24/05/2025
▶️"স্নিগ্ধোৎকর্ষের গল্পকথা – ফুল ভার্সন"
(মেডিকেল ব্যাচের মিষ্টি-মজার, দুষ্ট-মধুর ছন্দময় দিনলিপি)
(লেখক-নুসরাত জাহান নীলিমা)
শুরুটা ছিল একেবারে চুপচাপ,
নতুন ব্যাচ, সব মুখই অচেনা, অজানা রূপসাপ।
সবাই তখন ভদ্র, গম্ভীর, ফর্মাল,
‘ভাই’, ‘আপু’ ডাকে, যেন বন্ধন শুধুই জামাল!
তারপর এল পরিচয়ের হাওয়া,
ইনফর্মাল রূপে ছড়ালো মিষ্টি বাওয়া।
কে যেন হাসল, কে দিল রিঅ্যাক্ট,
গল্পে গল্পে জমে উঠলো ট্র্যাক্ট!
হাসিব ভাই একটু আলাদা ধারা,
মেয়েদের ব্যাপারে তার মন ভারা ভারা।
নীলিমা দাঁড়িয়ে করল প্রতিবাদ,
সাথে নাদিয়া, ফারিহা,কুলসুম,জেরিন—হল রীতিমতো কাবাডি-বাদ!
তাহমিদ, অর্ণব, সাজিদ হল সাথী,
তাদের কথায় যেন মেয়েরা সব ব্যথিত।
তাওসিফ ভাই প্রথমে ধরেছিল দলে,
শেষে বুঝে কষ্ট পেল, পড়ল একা ছলে।
নাবিলা-তাহমিদের প্রেমের গুঞ্জন,
একদিন হঠাৎ চলে গেল সে—তাহমিদের চোখে জলবিন্দু গুণ।
তবুও তাহমিদ হাসিবের সুরে বাজায় বাঁশি,
ভালোবাসা হেরে যায়, যখন যুক্তি হয় দাশী।
আবির ভাই শান্ত, ভদ্র, নির্ভীক কণ্ঠে,
সত্যের পক্ষে থাকে, অন্যায় তার বরণ না হয় অন্তে।
তবুও তাকে নিয়ে মজা করে দল,
“মেয়েদের পক্ষে বলে”, হেসে উঠে বল।
মিরাজুল হারাল তার প্রিয় 'পুকি',
গ্রুপে এসে চোখে জল, মন করে দুকি।
সাজিদ ভাই সাহসী বলে নিজেকে মানে,
কিন্তু তেলাপোকা দেখলে সবার পিছে দৌড়ায় জানে!
অর্ণব কভার ফটো নিয়ে করে কাণ্ড,
ছেলেদের বড়, মেয়েদের ছোট—এই তার ছাঁদ।
হাসিব-তাহমিদ-সাজিদ পাশে আসে সাথী,
আবির করে প্রতিবাদ, গড়ে সত্যের পাটী।
গ্রুপে হঠাৎ চলে ‘ডিলিট মেসেজ’ খেলা,
একজন বলে ‘দেখে ফেলেছি’, আরেকজন ‘স্ক্রিনশট’ বেলা!
হাসিব ভাই যতই বলেন, “আমি কিছু বলিনি রে ভাই!”
স্ক্রিনশটের নাম শুনে তার মুখে থেমে যায় চাইচাই।
তাওসিফ বুঝে গেল শেষে কারা সাথি সত্যি,
মেয়েরা বুঝায় ভালোবাসায়—মনের ব্যথা মুছে যাই চিত্তি।
মুশফিকা,মাইশা মেহেরুন,ওহি, ইথার, মাইমুনা, ফারিহা,
নাদিয়া, জেরিন, জান্নাতুল, সাফা,অপি—সবাই রঙিন তারাহারা।
‘পুকি’ নামে ডাকে একে অন্যকে প্রাণে,
বন্ধুত্ব জমে গেছে ভালোবাসার টানে।
ছয় বছরের গল্পটা হবে একসাথে লেখা,
দুষ্টুমি, শ্রদ্ধা, আবেগে হবে আঁকা।
এইসব কাণ্ডের মাঝে এক চরিত্র উজ্জ্বল,
ইউসুফ ভাই, যিনি এখন বরিশালের দল!
হঠাৎ এসে বলেন, “তোমরা জানো তো এক কথা?”
নিজে বলেন, নিজেই হাসেন—গ্রুপে ঝরে ব্যথাহীন ব্যথা।
মিমের রাজা তাহমিদ ভাই,
সবচেয়ে হাসির গল্পটা তার হাতেই যায়।
গ্রুপে যা ঘটে, সে বানায় ছবি,
হাসি আসে গালে, মুছে যায় রাগ-জ্বালা সবই।
ঝগড়া, খুনসুটি—সবই হোক হাসির খেলা,
বন্ধুত্ব হোক সত্যিকারের, নয় কোনো ফাঁকা মেলা।
মেডিকেল জীবনের এটাই শুরু, বন্ধন গড়ো শক্ত,
এই গল্পই একদিন হবে সোনালি অতীত—সবচেয়ে মধুর, সবচেয়ে শক্ত!