিয়ে তোমার ভাবতে হবেনা, দেখা করি আগে তারপর বোঝা যাবে কার কষ্ট বাড়ে আর কার কমে। তারপর ঠিক হলো সামনে সপ্তাহে সুভার জন্মদিন আছে ঐ দিন সুভার কলেজ বন্ধ কিন্তু ব্যাচে পড়তে যেতে হবে ফেরার পথে সুভা বাসে ফিরবে তখন দীপও ঐ বাসে উঠবে। একসাথে সুভার বাড়ি পর্যন্ত যাবে। সুভা বাস থেকে নেমে বাড়ির পথ ধরবে আর দীপ নামবে আরো এক স্টপেজ পরে গিয়ে।
সেইদিনটি আসার আগ পর্যন্ত দীপের আর কোনরাতেই ঠিকঠাক ঘুম হলোনা, আর এদিকে সুভাতো দিব্বি তারমত আছে। পরে সেই দিনটিতে দীপ খুবই সকাল সকাল উঠলো তার খোচা খোচা দাড়ি গোফগুলোকে কিছুটা ছাটাই করলো,কয়েকবার হাত মুখ ধুয়ে বেশ কিছু শার্ট যাচাইবাছাই করে শেষমেশ রেডি হলো, সকালের নাস্তাও করলোনা, আজ সুভার জন্মদিন সে অনেক ভেবেচিন্তে সুভার জন্য রজনীগন্ধ্যা আর গোলাপের একটা তোড়া কিনলো। তারপর সুভার জন্য অপেক্ষা করতে থাকলো বাস স্টপেজে। সুভা ঠিক সময়েই আসলো কিন্তু দীপের মনে হলো সে অপেক্ষা করে আছে অনন্তকাল।
দীপ দাড়িয়েই ছিলো ফুলের তোড়াটি পেছনে আড়ালে রেখে, সুভাও চুপচাপ দাড়িয়ে থাকলো বাস আসলেই উঠে পড়লো দ্রুত। ভীড় বাস সুভা সিট পেলো কিন্তু দীপ পেলোনা, দীপ খুবই হতাশ হলো সে ভাবতে লাগলো ইশ একটু পরইতো সুভা নেবে যাবে এবারো সে কিছুই বলতে পারবেনা। দীপ খেয়াল করলো সুভা তার দিকে তাকিয়ে বহু কষ্টে হাসি চেপে রেখেছে। ঠিক দশমিনিট পর সুভার পাশের সিটের লোকটি নেমে গেলো দীপ দ্রুত এগিয়ে গিয়ে বসলো সুভার পাশে, কিন্তু অনেকক্ষণ চেষ্টা করার পরও তেমন কোন কথা বলতে পারলোনা।
এভাবে চুপকরে থাকতে থাকতেই সুভার নামার সময় চলে আসলো, সুভা তখন বলেই ফেললো," আচ্ছা এই ফুলের তোড়াটা কার জন্য এনেছেন আর কারো জন্মদিন আছে নাকি আজ?" দীপ দ্রুত বললো," না মানে এটা তোমার জন্য, শুভ জন্মদিন সুভা,"।
সুভা ফুলের তোড়াটি নিয়ে নেমে পড়লো বাস থেকে, দীপ জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকলো যতক্ষণ সুভাকে দেখা যায়। কিন্তু সুভা এবারো পেছন ফিরে তাকালোনা।
চলবে